Now Reading
প্রসংগ: লেনদেনের মাধ্যম-কারেন্সী ।



প্রসংগ: লেনদেনের মাধ্যম-কারেন্সী ।

শুরুর কথা: সৃষ্টির শুরু থেকে মানুষ, পণ্য বা সেবা তার নিজের চাহিদা অনুযায়ী আদান প্রদান করে আসছে। শুরুতে আদান প্রদান করার কোন মাধ্যম না থাকায়, মানুষ পণ্যের বিনিময়ে পণ্য বা সেবা আদান-প্রদান করতো। যেমন কারো কাছে শষ্য আছে, সে অন্যের সাথে শষ্যের বিনিময়ে বস্ত্র গ্রহণ করছে। এতে করে সমস্যা সৃষ্টি হলো, মানুষ তার চাহিদা মতো পণ্য বা সেবা আদান-প্রদান করতে পারতো না।  মূলত: চাহিদার কথা বিবেচনা করেই, বিনিময়ের জন্য একটি মাধ্যম সৃষ্টি করা হয়। প্রাথমিকভাবে স্বর্ণ মুদ্রা বা রৌপ্য মুদ্রাকে বিনিময়ের মাধ্যম করা হয়। বিনিময়ের এ মাধ্যম পরবর্তীতে কাগজী নোটে রুপান্তর হয়। আর এই কাগজী নোট বা বিনিময়ের মাধ্যমই হলো কারেন্সী। তাই এক কথায় বলা যায়, মানুষ তার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য-সেবা প্রাপ্তির জন্য যে মাধ্যমকে অবলম্বন করে লেনদেন করে থাকে তাকে কারেন্সী বলে।

কারেন্সীর প্রকার ভেদ:সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্যাবধি যে সকল কারেন্সী ব্যাবহ্রত হয়েছে এবং হচ্ছে, সকল বিষয় বিবেচনায় কারেন্সীকে বেশ কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: কয়েন বা মেটাল কারেন্সী(ধাতব মূদ্রা), পেপার কারেন্সী(কাগজী নোট), ভার্চুয়াল কারেন্সী ইত্যাদি।

মেটাল কারেন্সী হলো: স্বর্ণ মূদ্রা, রৌপ্য মূদ্রা, ব্রোঞ্জ মূদ্রা, কপার মূদ্রা ইত্যাদি।রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গোল্ড কয়েন ব্যাবহ্রত হতো: (১) বৃহৎ কোন ক্রয়ের বিপরীতে মূল্য পরিশোধের জন্য,(২) সামরিক খাতের অর্থ পরিশোধের জন্য,(৩)রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমর্থন আদায়ের জন্য।  স্বর্ণ  বা রৌপ্য মূদ্রার প্রচলন এখন নেই বললেই চলে, এখন কিছু কিছু দেশে পিতল, তাম্র, এলুমিনিয়াম বা অন্যান্য ধাতব মূদ্রা প্রচলিত আছে।

পেপার কারেন্সী: এ কারেন্সীটি সহজে পরিবহন যোগ্য এবং বিনিময় যোগ্য হওয়ায় বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব পেপার কারেন্সীর প্রচলন করে পণ্য এবং সেবার বিনিময় করে আসছে বহুদিন যাবৎ। কিছু পেপার কারেন্সী হলো: টাকা(বাংলাদেশ),রুপি(ভারত-পাকিস্থান),ডলার(আমেরিকা),পাউন্ড(বৃটেন),রিয়েল(সৌদি আরব) ইত্যাদি।

ভার্চুয়াল কারেন্সী: বর্তমানে একটি কারেন্সী বিশ্ব অর্থনীতিকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রন করছে, সেটা হলো ভার্চুয়াল কারেন্সী। ব্যাবহার এবং আকার প্রকার দর্শনে ভার্চুয়াল কারেন্সীকে বেশ কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: ই-কারেন্সী, ক্রিপটো কারেন্সী, ডিজিটাল কারেন্সী ইত্যাদি।

ই-কারেন্সী: আধুনিক যুগটা হলো ইন্টারনেট নির্ভর যুগ। ই-কারেন্সী বা ইলেকট্রনিক কারেন্সী হলো ইন্টারনেট নির্ভর একটি কারেন্সী। ই-কারেন্সী কোন নির্দ্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের জন্য নয় এটার বিস্তার সারা বিশ্ব ব্যাপি। কয়েকটি ই-কারেন্সী হলো: পেপাল, পেইজা, স্ক্রিল,পারফেক্টমানি,পেইয়ার ইত্যাদি। যে কেউ এসকল ই-কারেন্সীতে হিসাব খুলতে পারবে, সুনির্দ্দিষ্ট নীতিমালা মেনে।

ক্রিপটো কারেন্সী: বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত একটি কারেন্সীর নাম হলো ক্রিপটো কারেন্সী। ক্রিপটোকারেন্সী কোন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হয় না। এটি মূলত ডিসেন্ট্রালাইজড পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। ওয়েব সার্ভার ডিজিট জেনারেট করে। সেই ডিজিট ভার্চুয়াল কারেন্সী হিসাবে ব্যাবহ্রত হয়। হাল আমলে সবচেয়ে দামী এবং জনপ্রিয় ক্রিপটোকারেন্সী হলো: বিটকয়েন। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ ডলারের মধ্যে উঠা নামা করছে। বিটকয়েন এর জনপ্রিয়তা দেখে বাজারে আরো কিছু ক্রিপটোকারেন্সী এসেছে। যেমন: ইথিরাম, সুইসকয়েন, লাইটকয়েন,ডগিকয়েন ইত্যাদি।

ডিজিটাল কারেন্সী: বর্তমান সময়ে ডিজিটার কারেন্সী খুবই জনপ্রিয় একটি লেনদেনের মাধ্যম হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে টাকা ট্রান্সফার করার জন্য এ কারেন্সীর কোন জুড়ি নাই। ডিজিটাল কারেন্সী মূলত ডিজিট বেইসড লেনদেনের মাধ্যম। ডিজিটের আদান-প্রদানের মাধ্যমে এই লেনদেন সম্পাদিত হয়ে থাকে। অর্থের বিনিময়ে ডিজিট ক্রয় করতে হয়। বেশ কিছু ডিজিটাল কারেন্সী হলো: ওয়েষ্টার্ন ইউনিয়ন, বিকাশ, রকেট ইত্যাদি। এসব মাধ্যম দিয়ে একজন গ্রহীতা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে খুব দ্রুত এবং সহজে অর্থের আদান-প্রদান করতে পারে।

ওয়েষ্টার্ন ইউনিয়ন: এটি আর্ন্তজাতিক পরিসরে আর্থিক আদান-প্রদানের একটি ডিজিটাল মাধ্যম। বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে ডিজিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ওয়েষ্টার্ন ইউনিয়ন দিয়ে টাকার আদান প্রদান করা হয়।

বিকাশ: এটি মোবাইল ফোন ভিত্তিক অর্থ আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম। এক জন গ্রাহক তার মোবাইল ফোনে বিকাশ ডিজিট ক্রয়ের মাধ্যমে এ লেনদেন সম্পাদন করতে পারে। বিকাশ মূলত পরিচালিত হয়, বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির নাম হলো: ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। গ্রামাঞ্চলের জনগন যারা ব্যাংকিং কর্মকান্ডের সাথে সারাসরি সম্পৃক্ত হতে পারছে না তাদের কথা বিবেচনা করে বিকাশ কাজ শুরু করে। বিপুল পরিমান মোবাইল ব্যাবহার কারীদের মধ্যে প্রধানত এ সেবার কাজ পরিচালিত হচ্ছে।    ডিজিটাল কারেন্সী জগতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিকাশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে।

রকেট: আরেকটি বাংলাদেশী ডিজিটাল কারেন্সী আদান-প্রদানের মাধ্যম হলো রকেট। এটিও একটি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ব্যাংকটির নাম হলো ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটিড। তবে এটি বিকাশের মতো অতোটা ব্যাপকতা লাভ করতে পারেনি। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে বিকাশের অবস্থান শীর্ষে।

পরিশেষে, কারেন্সী বিষয়ক আলোচনা স্বল্প পরিসরে শেষ করা সম্ভব নয়। এটা একটা বিশল জগৎ। অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কারেন্সী। সৃষ্টির শুরু হতে আজ পর্যন্ত লেনদেনে যত মাধ্যম প্রচলন হয়েছে, সবগুলোকেই কারেন্সী হিসাবে পরিগনিত করতে হবে। এটা হোক ধাতব মুদ্রা, হোক কাগজী মূদ্রা অথবা হোক ভার্চুয়াল ডিজিট।তাবে আগামীতে কারেন্সী নিয়ে একটা বিপ্লব দেখা যাবে সারা বিশ্বে, যে বিপ্লব ঘটাবে প্রধানত ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েন।কারন এটি তার নিজস্ব গতিতে কোন নিয়ন্ত্রন ছাড়া চলতে চলতে এখন সারা বিশ্বের দামী কারেন্সীতে রুপান্তরিত হয়েছে।আগামীতে ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েন নিয়ে একটি আর্টিক্যাল লিখার আশা রাখি।

বি:দ্র:এখানে উল্লেখিত সম্পূর্ন আলোচনাটি মস্তিস্ক প্রসূত মতামত নির্ভর তাই কোন তথ্য সূত্র দেয়া হলো না।

About The Author
Md Salman Arefin Shimun
Hello There, I Am A Freelancer & Forex Trader. Want To Get You As A Friend With Me On Facebook: https://www.facebook.com/salman.arefin.14
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment