• Home
  • কেইস স্টাডি
  • মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েনের জনক সাতোসি নাকামোতো।
কেইস স্টাডি

মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েনের জনক সাতোসি নাকামোতো।

সাতোসি নাকমোতো ২০০৮ সালে প্রথম পিয়ার টু পিয়ার পদ্ধতিতে ডিজিটাল কারেন্সী বিটকয়েন ধারনাটি উদ্ভব করেন।অনলাইন জগতে ৯ জানুয়ারী ২০০৯ সালে এটি আত্নপ্রকাশ করে।সাতোসি নাকামোতো একজন জাপানী নাগরিক।। ১৯৭৫ সালের ৫ এপ্রিল তার জন্ম। ক্রিপটোগ্রাফী, ডিজিটাল কারেন্সী এবং কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে তিনি লেখাপড়া করেছেন।তার ব্যাক্তিজীবন নিয়ে কোন তথ্য এখনো জানা যায়নি।

বিটকয়েন আবিষ্কারের পর থেকে বহু বছর ধরে এর আবিষ্কারকে মিডিয়া খুজে বেড়াচ্ছিল। কোন ভাবেই তাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সাতোসি নামামোতো একজন রহস্যময় মানব। তিনি কোনভাবেই নিজেকে আত্নপ্রকাশ করতে উৎসাহী নন।তিনি সর্বদাই আন্ডার গ্রাউন্ডে থাকতে পছন্দ করেন।কারণ বিটকয়েন এত বেশী জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে, বড় বড় অর্থনীতি বিদ এবং ব্যাংকারের মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাড়িয়েছে।আর একটি কারন হলো, ব্যাংকিং সেক্টর চাইবে না বিটকয়েন পপুলার হয়ে যাক। যেহেতু বিটকয়েনের কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থ্যা বা নিকাশ ঘর নেই।সাতোসি নাকামোতো মনে করতেন, তার পরিচয় ফাঁস হয়ে গেলে তাকে হয়তো অবমূল্যায়ন করা হবে।

বিশ্বের বড় বড় গোয়েন্দ সংস্থ্যা এবং সাংবাদিকেরা, একটা সময় বিটকয়েনের মালিককে খুজে বের করার জন্য তৎপরতা শুরু করে। এবং তারা একটা সময় ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত এক ব্যাক্তি যার নাম ডোরিয়েন নাকামোতো, তাকে বিটকয়েনের আবিষ্কারক হিসাবে সনাক্ত করে। ডোরিয়েন নাকামোতো সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে বলেছিলেন, তিনি জীবনে কোনদিন বিটকয়েনের নামই শোনেন নি।এভাবে তারা আরো অনেককে সাতোসি নাকামোতো হিসাবে সনাক্ত করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সফল হয়নি।সাতোসি নাকামোতো কখনো তার নিজের কোন ইনফরমেশন প্রকাশ করতেন না।

২০১২ সালে পি টু পি ফাইন্ডেশন প্রোফাইলে তিনি উল্লেখ করেন, তার বয়স ৩৭ বৎসর জাপানে বসবাস করতেন।তার ইংরেজী উচ্চারন সঠিক ও শুদ্ধ, বিটকয়েন সফটওয়ার জাপানী কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তৈরী করা নয়, এ দুটি বিষয় বিবেচনয়ায় বিশেষজ্ঞগণ নিশ্চিত হন তিনি জাপানি নন।উচ্চারণে বৃটিশ ইংরেজীর টান থাকায়, মনে করা হয় তিনি কমনওয়েলথ ভুক্ত কোন দেশের নাগরিক।বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থ্যা এবং মিডিয়া, কিছু কিছু লোককে সাতোসি নাকামোতো ভেবে ভুল করেছেন। সাতোসি নাকামোতো একজন দক্ষ এবং ব্রিলিয়ান্ট কোডার। তিনি তার কোডিং জ্ঞানের মাধ্যমে বিটকয়েন সার্ভার পরিচালনা করে থাকেন।তার নিজের পি টু পি একাউন্টে প্রায় এক মিলিয়ন বিটকয়েন আছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩৫০০ মিলিয়ন ডলার।তিনি যদি এই বিপুল পরিমান বিটকয়েন বাজারে ছাড়েন, তাহলে তিনিই হবেন বিশ্বের সেরা ধনীদের মধ্যে একজন।

কিন্তু আগেই বলেছি তিনি একজন রহস্যমানব, রহস্যজনক কারনে তিনি এত বিপুল পরিমান বিটকয়েন বাজারে ছাড়ছেন না।বিটকয়েনের অসাধারন ক্ষমতার কারনে, বিশ্ব নোবেল কমিটি সাতোসি নাকামোতোকে ২০১৬ সালে পুরষ্কারের জন্য মনোনীত করেছিল। বিটকয়েনের ব্যাবহার বেশী হয় ডিপ ওয়েব বা সিল্করোড সার্ভারের ব্ল্যাক মার্কেট গুলোতে।টেরোরিষ্ট এবং ড্রাগ ডিলারদের পছন্দের কারেন্সী এই বিটকয়েন।বিটকয়েন এমনই একটি কারেন্সী যা অতিমাত্রায় স্বাধীন। সাতোসি নাকামোতো সকল মনিটরিং সিস্টেম এবং তদারকীকে পাশ কাটিয়ে বিটকয়েনের উদ্ভব করেন।বর্তমান বিশ্বে সেন্ট্রাল ব্যাংক, বিশ্ব ব্যাংক এবং সরকারী যেসব তদারকী চালু আছে, বিটকয়েন প্রতিষ্ঠিত হলে সব তদারকী ব্যাবস্থ্যা ভেংগে পড়বে।

তারপরও বিটকয়েনের লাগামহীন জনপ্রিয়তাকে মেনে নিয়ে, কিছু উন্নত রাষ্ট্র বিটকয়েন ব্যাবহারকারীদের নিবন্ধন প্রকৃয়া চালু করেছে।সাতোসি নাকামোতো সম্পর্কে যতটুকু জানা গেছে তার সবটাই পি টু পি ওয়েব সার্ভারের তথ্যের উপর ভিত্তি করে। সাতোসি নাকামোতো আসলেই কি বিটকয়েনের মালিক কি না, অথবা ওয়েব সাইটে যার ছবি আমরা সাতোসি নাকামোতো হিসাবে পেয়েছি, সে আসল মালিক কিনা, এটা এখনো নিশ্চিত নয়।তারপরও এই ডিজিটাল কারেন্সীটি, যে রেভুলেশন ঘটিয়ে যাচ্ছে সেটাই এখন বিবেচ্য বিষয়।নিয়ন্ত্রন না থাকার কারনে যে কেউ মাইনিং এর মাধ্যমে বিটকয়েন উৎপাদন করতে পারে। তার জন্য প্রয়োজন ইন্টারনেট কানেকশন এবং কম্পিউটার।

এক হিসাবে দেখা যায়, এক জন ব্যাক্তি যদি শুধু বিটকয়েন মাইনিং এর কাজে নিয়োজিত থাকে,তবে সে এক বৎসর সময়ের মধ্যে একটি বিটকয়েন বানাতে পারবে। যার বাজার মূল্য ৩০০০ ডলার।বিটকয়েনের ক্ষুদ্রতম একক হলো সাতোসি।দশ কৌটি সাতোসি সমান এক বিটকয়েন।সাতোসি নাকামোতো এমন একটি সিস্টেম করেছেন, বিটকয়েন যেন অবমূল্যায়ন না হয়।তার জন্য সে প্রতি চার বৎসর অন্তর অন্তর উৎপাদিত বিটকয়েন অর্ধেকে নামিয়ে আনেন বা বাজার মূল্যের সাথে সামাঞ্জস্য করেন। এ প্রকৃয়াটিও অটো ওয়েব সার্ভারের মাধ্যমে হয়ে থাকে।সাতোসি নাকামোতো বিটকয়েনকে এমন একটি আনব্রেকএবল ক্রিপটোগ্রাফিক সীস্টেমের মাধ্যমে কোডিং করেছেন, যা হাইলি সিকিউরড্।কোন ভাবেই এটি চুরি বা হ্যাকিং করা সম্ভব নয় বা হ্যাকিং এর প্রয়োজনও পড়ে না। আপনার বিটকয়েন প্রয়োজন ? মাইনিং করে প্রয়োজন মতো উৎপাদন করুন। কোন লিমিটেশন নেই, কোন তদারকী নেই,কোন জবাবদিহিতা নেই।প্রত্যেক গ্রাহকের বিটকয়েন ওয়ালেট ডিজিটাল সিগনেচার দ্বারা ভেরিফাইড।ওয়ালেটের মালিক ব্যাতিত অন্য কেউ তা ব্যাবহার করতে পারবে না।বিশ্ব অর্থনীতি এখন ডিজিটাল কারেন্সী নির্ভর।বিটকয়েন হচ্ছে, সকল কারেন্সীর রাজা।ডিজিটাল ক্রিপটোকারেন্সীর জনক সাতোসি নাকামোতোর অবস্থান বা পরিচয় জানাটা এ মূহুর্তে খুব জরুরী বিষয় নয়, জরুরী বিষয় হলো ক্রিপটো কারেন্সীর রেভুলেশনের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিকে সামাঞ্জস্যপূর্ণ করা।সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা।এখন দেখার বিষয়, বিটকয়েনের মূল্য কি পরিমান বৃদ্ধি পায়? বিশেষজ্ঞ মহল ধারনা করছেন ২০১৭ সালের ডিসেম্বর নাগান এর মূল্য ৫০০০ ডলারে উন্নিত হবে।

তথ্য সূত্র:ফেইসবুক বিটকয়েন মাইনিং গ্রুফ,উইকিপিডিয়া,গুগল,ইউটিউব।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

আমি পতিতা বলছি । পর্ব ১ম

Rohit Khan fzs

প্রসংগ: লেনদেনের মাধ্যম-কারেন্সী ।

Md Salman Arefin Shimun

মানুষ মানুষের জন্য !!

Md Salman Arefin Shimun

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: