অন্যান্য (U P) ভ্রমন কাহিনী

একদিনের রিলেক্স টুর – মহেড়া জমিদার বাড়ি

এখন বর্ষার সময় ঘুর ঘুরি করার জন্য সবার পছন্দে থাকে ঝর্ণা , না হয় পাহাড় । কিন্তু বাঁচা সহ মেয়েরা ইচ্ছে করলে পাহাড় বা ঝর্ণা ঘুরতে পারে না । এখন ঝর্ণায় প্রচুর পানি তাই নদীতে অনেক স্রোত , সেই সাথে পাহাড় এখনো পরিপূর্ণ পিচ্ছিল হয়ে আছে । তাহলে কি মেয়েরা ঘুরতে বের হবে না ? হ্যাঁ হবে , তাদের জন্য অপেক্ষা করছে টাঙ্গাইলের মহেড়া জমিদার বাড়ি । কিছু দিন আগে শরীয়তপুর ভ্রমণ করে ছিলাম । সেখান থেকে এসে ব্যাগ গুছিয়ে একই রওনা দিলাম জমিদার বাড়ি দেখার জন্য । আজ আমি আপনাদের দেখাবো কিভাবে একদিনের মধ্যে একটি রিলাক্স টুর দিয়ে আসতে পারেন । তাও স্বল্প খরচে ।

জমিদার বাড়ি নিয়ে কিছু কথা – দিন দিন জমিদার বাড়ি গুলো মনে হয় ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হচ্ছে । কেন এই কথা গুলো বললাম ? কারণ জমিদার বাড়ি গুলো ভালো মতো রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না ।কোনো কোনো জমিদার বাড়ির এক অংশ ধ্বংস হয়ে পড়ে যাচ্ছে । আবার কোথাও পরিচর্যার অভাবে পর্যটক হারাচ্ছে । কিন্তু মহেড়া জমিদার বাড়ি আবার সে দিক থেকে অন্য রকম । দেখলেই আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে । ভেতরে প্রবেশ করেই আপনি চার পাশে চারটি অট্টালিকা দেখতে পাবেন । ১৮৯০ সালে চার ভাই মিলে টাঙ্গাইলে জমিদারি শুরু করেন । তারা মূলত স্পেন এর জমিদার প্রথা থেকে উৎসাহিত হয়ে এই প্রথা শুরু করেন । শুরু দিকে ইংরেজরা তাদের অনেক উপর কার করে । মূলত চার ভাই বুদাই সাহা, বুদ্ধু সাহা, হরেন্দ্র সাহা এবং কালীচরণ সাহা মিলে এই জমিদার প্রথা শুরু করেন । চার ভাই চার বাড়িতে তাদের নিজস্ব উপায়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতেন । পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এই জমিদার বাড়িতে আক্রমণ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে করে । ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার বাড়িতে নিজেদের দখলে নিয়ে নেন আর জমিদারের বংশধর চলে যায় ভারতে ।

জমিদার বাড়ি

কিভাবে যাবেন – শরীয়তপুর টুর দিয়ে আসার কারণে পকেটে যথেষ্ট টাকা ছিল না । ১০০০ হাজার টাকার মতো হবে . ডান বাম না ভেবে বেরিয়ে পড়লাম মহেড়া জমিদার বাড়ি দেখার জন্য । আমি সকাল সকাল রওনা দিলাম । সকাল ৭ তার মধ্যে চলে আসলাম মহাখালী বাস স্ট্যান্ড । দুঃখের বিষয় টাঙ্গাইলের গাড়ি সকাল ৮ তার আগে ছাড়ে না এখন থেকে । তাই ১ ঘণ্টা আমাকে অপেক্ষা করতে হলো । অনেক ধরণের বাস পেলাম । যেহেতু টাকা কম আমার কাছে তাই আমি মনে মনে একটু সস্তা খুঁজে ছিলাম । পেয়ে ও গেলাম । নিরিলা বাস । ভাড়াও বেশি না মাত্র ১৫০ টাকা নিলো । বসে উঠে আরাম করে বসে পড়লাম । যদি জ্যাম না থাকে তাহলে আপনি ২ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাবেন টাঙ্গাইলে । আমার তার থেকে একটু সময় বেশি লেগেছিল । আমাকে তারা নামিয়ে দিলো ডুবাইল এর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার । সেখানে নেমে হালকা পাতাল নাস্তা সেরে নিলাম । নাস্তা করে আশে পাশের মানুষদের বললাম মহেড়া জমিদার বাড়ি যাবো কিভাবে ? তারা আমাকে কিছু সিএনজি দেখিয়ে বলল , এই সিএনজি গুলো মহেড়া জমিদার বাড়িতে যাবে । আমি সেখানে গিয়ে দুই ধরণের সিএনজি দেখতে পেলাম । একদম রিজার্ভ নিয়ে যাবে আপনাকে । আরেক দল রিজার্ভ ও তে যাবে আবার লোকাল ও যাবে । যেহেতু আমি এক তাই লোকালে করে চলে গেলাম মহেড়া জমিদার বাড়িতে । ভাড়া মাত্র ১৫ টাকা । এক সিএনজি তে ৫ জন বসতে পারে । আর আপনি যদি সম্পূর্ণ একটা যেতে চান তাহলে আপনাকে গুনতে হবে ৭৫ টাকা । প্রবেশ পথে অবাক হয়ে গেলাম । বাড়িতে প্রবেশের জন্য রয়েছে ২টি সুরম্য গেট । বিশাল বিশাল দুইটি গেট । চার পাশে বাগানের মতো । আর মাঝ বরাবর বিশাখা সাগর নামের একটি অনেক বড় দীঘি । ও আপনাদের একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছি ভিতরে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে গুনতে হবে ৫০ টাকা মানে প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা ।

প্রত্যেকটা মহলে আপনি কমন একটি জিনিস দেখতে পাবেন , তা হলো প্রতিটা মহল সারা রং করা । সাদার মাঝে কিছু কারুকাজ করা । বলতে গেলে আপনি ভেতরের প্রবেশের সাথে সাথে নিজেকে খুব রিফ্রেশ মনে করবেন । আপনি আশে পাশে ঘুরে দেখতে পারেন । মাঝে বিশাল এক মাঠ রয়েছে । মাঠের মধ্যে রয়েছে ফুলের বাগান । খুব পরিষ্কার আর গোছানো একটি জায়গা । সারা দিন সেখান থেকে আমি বের হয়ে আসলাম বিকেলের দিকে । দুপুরের খাবার খেয়ে আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম ।

খরচ – খরচ বলতে তেমন একটা টাকা আমার খরচ হয়নি অবশ্য

গাড়ি ভাড়া পড়েছে ১৬০*২ = ৩২০টাকা
সিএনজি ভাড়া পড়েছে ১৫*২ = ৩০ টাকা
সকাল আর দুপুরের খাবারের খরচ পড়েছে – ৩০ + ১০০ = ১৩০
অন্যান্য খরচ হয়েছে – ১০০ টাকা
সর্বমোট ৬২০ টাকার মধ্যে সম্পূর্ণ টুর সেরেছি ।

মাঝে মাঝে আমাদের উচিত একটু সময় পেলে এই ব্যস্ত নগরী থেকে পালানো , কিছুটা সময়ের জন্য । তাহলে জীবনে আনন্দের ধারা বজায়ে থাকে । হ্যাপি ট্রাভেলিং ।

 

জমিদার বাড়ির তথ্য রেফারেন্স লিঙ্ক https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE_%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BF#.E0.A6.A6.E0.A6.B0.E0.A7.8D.E0.A6.B6.E0.A6.A8.E0.A7.80.E0.A6.AF.E0.A6.BC

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

আবার কখনও কি এমন JOLSHA(জলসা)’র আসর বসবে???

Dhrubo Pavel

একটি ভ্রমণের নেপথ্যে

Zahid Hasan

তীব্র গরমে রোজাদারের করনীয়

Zahid Hasan

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy