ঘুরে আসুন বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত মাত্র ৫১০ টাকায়

Please log in or register to like posts.
News

ভাই একটা ম্যাজিক দেখবেন ।
আমার বন্ধু আমাকে বলছিল । আমি বললাম কি ম্যাজিক ? সে আমাকে বলল আমি সাগরের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারি । আমি এই কথা শুনে হাসবো নাকি কাঁদবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না । জিজ্ঞেস করলাম পাগল হয়ে গেলি নাকি ?
বন্ধু বলল পাগল না , বাংলাদেশে এই প্রথম চট্টগ্রামের মানুষ সমুদ্রের উপর দিয়ে হাঁটার ব্যবস্থা করে দিয়েছে ।
তখন আমার মাথায় কিছু ঢুকছিল না । আমি আবারো বললাম , বন্ধু ব্যাপারটা খুলে বলো । তখন সে আমাকে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত এর কথা বলল । সে আমাকে সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বলল । আমি শুনে অবাক । পরের দিন আমি প্ল্যান করে ফেলি আমিও যাবো বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত ।

অনেক জায়গায় ট্যুর দিয়েছি । সব জায়গায় চেয়েছি কম টাকায় কিভাবে আরামদায়ক ভ্রমণ করা যায় । সাথে সাথে নেটে বসে তথ্য নেয়া শুরু করলাম । সব ঠিকঠাক করে বন্ধু অভি কে নিয়ে বের হয়ে পড়লাম বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত জয় করার জন্য ।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

আমাদের যাত্রা শুরু পকেটে ১ হাজার টাকার কচকচে নোট নিয়ে বের হয়ে গেলাম দুই বন্ধু । রাত তখন ৮টা বাজে । তাড়াতাড়ি না গেলে মেইল ট্রেনের টিকিট পাবো না । রাত ৯ টার মধ্যে টিকিট পেয়ে গেলাম । স্টেশন এ দাঁড়িয়ে ছিলাম । কারণ মেইল ট্রেনের নিয়ম হলো যে আগে উঠে সিট নিতে পারবে সিট তার হবে । রাত ১০ টায় ট্রেন আসলো । ট্রেনে উঠেই সিটে বসে পড়লাম । কেন জানি খুব ক্লান্ত লাগছিলো । উঠেই আমি আর অভি শুয়ে পড়ি ।মাঝে একবার ঘুম ভাঙলেও আবার শুয়ে পড়ি । খুব ভোরে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছাই । নেমে দ্রুত নাস্তা করে বাহিরে বের হয়ে একটি লোকাল সিএনজি তে বসে পরি । আমাদের সাথে আরো ৩ জন যাত্রী ছিল । তাদের প্রায় সবাই ফেনী মহীপাল যাবে । সিএনজি তে করে মাত্র ২০ মিনিটে পৌঁছে যাই মহীপালে । আমরা সবচেয়ে বড় যে সমস্যায় পড়েছি তা হলো, মহীপাল থেকে লোকাল বাস পাওয়া । চট্টগ্রাম গামী কোনো লোকাল বাস সহজে পাওয়া যায় না । দুই একটা পাওয়া যায় তা আবার অনেক ভাড়া । একটা বাস পেয়েছিলাম ভাড়া ৬০ টাকা করে । বাঁশবাড়িয়া বাজার বললেই হবে , আপনাকে তারা সেখানে নামিয়ে দিবে । আমি যেদিন রওনা দিয়েছিলাম তার আগের দিন অনেক বৃষ্টি হয়েছিল । যার কারণে রাস্তা অনেকটা পিচ্ছিল । বাঁশবাড়িয়া যাওয়ার সময় দুই পাশের দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য । বেশি সময় নেয়নি মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের বাঁশবাড়িয়া বাজারে নামিয়ে দিলো ।
সেখান থেকে আমি অনেক লোকাল অটো পাবেন । যা আপনাকে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যাবে । আমার আর অভির জন্য খুশির খবর হল , আজ আকাশ একদম ফকফকে । কিছুক্ষণ এর মধ্যে পৌঁছে গেলাম । স্বর্গে আসলাম? না ভুল বলছি না একদম স্বর্গের মতো দেখতে । উপরে খোলা আকাশ পাশে খোলা জায়গা , একটু সামনে এগিয়ে গেলে বিশাল সমুদ্র । আপনি যদি একটু মনোযোগী হন , তাহলে আপনি সাগরের শো শো শব্দ শুনতে পাবেন । আমি আর আমার বন্ধু জুতা এক পাশে রেখে দৌড় দিলাম সমুদ্রের দিকে । নিজেদের ভিজিয়ে নিলাম সমুদ্রের জলে । এই আনন্দ মনে হয় লিখে প্রকাশ করার মতো না । সমুদ্র দেখতে যাচ্ছি সাথে জামা কাপড় নিবো না . তা কি হয় নাকি । ইচ্ছে মতো দৌড় ঝাঁপ করে ভিজিয়ে নিলাম নিজেদের । হাতের ডান দিক দিয়ে একটু সামনে এগিয়ে গেলে দেখতে পাবেন বাঁশের তৈরি একটি ব্রিজ । ব্রিজ বললে ভুল হবে , দেখে মনে হবে কেউ একজন সমুদ্রের উপর আপনার হাঁটার ব্যবস্থা করে দিয়েছে । ঠিক তখন আমার সেই বন্ধুর কথা মনে পরে গেলো । যে আমাকে বলেছিল সমুদ্রের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কথা । দুপুর গড়িয়ে তখন বিকেল । ব্রিজের উপর দিয়ে হেঁটে একদম শেষ প্রান্তে পৌঁছলাম । একটু পর পর ঢেউ আছড়ে এসে আমার পায়ে পড়ছে । নিজেকে মনে হচ্ছে সমুদ্রের বুকের উপর আমি দাঁড়িয়ে আছি ।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

ফেরার পথে – পৃথিবীতে সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত হল কোনো কিছু বিদায় দেয়া । ঠিক প্রকৃতিকে বিদায় দিতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো । কিন্তু কি করবো সব কিছুর শেষ আছে । শেষ হয় আবার নতুন করে শুরু করার জন্য । বিকেলের শেষে আবার অটো তে করে বাঁশবাড়িয়া বাজারে এসে পৌঁছলাম । সেখান থেকে লোকাল বসে করে মহীপালে এসে পড়লাম । আসার সময় একটু বেশি ভাড়া নিয়েছিল । মহীপাল থেকে সিএনজি করে চলে এলাম ফেনী রেলওয়ে স্টেশন । ট্রেন রাতে ছাড়বে । তার মধ্যে ক্ষুধাও লেগেছে । আশে পাশে থেকে খেয়ে নিলাম ।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

খরচ –

ঢাকা থেকে ফেনী , ফেনী থেকে ঢাকা ট্রেন ভাড়া – ৯০*২ = ১৮০ টাকা
স্টেশন থেকে মহীপাল ভাড়া – ২০ টাকা জন প্রতি । মোট পড়েছে ৪০ টাকা
মহীপাল থেকে বাঁশবাড়িয়া ৬০ এবং বাঁশবাড়িয়া থেকে মহীপাল ৮০ টাকা । মোট ১৪০ টাকা ।
সকাল ও দুপুরের খাবার ১২০ টাকা । সকালের নাস্তা ৩০ টাকা । আর দুপুরের খাবার ১৫০ টাকা ।
সর্বমোট খরচ হয়েছে ৫১০ টাকা ।

Reactions

1
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

1

Nobody liked ?