Now Reading
প্রতিবিম্বঃ পর্ব ৪



প্রতিবিম্বঃ পর্ব ৪

“শতাব্দীর রাতের ছুটে যাওয়া আমি থামাতে পারিনা,

তুমুল বেগে ঘুরতে থাকা বিশ্বগতি আমি থামাতে পারিনা,

পেরেছি দিনের শেষে রাতে রাতের পর দিন ঘনিয়ে এলে তোমায় নিয়ে ভাবতে,

অল্পতেই কত আপন করেছি তোমায়, যদি পারতাম তা তোমায় জানাতে…”

কবিতায় মুখ গুজে গত কয়দিনের ঘটনা গুলো ভুলে থাকতে চাইছে জাবির। নাহিদের চলে যাওয়া, জান্নাতের সাথে অসময়ে লনে দেখা হওয়া আর লগবুকে ওর নাম না থাকা – এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত জাবির। মাথা আর কাজ করে না ওর। নাম্বারটা দেখে চেনা মনে হল, কিন্তু কার সেটা মনে পড়েছে না। হটাৎ খেয়াল হলো যে সেদিন সকালে যে নাম্বার থেকে কল আসার কারনে জাবিরের ঘুম ভেঙ্গেছে এটা সেই নাম্বার। কল ধরলো,

– হ্যালো কে বলছেন?

– জাবির…

– জ্বী আপনি কে?

– আমাকে তুমি চিনবে না এখন। কারন আমি তোমার কেউ না। তবে দ্রতই চিনবে।

– কে বলছেন আপনি?

– আমি প্রতিবিম্ব।

– কিসের প্রতিবিম্ব? কার প্রতিবিম্ব?

ফোনটা কেটে গেল। জাবির হ্যালো হ্যালো করলো ২-৩ বার। অপাশ থেকে ফোনটা কেটে দিয়েছে। জাবির আবার কল দিল। নাম্বারটি অব্যাবহৃত বলে কাস্টমার কেয়ার এর সুকন্ঠী নারী জানালো।

জাবির ঘামছে অঝরে। কাপতে কাপতে হাত থেকে ফোন পড়ে গেল। কে ফোন দিল? কার প্রতিবিম্ব? কন্ঠটা চেনা জানা লাগছে। ঠিক মিলাতে পারছে না। কে হতে পারে? ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেল।

ঘুমের মাঝে স্বপ্নে নাহিদকে দেখলো। দূর থেকে নাহিদ ডাকছে জাবিরকে। নাহিদের গলায় সেই দড়িটা ঝুলছে আর বা পাশে দ্গদগে পোড়া দাগ। কিছু বলতে চাচ্ছে জাবিরকে। কিন্তু গলার ফাস লেগে থাকার কারনে মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। ফ্যাসফেসে একটা শব্দ বেরুচ্ছে নাহিদের মুখ থেকে। জাবির নাহিদের মুখের কাছে কান নিয়ে গেল, আর শুনতে চেস্টা করলো কি বলতে চায় ।

“বাচতে চাইলে দূরে কোথাও চলে যা। ও তোকে………”

লাফিয়ে জেগে উঠলো জাবির। ১৬ তে ফ্রিজিং মোড অন থাকার পরেও চরম ঘামাচ্ছে সে। কি বলতে চায় নাহিদ? কোথায় পালিয়ে যাব? কেন পালাবো? নাহিদের মৃত্যু, জান্নাতের প্রেজেন্স এর ব্যাপারে ভুতুড়ে কার্যকলাপ, আজকের ফোনকল আর এই স্বপ্ন – সব এক সুত্রে গাথা?

হটাৎ নিহানের কথা মাথায় আসলো। নিহান সম্পর্কে জাবিরের কাজিন হয়। আমেরিকা থাকে। ব্ল্যাক ম্যাজিক আর স্পিরিচুয়াল ব্যাপার নিয়ে ঘাটাঘাটি করে। নিহানের বাবা – মা মারা যাবার পর কেউই নিহানের সাথে যোগাযোগ করেনি। এছাড়া কালো জাদু নিয়ে তার কাজ কারবার বলে সবাই এড়িয়ে চলে। তবে জাবিরের এখন নিহানকেই দরকার।

 

স্কাইপ ওপেন করে নিহান কে কল দিল। সাথে সাথেই কল রিসিভ করলো নিহান। হাই – হ্যালো পর্ব শেষ হতেই নিহান জাবিরকে অবাক করে দিয়ে প্রশ্ন করলো,

– ইদানিং তোর কোন ফ্রেন্ড মারা গেছে? সুইসাইডাল কেইস?

– তুমি কিভাবে জানো?

– আগে বল।

– হ্যা। নাহিদ ৩-৪ দিন আগে মারা গেছে।

-তোর সাথে কি অদ্ভুত কিছু হচ্ছে?

একটু নড়ে চড়ে বসলো জাবির, কিভাবে নিহান সব জানে?

– কেমন অদ্ভুত?

– ফোনে বেনামি কল, বাজে স্বপ্ন?

– তুমি কিভাবে এগুলো জানো?

– আমাকে শুরু থেকে সব খুলে বল।

জাবির সব খুলে বলল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব, কিছুই বাদ দেয়নি। সব শুনে নিহান বললো,

– আমি দেশে আসছি। তোর ওখানে উঠবো। মামা মামী কিছু মনে করবে নাতো?

– কোন সমস্যা নেই। তুমি আসো। আমি সব ব্যাবস্থা করছি।

– আচ্ছা, আমি প্লেনের টিকেট কনফার্ম করে জানাচ্ছি। আর আমি যতদিন না আসছি, অচেনা কল ধরবি না, রাতে একা বের হবি না, আর কোন বাজে স্বপ্ন দেখলে               আমাকে সাথে সাথে জানাবি।

– আচ্ছা। মনে থাকবে।

একটু আশ্বস্ত হতে পারলো নিহান এর কথায়। সেই পারবে এর একটা বিহিত করতে।

সকালে বাবা-মা কে নিহান এর আসার কথা জানিয়ে দিল। উনারা চেয়েছিলেন আপত্তি করতে কিন্তু প্রিয় বন্ধুর চলে যাওয়া সামলে উঠতে না পারা ছেলে যদি নিহানের দেশে ফিরে আসাতে একটু স্বাভাবিক হতে পারে, সেই আশায় আর মানা করার কারন খুজে পেলেন না উনারা।

৩ দিন পর নিহানকে এয়ারপোর্ট থেকে পিক করলো জাবির। নিহানের গেট আপ দেখলে কেউ বলবে না এই ছেলে ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে খেলা করে। দুজনে বুক মিলালো।  গাড়িতে বসতেই নিহান বলল,

– ইন্দিরা রোড চল।

– কেন? ওখানে কি?

– শুরুটা ওখানেই।

– কিসের শুরু?

– চল যেতে যেতে বলবো।

জাবির আর কথা বাড়াল না। চুপচাপ ড্রাইভ করতে থাকলো।  যেতে যেতে নিহান বললো –“আচ্ছা জাবির তোর মনে পড়ে আমরা সব কাজিনরা একসাথে ইন্দিরা রোডে থাকতাম? দাদা বাড়ি কিনেছিলেন পাকিস্তান আমলের এক ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছ থেকে। দাদা নামকরা উকিল ছিলেন, রোজ আমরা উনার রিডিং রুমের বারান্দায় খেলতাম। মনে আছে? ”

জাবির মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল। হিসেব মিলাতে পারছেনা সেই বাড়ির সাথে এসবের মিলবন্ধন?

নিহান আবার বলতে শুরু করলো –“ আমাদের পাশের বাসায় একটা পরিবার ছিল। সেখানে একটা মেয়ে ছিল। আমরা একসাথে খেলতাম, ও খেলতে চাইলে অকে মেরে তারিয়ে দিত জাকিয়া, মনে আছে তোর? ”

জাকিয়া হোল জাবিরের ফুফাতো বোন। সবার বড়। এখন ডেনমার্কে থাকে ফ্যামিলি সহ। মাথা নেড়ে সম্মতি জানলো যে এটাও মনে আছে জাবিরের।

আবার বললো নিহান -“আমাদের ফ্যামিলি আমেরিকা চলে আসার আগের দিন বিকেলেও মেয়েটা খেলতে এসেছিল। জাকিয়ার নিষেধ সত্বেও বারবার খেলায় ব্যাঘাত করছিল। তুই এরপর ওকে ধাক্কা দিয়েছিলি, মাটিতে পরে ওর মাথা ফেটে ব্লিডিং হয়ে পরদিন মারা যায়। মনে করতে পারিস?”

জাবিরের শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল।

 

 

বিঃদ্রঃ পরবর্তী পর্ব কবে প্রকাশ পারে তা নির্ধারিত না। কমেন্ট সেকশন এ আপনাদের ভালবাসা প্রগাড়তাই লেখককে উদ্বুদ্ধ করবে লিখতে। লেখকের কাজ আপনাদের আনন্দ দেয়া, আর আপনাদের কাজ লেখককে লিখতে উৎসাহিত করা।

About The Author
Kazi Mohammad Arafat Rahaman
পড়াশোনা - ব্যাচেলর করছি কম্পিউটার সায়েন্সে। ভাল লাগা - গান, ফুটবল আর বই। খারাপ লাগা - নাই। খারাপ লাগেনা। অনুভূতিহীন। শখ - অনেক আছে। লক্ষ্য - ইন্টারপ্রেনার হতে চাই।
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment