• Home
  • কেইস স্টাডি
  • কারেন্সী ট্রেডিং প্লাটফরম: ফরেক্স-হ্যান্ডসাম ইনকামের একটি উৎস।
কেইস স্টাডি

কারেন্সী ট্রেডিং প্লাটফরম: ফরেক্স-হ্যান্ডসাম ইনকামের একটি উৎস।

ফরেক্স হলো কারেন্সী ট্রেডিং এর বিশ্ব সীকৃত একটি প্লাট ফরম। যেখানে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের কারেন্সী পেয়ার আকারে ট্রেড করা হয়।যদিও বা ফরেক্স ট্রেডিং বিষয়টা উন্নত বিশ্বের জন্য অনেক পুরাতন একটি বিষয়, আমাদের দেশের সুশীল সমাজের জন্য এটি এখনো নতুন বিষয়ই রয়ে গেছে। বিশ্বে ফরেক্সের বয়স আনুমানিক প্রায় ৫০ বৎসর হতে চলেছে। হাল আমলে আমাদের দেশের কিছু শিক্ষিত যুবক এই প্লাটফর্মে কাজ করে ভালোই টাকা আয় করছে এবং সংসার চালাচ্ছে।

ফরেক্স কি ? এ বিষয়টাকে অনেকে অনেক ভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। বিশ্বঅর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বিবেচনায়, এক এক দেশের অর্থনীতির ধারা এক এক রকম।ব্যাবসায়ীক মন্দা, যুদ্ধ-বিগ্রহ, নতুন নতুন আবিষ্কার সহ প্রতিটি ঘটনা এক একটি দেশের অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলে। প্রতিটি দেশের মূদ্রা ব্যাবস্থ্যার উপর প্রভাব ফেলে। মূলত: ফরেক্স পরিবর্তিত পরিস্থিতির উপর প্রভাবান্বিত হয়ে পরিচালিত হয়। ফরেক্স ধারনাটিকে এ ভাবে এক কথায় বলা যায়, একটি দেশের মূদ্রার বিপরীতে আর একটি দেশের মূদ্রার উত্থান বা পতনের পর যে ক্রয় বা বিক্রয় মূল্য নির্ধারিত হয় তাই ফরেক্স। যে প্লাট ফরমে বা মার্কেটে এ সকল মূদ্রার কেনা-বেচা হয় তাকেই বলে ফরেক্স মার্কেট।মূদ্রার বিপরীতে মূদ্রার ক্রয় বিক্রয় করে এ মার্কেট থেকে প্রফিট করা হয়।একটি উদাহরণ দিলে আরো পরিষ্কার হবে, যেমন মনে করুন আপনার কাছে একটি ইউ এস ডলার আছে, আপনি উহা যদি এখন কোন ব্যাংক বা ব্রোকার হাউসে ভাংগান এর বিপরীতে আপনি পাবেন বাংলাদেশী টাকায় ৭৮ টাকা।আবার কোন কোন দিন, আরো বেশী টাকা পেতে পারেন ৮০ টাকাও পেতে পারেন।এখানে মূদ্রার পেয়ার হলো ইউএসডি/বিডিটি।ডলারের মান বাড়লে টাকা মান কমবে, আবার ডলারের মান কমলে টাকা মান বাড়বে।তদ্রুপ ফরেক্স মার্কেটে দুটি দেশের পেয়ার নির্দ্দিষ্ট করে ট্রেড হয়। যেমন: ইউরো/ইউএসডি,জিবিপি/ইউএসডি, ইউরো/ জিবিপি ইত্যাদি।পেয়ারে যে দেশের মূদ্রার মান বেশী থাকে সেটি থাকে উর্দ্ধগামী বা আপট্রেন্ড, আর যে দেশের মূদ্রার মান কম থাকে সেটি থাকে নীম্নগামী বা ডাউনট্রেন্ড।একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থ্যা কর্তৃক ফরেক্স নিয়ন্ত্রিত এবং পরিচালিত হয়।

ফরেক্স ট্রেড, যে কেউ করতে পারবে, তবে প্রথমে তাকে ট্রেড শিখতে হবে। তারপর ট্রেডিং প্লাটফরর্মে ইনভেষ্টমেন্টের মাধ্যমে নামতে হবে। সমসাময়িক কালে, আমাদের দেশের বেকার যুবকগণ যথাযথভাবে ট্রেডিং না শিখে ট্রেডি করতে গিয়ে সর্বসান্ত হয়েছে এবং হচ্ছে।একটা সময় হাতে রেখে, ধৈর্য্য সহকারে ট্রেডিং শিখতে হয়। প্রথমে ডেমো প্লাট ফরমে অনুশীলন করতে হয়, তার পর পাকা হলে পুজি নিয়ে নামা উচিৎ। অনেকের মধ্যে একটা ভুল ধারনা কাজ করে, ফরেক্স থেকে রাতারাতি বড় লোক হওয়া যায় – না ধারনাটি সম্পূর্ণই ভুল। এটাতে একটা নির্দ্দিষ্ট পুজি নিয়ে শুরু করবেন, প্রফিটের টার্গেট থাকেবে দিনে ৫%, তবে আপনি দীর্ধদিন টিকে থাকতে পারবেন।মনে করুন আপনি ১০০ ডলার নিয়ে শুরু করেছেন, আপনার প্রফিট হয়েছে ৩ থেকে ৫ ডলার। যথেষ্ট, ট্রেড বন্ধ করে দিন। আবার কালকে ট্রেড করুন।

তাহলে দেখা যায় গড় পরতা আপনি মাসে কমপক্ষে ৭০ থেকে ৮০ ডলার প্রফিট রাখতে পারবেন।কেউ যদি দিনে ১০০ ডলারকে ২০০ ডলারে উন্নিত করতে যায়, লসে পরার সম্ভাবনা থাকে বেশী।এই প্লাট ফর্মে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রফিট নিয়ে আগানোই শ্রেয়।ফরেক্সে অনেক ধরনের ট্রেডিং আছে, লং টাইম ট্রেডিং, শর্ট টাইম ট্রেডিং(যাকে বলে স্ক্যাল্পিং),নিউজ ট্রেডিং, স্ট্যাট্রেজি ট্রেডিং।স্ট্যাট্রেজি ট্রেডিংটাই মূলত ভালো প্রফিট আনয়ন করে দেয়।স্ট্যাট্রেজি ট্রেডিং করার জন্য কিছুটা লেখাপড়া এবং গবেষনার প্রয়োজন পড়ে। ফরেক্সে অনেক রকম স্ট্যাট্রেজি আছে। যেমন: বাৎসরিক ট্রেড স্ট্যাট্রেজি, মানথলি ট্রেড স্ট্যাট্রেজি, উইকলি ট্রেড স্ট্যাট্রেজি, ডেইলি ট্রেড স্ট্যাট্রেজি, আওয়ারলী ট্রেড স্ট্যাট্রেজি, ক্যানড্যাল স্টিক স্ট্যাট্রেজি ইত্যাদি।ফরেক্সের প্রতিটি ট্রেড শুরু হয় এক একটি গ্রাফ বা ক্যানড্যাল নিয়ে। ক্যানড্যাল ওপেনিং এবং ক্লোজিং এর ক্যারেকটারের উপর নির্ভর করে পরবর্তী ট্রেড কি হবে। ক্যানড্যাল স্টিক এক এক সময় এক এক প্যাটার্ণে উপনিত হয়। পূর্বের প্যাটার্ণ পর্যালোচনা করে পরবর্তী ট্রেডিং ডিসিশিন নিতে হয়। শুধু মাত্র ক্যানড্যাল স্টিক স্ট্যাট্রেজি ফলো করে, একজন ট্রেডার প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার আয় করতে পারে। প্রায় ৫০০ ক্যানড্যাল স্টিক প্যাটার্ণ অদ্যাবধি আবিষ্কৃত হয়েছে। একজন ট্রেডার ইচ্ছা করলে, গ্রুপ ট্রেডিংও করতে পারে। গ্রুপ ট্রেডিং ব্যাপারটা এমন, ২ জন, ৩জন বা একাধিক ব্যাক্তি মিলে একটা টিম গঠন করে গ্রুপ ট্রেড করা হয়। গ্রুপে এক এক জনকে এক এক বিষয়ে অভিজ্ঞ হয়ে হবে।তারা তাদের মতামত সমন্বয় করে ট্রেড করতে পারে। এছাড়াও হায়ার ট্রেড করা যায়, ব্যাপারটা এমন আপনার পূজি কিন্তু ট্রেড করবে একজন অভিজ্ঞ ট্রেডার, এর জন্য ট্রেডার প্রফিটের উপর একটি পারসেনটেজ নিবে। হায়ার ট্রেডের জন্য আপনাকে কোন প্রকার অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হবে না। দরকার শুধু একজন বিশ্বস্ত এবং অভিজ্ঞ ট্রেডার।

ফরেক্স মূলত ট্রেড হয় আমাদের দেশের শেয়ার বাজারের মতো এক একটি ব্রোকার হাউসের মাধ্যমে। ‍যিনি ট্রেড করতে চান, তাকে একটি নমিনেটেড (রেগুলেটরী কমিটি কর্তৃক নিবন্ধিত)ব্রোকার হাউসে একাউন্ট করতে হয়। তার পর নীতিমালা মেনে ট্রেড করতে হয়। প্রতিটি ব্রোকার হাউস কারেন্সী হিসাবে ডিজিটাল ই-কারেন্সী ব্যাবহার করে থাকে। যেমন: স্ক্রিল,পেপাল, পেইজা, পারফেক্টমানি ইত্যাদি।অনলাইনে এ পর্যন্ত যে সব ব্রোকার হাউসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে হটফরেক্স,ইনস্ট্যাফরেক্স,এডমিরালমার্কেটস,রোবোফরেক্সের নাম অন্যতম।সোসালমিডিয়ার কল্যানে কিছু কিছু ফরেক্স ব্রোকারেজ হাউসের ফিজিক্যাল অফিসের শাখার ঠিকানা পাবেন বাংলাদেশে।পেশা হিসাবে ফরেক্স ট্রেড শুরু করতে চাইলে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখা আবশ্যক।যেমন: যথাযথা প্রশিক্ষণ গ্রহণ, দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা, সঠিক ব্রোকারেজ হাউস(এফএসএ অথবা এফসিএ রেগুলেটর ব্রোকারেজ হাউস), লোভ বা রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করতে হবে।ফরেক্স ব্যাপারটা এতই বিশাল যা এত স্বল্প আলোচনায় বুঝিয়ে বলা সম্ভব নয়। ফরেক্স সম্পর্কে আরো জানতে উইকিপিয়া, গুগল, ইউটিউব সার্চ করুন, অনেক তথ্য পাবেন। পরিশেষে বলতে চাই, আগে শিখুন তারপর নামুন-সময় নিয়ে,তাহলেই এই সেকট্র থেকে ভালো কিছু করতে পারবেন।তথ্য সূত্র: উইকিপিয়া, গুগল, ইউটিউব এবং ফেইসবুক ফরেক্স ট্রেডিং গ্রুফ।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

আমি পতিতা বলছি । শেষ পর্ব

Rohit Khan fzs

ইতিহাসের ভয়াবহ অপারেশন ‘ডেজার্ট স্টর্ম’

MP Comrade

হঠাৎ করেই বেড়ে গেল বাংলাদেশ থেকে ভারতে জ্বালানি তেল পাচার!

MP Comrade

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: