সাহিত্য কথা

গ্রহের নাম গার্ডিয়ান -১ { রাজা আকার রাজ্য বিস্তার }

এই গল্পে এ কিছু মজার তথ্য শেয়ার করা হয়েছে যা অনেকেই জানেন , যারা জানেন তারা নিঃসন্দেহে অনেক অভিজ্ঞ আর যারা জানেননা তারা এক ভরপুর রোমাঞ্চ উপভোগ করতে যাচ্ছেন নিশ্চিত থাকতে পারেন । বৈশ্বিক , আন্তর্জাতিক , কূটনৈতিক অনেক তথ্য এখানে অত্যন্ত সুকৌশলে প্রবেশ করানো হয়েছে যা একটু সূক্ষ্ম বিচার বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করে করায়ত্ত করতে হবে , না ভয় পাওয়ার কিছু নেই , বিষয় বস্তু অত্যন্ত সহজ ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে কিন্তু রূপকের আশ্রয়ে । রূপক বলতে কি বোঝায় তা নিশ্চয়ই আপনাদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবেনা ? সব কিছুর সাথেই কোথায় যেন একটা মিল খুঁজে পাওয়া যাবে , একটু খেয়াল করে পড়লেই আসল রহস্য উন্মোচিত হবে । গল্পের আসল আকর্ষণ গল্পের একদম শেষে রেখে দেয়া হয়েছে। গল্পটি একদম প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত না পড়লে গল্পের আসল নির্যাশ উপভোগ করা যাবেনা । তাই পাঠকগণকে গল্পটি শুরু করলে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ জানানো গেলো । তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে চলে যাই আমাদের মূল গল্পে যেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে গার্ডিয়ান গ্রহ , সেই গ্রহের মূল চরিত্র রাজা আকা আর তার মন্ত্রী ইন ।

 

পৃথিবী থেকে লক্ষ কোটি আলোক বর্ষ দূরে হুবহু পৃথিবীর মত দেখতে আর একটি গ্রহের নাম গার্ডিয়ান । সেই গার্ডিয়ান গ্রহের সবচাইতে শক্তিশালী দেশের নাম আটা। আর এই আটা দেশের রাজার নাম আকা।আকা খুবই কূটনৈতিক উপায়ে তার দেশ পরিচালনা করেন । অনেকটা ধরি মাছ না ছুঁই পানির মত।আর তার এই কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বনে তাকে সাহায্য করেন তার মন্ত্রী ইন । মন্ত্রী ইন খুবই তীক্ষ্ণ আর সূক্ষ্ম বুদ্ধির অধিকারী । রাজা আকা নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করেন যে তিনি ইনের মত এতো বুদ্ধিমান লোককে মন্ত্রী হিসেবে তার রাজ্যে পেয়েছেন । এই এক ইনের জন্যই পুরো গ্রহ তার নিয়ন্ত্রণে এবং সবচাইতে মজার বিষয় ইন কূটকৌশলে এতই সিদ্ধহস্ত যে তার বুদ্ধির জোরে আকা অনেক সময় বিনা যুদ্ধেই অনেক রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছেন।

king-avalon_bannerdfd.jpg

এই যেমন রাজা আটার যদি কোন মহাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তাহলে সেই মহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশকে প্রথমে বন্ধুত্বের আবরণে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয় যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে তার আশে পাশের দেশ গুলো দিয়ে সেই দেশকে চাপে ফেলা হয় তাও যদি না হয় তাহলে ঐ দেশকে বিভিন্ন ভাবে যেমন অর্থনৈতিক , আন্তর্জাতিক , খাদ্যসংক্রান্ত , বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক অবরোধের মধ্যে নিয়ে আশা হয় তারপরও যদি সেই দেশ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হয় তাহলে আকা তার মিত্র দেশ গুলোকে নিয়ে সামরিক জোট করে ঐ দেশকে হামলা করে , আর যদি হামলা করা সম্ভব না হয় তাহলে দিন দিন অবরোধের পরিমাণ বাড়ানো হয় যাতে একসময় ঐ দেশ অবরোধের চাপে নতি শিকার করতে বাধ্য হয় । কিন্তু ঐ দেশ নিয়ন্ত্রণের চাইতে যদি সে দেশকে দখল করলে বেশি লাভজনক মনে হয় তাহলে সে সব লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে লক্ষকৃত দেশকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত , সন্ত্রাসের মদতদাতা ঘোষণা করে একাই ঐ দেশকে আক্রমণ করতে নেমে পড়ে উল্লেখ্য যে তখন আর অন্য মিত্রদের সাথে নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনা কারণ সাথে নিয়ে আক্রমণ করলে তাকে তাদের ভাগ দিতে হবে , এই ভাগ দেয়া মতাদর্শে সে আবার বিশ্বাসী নয় ।

maxresdefaultdfsdf.jpg

আবার অনেক সময় নিজের মিত্র দেশের সাথে অন্য দেশের যুদ্ধ লাগিয়ে মিত্র দেশকে অতি উচ্চ দামে অস্ত্র বিক্রি করে ব্যাপক বাণিজ্যিক লাভ করে , অস্ত্র বিক্রির জন্য সারা বছর কোথাও না কোথাও যুদ্ধ বাজিয়েই রাখে । আর কোন দেশ যদি এর বিরোধিতা করে তাহলে তো কথাই নেই ঐ দেশ আক্রমণ করার জন্য যত রকমের ফন্দি ফিকির আছে তা সর্বান্তকরণে চেষ্টা করতে থাকে । এর মধ্যে ঐ দেশে আত্মঘাতী কিছু আক্রমণ করে ঐ দেশকে অনিরাপদ বলে স্বীকৃতি দেয়া , ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য অনিরাপদ এবং ব্যবসায়ীদের জন্য যাতায়াত নিষিদ্ধ করে দেয়া , পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে ঘোষণা করা , নিজ দেশের নাগরিকদের ঐ দেশে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা আরও কত কি ।

এখন সবচেয়ে লক্ষ করার বিষয় এই যে , সে সব সময় যে কোন মহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশকে কেন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে ? খুবই সহজ বনের নিয়ন্ত্রণ পেতে হলে আগে হয় বনের রাজার সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে , তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে অথবা তাকে আক্রমণ করে তাকে পরাজিত করে নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে । তাহলে বনের আর বাকি যত কম শক্তিশালী পশুরা আছে তারা ভয় পেয়ে যাবে আর ভবিষ্যতে কোন উচ্চবাচ্য না করে দাসত্বের আড়ালে মিত্রতাকেই বেছে নেবে । আর যদি সব পশুরা মানে সব শত্রু-দেশ একত্র হয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করে তাহলে-তো বিশ্ব যুদ্ধ করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকেনা। তখন ঐ বিশ্বযুদ্ধে যে কোন মূল্যেই জয়ী হওয়াটাই আসল কথা । তাই আমাদের গ্রহের মত গার্ডিয়ানেও বিশ্বযুদ্ধ বেঁধে গেলে প্রতিপক্ষকে মেরে কেটে একাকার করাই মূল লক্ষ্য হয়ে দাড়ায় । যুদ্ধে কত মানুষ মরল বা কত দেশ ধূলিসাৎ হয়ে মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে গেলো সেটা এখানে ধর্তব্য নয় ।

 

war-01dsdf.jpg

 

 

চলবে ……………

 

আল্লাহ্‌ হাফিজ

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

পুরানো তিমির [৮ম পর্ব]

Ikram Jahir

পুরানো তিমির [৬ষ্ঠ পর্ব]

Ikram Jahir

ধ্রুব’র কাহিনি (পর্ব ১)

Prashanta Deb

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: