Now Reading
পড়াশুনার মতিভ্রম-২ (বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি :   সাংবাদিক হতবাক )



পড়াশুনার মতিভ্রম-২ (বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি :   সাংবাদিক হতবাক )

rtyrt.jpg

পড়াশুনার মতিভ্রম-২ (বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি :   সাংবাদিক হতবাক )

আগের পর্বে আমি বলেছিলাম কালক্ষেপণ বা Procrastination আমাদের অন্যতম সমস্যা । এছাড়াও আরও ভয়াবহ জটিল কিছু সমস্যা তাদের রয়েছে  যেগুলো সৃষ্টি হয়েছে পড়াশুনায়  তাদের অমনোযোগীতার কারণে , সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনের অর্ধেকের বেশী সময় ব্যস্ত থাকার ফলে , বিনোদনের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত ঝোঁকের কারণে , তাদের সময়ের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শনে , সুযোগের সদ্ব্যবহারের কৌশল ব্যাবহারে , প্রতিযোগিতার মর্ম বোঝার ক্ষেত্রে, গুরুজনদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শনে, পূর্ব পুরুষদের ইতিহাস না জানা থাকার কারণে  , অতি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে ভীষণ উদাসীনতা প্রদর্শনের কারণে , অভিভাবকদের মূর্খতায় , জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য না জানার কারণে , অভিভাবকদের দুর্বল মনিটরিং-এর ফলে এবং সর্বোপরি ধর্মীয়, পারিবারিক এবং সামাজিক প্রকৃত মূল্যবোধ না জানার কারণে। এর ফলে কি হয়েছে আমরা আমাদের জাতির সবচাইতে মূল্যবান প্রজন্মের ধ্বংস চেয়ে চেয়ে দেখছি।

sspp.2.jpg

আজকে দেখা যায় স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা ক্লাস করা বাদ দিয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে সহপাঠী আর বন্ধুদের নিয়ে পার্কে গিয়ে ফুর্তি করছে , ইউটিউবের জন্য অযাচিত ভিডিও বানাচ্ছে  পারিবারিক মান সম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে । আর  ভাবছে আমাদের সামনে তো বিল গেটস আর মার্ক জাকারবারগের আদর্শতো আছেই ড্রপ আউট করার । আজকের দিনে নাকি ড্রপ আউট করলেই খুব দ্রুত জীবনে শাইন করা যায় ।  ফুর্তি শব্দটি ব্যবহার করতে হচ্ছে এই কারণে যে তাদের আবার কোন মূল্যবোধ নেই , কারণ মূল্যবোধ থাকলে তারা বাপ মায়ের এত কষ্টের টাকায় এই ভাবে জীবনের অতি মূল্যবান সময় বেলেল্লাপনা করে অপচয় করতো না। আর কিছুদিন আগে বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে গোল করে মানব দেয়াল বানিয়ে কি অভিনব পদ্ধতিতে ভালবাসার প্রস্তাব প্রদানের কি অমায়িক  ভিডিও ভাইরাল হয়েছিলো তাতো আমরা সবাই জানি। তাদের এই ক্ষণিকের উচ্ছন্নে যাওয়ার অনুভূতিতে আবার দেশবাসী দুই ভাগ হয়ে গিয়েছিল । বাস্তববাদীরা বলেছে দেশটা রসাতলে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে আর প্রগতিশীল বেহায়া-বাদীরা আবার যার  যার নিতান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে দেশের সর্বস্তরে এই আধুনিকতা ছড়িয়ে দেয়ার পক্ষ অবলম্বন করেছে । যদি নিতান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার হয়ে থাকে তাহলে ভিডিও করে দেশবাসীকে দেখানো কেন ? ঘরোয়া পরিবেশে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে আংটি পরিয়ে দিলেই হত ওহ  থুক্কু তাহলে তো আর থ্রিল থ্রিল ভাবটা আসতনা , আর এই থ্রিল ভাব উপভোগ করতে গিয়ে তারা যে ঐ সময় স্কুল ড্রেস পরিহিত ছিল তাও ভুলে গিয়েছিলো । স্কুল প্রশাসনের তো আর থ্রিলের মাহাত্ম বোঝার সময় নেই তাদের থ্রিল তো ছাত্র ছাত্রী ভর্তি নেয়ার পরই শেষ হয়ে গিয়েছে । তাদের এখন মানইজ্জত নিয়ে টানাটানি , তাই তারা পরের দিনই TC দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে ।  দুই জুটির বেচারা অভিভাবকদ্বয় , তাদেরই শেষ পর্যন্ত যত নাকানি চুবানি খাওয়া লেগেছে , প্রগতিশীল বা আধুনিকতাবাদীদের নয় ।  তারা তো শুধু ইন্ধন জুগিয়েই পগারপার ।

michelle-barack-obama.jpg

 

বেসরকারি এক টেলিভিশন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মদের নিয়ে একটি বিস্তারিত  রিপোর্ট করেছিল তাদের এই অমায়িক অবস্থার উপর। যেখানে দেখা যায় অনেক মেয়েরা রেস্টুরেন্টে গিয়ে নিজেদের কলেজ বা স্কুলের ড্রেস চেঞ্জ করে তারপর বাইরে বন্ধু বা বয়-ফ্রেন্ডের সাথে ঘুরে বেড়ায় অথবা ঐ রেস্টুরেন্টেই আড্ডা দেয় পুরো ক্লাস আওয়ার । এখন প্রশ্ন হচ্ছে এরা কি ঐ সময় ভাল কিছু শিখছে ? এদের অভিভাবকরাই বা এদের কীরকম মনিটরিং-এর মধ্যে রাখে ? সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার এই যে টিভিতে তারা ধরা পরে যাওয়ার পরও তাদের হাবভাব দেখে মনে  হচ্ছিলো  তারা পার্কে এসেছে অভিভাবকদের পূর্ণ অনুমতি নিয়ে পিকনিক করতে। অনেকে তো এই রিপোর্ট দেখার পর  এমন মন্তব্য করেছেন , “মনে হয়েছে এদের কোন বাপ মা নাই এরা নিজেদের খরচ নিজেরা চালায়”। সাংবাদিক যখন এক মেয়েকে প্রশ্ন করে  ক্লাস চলাকালীন সময়ে তোমরা এখানে কি করছ ? তার সাবলীল উত্তর   “শিক্ষকদের আজাইরা প্যাঁচাল শুনতে আর  ভাল লাগেনা বরং আমরা এখানে বন্ধুদের সাথে পার্কে আড্ডা মেরে টাইম পাস করতেই বেশি পছন্দ করি “।

 

badgirl.1.jpg

আর রেজাল্ট নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই, তারা নাকি আবার উচ্চ মাধ্যমিক ১ম বর্ষে  পরে । তো এখনি যদি তাদের হয় এই অবস্থা তাহলে আরও তো দিন পরেই রয়েছে । এখন তাদের এই অধঃপতনের জন্য কি শুধু তারাই দায়ী না কি এর সাথে তাদের অভিভাবক,শিক্ষক,সমাজ,বাস্তবতা,পার্কের নিরাপত্তা  কর্মী সকলেই দায়ী। আর ছেলেদের স্কুলে তো সেই চিরাচরিত দৃশ্য আগে ব্যাগ ছুড়ে দিয়ে তারপর দেয়াল টপকিয়ে স্কুল পালানোর দৃশ্য , তবে লাইভ দেখলে যে কেউ অবাকই হবেন । এক সাংবাদিক  রিপোর্টার এক স্কুলের পিছন দিয়ে যাচ্ছিলেন হঠাৎ তিনি খেয়াল করেন  স্কুলের  পিছনের দেয়ালের  ওপরে উঠে এক ছেলে দেয়াল টপকানোর চেষ্টা করছে , এক সময় দেয়াল টপকে স্কুলের বাইরে বেরিয়ে এলো এবং বাইরে আসার পর সে তার সহপাঠীদের বলছে ওপাশ থেকে ব্যাগ ছুড়ে মারতে , তিন সেকেন্ড পরে দেয়ালের ওপাশ থেকে পাঁচটা ব্যাগ উড়ে চলে এলো দেয়ালের এপাশে , তারপর আরও চারজন টপাটপ চলে এলো স্কুলের দেয়াল টপকে রাস্তায় । তারা এতো বেশি উত্তেজিত ছিল যে দেয়াল টপকানোর সময় সাংবাদিক যে পুরো ব্যাপারটা ভিডিও করেছে তা তারা খেয়ালই করেনি । সাংবাদিক  দৌড়ে গিয়ে এক ছেলেকে জিজ্ঞেস করলো তোমরা স্কুল পালাচ্ছ কেন ? তার এই হঠাৎ প্রশ্ন করা দেখে আবার পলায়নরত স্কুল পড়ুয়ারা একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায় যে ক্যামেরার সামনে কথা বলবে না আগে মুখমণ্ডল ঢেকে এই যাত্রায় ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি বলে পালাবে । হঠাৎ এক ছেলে বলে উঠল দৌড়া , এতে বাকিরা সম্বিৎ  ফিরে পেলো আর ভোঁদৌড় দিয়ে এ যাত্রায় বেঁচে গেল। চলবে ……………

 

Bad-Studentp.jpeg

 

যারা পড়াশুনার মতিভ্রম-১ ( বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি)

পড়েননি তাদের জন্য লিঙ্কটা দিয়ে দিলাম।

http://footprint.press/পড়াশুনার-মতিভ্রম-১-বর্তম/

 

About The Author
Md. Moinul Ahsan
The whole world is my school and i am the student of this. The more i try the better i improve.My country my responsibility , one day Bangladesh will be considered as a superpower.
2 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment