সাহিত্য কথা

প্রতিবিম্বঃ পর্ব ১

সকালের ঘুমটা নষ্ট হলে সারাদিন মেজাজ বিগড়ে থাকে জাবিরের। তার উপর এর বৃষ্টিস্নাত সকালের ঘুম বলে কথা, রাগে চুল ছিড়তে ইচ্ছা করছে। আবার কি কল দিবে? ২বার কল দিয়েছে ইতিমধ্যে। অপাশ থেকে কল ধরে কোন কথা বলেনা। দুইবারই জাবির বিরক্ত হয়ে কল কেটে দিয়েছে। কথা না বলার কেউ থাকলে সেই ৬ টা থেকে ১৯ টা কল দিয়ে ঘুম ভাঙ্গানোর দরকার কি ছিল?

না, আর শোয়া হবেনা। শুলেও ঘুম আসবেনা। তাই সোজা ব্রাশ হাতে শাওয়ার করতে ঢুকে গেল। বাথরুমে গিয়েও শান্তি পাচ্ছেনা মনে। কে এই অধম যে তার সকালের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটালো। কাছে পেলে ওর হকিস্টিক দিয়ে পেটাতে মন চাইছে। এই সাত-পাচ ভাবতে ভাবতে  শাওয়ার শেষে রুমে এসে ঢুকলো। এমন সময় আবার ফোন। হাতে নিয়ে দেখলো বন্ধু নাহিদ কল দিয়েছে।

– হুম মামা বল।

– বলা বলির কিছুনাই। তুই কই?

– শাওয়ার করে বের হইছি মাত্র। কিছু না বলার থাকলে কল দিছিস কেন?

– তুই ক্লাসে আয় খালি দোস্ত। তোকে জান্নাত দেখাবো।

– মাইরা ফেলবি নাকি? মরার আগে জান্নাত জাহান্নাম কিভাবে দেখবো?

– কথা প্যাচাইস না। আয় আগে।

– মাথা খারাপ? এই বৃষ্টি দিয়ে কেমনে আসবো?

– তোমার বাপের একটা গাড়ী আছে আর সেইটাতে চড়া যায় , আর সেইটা দিয়া ক্লাসে আসলে গায়ে বৃষ্টি পরবো না আর তোমার বাপেও কিছু কইবো না।

– হ হ ঠিকাছে। হোজ্জার মত জ্ঞান দিস না। আসতেছি তোর জান্নাত রে জাহান্নাম বানাইতে।

– আয় আয়।

সকালের এই ঘুম বাদে জাবিরের নিজের অতি কাছের যক্ষের ধন বলতে আছে একটা হাই এন্ড কনফিগারেশন এর গেমিং ডেস্কটপ কম্পিউটার আর রুমের বারান্দা। বারান্দা থেকে সামনের দিকের দৃশ্যটা ওকে কেন যেন খুব টানে। মোটেও রোমান্টিক ছেলে না জাবির। বরং বলা যায় রোমান্টিসিজম আর জাবির বিপরীতমুখী। তাও এই বারান্দায় আসলে মনে হয় এখানে দাড়িয়ে কথা বলার মত একজন মানুষ জীবনে থাকা উচিত।

রেডি হয়ে আব্বা-আম্মার রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো। আব্বা তো জাবিরকে দেখে কোনরকম চমকে উঠলেন। সকাল সাড়ে আটটার মত এত সকালে ছেলের ঘুম ভেঙ্গে গেছে এটা দেখে উনি ভাল রকম ধাক্কা খেয়েছেন।

– কিরে বাবা তুই এত সকালে?

– সকাল কই সাড়ে আটটা বাজে।

– তুই তো এত সকালে উঠস না। আজকে উঠছিস আবার রেডিও হয়ে গেছিস। কিরে, প্রেম ট্রেম করছিস নাকি?

– ধুর আব্বা, কি যে বলোনা। আচ্ছা আমারে গাড়িটা দাও। আমি ক্লাসে যাব।

– তোর ভার্সিটি তো দুপুরে। এখন কিসের ক্লাস?

– আরে দাওতো মিয়া। তুমিও না!!!

– আচ্ছা নে, কিন্তু নাস্তা খেয়ে যা।

– বাইরে খাব।

জাবির এর বাবা-মা দুজনেই খুবই বন্ধুভাবাপন্ন। ছেলের সাথে সেই ছোটকাল থেকেই বন্ধুর মত আচরন করে  এসেছেন। একমাত্র সন্তান কে নিজেদের বন্ধু বানিয়ে নিয়েছেন যাতে সন্তান অসৎ সঙ্গে না জড়ায়।

 

জাবির গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেল। এই বৃষ্টির মাঝেও ট্র্যাফিক লেভেল অসাধারন। জ্যামের কারনে ধুকতে ধুকতে জাবির ক্যাম্পাসে পৌছালো ১০ টায়। গেটের সামনেই দাড়িয়ে ছিল নাহিদ।

– ধুর বলদা এত লেট করে কেউ?

– আমি কি উইরা উইরা আসবো?ঢাকার জ্যাম তুমি জানো না?

– হইছে আয় তাড়াতাড়ি।

– কই?

– আয় তো।

একপ্রকার টানতে টানতে জাবিরকে লাইব্রেরিতে নিয়ে গেল নাহিদ। ঢুকে একটা কোনায় বসে লাইব্রেরীর অন্যদিকে দেখিয়ে দিল। এক নজর তাকাতেই জাবিরের মনে হল তার গলা দিয়ে অমৃত নামছে। চারপাশে হাজারখানেও ভায়োলিন বাজছে। পাখি গান গাচ্ছে, আর বাইরে বৃষ্টি পড়েতেছে। থ্রি ইডিয়ট মুভিতে আমির খানের লাভ এট ফার্স্ট সাইট এর পুরো ডিসক্রিপশন একটার পর একটা ঘটছে।

মেয়েটা একটা হালকা নীল জামা পরে কপালে হাত রেখে গভীর মনোযোগ দিয়ে কি যেন পড়ছে। হালকা ভেজা চুল, টানা দেয়া চোখ আর মুখে মায়া ভরা একটা ডাক। আলফ্রেড নোবেল বেচে থাকলে আজ ওর জন্য নোবেল পুরষ্কার এ “সৌন্দর্যের জন্য নোবেল” নামে নতুন ক্যাটাগড়ি যোগ করে এই মেয়েকেই  প্রথম পুরষ্কার দিত। নাহিদের ডাকে হুশ ফিরলো ।

-কিরে জান্নাত দেখলি?

-দোস্ত মেয়েটা কে?

-ওরে বাব্বা, এত জলদি? ক্যাম্পাসের কত মেয়ে পিছে ঘুরে, স্যার পাত্তাই দেন না। আর এর জন্য এত আগ্রহ?

-ওরে হাদা, নাম বল।

-জান্নাত।

-আরে দেখতে তো  জান্নাতের হুরপরী, নামটা বল।

-আরে নামই জান্নাত।

-বাহ!!! নামটা সার্থক ওর জন্য।

-মেকানিকাল ১ম সেমিস্টার।

-কস কি? এই মেয়ে ইংলিশ বা বিবিএ তে থাকার কথা। মেকানিক্যাল এ কি করে? কি বুঝে আসছে?

-তোর কি? যেখানে ইচ্ছা পরুক। চল আমরা নাস্তা খাই।

-দাড়া, আমার কি মানে? আমার অনেক কিছু। খামু। আগে দেখে নাই।

-অনেক সময় আছে দেখার জন্য, পড়ে দেখিস। আগে চল ক্ষুধায় পেটে গডজীলা সাম্বা করতেছে। আগে খাই গিয়ে।

-এটু পরে খেলে নিশ্চয়ই মারা যাবিনা। আগে দেখি মন ভরে। তারপর।

-তুই থাক আমি গেলাম ক্যান্টিন এ।

-যাহ, খা গিয়ে। খাদক শালা।

-ঠিক আছে, জান্নাতের নাম্বার রেখেছিলাম তোয়ার জন্য। নাম্বারটা ডিলিট করে দিচ্ছি।

বলেই হাটা শুরু করলো নাহিদ।

পিছন থেকে জাবির দৌড় দিল নাহিদ এর পিছু – “দাড়া সোনা বন্ধু, আজকে আমি খাওয়াব। আসতেছি ।”

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

সেই মেয়েটির প্রেম -২য় পর্ব

Md.Biplab Hossain

আমার একটি দিন

Salina Zannat

নির্মম সাইকো: ভালোবেসে খুন!

Maksuda Akter

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: