Now Reading
আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশীর দায়িত্ববোধ এবং বাংলার ইউটিউবারদের প্রাঙ্ক সমাচার



আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশীর দায়িত্ববোধ এবং বাংলার ইউটিউবারদের প্রাঙ্ক সমাচার

 

একটা সময় ছিল যখন মেট্রিক পাশ করলেই চারিদিকে হৈ হৈ রৈ রৈ পড়ে যেত , দশ গ্রামের মানুষ তাদের দেখতে আসত , সারা গ্রামের মানুষ তাদের নিয়ে গর্ব বোধ করত ।

গ্রামের মেম্বার চেয়ারম্যান তাদের পড়াশুনার খরচ নিজেদের কাঁধে তুলে নিতেন নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে । আর স্টার মার্ক বা ফার্স্ট ডিভিশন পেলে তো কথাই নেই , সারা দেশে তার নাম ছড়িয়ে যেত আর পেপার পত্রিকায় তার ছবি ছাপা হতো । চাকরি খোঁজার আগেই চাকরি তার পায়ের কাছে এসে লুটোপুটি খেত । আমরা সেই দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য অর্জন করিনি । যতদূর দেখেছি একসময় ফার্স্ট ডিভিশনের চল ছিল । সারা দেশে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নাম্বারের ভিত্তিতে প্রথম দশ জনকে  দেশবাসীর সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়া হতো , এরা পেতো  জাতিও বীরের খেতাব

আর ৭৫০ মার্ক পেলেই যে কেউ হতো স্টার ছাত্র ছাত্রী । আমার মতে তখন বর্তমানের চেয়ে হাজার গুনে ভাল ছিল অন্তত ছাত্র ছাত্রীরা জীবন প্রাণ দিয়ে প্রথম দশ জনে ঢোকার চেষ্টা করতো , তা না হলে স্টার মার্ক ৭৫০ তো আছে আর তাও না হলে ৬০০ মার্কে ফার্স্ট ক্লাস তো আছেই। তাই তাদের পড়াশুনায় ছিল ব্যাপক আগ্রহ । আমার মনে আছে ছোটকালে যখন মেট্রিক পরীক্ষার সময় নামায পড়তে যেতাম তখন মেট্রিক পরীক্ষার্থীদের দিকে তাকালে দেখতাম তারা ভীষণ টেনশন নিয়ে নামায পড়তে আসত আর নামায পড়েই দিত বাসার দিকে  ভোঁদৌড় । আর এখন মেট্রিক পরীক্ষার সময় নামায পড়তে পরীক্ষার্থীদের খুব একটা দেখা যায়না , বরং তারা এইসময় ব্যস্ত থাকে ফেসবুকে প্রশ্ন ফাঁস হল কিনা , আর কেউ টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন প্রদান করছে কিনা এই তালে ।

এর চাইতে হাজার গুণে ভাল ছিল ফার্স্ট ডিভিশন আর দশজনের তুমুল রেস । যে আশি নাম্বার পায় আর যে নিরানব্বই পায় দুই জনের মান কখনও এক হতে পারেনা। আর তাই আজকের এই বিপর্যয় । এখনও সবাই সর্বোচ্চ নাম্বারের ভিত্তিতে মেধা তালিকা নির্ধারণকেই সেরা বলে মনে করে । না জানি আরও কত অমিত মেধাবী এই সিজিপিএ নামক অভিশাপের বলি হবে ? বিদেশে যে জিনিস ভাল তা আমাদের দেশে ভাল নাও হতে পারে , তা  যেকোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষই  বুঝতে সক্ষম

তারপরও যদি গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে সমাজে মুখ দেখানো যেত । যে কেউ রেজাল্ট শুনলেই যত ভালই হোক না কেন বলে ওঠে , ” প্রশ্ন ফাঁসের আমল এই রেজাল্টের কি কোন দাম আছে ? যখন পরীক্ষায় অনুপস্থিতরাও এ  প্লাস পায় “। আর কোন মতে জিপিএ ৫ মিস হলে তো কথাই নেই পরিবারের আর মুখ লুকানোর জায়গা থাকেনা ।  ছেলে জীবন প্রাণ বাজি রেখে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে  বাবার কাছে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গেলে শুনতে হয় , “দেখ কোন কলেজে চান্স পাও কিনা ” ? আর যাদের মন একটু দুর্বল তাদের তো কথাই নেই তারা ভাবে এতো কষ্ট করে কি লাভ যখন পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্ন পাওয়া যায় ? তবে আশার বিষয় সরকার কিছুটা হলেও নজর দিয়েছে ।

20155969_1475263135869017_594771644231363602.jpg

এই হচ্ছে দেশের বেইজ লেভেলের পড়াশুনার  অবস্থা  আর বেকারত্বের কথা না হয় বাদই দিলাম।  কিন্তু আসল সমস্যাটা এখানেই । ছাত্র ছাত্রীদের মাথায় ঢুকে গেছে তারা পোস্ট গ্রাজুয়েট করার পরও চাকরি পাবেনা আর ব্যবসার মূলধন তো সবার থাকেনা তাই যত দ্রুত সম্ভব নিজের পায়ে দাড়াতে হবে আর তার শর্টকাট উপায় সালমান মুক্তাদিরের মত প্রাঙ্ক ভিডিও বানাতে হবে আর এতে সাবস্ক্রাইবার বাড়বে আর টাকা আসতে থাকবে। ব্যস পরিবারের মান সম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে যত পারো দেশের মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের রাস্তায় তাদেরকে বিরক্তির চূড়ান্ত সীমায় নিয়ে গিয়ে  প্রাঙ্ক বানাতে থাকো , সাবস্ক্রাইব করার জন্য তো লাখ লাখ পাবলিক রেডি আছেই , তাদের তো আর কোন কাজ নেই ইউটিউবে ভিডিও দেখে হো হো  করে হাসা আর যাকে তাকে সাবস্ক্রাইব করা ছাড়া । আর মেয়েরাও অতি উৎসাহে মাথা আর বুকের ওড়না খুলে কোমরে বেঁধে নেমে পড়লো ক্লাস-হীন ছেলেদের সাথে প্রাঙ্কে সামিল হতে 

 

এতে কখন যে ভয়াবহ  দুর্ঘটনা ঘটবে কেউ জানেনা।  

আচ্ছা এখন যদি বাংলাদেশ সরকার বা খোদ ইউটিউব যদি ঘোষণা দিয়ে বসে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে ইউটিউবের ইতি টানা হবে তাহলে তাদের ব্যাকআপ প্লান কি ? সেটাও কি সালমান মুক্তাদির ঠিক করে দেবে ?

maxresdefau.jpg

এই লেখাটা মূলত এক প্রবাসী বাংলাদেশীর অনুরোধের ফল যা তিনি তার দায়িত্ববোধ থেকে করেছেন এবং এটা ভাবার কোন কারণ নেই যে এর মাধ্যমে সে নিজেকে দেশ প্রেমিক হিসেবে জাহির করছেন  বা এই ভিডিও ভাইরাল করে তিনি দুই পয়সা কামাবেন । বরং আসল সত্যিটা হল আমরা যারা ইউটিউব নিয়ে একটু গভীর গবেষণা করি তারা সবাই জানি এবং চিনি হরিয়ানার ললিত সৌখিনকে যে কিনা আমেরিকা গিয়েছিলো স্ত্রীর সাথে পিএইচডি করতে , যাওয়ার পর এয়ারপোর্টে খাবার দাবাড়ের দাম দেখেই তার মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো তাও বহু বছর আগে আর এখন তো কথাই নেই।  এখানে ললিত সৌখিনকে টেনে নিয়ে আসার কারণ তার সাবস্ক্রাইবার ৭ লাখ দশ হাজার কিন্তু এই আয় দিয়ে ওখানে  শুধু তার খাবার খরচ ওঠে কিনা সন্দেহ , তার ওপর পিএইচডির খরচ ,পুরো পরিবারের  বাসা ভাড়া , যাবতীয় দৈনন্দিন খরচের  কথা তো বাদই দিলাম ।  তো বাংলাদেশী গুটিকয়েক ভিউ আর একলাখের কম সাবস্ক্রাইবার নিয়ে আমেরিকায় আর যাই হোক আরামে থাকা যায়না , যদি কেউ সেখানে থেকেও  বাংলা  ভাষায় কিছু করে তবে বুঝতে হবে তিনি তার অতি মূল্যবান সময় জলাঞ্জলি দিয়ে দেশের প্রতি তার দায়িত্ববোধ থেকে এটি করছেন।

19059496_1436335539761777_675624221547406692.jpg

লেখাটা লেখার আগে ভেবেছিলাম বাংলাদেশী ইউটিউবারদের  প্রাঙ্ক ভিডিও বানানো নিয়ে কিছু লিখব কিন্তু লিখতে গিয়ে ভাবলাম যা বোঝানোর তা জনাব তাহসিন তার ভিডিওতে দ্রুতলয়ে অত্যন্ত কম সময়ে এত বিস্তারিতভাবে হাতেকলমে সব কিছু বর্ণনা করেছেন যে এই ব্যাপারে কিছু না লিখে বরং কেন এবং কিভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি তাই নিয়ে লিখলে পাঠকগণের কিছুটা হলেও উপকারে আসবে। আমরা সাধারণত ইউটিউবে পাঁচ মিনিটের বেশী দীর্ঘ ভিডিওতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলি এবং যে কোন মুহূর্তে অন্য ভিডিওতে চলে যাই কিন্তু জনাব তাহসিনের ভিডিও কখন যে ১৭ মিনিট গিলে ফেলে আমি নিজেও জানিনা । এর কারণ তার ভিডিও অত্যন্ত তথ্যপূর্ণ , প্রাঞ্জল , সাবলীল এবং আকর্ষণীয় যে কিনা একই সাথে ভিউয়ারদের সেনটিমেনট ক্যাচ করে টোন ধরে রাখতে পারে , এটা অবশ্যই একটা বিরল প্রতিভা।

poleclimbe.jpg

ভিডিওটা নিয়ে দুই লাইন না লিখলেই না , এক জায়গায় দেখা যায় এক প্রাঙ্ক নির্মাতা মেয়েদের গায়ে সাপ  ছুড়ে দিচ্ছে , এতে এক মেয়ে তো প্রায় শারীরিক ভারসাম্য হারিয়ে খুব খারাপ ভাবে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয় । ভাগ্যিস পড়ে গিয়ে মাথা ফাটেনি । অন্য এক প্রাঙ্কে দেখা যায় একজন পাগল সেজে রিক্সা আটকে সত্তর ঊর্ধ্ব বয়স্ক রিক্সা চালকের চারপাশে লাঠি দিয়ে খুব জোড়ে বারি মারছে যা কিনা যেকোনো মুহূর্তে তার মাথায় বা  পায়ে আঘাত লেগে যেতে পারত । এই ভিডিও গুলো দেখে একটা কথাই শুধু মনে হয়েছে এই ছেলেগুলি কি পিতৃ-মাতৃ পরিচয়-হীন ?

58242451.jpg

বাকিটুকু লাইভ ভিডিওতেই দেখে নিন লিঙ্ক দিয়ে  

 দিলাম —

আমার লেখা ভাল লাগলে অন্য লেখা গুলো পড়ে আসতে পারেন , কথা দিচ্ছি সময় নষ্ট হয়েছে বলে মনে হবেনা 

আল্লাহ্‌ হাফিজ

 

http://footprint.press/পড়াশুনার-মতিভ্রম-১-বর্তম/

http://footprint.press/পড়াশুনার-মতিভ্রম-২-ব/

 

About The Author
Md. Moinul Ahsan
The whole world is my school and i am the student of this. The more i try the better i improve.My country my responsibility , one day Bangladesh will be considered as a superpower.
0 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment