এই ভিন্নজগৎতে ভিন্ন রুপ

Please log in or register to like posts.
News

আনন্দের সময়

-বিপ্লব হোসেন মোল্লা

 

বাংলাদেশের ছোট একটা জেলা চুয়াডাঙ্গা। এখানে বসবাস করে নানান জাতের মানুষ । তাদের নৈতিক দায়িত্ব মাঝেমাঝে ভিন্ন দেখা দেয় । চুয়াডাংগা জেলার এক পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ,মাথাভাঙ্গা নদী । সেখানে রোজ সকালে মাঝি ও  জেলের অাবিরভাব হয় ,কেননা পেটের জন্য অন্ন প্রয়েআজন ,তার জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র ।সকালে যে যার মত নিজের কাজে অংশগ্রহন করে । ফাল্গুন মাসের মধ্যভাগে মনের শীতল অনুভূতির জন্য  প্রায় সকলেই   আনন্দ উপভোগ করতে বিভিন্ন স্থানে যায় ।সকালবেলা পান্তাভাত খাইয়া ,বই-পত্র লইয়া স্কুলে রওনা হলাম । স্কুলটির নাম ” কুতুবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়” ।অামি অামার কয়েকজন বন্ধু ও শ্রেণীIMG_14345832331132.jpeg শিক্ষক মিলে শিক্ষাসফরে যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিলাম ।প্রধান শিক্ষকের নিকট একটা অাবেদন করা হলো ,অনুমতি পেলাম  । কয়েক দিন পর শিক্ষাসফরে যাওয়ার জন্য বাস ভাড়া করা হলো । সকলে যাওয়ার জন্য প্রস্থুত ।রাত ৮ টার সময় যাওয়া শুরু করবো স্বপ্নপুর ও ভিন্নজগৎতের উদ্দেশ্যে ।বন্ধু-বান্ধব সকলেই এসে হাজির । তবে সেই সময় সকলের একটাই ভয় হয় যদি, পথের মাঝে কোন সমস্যা হয় । তাই নিকটস্থ ডাক্তারের কাছ থেকে” ডমপেরিডম” নামক এক ধরনের ঔষধ নিয়ে বাসে উঠলাম । একটি খেয়েও নিলাম । সকলের উপস্থিতিতে ঠিক সময যাত্রা শুরু করলাম । রাতের আধারে সে যেন ওক অন্যরকম রুপ । এর অাগে আর কেউ কখনো রাতে ভ্রমন করে নি ,এই প্রথম । দ্রুত গতিতে বাস যখন চলে তখন ঠিক কেমন হয় তা তো অাপনারা জানেন । রাতে বাস যখন বিটের উপর উঠে তখন মনে হয় যেন,মাজা ভেঙ্গে গেল । ঠিক গন্তব্য স্থানের কাছাকাছি  ভোর বেলা কুয়াশায় চারিদিক ঢেকে গিয়েছে দুই হাত অাগে কি অাছে দেখা যায় না । তখনি বন্ধুরা গান শুরু করলো ,কেউ কেউ নাচতে শুরু করলো । অামি গায়ে গরম পোশাক জড়িয়ে দেখতে থাকলাম । সকাল ৮ টার সময় ভিন্নজগৎ গিয়ে বাসটি দাড়াইলো । সকলে বাস থেকে নেমে যার যার মত ফ্রেশ হয়ে ,নাস্তা করলাম । সকাল ১০ টা  ।ভিন্নজগৎতে মানুষের তৈরিকৃত একটি গুহা রয়েছে  সেখানে  অাগে পরিদর্শন করবো । গুহার ভিতর যেতে একটু ভয় করলো কেননা গুহায় ঢুকতে একটা বিশাল মানুষের মাথা । মানুষের মাথার ভিতর দিয়ে গুহায় প্রবেশ করলাম ।গুহার ভিতরটা একটু অন্ধকার হলেও সেখানসে রয়েছে দেখার মত কত জিনিস । লাঙ্গল কাঁধে নিয়ে কৃষক মাঠে যায়  । বিভিন্ন মাটির তৈরি সরাঞ্জাম ।কাঁকে কলসি নিয়ে গায়ের বধু নদীতে জল অানতে যায়  । গুহা অতিক্রম করে বের হলাম ,দেখলাম  বিভিন্ন ধরনের ফুল গাছ  । দূর থেকে দেখতে পেলাম একটা  উড়োজাহাজ ।ভাবলাম জীবনে প্রথম সরাসরি উড়োজাহাজ দেখাল সুযোগ বুজি হলো । উড়োজাহাজের  নিকট গিয়ে দেখলাম যে উড়োজাহাজের  মত মডেল। অাসলেই দর্শনার্থীর উপভোগ করার জন্য ,একটা মেশিনের অংশকে কাজে লাগিয়ে  চলা ।ভিন্নজগৎতের সমস্থ কিছু দেখে বেড়িয়ে পড়লাম স্বপ্নপুরের উদ্দেশ্যে । স্বপ্নপুর এসে পৌঁছালাম । ঢুকতেই একটা বিশাল বড় গেট । ভিতরে প্রবেশ করলাম । ভিতরে বিভিন্ন দোকান । সেখানে গিয়ে কিছু কেনা-কাটা করলাম । দুপুরে খাওয়া শেষ করে দেখতে লাগলাম স্বপ্নপুর । স্বপ্নপুরন বলতে সত্যিই স্বপ্নপুর । মাছের মুখ দিয়ে পানি বার হয় এর অাগে কখনো দেখিনি ,পানিতে নৌকায় চড়ে পা’য়ে পেডেল করা যায় তাও কখনো দেখিনি । একটা সাদা ঘোড়া দেখলাম । সবচেয়ে যেটা ভাল লাগলো স্বপ্নপুরের সারর্কাস । সে কি অন্যরকম দূশ্য ,খাঁচার ভিতর মটর সাইকেল চলে,আগুন মানুষে গিলে খায়,ইয়া বড় বড় মানুষ ইত্যাদি সে এক অপরুপ দৃশ্য ।

 

স্বপ্নপুর গিয়ে যে শুধু অানন্দ উপভোগ করেছি তা নয় । একটু বিপদে পড়ে বিষাদ অনুভোব করেছি । এর অাগে কখনো শহরের মানুষ সম্পর্ক  জানতাম না । স্বপ্নপুর গিয়ে হাড়ে হাড়ে বুঝলাম । একটা দোকানের সম্মুখে দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় দোকান মালিক অামার কাছ এসে বললো তুমি অামার ক্যামারার  ফ্লিম চুড়ি করেছ । অামি হতবাক হয়ে গেলাম  । মিনিট ৫ এক অাগে যে দোকান থেকে ফ্লিম কিনে আসলাম সেই এসে চোর বলে !‍ একটু তর্কাতর্কি হলো  । অামার কয়েকজন বন্ধুয়ো এসে পৌঁছালে অামার নিকট ।বন্ধুরা পার্ক কমিটির সাহায্য দোকান মালিকের কাছ থেকে অামাকে উদ্ধার করলো । সেকখান থেকে অাসের পর মন অার ভাল বললো না ।  একা গিয়ে বাসের ভিতর গিয়ে বসে রইলাম । ভাবতে থাকলাম এ কি অবস্থা । বন্ধুরা ঘোরা ঘুড়ি করে বাসে অাসলো । হালকা নাস্তা করে ,এবার বাড়ির পথে রওনা হলাম । ঝিনাইদহ এর মাঝা মাঝি এসে বাসের টায়ার নষ্ট হয়ে গেল । কনকনে শীতের মাঝে একটা খোলা রাস্তায় নিজেকে দাড় করিয়ে রাখলাম  । শরীরে মাঝে ,মাঝে কাপুনি অাসে ,তবুও নিজেকে সামলায় । রাস্তার একপাশে দেখতে পেলাম ,একটা ফল ব্যবসায়ি ফল বিক্রি করছে । সেখানে গিয়ে কিছু পরিমানের অাঙ্গুল ফল কিনে বন্ধুরা মিলে ভাগাভাগি করে খেলাম । কিছুক্ষন পর বাস ঠিক হয়ে গেল । অামরা অাবারো বাসে উঠলাম ।বাসের ভিতর এবার শ্রেণী শিক্ষক গান ধরেছে ,” ওরে অামার পাগল মন ..সকলেই শ্রেণী শিক্ষকের গানটি উপভোগ করলাম । ভোর হবার অাগেই স্কুলমাঠে এসে হাজির হলাম অামরা সবাই । আজ স্কুল মাঠের পরিবেশটা একটু ভিন্ন । যে খেলার মাঠে দিনের মধ্যভাগে পা পড়ে, সেই মাঠে কিনা এত ভোরে পায়ের তলার শিশিরের ছোয়া  । পায়ের জুতা খুলে মাঠের চারি দিকটা একবার অতিক্রম করে এলাম । এলা হায় তুলে বন্ধুদের বললাম কিরে  কেমন অানন্দ হলো ? সবাই একটি কথায় বললো দারুন ।তবে অামারটা একটু অন্য রকম ,কখনো খালি পায়ে শিশিরের উপর হাটা হয় নি ।যাইহোক, স্কুলের পাশে থাকা বাঁশের তৈরি মাচার উপর বসে সকালের অালোর দিকে তাকিয়ে থাকলাম  । সকাল হলো বন্ধুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলাম ।সকলকে সোনালী দিনের অঙ্গীকার দিয়ে বাসার পথে রওনা হলাম ।

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?