Now Reading
সেই মেয়েটির প্রেম -৩য় পর্ব



সেই মেয়েটির প্রেম -৩য় পর্ব

৩য় পর্বঃ
সবুজ চা বাগানে সবুজ চা পাতায় পরিপূর্ন । ঘন সবুজ চা বাগানে কর্মিরা পিঠে চা পাতা সংগ্রহ করার ডালা নিয়ে ,চা গাছ হতে চা পাতা সংগ্রহ করছে । অভিরুপ দূর থেকে দেখল যে , লাবণ্যের মত একটি মেয়ে চা পাতা সংগ্রহ করছে । অভিরুপ আর বসে না থেকে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে মেয়েটির নিকট যাওয়ার চেষ্টা করলো । অভিরুপ দৌঁড়ে যেতে যেতে ,চা বাগানের চিপা রাস্তায় পড়ে লুটোপুটো খেলো । আবার দৌঁড় শুরু করলো । মেয়েটিকে লাবণ্য মনে করার বিশেষ কারণ হলো যে, অভিরুপ লাবণ্যকে ভালবাসে এবং সাধারন কারণ হলো যে , লাবণ্য ওমন একটি চা বাগানের কর্মী । মেয়েটির নিকট গিয়ে দেখল যে , মেয়েটি সত্যিই লাবণ্য । দুজন দুজনের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল । মুখে কথা নেই , একটুও চোখের পলক পড়ে না । দুজন দুই দিক থেকে দৌঁড়িয়ে এসে ,দুজনে একে আন্যকে জড়িয়ে ধরল এবং দুজন দুজনের মুখ এক স্থানে নিয়ে এসে . দুজন দুজনকে চুমা দিল ।
লাবণ্য অভিরুপকে বলল , তুমি; তুমি কখন আসলে ? এই কটা দিন আমার কি ভাবে গিয়েছে জানো ? বলে কেঁদে উঠলো ।
অভিরুপ বলল, আরে কেঁদো না তো ! আমি তো চলে এসেছি ।
আবার দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরলো । লাবণ্যকে বুক থেকে সরিয়ে ,লাবণ্যকে নিয়ে কর্মীদের মাঝে থেকে দুই হাতের উপর নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ।লাবণ্য অভিরুপের গলা জড়িয়ে ধরে আছে এবং এক হাত দিয়ে অভিরুপের কপাল, নাক ও ঠোঁটের উপর দিয়ে আঙ্গুল বুলাচ্ছে ।
অভিরুপ বলে উঠলো ,আরে কি করো করো ! শুড়শুড়ি লঅগছে তো ।
-লাগুক ; তো আমার কি ? আমার কিন্তু বেশ ভাল লাগছে ! তোমার ঠোটটা না কামড়াতে ইচ্ছা করছে ।
ধ্যেত !
অভিরুপ লাবণ্যকে নীচে ফেলে দিলো । লাবণ্য বলল, মা’গো .. মরে গেলাম
অভিরুপ লাবণ্যকে নীচে ফেলে দিয়ে লাবণ্যের আগে আগে আসছে এবং লাবণ্য আভিরুপের গায়ে ঢিল ছুড়ছে । অভিরুপ দৌঁড়ে লাবণ্যকে ধরতে গেলো এবং লাবণ্য লাবণ্য পাথরের উপর পড়ে পায়ে আঘাত পেলো ।
অভিরুপ বলল , এবার বোঝো !
-কি বুঝবো ? আর যায হোক তোমার কলে তো চড়তে পারলাম ।
তাই না! অভিরুপ ভেঙ্গচিয়ে বলল
-হু । অভিরুপ চলো বাড়ি চলো !
হু চলো ।
– আরে ওদিকে কোথায় যাচ্ছো ? আমাদের বাড়ি তো এদিকে ।
ওহ লাবণ্য ; তোমাকে তো বলায় হয়নি ! এখানে আমার মা এসেছে । এই যে চা বাগানের উত্তর দিকে; যে বাড়িটা আছে না ? ওটা আমাদের । আমি ,মা ওখানেই উঠেছি ।
লাবণ্য বাড়ি এসে দেখল তার বাবা মনের সুখে লালন সঙ্গীত চর্চা করছে । লাবণ্য কোন কথা না বলে ঘরের ভীতর প্রবেশ করলো । লাবণ্যের বাবা গান থামিয়ে দিয়ে ,লাবণ্যের কাছে গিয়ে বলল, কিরে মা আজ এত দেরি ?
লাবণ্য কথার উত্তর না দিয়ে ,চুলায় রান্না বসিয়ে দিল । চা বাগানে কাজ করার শেষে,ঘরে ফিরে লাবণ্যকেই রান্না করতে হয় । কারণঃ মাত্র সাত বছর বয়সে রেখে লাবণ্যের মা ঐ চা বাগানে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুকে বরন করে নিয়েছে । তাই লবণ্যকেই বাড়ির রান্না করতে হয় । লাবণ্য বাবার কথায় উত্তর না দেওয়ায় ,বাবা ঘর থেকে বের হয়ে লাবণ্যের পাশে বসে ,লাবণ্যকে জিঙ্গাসা করলো ,
কিরে মা ; কি হয়েছে তের ? মুখ ভার করে রইলি ? আমি তো শুধু মাত্র দেরির কারণটা জানতে চেয়েছি ।
– বাবা তুমি রান্নার পাশে বসো ,আমি পানি নিয়ে আসি । বলে বাবার কথাটা এড়িয়ে গেল লাবণ্য ।
ওদিকে অভিরুপ বাগান বাড়িতে যাওয়া মাত্র ,মা অভিরুপের কান ধরে বলল,
কিরে বদমাইশ । আমাকে একা রেখে কোথায় গিয়েছিলি ।
– মা ছাড়ো লাগছেতো । ছাড়ো মা ছাড়ো । আর কখনো এমন হবে না । এইতো কান মুড়ছি ।
মনে থাকে যেন !
অভিরুপ মা’কে নিয়ে খাটের উপর বসালো । মায়ের দু’পা ধরে বিছানায় শুইয়ে দিল । আভিরুপ মায়ের মাথার পাশে বসে ,মায়ের মাথায় হাত বুলাচ্ছে ।’মা’ অভিরুপের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
এ কি করছিস ? ছাড় । আজ মা’কে ভালবাসা হচ্ছে কিন্তু কাল যেই বউ আনবি ; মায়ের কথা মনে রাখবি ?
-মা তুমিই তো আমার সব । পৃথিবী আসার পর ,আমি কখনো বাবার আদর স্নেহ পায় নি ! তুমি আমাকে বাবার আদর স্নেহ দিয়েছো ।মানুষের মত মানুষ করেছ । আর তোমাকে কি আমি ভুলি । মা চলো না গান শুনে আসি !
গান! কোথায় ?
এই হৃদয়পুরে ।প্রতি মাসের শেষ শনিবার ,হৃদয়পুর বিশাল গানের আসর বসে । চলো না মা যায় !
সন্ধা বেলা মা, ছেলে দুজন গান শুনতে বেরিয়ে পড়লো । শীতের সময় । মায়ের গায়ে একটা কালো চাদর জড়িয়ে দিয়ে, মায়ের হাত ধরে মা’কে নিয়ে যাচ্ছে অভিরুপ । ঘন জঙ্গল পেরিয়ে গানের আসরে উপস্থিত হলো মা-ছেলে । অনেক শিল্পির আগমন । সব জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন গানের আসর বসেছে । যে আসরে লাবণ্য গান করছে সেই আসরে মা’কে নিয়ে গিয়েছে অভিরুপ । লাবণ্যকে আজ খুব সুন্দর দেখাচ্ছে ভ লাল পোশাকে নীলকুমারীর রুপ ধারন করেছে লাবণ্য । লাবণ্যের চেহেরা ও গানের গলা শুনে কখন জানি মা লাবণ্যকে পছন্দ করে ফেলেছে । লাবণ্যের মুখের দিকে তাকিয়ে মা ভবিষৎতের কথা ভাবছে । এমন একটা বউ হলে ঘর আলোকিত হয়ে উঠবে । এই মেয়েকেই আমার ছেলের বউ বানাবো । এরি মধ্য অভিরুপ লাবণ্যের গানের পাল্টা দিতেছে । গানের আসর শেষ । গান শেষে লাবণ্য অভিরুপকে বলল,
তুমি তো ভালই গান করো ! আগে তো জানতাম না ।
এই আর কি । একটু চেষ্টা করলাম ।
অভিরুপ আর লাবণ্য দুজন কথা বলতে বলতে অভিরুপের মা এসে হাজির হলো ।মা লাবণ্যকে জিঙ্গাসা করলো, তোমার বাবার নাম কি মা ?
– জি ..
একি সময় লাবণ্যের বাবা এসে হাজির হলো এবং নিজের নাম ‘মহির মিয়া ‘ বলে লাবণ্যকে নিয়ে চলে গেল । লাবণ্য অভিরুপে দিকে পিছন ফিরে তাকালো ।
অভিরুপ বলে উঠলো , চলো মা ।
মা ভাবতে লাগলো ব্যাপারটা কি ? এমন করে মেয়েটিকে নিয়ে চলে গেল কেন ?আমি কি এর আগে কখনো ওনাকে দেখেছি! মা বাসায় পৌঁছাল । পরের দিন সকালে ফুল বাগানে পানি দেবার সময় মা দেখলো যে , লাবণ্য একটা ঝুড়ি নিয়ে..

 

About The Author
Md.Biplab Hossain
0 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment