সাহিত্য কথা

প্রতিশোধ – পর্ব ২

ভাই এসে তন্নি কে জিজ্ঞেস করলো কান্না করছে কেন?
তন্নি ওর ভাইকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলো।
ভাইঃকি হলো?কেও কিছু বলেছে তোকে?
তন্নিঃনা
ভাইঃতাহলে?
তন্নিঃআমি একজনকে ভালোবাসি…
ভাই হেসে বললো ভালোবাসলে কেও কাঁদে নাকি?
তন্নিঃকিন্তু সে অন্য একজনকে ভালোবাসে।
ভাইঃতার জন্য এমন করে কেও কাঁদে?ছোট থেকে তোর সব আবদার আমি পূরণ করেছি। এইটা ও পূরণ করবো।
তন্নিঃ ভাইয়া আমি যাকে ভালোবাসি সে আমার বন্ধু আকাশ।
ভাইঃওহঃ আকাশ? ও তো খুব ভালো ছেলে।
তন্নিঃকিন্তু আকাশ আমার ফ্রেন্ড হেমাকে ভালোবাসে।আকাশ অন্য কাওকে ভালোবাসলে আমি জোর করতাম।কিন্তু….
ভাইঃ ঠিক আছে আমি দেখছি।এখন কান্না বন্ধ করে ঘুমাতে যা
এ কথা বলে তন্নির ভাই চলে গেলো।
তন্নি ও ভিতর থেকে রুম অফ করে দিলো।
আকাশ তন্নি কে ফিরিয়ে দিয়েছে।এটা তন্নি মানতে পারছে না।

সকাল হয়ে গেছে
তন্নি এখনো দরজা খোলছে না
তন্নির ভাই অনেকক্ষন দরজা ধাক্কালো।তন্নি কোন সাড়া দিলো না।
তন্নির ভাই সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢোকলো।
ভিতরে গিয়ে দেখে তন্নি ফ্যান এর সাথে ঝোলে আছে।
তন্নির ভাই এর মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরলো।
তারাতারি করে তন্নি কে নামালো।কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে।

তন্নি কেন এমন করল তা বাড়ির কেও কিছু বুঝতে পারছে না।
শুধু তন্নির ভাই বুঝতে পারলো কেনো তন্নি এমন করেছে।

পুলিশ এসে তন্নির লাশ নিয়ে গেছে।

তন্নির ভাই অনেক চেষ্টা করেও তন্নির লাশটা রাখতে পারেনি।

পোস্টমর্টেম করে  তন্নির লাশ নিয়ে পুলিশ এসেছে।

হেমা,আকাশ আর তন্নির অন্যান্য বন্ধুরা খবর পেয়ে তন্নির বাসায় আসলো।
কেও কিছু বুঝতে পারছে না।
আকাশ মনে মনে ভাবছে তন্নিকে ফিরিয়ে দেওয়াতে কি এমনটা করলো নাকি অন্য কোন কারণ?
হেমা এক দৃষ্টিতে তন্নির মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে আছে।হেমা কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।শুধু দুচোখ দিয়ে পানি পরছে।

হেমা তন্নির খুব ভালো বন্ধু হলে ও তন্নির বাসায় কখনো আসে নি।তাই কাওকে তেমন ভাবে চিনে না।
কাকে কি বলে শান্তনা দিবে তাও বুঝতে পারছে না।

তন্নির কবর দেওয়া হয়ে গেলে সবাই একে একে চলে গেলো।
হেমা, আকাশ ও ওদের বন্ধুরা ও চলে গেলো।

হেমা বাসায় গিয়ে মন খারাপ করে রইলো।কি থেকে কি হয়ে গেলো কিছুই বুঝতে পারছে না।
হেমা কিছুতেই তন্নির মৃত্যুর কারণ খুজে পাচ্ছে না।
তন্নিদের বাসায় কাওকে তেমন ভাবে চিনে না আর এমন অবস্থায় জিজ্ঞেস করা ও ঠিক হবে না ভেবে কাওকে আর জিজ্ঞেস করে নি হেমা।
আকাশ রাতে হেমাকে কল করলো।
হেমাঃআকাশ তুই কি তন্নির ব্যাপারে কিছু জানিস?
আকাশ কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বললো না জানি না।
তন্নিঃশেষবার তো তোর সাথে কথা হইছে।তই জিজ্ঞেস করলাম।
আকাশ আর কিছু বললো না।কল রেখে দিলো।

কয়েকদিন পর……
হেমা কলেজে যাওয়ার জন্য বের হয়েছে।
একা একা কলেজে যাচ্ছে আর তন্নির কথা ভাবছে।কিছুদিন আগে ও যার সাথে বসে এক সাথে আড্ডা দিয়েছে, গল্প করেছে,হাসি ঠাট্টায় যার সাথে মেতে ছিলো আজ আর তার সাথে দেখা হবে না,কথা হবে না। কি করে চলবে তন্নিকে ছাড়া?
তন্নির মৃত্যুর রহস্য আজও হেমার কাছে অজানাই রয়ে গেছে।

তন্নির কথা ভাবতে ভাবতে হেমা রাস্তা দিয়ে অনেকটা বেখেয়ালে হাটছিলো।
এমন সময় হঠাৎ একটা গাড়ি হেমার সামনে এসে থামলো।
হেমা ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে গেলো।
গাড়ি থেকে একটা লোক বের হয়ে হেমা কে জোর করে গাড়িতে তোলে দিলো।
হেমা চিৎকার করতে যাবে এমন সময় লোকটা হেমার মুখে কি যেনো ধরলো আর হেমা অজ্ঞান হয়ে গেলো।

হেমার যখন জ্ঞান ফিরলো, দেখলো একটা লোক হেমার সামনে বসা।একটা পুরাতন বড় বাড়িতে হেমার হাত পা বাধা অবস্থায় রেখে দিয়েছে।
হেমা লোকটাকে কোথায় যেনো দেখেছে কিন্তু ঠিক মনে করতে পারছে না।
হেমা খুব ভয় পেয়ে গেলো।
লোকটা কেমন ভয়ংকর ভাবে হেমার দিকে তাকিয়ে আছে।মনে হচ্ছে হেমাকে খুন করে ফেলবে।
এসব কি হচ্ছে হেমা কিছুই বুঝতে পারছে না।
হেমা ভয়ে ভয়ে লোকটা কে জিজ্ঞেস করলো
হেমাঃ কে আপনি? আমাকে এভাবে ধরে এনেছেন কেন?
হেমা আবার জিজ্ঞেস করলো আমি আপনার কি ক্ষতি করেছি?
লোকটা চুপ করে আছে।
হেমাঃআমি বাসায় যাবো।আমাকে বাসায় যেতে দিন।

লোকটা তখন উঠে হেমার কাছে আসলো।
হেমা ভয় পেয়ে গেলো।
আমার নাম তামিম।
নাম টা হেমার চিনা চিনা লাগছে।লোকটাকে ও।কিন্তু ভয়ে কিছুই মনে পরছে না।
হেমাঃআমি আপনাকে চিনি না।

তামিমঃআমি তন্নির বড় ভাই।

হেমা এখন চিনতে পেরেছে।তন্নির মেবাইলে তন্নির সাথে ছবিতে দেখেছিলো।কিন্তু তন্নিতো বলেছিলো ওর ভাই খুব ভালো একজন মানুষ।কিন্তু আজ কি দেখছে?
কোন ভালো মানুষ এমন করে একটা মেয়েকে তোলে আনতে পারে তা হেমার জানা ছিলো না।

হেমাঃভাইয়া আমাকে এমন করে তোলে আনার কারণ কি?
তামিমঃআমার বোন এর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে।
হেমাঃ তন্নির মৃত্যুর প্রতিশোধ!হেমা আজ ও জানে না তন্নি কেনো আত্মহত্যা করেছিলো?
অথচ ওর মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ওর ভাই হেমাকে তোলে এনেছে।
হেমাঃভাইয়া আমি তন্নির মৃত্যুর কারণটা আজ ও জানি না।আমি কি ভাবে ওর মৃত্যুর সাথে জড়িত? আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে।
তামিমঃআমার কোন ভুল হচ্ছে না।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

একটি বেল গাছের কাহিনী

aziz aziz

প্রতিশোধ – পর্ব ৩

Tondra Bilashi

জ্বীন ও প্যারানর্মাল কি একই বিষয় ? পর্ব – 2

Rohit Khan fzs

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy