Now Reading
অপার্থিব বান্দরবন – আমিয়াখুম



অপার্থিব বান্দরবন – আমিয়াখুম

আমার মতে বান্দরবন বাংলাদেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।আমি এর আগে অনেকবার বান্দরবন গিয়েছি, দেখেছি এর অপরুপ চেহারা।বাংলাদেশের এক রূপসী কন্যা এই বান্দরবন।এখানে আসলে পাহাড় আর মেঘের খেলা দেখা যায়, দেখা যায় সাংগু নদীর অপরূপ বয়ে চলা।বৃষ্টির সময়ে বান্দরবন কেমন যেন এক রুপ ধারন করে, সেই রুপ এতটাই আকর্ষণীয় যা শুধু নিজের চোখ দিয়ে উপলব্ধি করা যায়।ক্যামেরার লেন্স সেখানে বড়ই বেমানান। যারা বৃষ্টির সময়ে বান্দরবনের রুপ দেখেছে আমার মনে হয় তারা আবারো সেই রুপের দেখা পাবার জন্নে বান্দরবন গিয়েছে।যাই হোক অনেক কথা বলে ফেল্লাম, কারন এর রুপের বর্ণনা দিলে কখনো তা শেষ হবেনা।শুরু করছি আমার ভ্রমন কাহিনী। এটা আমার প্রথম লিখা অনেক ভুল হতে পারে, হলে মাফ করবেন।
এইবারের গন্তব্য ছিল “আমিয়াখুম”। ট্যুর ছিল ৫দিনের, আমরা ছিলাম ৭জন।

(বান্দরবন > থাঞ্চি > পদ্মমুখ > থুইসাপাড়া > আমিয়াখুম – ভেলাখুম (তথাকথিত) – নাইক্ষ্যং > থুইসাপাড়া > জিন্নাপাড়া > নাফাকুম > রেমাক্রি > থাঞ্চি > বান্দরবন) ছিল আমাদের ঘুরার জায়গা।

 

দিন ০১ : বান্দরবন > থানাচি > পদ্মমুখ > থুইসাপাড়া

=> শুরুতেই দেরী, বান্দরবন সকাল ৬টায় পৌছার কথা থাক্লেও জ্যামের কারনে পৌছলাম ১০টায়। থাঞ্ছি যেতে যেতে বিকাল ৪টা। আমিয়াখুম যাওয়ার অফিসিয়ালি কোন পারমিশন নাই, যেতে হয় নিজেদের রিস্কে নাফাখুমের কথা বলে তাও সময় দেয় মাত্র ২দিনের। তাই বিজিবি ক্যাম্পে নাম এন্ট্রি না করেই চোরা পথে বোটে উঠে রউনা দিয়ে দিলাম পদ্মমুখের উদ্দেশে, পৌছালাম বিকাল ৫টায়। হাল্কা-পাতলা খানাপিনা করে শুরু হলো ট্র্যাকিং। ৫ঘন্টা রাতের অন্ধকারে পাহাড়-জঙ্গল-ঝিরি-গুহা পাড়ি দিয়ে থুইসাপাড়ায় “অং” দার ঘরে গিয়ে উঠলাম তখন রাত ১০ঃ৩০। এটাই আমাদের সবার প্রথম রাতের বেলা ট্র্যাকিং। যা ছিল খুবি রোমাঞ্চকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। অবস্থা তখন সবারই খারাপ, গোসল এবং ডিনার শেষ করতে রাত ১২টা, ডিনার শেষে কিছুক্ষন পাড়ার চায়ের দোকানে আড্ডা তারপরেই সবাই বিদায়, শুধু আমি আর আমার এক বন্ধু ভোর পর্যন্ত জেগে ছিলাম।কারন পাহাড়ের ভোর খুবই সুন্দর।

Day 01 (18).jpg                                           IMG_0637.JPG

 

 

Day 01 (57).jpg

*** রাতের ট্র্যাকিং এর কথা না বল্লেই নয়, অসাধারন। যা বলে বুঝানো সম্ভব না।

*** থুইসাপাড়ায় গিয়ে দেখি আমরা ছাড়া আরো কয়েক্টা গ্রুপ সব মিলায় ৪০-৫০ জনের মত আছে, সবাই সকালে আমিয়াখুম যাবে। খুবই বিরক্তিকর ছিল এত মানুষের ভিড়ে আমিয়াখুম দেখতে হবে ?? রাতেই ট্যুরের সময় ১দিন এক্সটেন্ড করে থুইসাপাড়ায় পরের দিন চিল করবো ঠিক করলাম।

কারণ এক্টাই কাউ-কাউ মুক্ত পরিবেশে আমিয়াখুমকে পাওয়া

দিন ০২ : থুইসাপাড়ায় সারাদিন

=> ঝামেলা না থাকায় সবার ঘুম থেকে উঠতে-উঠতে দুপুর ১টা। ফ্রেশ হয়ে পাড়া বেড়াতে বের হয়ে গেলাম, দুপুরে খেয়ে বিকালের দিকে থুইসা ঝিরিতে গেলাম ঝাপাঝাপি করতে। ব্যাপক চিল করলাম সারা দিন-রাত, ভালোই ছিল। রাতের খাবার শেষে একটু তাড়াতাড়ি শুয়ে পরলাম। মজার বেপার হল এ পাড়ায় কোনও মোবাইল নেটওয়ার্ক নাই কিন্তু একটি বট গাছ আছে যার নীচে বাশের খুঁটি গাড়া, সেই খুটির উপর মোবাইল রাখলে নেটওয়ার্ক চলে আসে। তা দিএই বাসায় ফোন দিয়ে কথা বললাম।
IMG_1069 - Copy.JPG

 

দিন ০৩ : আমিয়াখুম – ভেলাখুম – নাইক্ষ্যংমুখ

=> সকাল ৬ঃ৩০টায় শুরু হল আমিয়াখুমের উদ্দেশে ট্র্যাকিং। এই গরমের সময়ে সকালে এই পাড়ায় তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রী নেমে এসেছে, পুরা হারকাপানো। এইদিন/ এইট্রিপের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ “দেবতার পাহাড়” (নামেই যার পরিচয় ) নামা+উঠা। “দেবতার পাহাড়” একটু বেশি-ই খাড়া & ডেঞ্জারাস ছিল, ১৮-২০ হলেই একদম নিচে। এই পাহাড় ৭০-৭৫ডিগ্রী খাড়া আর উচ্চতা প্রায় ১০০০-১২০০ফুট হবে (তথাকথিত), যাকে পাড়ি দিয়েই যেতে হবে আমিয়াখুম,ভেলাখুম ও নাইক্ষ্যং। তবে আমাদের তেমন একটা ঝামেলা হয় নাই “দেবতার পাহাড়” নিয়ে। যদি কেউ যান অবশ্যই নামার সময়ে প্রয়োজন হলে বশে বশে নামবেন এবং কোনও তাড়াহুড়া করবেননা। নামতে ৫০ থেকে ৬০ মিনিট লাগতে পারে কিনতু উঠার সময়ে ৩০ মিনিট লাগবে।
দেবতার পাহাড় থেকে নেমে বাম দিকে ১০ মিনিট হাঁটলেই দেখা মিলবে আমিয়াখুম জলপ্রপাতের। গর্জন করে বয়ে চলছে। প্রায় ১০ মিনিট ঠাণ্ডা পানিতে হাঁটু পর্যন্ত ডুবিয়ে বসেছিলাম আর এর রুপ দেকছিলাম। এবার গোসলের পালা, সবাই দাপাদাপি করলাম কিছু সময়। আমাদের গ্রুপের দুই জন সাঁতার জানত তারা ঝাপ দিল। যারা সাঁতার জানেনা দয়া করে দূরে থাকবেন কারন পানি অনেক গভীর। এর পর ১৫ মিনিট ডান দিকে হাঁটলাম পেয়ে গেলাম ভেলাখুম। ভেলা দিয়ে এই খুম পার হতে হবে তারপর নাইক্ষ্যং। কিন্তু ভেলা পেলামনা, কিন্তু যেতেতো হবেই তাই আমাদের গাইড ভেলা বানানো শুরু করল, সেই ভেলা দিয়ে আমরা পার হলাম। ভেলা থেকে নেমেই দুই বিশাল পাথরের মাঝখান দিয়ে ঢুকতে হল। আমি প্রথমে আটকে গেলাম, পরে একটু কায়দা করে ঢুকলাম। বিশাল বিশাল সব পাথর। সেখানে নুডুলস রান্না করে খেলাম। তারপর আবার আমিয়াখুমে ফিরলাম। শেষ ১ ঘণ্টা চোখ বন্ধ করে ঝর্নার পাশে শুয়ে ছিলাম।

IMG_1178 - Copy.JPGIMG_1284.JPG

 

IMG_1237.JPG

 

দিন ০৪ & ০৫ : থুইসাপাড়া > নাফাখুম > রেমাক্রি (নাইট ইস্টে) > থাঞ্চি > বান্দারবন > ঢাকা
পরের দিন ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে নাফাকুমের দিকে রওনা দিলাম। অনেক্ষন ধরে হাটছিলাম, খারা পাহাড় নামছিলাম শুধু।দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা হাঁটার পর নাফাখুমের দেখা। খুমে অনেক্ষন মন ভরে গোসল তারপর সাতে করে আনা খিচুরি খেলাম। তারপর আবার রেমাক্রির দিকে হাঁটা।রেমাক্রি তে পৌঁছে কিছুখন বিশ্রাম নিয়ে আবার রেমাক্রি ঝিরিতে গোসল।রাতের বেলা খাবার খাওয়ার পর টং দোকানে আড্ডা।রাত তখন বারটার বেশী, রেমাক্রি খালে নৌকা বাঁধা ছিল, সবাই গিয়ে নৌকায় বসলাম, উপরের দিকে তাকাতেই চোখ বড় বড় হয়ে গেল কারন এতো তারা একসাথে আগে কখনোই দেখিনি। অপরূপ দৃশ্য।চারিদিক অন্ধকার উপরে তারা আর পানির শব্দ আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য কোনো দুনিয়ায় যদি আপনি প্রকৃতি ভালোবাসেন।
পরের দিন সকালে হাল্কা খাবার খেয়ে নৌকায় করে রওনা দিলাম থাঞ্ছির দিকে।
থাঞ্ছি পৌঁছানোর পর দুপুর বেলা বান্দরবানের বাসে করে শহরে, আশতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল, রাতের বাসে ঢাকায় রউনা দেই।

IMG_1564 - Copy.JPGDay 05 (42) - Copy.jpg

 

 

 

About The Author
Sazid Hossain Upam
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment