Now Reading
মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েন যা স্বর্ণের চেয়েও দামী।



মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েন যা স্বর্ণের চেয়েও দামী।

প্রথমে আসুন জানার চেষ্টা করি, ক্রিপটোকারেন্সী কাকে বলে ? ক্রিপটোকারেন্সী যার শাব্দিক অর্থ দাড়ায় গুপ্ত ধন বা লুকায়িত অর্থ।ক্রিপটোগ্রাফিক প্রোটকলের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া সাংকেতিক মূদ্রাকে বলা হয় ক্রিপটোকারেন্সী । ক্রিপটোকারেন্সী মূলত: লেনদেন হয় ওপেন সোর্স  সার্ভারের এর মাধ্যমে।বর্তমান সময়ের মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী হচ্ছে বিটকয়েন।

বিটকয়েন কোন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না, কোন কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এটির নিয়ন্ত্রন করে না বা নিয়ন্ত্রন করার প্রয়োজন পরে না।

বিটকয়েন ধারনাটি প্রথম ২০০৮ সালে ডিজিটাল কারেন্সী (পিয়ার টু পিয়ার মূদ্রা) হিসাবে অনলাইনে আর্বিভূত হয়।এবং ৯ জানুয়ারী ২০০৯ সালে এটি আত্নপ্রকাশ করে।

বিটকয়েনের আবিষ্কারক হলেন সাতোসি নাকামোতো। ১৯৭৫ সালের ৫ এপ্রিল সাতোসি নাকামোতোর জন্ম।তিনি একজন জাপানী নাগরিক।তিনি ক্রিপটোগ্রাফী, ডিজিটাল কারেন্সী এবং কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে লেখাপড়া করেছেন।বিটকয়েন একটি সুরক্ষিত সার্ভারের মাধ্যমে মাইনিং প্রকৃয়ায় উৎপন্ন এবং সংরক্ষিত হয়।প্রতি চার বৎসর অন্তর অন্তর উৎপাদিত বিটকয়েন অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয় অথবা বিটকয়েনের সংখ্যা পুন:নির্ধারন করা হয় প্রচলিত মূদ্রার মানের সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য এবং একটা নির্দ্দিষ্ট পরিমান বিটকয়েন তৈরী হয়ে গেলে আর কোন নতুন মাইনিং বা উৎপাদন করা হবে না।মজার ব্যাপার হলো, বিটকয়েন মাইনিং এর মাধ্যমে যে কেউ বিটকয়েন উৎপাদন করতে পারবে। বিটকয়েন উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপ হলো সাতোসি উৎপাদন করা।১০,০০,০০,০০০(দশ কৌটি)সাতোসি = ১ বিটকয়েন।বিটকয়েন মাইনিং বা আয় করার অনেক সাইট আছে, যা থেকে মাইনাররা বিটকয়েন উৎপাদন করে থাকে। অনেকে বিটকয়েন ক্রয় করে সংরক্ষন করে রাখে এবং তা দাম বাড়লে বিক্রয় করে।বিটকয়েন উৎপাদনের পর, তা যার যার ডিজিটাল ওয়ালেটে সংরক্ষিত থাকে।একজন গ্রাহক বিটকয়েন ক্রয়-বিক্রয় করতে চাইলে ওয়ালেট টু ওয়ালেট ট্রান্সফার দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করতে হয়।প্রতিটি ওয়ালেট সংরক্ষিত থাকে গোপন অথচ সুরক্ষিত ইলেকট্রনিক সিগনেচারের মাধ্যমে।

বিটকয়েন মাইনিং বা আয় করার কিছু ওয়েব সাইট আছে, যে গুলো দিয়ে মাইনাররা প্রতিদিন সাতোসি এবং বিটকয়েন উৎপাদন করে থাকে।কোন কোন সাইট আছে যা প্রতি এক মিনিট অন্তর অন্তর বিটকয়েন মাইনিং করার সুযোগ দেয়, কোনটি প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর, কোনটি প্রতি ঘন্টায় আবার কোন প্রতি ২৪ ঘন্টায়।এ সাইট গুলোর মধ্যে ফ্রি সাইটও আছে, পেইড সাইটও আছে।এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে, একপ্রকার অসাধু ব্যাক্তি বিটকয়েন মাইনিং এর নাম করে পেইড সাইটের মাধ্যমে সরলমনা মানুষদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, তার পর ওয়েব সাইট বন্ধ করে দিচ্ছে।তাই বিশেষজ্ঞের মতামত, মাইনিং বা বিটকয়েন আয় করার সাইটে কাজ করার পূর্বে যাচাই করে নিতে হবে, সে সাইটটি ভেরিফাইড কিনা ? অথবা এর কোন ক্লেইম আছে কিনা?

বিটকয়েন আয়ের জন্য বর্তমান সময়ের কিছু ফ্রি,জনপ্রিয় এবং ভেরিফাইড সাইট হলো: ফ্রি বিটকো ডট ইন, বিটকো ইনকার ডট কম ইত্যাদি।এরা বিগত তিন বৎসর যাবৎ ব্যাবহারকারীদের পেমেন্ট দিয়ে যাচ্ছে এবং কোন ক্লেইম নেই, রেপুটেশনও ভালো।একজন ব্যাক্তি বা মাইনার প্রতি ২৪ ঘন্টায় মাইনিং এর মাধ্যমে ৩০,০০০ সাতোসি থেকে ১,০০,০০০ সাতোসি আয় করতে পারে।মাইনিং এর মাধ্যমে একজন ব্যাক্তি যদি এক বিটকয়েন আয় করতে চায়, তাহলে তার কমপক্ষে এক বৎসর সময় লাগতে পারে।এক হিসাবে দেখা যায়, যদি কেউ এক বৎসরে এক বিটকয়েন আয় করে, তবে তার মাসে আয় দাড়ায় ২২৫ ডলার।১ বিটকয়েন = ২৭০০ ডলার। ভাগ ১২ মাস = ২২৫ ডলার।যা বাংলাদেশী টাকায় দাড়ায় ১৮,০০০ টাকা (প্রায়)। প্রতিটি সাইট থেকে আয়কৃত সাতোসি বা বিটকয়েন একটি বিটকয়েন ওয়ালেটে সংরক্ষণ করে রাখতে হয়।বিটকয়েন ওয়ালেট বা বিটকয়েন এড্রেস হলো একটি সুরক্ষিত রক্ষনাগার যেটা একটি সার্ভারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত এবং পরিচালিত হয়।প্রতিটি ওয়ালেট একটি অটো সার্ভার সিগনেচার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।এই ওয়ালেট গুলো ব্যাবহারকারীরা কিছু প্রকৃয়া সম্পাদনের মাধ্যমে ব্যাবহার করে থাকে। একজন ইচ্ছা করলে, আর একজনের ওয়ালেটে প্রবেশ করতে পারবে না।এমনই কিছু বিটকয়েন ওয়ালেট এড্রেস হলো: কয়েন বেইস ডট কম, লোকাল বিটকয়েন ডট কম ইত্যাদি।

বিটকয়েনের জনপ্রিয়তা এবং ব্যাবহার এতই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার সাথে পাল্লা দিয়ে অন্যকোন কারেন্সী দাড়াতে পারছে না। গত ২০১৬ সালের জানুয়ারী মাসে এক বিটকয়েনের মূল্য ছিলো ৪২০ ডলার তা এখন বেড়ে দাড়িয়েছে ২৭০০ ডলারের মতো(৩০ জুলাই ২০১৭ এর হিসাব অনুযায়ী)।এটি বর্তমানে স্বর্ণের চাইতেও দামী, বর্তমানে এক ভরি স্বর্ণের দাম ৪২,০০০টাকা (প্রায়)বাংলাদেশের বাজার মূল্য অনুযায়ী। বিশ্ব অর্থনীতিবিদগণ আশংকা করছেন, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এর মূল্য ৫০০০ডলারে উন্নিত হতে পারে। গুগলে btc to usd লিখে সার্চ দিলে প্রতিদিনকার আপডেট রেইট পাওয়া যাবে।বিটকয়েনের কোন নিয়ন্ত্রক না থাকায় এর ব্যাবহার আশংঙ্কাজনক ভাবে অর্থ-পাচারকারী, চোরাকারবারী এবং অবৈধ মাদক ব্যাবসায়ীদের মধ্যে দ্রুত প্রসার লাভ করছে।নিয়ন্ত্রনহীনতার কারনে, এটির মাঝে মাঝে মারাত্নকভাবে দরপতন ঘটে আবার দরের উর্ধ্বমূখী অবস্থান হয়ে যায়।মাঝে মাঝে আবার এটি দুষ্প্রাপ্যও হয়ে উঠে। এসব কারনে বিটকয়েন আলোচিত এবং সমালোচিত বিশ্ব-অর্থনীতিতে। অতি সম্প্রতি কানাডা এবং আমেরিকা সরকার অর্থ-পাচারকারী, চোরাকারবারী এবং অবৈধ মাদক ব্যাবসায়ীদের নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যে, বিটকয়েন ব্যাবহারকারীদের নিবন্ধনের আওতায় আনার চিন্তা ভাবনা করছে।কানাডায় বিশ্বের প্রথম বিটকয়েন এটিএম বুথ চালু করা হয়। বিটকয়েনের জনপ্রিয়তা দেখে, আরও কিছু কারেন্সী বাজারে আত্নপ্রকাশ করেছে। যেমন: ইথিরাম, সুইসকয়েন, লাইটকয়েন, ডগিকয়েন ইত্যাদি। তবে এগুলো মূল্যের দিক দিয়ে, বিটকয়েনের ধারে কাছেও ঘেষতে পারে নাই।আগামীতে ইনশাল্লাহ, সোনার চেয়েও মূল্যবান কারেন্সী বিটকয়েনের জনক সাতোসি নাকামোতোকে নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ লেখার আশা রাখি।

তথ্য সূত্র:উইকিপিডিয়া,গুগল,ইউটিউব,ফেইসবুক বিটকয়েন মাইনিং গ্রুফ।

About The Author
Md Salman Arefin Shimun
Hello There, I Am A Freelancer & Forex Trader. Want To Get You As A Friend With Me On Facebook: https://www.facebook.com/salman.arefin.14
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment