Now Reading
ফেমাস হবেন যেভাবে…



ফেমাস হবেন যেভাবে…

 ফেমাস!!! ভাইরাল!!! এটেনশন সীকার!!! ফলোয়ার!!!

শব্দগুলো আমাদের রেগুলার ভার্চুয়াল লাইফের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়েছে। রাতারাতি যে কেউ ফেমাস হয়ে যাচ্ছে। রাতে শুরুতে যার ২০০ ফলোয়ার ও নেই , সকালে তার দশ হাজার ফলোয়ার হয়ে যায়। হুট করে সেলিব্রেটি বনে যান এই মানুষ গুলো। কেমনে সম্ভব? অল্প সময়ে কি এমন মহভারত উল্টায়া ফেলেন উনারা যে এত নাম ডাক হয়ে যায়?

সম্প্রতি একটি ভিডিও অনেক ভাইরাল হয় যেখানে একটি মেয়ে তার বাবাকে চাইল্ড মলেস্টার বলে আখ্যা দেয়। বলে যে তার বাবা তাকে বেদম প্রহার করতো, সেক্সুয়ালি হ্যারাস করতো, মেরে গলায় পাড়া দিয়ে দাড়িয়ে থাকত আর এসবে তার মা ইন্ধন যোগাত তার বাবাকে। অনেকেই ভিডিওটি দেখেছেন, না দেখে থাকলে নিজের পিঠ নিজে চাপড়ান কারন বছরের এখন পর্যন্ত সেরা অভিনেত্রীকে দেখেন নাই।  কথা হলো মেয়েটি যা বলেছে তার সবই মিথ্যা । এটি প্রথমে তার ভাই আর পরে সাংবাদিক তাদের বাসায় গিয়ে প্রতিবেদন তৈরী করেছে যেখানে তার বাবা মা উভয়েই কান্না-জড়িত কণ্ঠে মেয়েকে ফিরে পেতে চাইছেন ।  মেয়েটি তার বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে নেশার পথে হেটেছে । তার মায়ের ভাষ্যমতে মেয়ে রাতে অনেক দীর্ঘ সময় লাইট অফ করে রুমে একা অবস্থান করত । যারা এই মেয়েটির ভিডিও শেয়ার করেছে সেখান থেকে বেশ কিছু শেয়ার ঘাটতে দিয়ে একস্থানে কমেন্ট দেখলাম একজনের যেখানে তিনি বলেছেন যে প্রতিদিন জগিং এর সময় তিনি মেয়েটাকে দেখেছেন এবং এমন কোন দিন বাদ ছিল না যেদিন মেয়েটির হাতে সিগারেট ধরা না ছিল। এখন ফেমিনিস্টরা “নারীদের সমান স্বাধীনতার” পতাকা গেড়ে দিতে চাইবেন, কিন্তু বাংলাদেশ এর মত একটি দেশে একটি মেয়ের খোলামেলা ভাবে ধূমপানকে নেশাখোর হিসেবেই আখ্যা দেয়া হয়।

ঐশীর কথা মনে আছে? আমি জানি আপনাদের মনে আছে । ভুলবেন কি করে? এত সহজে দেশের প্রথম ফিমেল বাবা-মা খোর ইয়াবাসেবীকাকে কি ভওলা যায়? জ্বী বাবা-মা খোর  কারন নেশার টাকার জন্য পুলিশ অফিসার বাবা আর জন্মদাত্রী মাকে খুন করে সে।  নেশার এত ক্ষমতা?

ঐশী কে সাইডে রেখে দেই আমরা। কথা বলছিলাম বাবাকে চাইল্ড মলেস্টার আখ্যাদানকারী এক রাতে ১০,০০০ এর বেশি ফলোয়ার উপার্জনকারী ফেমাস আহমেদ ফারিয়া এর সম্পর্কে। জ্বী উনি এখন ফেমাস, উনার ভিডিও পুরা ভাইরাল আর উনি ট্রেন্ডিং ফেবু সেলেব্রেটি।

এমন সেলেব্রেটি আগেও অনেক এসেছে। কলাপু , হাতিপু , বদনাবাবা এরা ট্রলিং ম্যাটারিয়াল হিসেবে এটেনশন সীকিং করে ফেমাস হলেও গত বছর জুনায়েদ আল ইমদাদ তার বন্ধু আবদুল্লাহ কে পিটিয়ে লাইম লাইটে আসেন। ফেইসবুকে ৩-৪ মাস ট্রেন্ডিং হিসেবে চলে সেই ভিডিও , আপনি যদি সেই ভিডিও না দেখে থাকেন তাহলে আপনি লেজেন্ড। আপনাকে ফেমাস করে দিব আমরা।

আজকাল ফেমাস হওয়া কোন ব্যাপার না। আপনি অনেক ভাবে ফেমাস হতে পারেন। কাউরে বেধড়ক পিটিয়ে ভিডিও করে ফেমাস হতে পারেন। বাবা মা কে সমাজে অপরাধী বানিয়ে ফেমাস হতে পারেন। আবার ৩য় শ্রেনীর অসভ্য ইতরের মত কোন মেয়েকে রাস্তায় ইভটিজং করে ফেমাস হতে পারেন। অনেক উপায় আছে, নিজে বের করে নিয়েন উপায়। কারন কম সমায়ে নাম কামাতে চান, একটু বুদ্ধি তো খরচ করতেই হবে, তাইনা?

 

কেন হয় এগুলা ? কিসের জন্য মানুষের এত এটেনশন দরকার ? কেন এত ফলোয়ার দরকার ? কি আছে আপনার যে মানুষ আপনাকে ফলো করবে ? – আমরা অনেক বোকা কারন আমরা ভাল খারাপ যাচাই না করেই নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ম্যানিফেস্ট দেখিয়ে একটা ফালতু পোস্ট বা ভিডিও শেয়ার করে সেটা ১০ টা মানুষের কাছে পৌছে দেই। বিবেককে প্রশ্ন করিনা যে আমি যে তাকে ভাল অথবা মন্দ বলে  আরো মানুষের কাছে পৌছে দিলাম , তারা তো সেইম কাজ করবে । কারন আমরা কপি-পেস্ট এ অতুলনীয় আর একটা নেগেটিভ ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ বেশি। যার যোগ্যতা নাই কোন তাকে আমরা শেয়ার করে সমাজের সামনে তুলে ধরছি ?

আপনাদের এই “অবাক  করা” মানসিকতার কারনে আজকে কামলা শ্রেণীর কিছু প্রাণী ফেমাস। অবাক করা মানসিকতা বলার কারন এর পিছে কোন উপযুক্ত কারন দেখাতে পারবেন না যেটা দিয়ে প্রমান করতে পারেন যে এই কারনে আপনি তাকে সমাজে উপস্থাপিত হতে সাহায্য করছেন । আপনাদের এই মানসিকতার কারনে জুনায়েদ, সো কলড র‍্যাপার “আলি জি-স্টার” আর “রাইসুল ইসলাম আতিফ AKA হারামখোর” (তার নিজের ভাষ্যমতে)  আর ট্যাবলেট বাবা খেয়ে  জন্মদাতা বাবার মান সম্মান খেয়ে দেয়া ফারিহা এর মত অনেকে রাতারাতি নাম ডাক কামাচ্ছে যা তারা ডিজার্ভ করেনাই ।

যারা সত্যিকারের মানুষ, যারা সমাজের জন্য ভাল কিছু করছেন তাদের ফলো করুন। যারা ভাল কাজ আপনাদের সামনে এনে উপস্থাপন করছে তাদের ফলো করুন। ভাল কাজ এর নমুনা শেয়ার করে মানুষকে জানিয়ে দিন সেই ক্রিয়েটিভ মানুষগুলোর ব্যাপারে।

শব্দগুলোর সঠিক ব্যাবহার করতে শিখা উচিত আমাদের। তাহলেই অনেক লুকায়িত প্রতিভা উঠে আসবে যারা আসলেই ফেমাস হবার যোগ্য ,যাদের কাজ ভাইরাল হবার যোগ্য, যাদের আসলেই এটেনশন দরকার যেন আরো ভাল কাজ আমাদের উপহার দিতে পারে, তারাই ফলোইং হবার দাবী রাখে।

About The Author
Kazi Mohammad Arafat Rahaman
পড়াশোনা - ব্যাচেলর করছি কম্পিউটার সায়েন্সে। ভাল লাগা - গান, ফুটবল আর বই। খারাপ লাগা - নাই। খারাপ লাগেনা। অনুভূতিহীন। শখ - অনেক আছে। লক্ষ্য - ইন্টারপ্রেনার হতে চাই।
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment