অন্যান্য (U P) কেইস স্টাডি

স্বাধীন চাকুরী – ফ্রিল্যান্সিং

আমাদের সমাজের একটি প্রচলিত নিয়ম হলো, লেখাপড়া শেষ করে চাকুরী করতে হবে। যে যত উচ্চ শিক্ষিত, সে তত বড় চাকুরী করবে।বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট খুবই নাজুক, চাকুরী যেন সোনার হরিণ। চাইলেই কেউ তার মেধা অনুযায়ী, চাকুরী যোগাড় করতে পারছে না। পদের তুলনায়, প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশী। প্রতিযোগীতা এতই বেশী যে, এতটি পদের বিপরীতে লক্ষ লক্ষ প্রার্থী প্রতিযোগীতায় অবতীর্ণ হচ্ছে। একটি চাকুরী পাওয়ার জন্য কতই না কাঠ খড় পোড়াতে হয়। সরকারী চাকুরী ? সে তো বাঘের চোখ ! একটি সরকারী চাকুরী কোন প্রকৃয়ায় পেতে হয় তা আর না ই বা বললাম।ইনকাম করার জন্য, একজন শিক্ষিত যুবকের চাকুরী করা ব্যাতীত অন্য কোন রাস্তা খোলা থাকে না।যত দিন না চাকুরী পাওয়া যায়, তত দিন পরিবারের লাঞ্চনা গঞ্জনা শুনতে হয়, এত দুর লেখা পড়া করালাম বেকার বসে থাকার জন্য ? অমুকের ছেলে কত ভালো চাকুরী করছে। তুই কেন পাচ্ছিস না।শিক্ষা একজন যুবককে ছোট কাজ করতে বাধা দেয়(না পারে রিক্সা চালাতে, না পারে চুরি করতে), তার আত্নসম্মান বোধ তাকে এটি করতে দেয় না।অপরদিকে না পাচ্ছে চাকুরী।এভাবে চাকুরী খুঁজতে খুঁজতে কত যুবকের সরকারী চাকুরীর বয়স পার হয়ে যাচ্ছে, তার কোন হিসাব নাই বা করলাম। তারপর আসুন আপনি যদি ভাগ্যগুনে কোন রকমে একটি চাকুরী পেলেন, তারপর আপনাকে অবশ্যই একটি টাইম মেইনটেইন করতে হবে।বসের কথা অনুযায়ী চলতে হবে। স্বাধীনতা নামক কোন জিনিস চাকুরীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অপিসে যথাসময়ে প্রবেশ করতে হবে, কোন প্রকার দেরী সহ্য করা হবেনা,কিন্তু কয়টায় ছুটি হবে তার জন্য বসের মুখের পানে তাকিয়ে থাকতে হবে। এরপর আছে কাজের পাহাড়,সব কাজ আজকের মধ্যেই শেষ করতে হবে, বসের এমন তাগাদা। এরকম যখন পরিস্থিতি, অপার সম্ভাবনার একটি পথ ইনকামের সুযোগ নিয়ে এসেছে-পথটি হলো ফ্রিল্যান্সিং।ফ্রিল্যান্সিং মানে হলো মুক্তপেশাজীবি।এখানে কোন বস নেই, নেই কোন টাইম ডিউরেশন, নেই কোন টেনশন। একজন ব্যাক্তি যখন এ কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয় তাকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সার। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কোন অফিস প্রয়োজন হয় না, আপনি স্বাধীন ভাবে নিজের ঘরে বসে এ কাজটি করতে পারবেন, আপনার সুবিধাজনক সময়ে।ফ্রিল্যান্সিং অনেক ভাবে করা যায়। যেমন: মার্কেট প্লেসে বায়ারের চাহিদানুযায়ী কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে, কোন পণ্য মার্কেটিং করার মাধ্যমে যাকে বলা হয় এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, কোন কিছু লেখা লেখির মাধ্যমে যাকে বলে আর্টিক্যাল রাইটিং, কোন কিছু না জেনেও ফ্রিল্যান্সিং করা যায়(টাইপিং জানেন ? আপনার জন্য ডাটা এন্ট্রি জব)। এরকম হাজারো কাজ অনলাইন জগতে আছে, খুজে নিতে হবে। মার্কেটপ্লেস নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। বাংলাদেশের লক্ষাধিক শিক্ষিত যুবক মার্কেট প্লেসে কাজ করে ইনকাম করছেন। মার্কেট প্লেস হলো এমন একটি প্লাটফরম যেখানে বায়ার এবং ফ্রিল্যান্সারের যোগাযোগ, অর্ডার সাবমিট এবং পেমেন্ট প্রকৃয়া সম্পাদন করা হয়।এমনই কিছু মার্কেট প্লেস হলো: আপওয়ার্ক, ফাইভার, ফ্রিল্যান্সার, গুরু, এসইওক্লার্ক ইত্যাদি। এসব মার্কেট প্লেসে লক্ষ লক্ষ কাজ আছে, যা থেকে ফ্রিল্যান্সারা বিড করার মাধ্যমে কাজ করে ইনকাম করে থাকে। এবার আসুন বিড কাকে বলে ? বিড হলো অনেকটা নিলামের মতো, বায়ার একটি কাজের প্রস্তাব উত্থাপন করে রেইট চাইবে, ফ্রিল্যান্সাররা রেইট দিবে। সর্ব নীম্ন রেইট প্রদান কারীকে বায়ার যাচাই বাছাইয়ের পর কাজ দেবে। এভাবেই মূলত: মার্কেট প্লেস ‍গুলো থেকে ফ্রিল্যন্সাররা কাজ করে থাকে। কিছু মার্কেট প্লেস আছে যেখানে ফ্রিল্যান্সাররা রেইট উল্লেখ করে কাজের অফার দেয় এবং বায়ার সে অনুযায়ী অর্ডার সাবমিট করে।যারা প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার তারা কোন না কোন একটি বিষয়ের উপর দক্ষ। তাই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে যে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা হলো দক্ষতা অর্জন করা। মার্কেট প্লেস গুলোতে দক্ষ ফ্রিল্যান্সারের ডিমান্ড খুব বেশী এবং কাজের তুলনায় দক্ষ ফ্রিল্যান্সারের অনেক অভাব।ক্যারিয়ার হিসাবে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য যে সব বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সে গুলো হলো: গ্রাফিক্স ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, এসইও এক্সপার্ট জব, ই-মেইল মার্কেটিং, প্রোগ্রামিং, কোডিং, ওয়েব ডেভেলাপ, ওয়েব ডিজাইন সহ আরো অনেক বিষয়।একজন ফ্রিল্যান্সারকে আগে লক্ষ্য স্থির করতে হবে যে, সে কোন বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী অথবা কোন বিষয়টা তাকে মজা দেয়। কারণ যে কাজে মজা নেই সে কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন করা যায় না। যেমন মনে করুন, আমি আর্টিক্যাল রাইটিং বিষয়টায় খুব আনন্দ উপভোগ করি, তাই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আর্টিক্যাল লিখা আমার ফ্রিল্যান্সিং এর বিষয়।তাই আমি একজন আর্টিক্যাল রাইটার। তদ্রুপ আপনাকেও আগে স্থির করতে হবে বিষয়, তারপর কাজে নামতে হবে।ফ্রিল্যান্সিং ধারনাটি সর্বস্তরে তেমন পরিষ্কার নয়, অনেকটা ধোঁয়াশা। ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করা যায় অথবা আউটসোর্সিং করে ইনকাম করা যায় এমন ধারনাকে পূজি করে কিছু অসাধু ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান ধান্দাবাঁজি করে যাচ্ছে লোক চক্ষুর অন্তরালে। যেনতেন কোর্স করিয়ে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।উদিয়মান এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য দরকার সরকারী তদারকী।কারন এখাতটি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় হয়, যা ফরেন রেমিটেন্স হিসাবে আসে।কিছু ভালো মানের প্রতিষ্ঠানও আছে, যারা দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরীতে ভূমিকা পালন করছে। পরিশেষে বলবো, চাকুরী নামক সোনার হরিনের পেছনে না ছুটে, সারা দিন বেহুদা মোবাইল ফোনে ফেইসবুকিং না করে আসুন সঠিকভাবে প্রশিক্ষন গ্রহণ করে ফ্রিল্যান্সিং করি।নিজে স্বাবলম্বী হই, দেশের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করি।  তথ্য সূত্র: ফেইসবুক, গুগল, ইউটিউব এবং মস্তিস্ক নি:সৃত ধারণা।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

সাহস হল শক্তি! হ্যাঁ আপনি পারবেন।

rakib22

যে গ্রামে রাষ্ট্রপতি যায় ছাগল চড়াতে আর প্রধানমন্ত্রী মুদি দোকান চালায় !

বাংলাদেশিজম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি কবিতা ।

FAHAD BIN HUSNE ALI

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy