Now Reading
উচ্চ মাধ্যমিকের নিম্নগতি



উচ্চ মাধ্যমিকের নিম্নগতি

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে । কবি সুফিয়া কামাল তার এই অমর বাণী দিয়ে এই দেশের বহু ছেলের চিত্ত সজাগ করে গিয়েছেন যেন তারা তাদের কাজের দ্বারা সর্বদা দেশের মুখ উজ্জ্বল করে । মেয়েদের ব্যাপারে কেন বলেননি তা আমার জানা নেই । তবে  উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের পর পেপার পত্রিকায় ছেলেদের কলেজের  ছবি  ৪টা  ছাপা হলে মেয়েদের ছাপা হয় ১০ টা।

তুলনা করার সময় নেই। ফেসবুক , হোয়াটসাপ , ইউটিউব ইত্যাদিতে লাইক কমেন্ট শেয়ার দেয়ার বেলায় ছেলেদের কে হারানো কোন দিনও সম্ভব না , তারা এই কাজে পিএইচডি প্রাপ্ত , এটা অনেকটা কথার কাজ , কাজের কাজ কিছু না । কিন্তু  ফলাফলের সময় যদি ঐ কমেন্ট ধারীদের হারিকেন দিয়ে খুঁজতে হয় তাহলেই সাময়িক নয় এ যেন ভয়াবহ বিপর্যয়। একটা মেয়ে একটা পোস্ট দিল, সেলফি আপলোড করলো , স্ট্যাটাস দিলও আর লাখ লাখ ছেলে তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়লো আর সেই ছেলেরা যদি ফলাফলের পরে বাসায় অকৃতকার্যতার সার্টিফিকেট নিয়ে ফেরে তাহলে জাতির জন্য এর চেয়ে বড় দুঃখের কারণ আর কি হতে পারে ?

যারা পাশ করলো তারা তো বেঁচে গেলো এখন শান্তিতে খুব ঠাণ্ডা শান্ত মন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে কিন্তু যারা উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার পর থেকে এখন পর্যন্ত ভর্তি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো কিন্তু ফলাফল প্রাপ্তির পর দেখল ফেল করেছে  তাদের কি হবে ? এটা কি তাদের দোষ ? না এটা  তাদের দোষ নয় এটা তাদের কপালের দোষ ?

তো আসল কথা হচ্ছে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে এ নিয়ে আর মন খারাপ করে লাভ নেই এখন যেহেতু পুরনো পড়া আবার পড়তে হবে তাহলে তাতেই মনোনিবেশ করা ভাল। এমনটাই হওয়া উচিত অকৃতকার্য ছেলেমেয়ের বাবা মায়ের বক্তব্য কিন্তু কিভাবে তারা তাদেরকে শান্ত রাখবে ? তাদের আদরের সোনামণি যে সমাজে তাদের মুখ দেখানোর কোন পথ খোলা রাখেনি । যেখানে গোল্ডেন A+ পেলে কোন দাম নেই সেখানে অকৃতকার্যতা তো  ভয়াবহ অপরাধ ।  কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমি এমন অনেককে চিনি যারা উচ্চ মাধ্যমিকের  খারাপ ফলাফলের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবনে অসাধারণ রেজাল্ট করেছে কারণ তাদের গার্ডিয়ান ছিল তাদের উপর ধৈর্যশীল এবং তারা তাদের গার্ডিয়ানের ধৈর্যের যথাযথ প্রমাণ দিয়েছে  পরবর্তী জীবনে ।

শিক্ষা জীবনে এক বা দুই বছর গ্যাপ এটা কোন বড় ধরনের ফ্যাক্ট না যদি কেউ একে তেমন গুরুত্ব না দেয় । যে সকল চাকরি দাতারা এই গ্যাপ নিয়ে বেশী মাতামাতি করে তাদের চাকরি না করলেই হল । আর ফেল করা মানেই যে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে তা নয়  , আমিতো বলবো  এটা একটা বড় সুযোগ , যেমন হয়ত কেউ এই অল্প সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি নিতে পারত না ।  কিন্তু এখন পড়ে ফেলা এক বা দুই বিষয় যেগুলোয় ফেল করেছে সেটার পাশাপাশি এক বছর ধরে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি নিতে পারার একটা চমৎকার সুযোগ হাতে এসেছে । যাতে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা শত ভাগ বেড়ে গেলো ।  আমার এক দুঃসম্পর্কের  ভাগ্নি যার উচ্চ মাধ্যমিকে  A+ তো বটেই গোল্ডেন A+ ছিল চরম আকাঙ্ক্ষিত সে কিনা ফেল করে বসে ,  তো তার কি জীবন থেমে রয়েছিল ? না বরং তার গার্ডিয়ান এটাকে নিছকই একটা দুর্ঘটনা ভেবে এটাকে ভুলে যেতে বলে , যেখানে তার অন্য বান্ধবীরা অনেকেই গোল্ডেন A+ পেয়েছিলো । তার গার্ডিয়ান যদি ঐ সময়ে বিচক্ষণতার পরিচয় না দিত তাহলে  সে  হয়তো পরবর্তীতে  যে অসাধারণ রেজাল্ট করেছে তা আর করা হতোনা অথবা তার চাইতেও খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারত ,  সে হয়তো গার্ডিয়ানের  গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিত ।

 

আসুন দেখে নেই এবারের ফলাফলের কিছু নমুনা

৬৮.৯১% পাশের গড় হার দশ শিক্ষা বোর্ডে

৭৭ দশমিক ০২ শতাংশ মাদ্রাসা বোর্ডের পাসের হার

৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ কারিগরি বোর্ডে পাসের হার

৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের

 

ঢাকা বোর্ডে  ৬৯.৭৪ ,রাজশাহী বোর্ডে ৭১.৩০,  কুমিল্লা বোর্ডে  ৪৯.৫২, সিলেট বোর্ডে ৭২.০০, যশোর বোর্ডে ৭০.০২,বরিশাল বোর্ডে  ৭০.২৮,

দিনাজপুর বোর্ডে ৬৫.৪৪, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬১.০৯ পাশের হার এই বছরে। তথ্য ঃ আমাদের সময় ।

তো খতিয়ানে দেখা যাচ্ছে কুমিল্লায় অর্ধেকের বেশী ফেল। আমরা সবাই জানি কুমিল্লা জেলা পুরোটাই সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ।

আর আমাদের সীমান্ত এলাকাগুলোর অনেক বদনাম আছে  , সেখানে সীমান্ত দিয়ে এহেন চোরাচালান নেই যে না হয় তার ওপর ইয়াবা , মাদক , জুয়া , প্লাস্টিকের ডিম আমদানি  , লাইসেন্স বিহীন মোটর সাইকেল আমদানি , যাত্রা , বাজি ধরা, অশ্লীলতা , বেহায়াপনা আর রাজনৈতিক কোন্দল তো লেগেই রয়েছে।

তার একটা খুব খারাপ প্রভাব এবার পড়তে দেখা গেলো কুমিল্লা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে । সীমান্তে চোরাচালান করে যদি কোন ছাত্র মাসে দুই লক্ষ টাকা আয় করে তাহলে সে পড়াশুনায় মন বসাবে কেমন করে ?

তখন তো সে ঐ আয় করা টাকা কিভাবে ফুর্তি করে খরচ করবে সেই চিন্তায়ই সারাদিন মশগুল থাকবে । তাই এখনও সময় শেষ হয়ে যাইনি ,  কুমিল্লার ছাত্রছাত্রীরা ভীষণ মেধাবী , তাদের গার্ডিয়ানরা যদি তাদের সন্তানদের দিকে একটু নজর দেয় তাহলেই এই ভরাডুবি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

 

আল্লাহ্‌ হাফিয ।

 

About The Author
Md. Moinul Ahsan
The whole world is my school and i am the student of this. The more i try the better i improve.My country my responsibility , one day Bangladesh will be considered as a superpower.
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment