Now Reading
মনোযোগ দিয়ে অপরের কথা শ্রবণ করা মানে তাঁকে সম্মান দেখানো।



মনোযোগ দিয়ে অপরের কথা শ্রবণ করা মানে তাঁকে সম্মান দেখানো।

আমরা প্রতি নিয়ত গল্প গুজব করে থাকি, আড্ডা দিয়ে থাকি। গল্পের আলোচ্য বিষয় থাকে রাজনীতি, নাটক, সিনেমা, সমসাময়িক ঘটনা ইত্যাদি। কিন্তু একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন, কিছু ব্যাক্তি আছে বিজ্ঞের মতো বক্তৃতা দিয়েই (কথা বলে) যাচ্ছে অন্যের কথা শুনছে না বা কর্ণপাত করছে না।বা অন্যকে কিছু বলার সুযোগ দিচ্ছে না।আমরা প্রতিনিয়ত একই বিষয় বিভিন্ন জনের মুখে যখন শুনতে পাই তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে বলি, জানি এটা, এটা এমন, ওটা এমন। তখন ঔ ব্যাক্তিটার মন ক্ষুন্ন হয়। মনে করুন, আপনি একই গল্প একশ জনের কাছ থেকে একশ বার শুনেছেন। একশ জনকে বলার সুযোগ দিয়েছেন। কাউকে থামিয়ে দেন নি। সম্পূর্ণ গল্পটিই বার বার শুনেছেন।ফলাফল কি হবে ? ঐ একশ জনের কাছে আপনি প্রিয় পাত্রে পরিণত হবেন। আবার কেউ কিছু বলা শুরু করেছে, তাকে ভুলেও থামিয়ে দেবেন না অথবা তার কথার মধ্যে অন্য কোন প্রসংগ উত্থাপন করবেন না।যদি তার কথায় অমনোযোগী হন, অথবা অন্য প্রসংগে চলে যান তবে সে মনে করবে তাকে অবহেলা করছেন।

প্রায়ই দেখা যায়, আপনি একজনের সাথে খুব গুরুত্বসহকারে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, সে তখন, আলোচনার মধ্যে মধ্যে ফোনে কথা বলছে অথবা তার পাশ্ববর্তী কারো সাথে অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলছে, এতে করে আপনার মনের অবস্থা কেমন হবে একবার ভাবুন তো।প্রত্যেকটা ব্যাক্তির ব্যাক্তিত্ব আছে। সে হোক বড় লোক, হোক গরীব লোক। কথা বলা এবং শোনার অধিকার সবার আছে। কথা বলতে পারলে মনটা হালকা হয়, তেমনি কথা শুনলে অপরের প্রতি আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।

আমরা আমাদের ছাত্রজীবনে দেখেছি শিক্ষক ক্লাসে পড়ে শুনাতেন তারপর বুঝিয়ে দিতেন। শিক্ষকের বুঝিয়ে দেওয়া পড়াটি পরবর্তীতে শিখতে বা মনে রাখতে খুব বেশী কষ্ট হতো না।এবং সেটা অনেকদিন মনে থাকতো। পরীক্ষার খাতায় অনায়াসে লেখাও যেত।শ্রবণ করা একটি বড় গুন। যথাযথভাবে শ্রবণ করলে তা সঠিক ভাবে প্রয়োগ করা যায়। আমরা যদি ভুল শ্রবণ করি তাহলে ফলাফল হয় খুবই মারাত্নক।যেমন মনে করুন, টিভির একটা বিজ্ঞাপনের কথা বলি: স্ত্রী দুর থেকে স্বামী বললো বাজার থেকে হাঁস কিনে আনার জন্য, স্বামী শুনলো বাঁশ। ভাবুনতো ফলাফলটা কি হবে। শুধু শ্রবণ করলেই হবে না হ্রদয়াঙ্গম করতে হবে। অর্থাৎ কনফার্ম হতে হবে।আমরা বিভিন্ন মাহফিলে বা মিটিং এ জ্ঞানী ব্যাক্তিদের কথা শ্রবণ করতে যাই। কারন কি ? তাদের কথার মধ্যে দিক নির্দেশনা থাকে। থাকে বাস্তবতা।

সর্বোপরি থাকে অভিজ্ঞতা। তাদের কথা শ্রবণ করা মানে তাদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা। প্রকারান্তে তাঁকে সম্মান করা।কিছু লোক আছে অন্যের কথা বা মতামতকে আমলেই নেয় না বা অবজ্ঞা করে অথবা সরাসরি নাকচ করে দেয়। এটি একটি অত্যন্ত বাজে অভ্যাস। কারো কথা বা মতামত যাচাই বাছাই না করে অবজ্ঞা করার অধিকার কারো নেই।শুধু মাত্র অপরের মতামতকে অসম্মান করার কারনে, আমাদের পরিবারে এবং সমাজে প্রতিনিয়ত ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকে।মত প্রকাশ করা, অপরকে কিছু বলা এবং অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এই তিনটি কাজ খুবই সহনশীল ভাবে করতে হয়। অপরের কথা শোনার সময় মূলত চরম সহনশীলতার পরিচয় দিতে হয়।

আরেকটি খারাপ গুণ, আমাদের মধ্যে আছে তা হলো মতামত চাপিয়ে দেয়া। এক প্রকার জোর করে, না চাইলেও মানতে হয় অপরের মতামত। হোক সেটা সঠিক বা ভুল। এমন ঘটনা পরিবারে বেশী ঘটে থাকে, স্বামী তার স্ত্রীর উপর না চাইলেও কিছু নীতি বা আদর্শ অথবা মতামত চাপিয়ে দেয়। এটি হরহামেশাই ঘটে থাকে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে স্বল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত পরিবার গুলোতে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। স্ত্রী গণও স্বামীর বাক্যকে বেদবাক্য জ্ঞান করে, তা মেনে চলে।হরহামেশাই আর একটি ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, দুর্বলের উপর সবলের মতামত চাপিয়ে দেয়া। এটাও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে গ্রামের অশিক্ষিত মানুষের মধ্যে ঘটি থাকে।

গ্রামের কিছু মোড়ল প্রকৃতির সবল ব্যাক্তি, তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এজাতীয় কাজ গুলো হরহামেশা করে থাকে।অপরদিকে আরো কিছু ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, ক্ষমতাধর ব্যাক্তি কর্তৃক দুর্বল ব্যাক্তিদের উপর না চাইলেও মতামত চাপিয়ে দেয়া বা মতপ্রকাশের কন্ঠকে রোধ করার মতো ঘটনা।এ জাতীয় ঘটনা গুলো শহরাঞ্চলে ঘটতে দেখা যায়। তখন আর শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত কোন ভেদাভেদ থাকে না। বিশেষ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কিছু ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, নেতা নেত্রী বা মন্ত্রী এমপি রা জনগনের মতামতের তোয়াক্কা না করে নিজের হীন স্বার্থ হাসিল করার জন্য গনবিরোধী কিছু কাজ করে থাকে, যা দেশ ও জাতির জন্য অনিষ্ঠকর।পারিবারিক জীবন, সমাজ জীবন এমনকি রাষ্ট্রীয় জীবন প্রতিটি ক্ষেত্রে অপরের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা সর্বোপরি অপরকে সম্মান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

বি:দ্র: এ লেখাটি সম্পূর্ণই বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া। আমাদের চারপাশের ঘটনাগুলোই এ লেখার তথ্য সূত্র।অনেক গবেষনা এবং চিন্তা ভাবনার ফল হলো আমার এ লেখাটি। অত্যন্ত দু:খজনক হলেও সত্য যে, কিছু লোক সরাসরি কপি করে আমার লেখা সোস্যালমিডিতে পাবলিশ করছে, এতে আমার কোন ক্ষোভ নেই। যদি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতো অথবা তথ্য সূত্র হিসাবে রেফারেন্স দিতো তাহলে ভালো লাগতো নিজের কষ্টটাকে স্বার্থক মনে হতো।ধন্যবাদ মনোযোগ দিয়ে আমার লেখাটি পড়ার জন্য।আশা করি আরো চিন্তা প্রসূত এবং গবেষনা লব্ধ লেখা আপনাদের উপহার দিতে পারবো ইনশাল্লাহ।

About The Author
Md Salman Arefin Shimun
Hello There, I Am A Freelancer & Forex Trader. Want To Get You As A Friend With Me On Facebook: https://www.facebook.com/salman.arefin.14
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment