সাহিত্য কথা

স্বল্প দৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী – পর্ব – ১ম

আজ তিন বছর প্রবাস জীবনে আছি । তিন বছর আগে মালয়েশিয়া এসে ছিলাম পড়া শুনার জন্য । পড়া শুনা শেষ করে এখন একটি পার্ট টাইম জব করছি ।

সময়টা বেশি দিন আগের না ঠিক আজ থেকে ৫ বছর আগের কথা মানে আমি বিদেশ পড়া শুনা করার ২ বছর আগের কার ঘটনা । সজল এর বিয়ে। সজল আমার ছোট বেলার বন্ধু । অনেক কষ্টের পর বন্ধুর ভালোবাসা আজ সফল হতে চলেছে । মানে সে যেই মেয়ে কে কলেজ জীবন থেকে ভালোবেসে আসছে তার সাথে আজ বিয়ে । এতো দিন ছিল মেয়েটি ভালোবাসার মানুষ , আর আজ থেকে সে তার জীবনের অর্ধেক । সে গল্পে পরে আসি । সজল আমাকে প্রায় বলতো কিরে রিফাত বিয়ে কবে করবি ? আর তুই বিয়ে করবি কি এই জীবনে তো তোরে প্রেম করতে দেখলাম না । কিরে ভাই ডাক্তার দেখতে হবে নাকি তোরে ? আমি হেসে দিয়ে বললাম , হ্যাঁ রে বন্ধু ডাক্তার দেখতে হবে . মনের ডাক্তার । এখন পর্যন্ত মনের মতো কাউকে পেলাম না । তো সেদিন ওর বিয়ে পরিচিত হলাম একটা মেয়ের সাথে । এই প্রথম কোনো মেয়ে কে দেখে আমি চোখের পলক পড়ার আগে অব্দি চেয়ে ছিলাম । সাধারণত কোনো মেয়ের দিকে তাকালে সঙ্গে সঙ্গে আমি চোখ নামিয়ে নেই । আচ্ছা মেয়েটার বর্ণনা দেই

প্রথম দেখাতে তার চোখের দিকে নজর গিয়েছে আমার । আচ্ছা আপনারা কি কখনো কুচ কুঁচে কালো দেখেছেন ? অন্ধকারের কালো না কিন্তু । চাঁদ বিহীন আকাশ যে রকম কালো হয়ে থাকে সে রকম কালো । ঠিক মেয়েটির চোখের মনি সে রকম কালো । আর চুলের কথা কি বলবো , মনে হচ্ছে আকাশ থেকে এক গুচ্ছ কালো মেঘ এসে তার মাথায় বাসা বেঁধেছে । কালো ঘন চুল । আরেকটি হলে মাটিতে চুল ছুঁয়ে গিয়েছিলো । গালের বাম পাশে একটি তিল রয়েছে । এই তিলটি এই মানুষটা কে পরিপূর্ণ করে দিয়েছে । গায়ে জড়িয়েছে হালকা হলুদ রঙের শাড়ি । কেউ মনে হয় ছবি আঁকতে বসেছে । তা না হলে এতো সুন্দর কিভাবে হয় । শুধু একটি জিনিস মিস ছিল তার মধ্যে । তার দুই হাতের পাশে যদি দুইটি ডানা থাকতো , তাহলে তাকে পরী মনে হতো ।শুধু দুইটি ডানার জন্য মানুষ রুপি পরী বলতে হচ্ছে ।

প্রথম দেখতে প্রেমে পড়ে গেলাম । বন্ধু কাছে জানতে পেলাম উনি হলেন আমার ভাবি মানে বন্ধু বৌয়ের বান্ধবী । বন্ধু কে বললাম , দোস্ত মেয়েটা আমার খুব ভালো লেগেছে । এই কথা শুনে বন্ধুর খুশি দেখে কে ? আজ বন্ধু তার বিয়েতে যত না খুশি তার থেকে মনে হয় আমার এই কথা শুনে অনেক বেশি খুশি । খুশি না হয়ে কি করবে আমার তিন বন্ধু , সজল , আমি , সাগর । এর মধ্যে আমার আর সাগরের কোনো প্রেমিকা ছিল না । সাগর আরো দুই বছর আগে লন্ডনে চলে গিয়েছে পড়া শুনার জন্য । আর সজল এর সাথে রয়ে গিয়েছি আমি । আমাদের বন্ধুত্বের ১৫ বছর জীবনে এই প্রথম সে আমার মুখে শুনলো আমার কেউ কে ভালো লেগেছে । এই কথা সে তার বউ কে গিয়ে বলল । কিছুক্ষণ পর ভাবি আমাকে ডেকে এনে উনার বান্ধবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন । পরিচয়টা কিভাবে শুরু করবো বুঝে উঠে পারছিলাম না ।

উনি আমাকে বলতে উঠলো

আমার নাম মেঘলা ।

এই নাম শুনার পর থেকে মাথায় খালি একটা গান বাজছিল , আকাশ এতো মেঘলা যেয়ো নাকো একলা । আর ভাবছিলাম আমি তো যেতেই চাই না । মেঘলা আকাশের বুকে এক টুকরো সাদা মেঘ হয়ে ভেসে থাকতে । যখন তখন আমাকে কালো মেঘের বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখবে । এই সব কথা ভাবতে ভাবতে কে যেন আমাকে নাড়া দিচ্ছিল সজল সজল বলে । যখন হুশ আসলো তাকিয়ে দেখলাম আমার বন্ধু আমার হাত ধরে নাড়া দিয়ে ডাকছে আর বলছে কিরে সজল কোথায় হারিয়ে গেলো । আমি তাড়াতাড়ি বলে উঠলাম কোথাও না আমার নাম আকাশ ।
কি বললাম নিজেই জানি না । আমার আকাশ নাম শুনে আমার বন্ধু হেসে দিলো । হেসে দিয়ে আমাকে বলল কিরে তুই সজল থেকে আকাশ কবে হলি? আমি মুচকি হাসি দিয়ে বললাম

আমার নাম সজল । অনার্স শেষ করেছি । এখন মাস্টার্স এর জন্য প্ৰস্তুত হচ্ছি । আপনি কি করেন ?

আলতো করে মুচকি হাসি দিয়ে বলল অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি ।

মনে মনে আমি বলি কিসের আমি মাস্টার্স পড়ছি আমার তো মনে হচ্ছে আমি তোমার প্রেমের স্কুলে ভর্তি হয়েছি ।

এখানে আমাদের পরিচয় পর্ব শেষ হয়েছে । আমি আর কথা লম্বা করিনি ।

কিছুক্ষণ পর আমার বন্ধু , তার বউ , আমি ও মেঘলা খেতে বসলাম এক টেবিলে । আমার পাশের সিটে বসেছিল । উনার দিকে তাকিয়ে তার সামনে থেকে মাংস নিতে গিয়ে বাধিয়ে দিলাম একটা কাণ্ড ।

কি কাণ্ড বাধাল জানতে অপেক্ষা করুন দ্বিতীয় পর্বে । খুব শিগ্রহি দ্বিতীয় পর্ব লেখা হবে .

চলবে ……

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

এক ব্রিটিশ কন্যার প্রেমকাহিনী ও একজন বাংলাদেশী তরুণের গল্প !! (পর্ব-৫)

Ferdous Sagar zFs

রহস্য চারিদিকে পর্ব—৩

Salina Zannat

কিছু আসমানীদের গল্প আর তাদের ভালবাসা

Rohit Khan fzs

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: