Now Reading
সেই মেয়েটির প্রেম -১ম পর্ব



সেই মেয়েটির প্রেম -১ম পর্ব

সেই মেয়েটির প্রেম
-বিপ্লব হোসেন মোল্লা

হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছে । চারিদিক অন্ধকার । নির্জন জঙ্গল ,কোথায় মানুষের ছায়া দেখা যায় না । দমকা হাওয়া শুরু হলো । আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করলো । গুড়ুম গুড়ুম শব্দ । আমার বুকের মাঝে কেমন একটা অনুভূতি হচ্ছে । বোঝার কেন উপায় নাই । আমি সবার সঙ্গে থাকতে ভালবাসি কিন্তু আজ একা । হঠাৎ একটা শব্দ শুরু হলো । কি ভয়ংকর ? এদিক ওদিক ছোটাছুটি শুরু করলাম । বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে শুরু করলাম । আম গাছের ওপর থেকে একটা মেয়ে মাটিতে আচড়ে পড়লো এবং হা হা করে হাঁসতে শুরু করলো । বলল, বোকা ..আবার হাঁসতে শুরু করলো । ভয় পেয়েছ ?ছি এত বড় ছেলে ভয় পেয়েছে ! বলে একপা তুলে নাচতে নাচতে যাওয়া শুরু করলো । আমিয়ো তার পিছু নিলাম ।
আমার পিছে আসছো কেন ? আমি বললাম, না এমনি ।
কখন জানিনা এক পলকেই মেয়েটি অভিরুপের মন কেড়ে নিয়েছে । অভিরুপ মাথার চুল গুলো হাত দিয়ে এলোমেলো করতে শুরু করলাম । একটি অন্যরকম মানসিকতা । মুখে বলে বোঝানো যায় না । এমন মেয়ে অনেক দেখেছি তবে কখনো এমন ভাল লাগেনি । সন্ধ্যাও ঘনিয়ে এসেছে ,কোথায় গিয়ে রাত কাটাবো ,এটাও ভাবতে হচ্ছে । মেয়েটির পিছু পিছু যেতে যেতে ,মেয়েটিকে আর দেখা যায় না । পাশে অবস্থিত একটা বটবৃক্ষের নীচে বসে ভাবছে ,কোথায় যাবো? কোথায় থাকবো ?ভাবতে ভাবতে একটা লোক অভারুপকে জিঙ্গাসা করল,
কে তুমি? কার বাড়ি এসেছো ?
– জি কারো বাড়ি না ।
তবে ?
– হঠাৎ আসতে আসতে পথ হারিয়ে ফেলেছি ।
এখন কোথায় যাবে ?
-জি
আমার সঙ্গে এসো ।
আপরিচিত হলেও ,লোকটির সঙ্গে যেতে সংকোচ করলাম না অভিরুপ । লোকটির পিছু পিছু হাটিতে থাকলো ।লোকটি চিৎকার দিতে শুরু করলো । অভিরুপের ভয় হলো । ভাবলো আমার সঙ্গে হয়তো খারাপ কিছু হতে যাচ্ছে ।শেষে লোকটি বলল,
‘মা’ লাবণ্য ,এখানে এসো ! এই পরদেশীকে ঘরে নিয়ে যাও ।
একটি মাটির ঘর , উপরে খড় দেওয়া । অভিরুপ ঘরের ভীতর প্রবেশ করিলাম । মেয়েটি অর্থাৎ লাবণ্য ,একটি থালায় করে কিছু মুড়ি দিয়ে অভিরুপকে বলল,
খেয়ে নেন !
-উ ।
কিছু ভাবছেন ?
না না ।অভিরুপ বলল ।
লাবণ্য অভিরুপকে মুড়ি দিয়ে ঘর থেকে বাহির হয়ে গেল । অভিরুপ খেয়ে ,ঘরের বাইরে গিয়ে দেখলাম ,বাড়িতে কোন লোক নাই । ভয়ে অভিরুপের বুকটা কেঁপে উঠলো । হঠাৎ দূর থেকে একটা ঢোলের শব্দ ভেসে আসছে । অভিরুপ সেখানে গেল । সেখানে গানের আসর বসেছে । শিল্পি হিসেবে লাবণ্য গান করিতেছে । লাবণ্যর কন্ঠে গান শুনে আবারো ,লাবণ্যর প্রেমে পড়ে গেল অভিরুপ ।লাবণ্য ,লাবণ্যর বাবা ও অভিরুপ একসঙ্গে বাড়িতে আসতেছি । প্রথমে লাবণ্যর বাবা মহির মিয়া , তাহার পিছৈ লাবণ্য ,র্সবশেষে অভিরুপ । লাবণ্যর বাবা বলল,
বুঝলে পরদেশী ; গান দেহের খুরাক । গানের মাঝে খুজলে সবি পাওয়া যায় ।
অভিরুপ বললাম, জি ।
কি করা হয় ? কাম কাজ তো কিছু করো ।
আমি লেখাপড়া করি । আর মাঝে মাঝে সিনেমার কথা লিখি ।
‘মহির মিয়া ‘ একটু দ্রুত হাটতেছে । অভিরুপ সুযোগ পেয়ে লাবণ্য’র হাত ধরে ,মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরল । লাবণ্য’র মুখ ভয়ে লাল হয়ে গিয়েছে । লাবন্য দ্রুত শ্বাস নিতে শুরু করেছে । আর ছোটফোট করতে লাগলো ।লাবণ্যের মুখ ছেড়ে দেওয়া মাত্র ..
এ কি করছেন ? সামনে বাবা । হাত ছাড়ুন !
-তোমাকে একটা কথা বলার আছে ।
ওসব কথাতথা বাদ দেন ! আপনি পরদেশী । আজ আছেন কাল সকাল হলে আর থাকবেন না ।
-কথাটা তো শোন ।আমি তোমাকে ভালবাসে ফেলেছি ।
ভুলে যান । বলে লাবণ্য চলে গেল । বাবার হাত ধরে হাটছে লাবণ্য । অভিরুপ নিজেকে শান্ত রাখল এবং লাবণ্যর পাশাপাশি হাটতে থাকল । জঙ্গলের পথ ধরে হাটছে । হঠাৎ করে একদল ডাকাত সম্মুখে হাজির । তারা লাবণ্যের দিকে কুদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো এবং লাবণ্যের উপর হামলা করল । লাবণ্যের বাবাকে ডাকাত দলের একজন লাঠি দিয়ে মেরে মাটিতে ফেলে দিয়েছে । অভিরুপ হাত-পা ছুটিয়ে তাদের সঙ্গে মারামারি করল । তারা পরাজিত হলে তবে ,অভিরুপের ক্ষতি কম হয়নি ! কপালের ডান পাশটা ছিড়ে গিয়েছে । লাবণ্য তাহার শাড়ী ছিড়ে অভিরুপের মাথায় বেঁধে দিল । এপর বাড়িতে আসল । সকাল হয়ে গেল ,এবার অভিরুপের নিজের বাসায় যাওয়ার সময় । সকলকে বিদায় দিয়ে অভিরুপ হাটা শুরু করল । লাবণ্য দূর থেকে অভিরুপের দিকে তাকিয়ে আছে । অভিরুপের মাথায় বাঁধা শাড়ীর অংশটিকে ছাড়েনি ,সঙ্গে করে নিয়ে হাটছে এবং তা হাতের উপরে নিয়ে,হাত মাথার উপরে তুলে লাবণ্যকে দেখাল । লাবণ্য অভিরুপের পিছে হাটতে শুরু করলো । মেন রাস্তায় এসে অভিরুপ গাড়িতে উঠেছে , গাড়ি চলতে শুরু করেছে,সেই সময় লাবণ্য চিৎকার দিয়ে অভিরুপকে বলল,
পরদেশী … আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি ।
অভিরুপ শুনতে পেয়ে গাড়ি অর্থাৎ বাস থেকে নেমে দৌঁড়াতে শুরু করল । লাবণ্য বিপরীত দিক হতে দৌঁড়াতে শুরু করল । দুজন এক জায়গায় এসে দুজন দুজনকে চাপটে ধরলো ।
অভিরুপ বলল, লাবণ্য…এই কথাটা বলতে এত দেরি ।
-উপায় কি বলো ,পরদেশী ? তুমি তো চলে যাচ্ছো ,আমার কি হবে ভেবেছ ?
কেঁদো না । আমি কয়েক দিন পরে চলে আসবো । তুমি ভাল থেকো !
বলে পরদেশী অভিরুপ চলে গেল । লাবণ্য বাড়িতে চলে । বাড়ি গিয়ে লাবণ্য তার বাবার মাথায় হাত দিয়ে বলল,
আচ্ছা বাবা পরদেশী কি আবার আসবে ?
-নারে মা । পরদেশীরা বছরে দু একবার আসে; আবার চলে যায় । আনন্দ নিতে আসে ,নিয়ে চলে যায় ।
না বাবা । এই পরদেশী অন্য পরদেশী থেকে অনেক ভিন্ন । দেখ বাবা পরদেশী আবার আসবে ।

বলে নদীর দিকে রওনা হলো । সেখানে তার বান্ধবী ‘করিমন’র সঙ্গে দেখা হলো

করিমন বলল, কিরে সই এত উদাস কেন ? মন চুরি হইছে ?

 

About The Author
Md.Biplab Hossain
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment