সাহিত্য কথা

স্বল্প দৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী – শেষ পর্ব

দ্বিতীয় পর্বের পরে

শুনবেন, আমার কি সমস্যা ?
বলেন শুনি ।
চোখ বন্ধ করে কথা বলা শুরু করলাম , কাল রাত থেকে ঘুমোতে পারছিনা । জানি না কি হয়েছে । এই প্রথম কাউকে দেখে আমার এতো ভালো লেগেছে । আমার চারপাশে মনে হচ্ছে কেউ গুন গুন করে গান গাইছে । তোমার সাথে আমার জোছনা বিলাস করতে খুব ইচ্ছে করছে । ইচ্ছে করছে কোনো এক জোছনা রাতে তোমায় নিয়ে নদীর পাশে পা ভিজিয়ে জোছনা দেখি । কিন্তু আকাশের দিকে তাকিয়ে নয় , নদীর বুকে পূর্ণিমার চাঁদ দেখে , তোমার মুখের সাথে মিলিয়ে দেখবো কোন চাঁদ বেশি সুন্দর । আমার পাশে বসা সে , নাকি আকাশের বুকে যে রয়েছে সে । বৃষ্টির মধ্যে তোমার হলুদ শাড়িতে বৃষ্টিতে ভেজা মাথা লুকাতে চাই । যদি আমি সব কথাকে এক কথায় প্রকাশ করি তাহলে বলবো – আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি । আমি তোমাকে ভালোবাসি ।
একদমে কথা গুলো বলছিলাম । কথা বলা শেষ হলে বড় বড় নিঃশ্বাস নিচ্ছিলাম । ভয়ে চোখ খুলছি না । জানিও না আমার পাশে আছে নাকি নেই । চোখ বন্ধ করে বলে উঠলাম , কি ব্যাপার কিছু বলবেন না ?

মেঘলা বলে উঠলো – আমি অন্ধ মানুষের সাথে প্রেম করি না । এই কথা বলে আমার হাত ধরে বলল চোখ খুলবে নাকি চোখের মধ্যে সুপার গ্লু লাগিয়ে দিবো ।

আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিনা , আচ্ছা আমি কি ঘুমিয়ে আছি ? না, ঘুমিয়ে নেই। কারণ আমার হাতে নীলার হাতের স্পর্শ বুঝতে পারছি । তাহলে আমি যা শুনেছি তা সত্য । আমি চোখ খুলে নীলার চোখের দিকে তাকালাম । কারণ চোখ কখনো মিথ্যা বলে না । ও আচ্ছা পাঠক, আপনারা হয়তো গুলিয়ে ফেলবেন নীলা আর মেঘলা দুইজন আলাদা নাকি ? না , তারা দুইজন একই । মেঘলা আমার পরী , আবার আমার নীলা । এখন থেকে ওকে আমি নীলা বলে ডাকবো । নীলার চোখ মিথ্যা বলছে না ।
আমি ওর হাত শক্ত করে ধরে বলি , কখনো এই হাত ছেড়ে যেও না । আমার পক্ষে এই হাতের উপর অন্য কোনো নারীর হাত পড়বে তা মেনে নেয়া সম্ভব না । তুমি হয়তো ভাববে আমি মেয়েদের মতো কথা বলছি কেন ? আসলে এই প্রথম কোনো নারীর হাত আমার হাতের উপর এসে পড়লো । আমি চাই তুমি আমার জীবনে প্রথম আর শেষ নারী হয়ে থাকো ।

আমার কথা শুনে নীলার চোখে কালো রঙের পানি দেখলাম । পাঠক, হয়তো আপনারা ভাবছেন পানি আবার কালো রঙের হয় কিভাবে । নীলার চোখের কাজল বেয়ে পড়ছে পানি । আমি মুছে দিয়ে বললাম , কি ব্যাপার কান্না করছো কেন ?
উত্তর আসলো – আমি আমার বান্ধবীদের প্রেম করতে দেখেছি , কিন্তু এইভাবে তাদের ভালোবাসার মানুষ ও মনে হয় তাদের ভালোবাসেনা যেভাবে তুমি আমাকে ভালোবাসছো । শুধু চিন্তা করছি এই ভালোবাসা আমার কপালে থাকবে তো ?
আরে তুমি ভয় পেয়ো না । আমি তোমাকে ছেড়ে কখনো যাবো না ।

এই ভাবে আমাদের ভালোবাসা চলতে থাকে । কিছুদিনের মধ্যে আমার ভিসা এসে পড়ে । মানে মালয়েশিয়ার ভিসা এসে পড়ে । আমি অনেক আগেই সেখানে আবেদন করে রেখেছিলাম । পড়াশুনার জন্য দেশের বাহিরে চলে যেতে হবে । কিন্তু আমার নীলার কি হবে ? ভাবতেই কান্না পাচ্ছে , এই প্রথম কাউকে ভালবাসলাম , কিন্তু তাকে রেখে এখন আমার চলে যেতে হবে । নীলাকে ব্যাপারটা বললে সে অনেক কান্না করে সেদিন । বুঝতে পারছিলাম না কাকে সান্ত্বনা দিবো ? নিজেকে নাকি নীলাকে ? যাই হোক, জীবনের কঠিন বাস্তবতা মেনে নিতে হবে তাই আমাকে । ১৫ দিনের মধ্যে ফ্লাইট । বুকের মধ্যে পাথর রেখে উড়াল দিলাম দূরদেশে । প্রথম প্রথম অনেক খারাপ লাগতো । কত রাত কান্না করে কাটিয়েছি হিসেব নেই । আস্তে আস্তে নিজেকে মানিয়ে নিলাম । নীলার সাথে আমার প্রতিদিন কথা হতো । ভিডিও কলে বেশি কথা হতো । পড়াশুনার পাশাপাশি ভালো একটা জবও পেয়ে গেলাম ।
দুই বছর কিভাবে কেটে গেলো বুঝতেই পারলাম না । বিদেশ জীবনে এক এক জনের কাছে এক এক রকম ভাবে যায় । কারো কাছে খুব দ্রুত যায় , আবার কারো কাছে যেতেই চায় না ।

আজ সকাল থেকে কল দিচ্ছি নীলাকে । ফোনে পাচ্ছি না । ভাবলাম কোনো কারণে হয়তো মোবাইল বন্ধ । সারা দিন কাজ করে এসে রাতে কল দিলাম । দেখি তখনও মোবাইল বন্ধ । ফেসবুকে গিয়ে দেখি ফেসবুক ডিএকটিভ করা । মানে তার সাথে আমার কোনো ভাবেই আর যোগাযোগ হচ্ছে না । দুই বছরে এই প্রথম বার আমার সাথে এমন হচ্ছে । চিন্তায় খাওয়া দাওয়া সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে । এই রকম দুই মাস কেটে গেলো । নীলার কোনো খবর নেই ।

আজ দুই বছর পর ঢাকায় আসব । বন্ধু সাগরের বিয়ে হয়েছে আজ ১ বছর । মন খারাপ থাকায় তার বিয়েতে আমি ভালো মতো উইশও করিনি । যাই হোক, আসার সময় শুধু বন্ধুকে বলে এসে ছিলাম বন্ধু আমাকে কিছু সময় দিতে হবে তোমাকে নিয়ে আমি আমার নীলা কে খুঁজবো । বন্ধু বলেছিল সমস্যা নাই তুমি বাংলাদেশে আগে এসো ।

বাংলাদেশে এসেই নীলাকে খোঁজা শুরু করে দিলাম । প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খুঁজে বেড়াই সব পরিচিত জায়গা গুলো । আগে যেখানে থাকতো এখন আর সেখানে নেই । কোথায় থাকে তাও কেউ বলতে পারে না । এই রকম ১০ দিন খোঁজার পর বন্ধু লজ্জা ভেঙে বলেই ফেললো , রিফাত আর মনে হয়না তোর নীলা কে খুঁজে পাবি । আশা ছেড়ে দে । চল, আমার বাসায় চল । তোর ভাবীকে তো এখনো দেখিসনি । আজ রাতে না হয় আমার বাসায় থেকে , সকালে তোর বাসায় চলে যাবি । অনেকটা জোরাজোরি করে নিয়ে গেলো ওর বাসায় ।
সরাসরি বেড রুমে নিয়ে ভাবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো ।
প্রথম দেখাতে আমার আর চিনতে বা বুঝতে কিছু বাকি রইলো না ।
সাগর বলে উঠলো মেঘলা, এই দেখ কে এসেছে । মেঘলাও মনে হয় এর জন্য প্রস্তুত ছিল না ।
ও রিফাত, মালয়েশিয়া থাকে । ওর ভালোবাসা নীলার জন্য বাংলাদেশে এসেছে । আজ ১০ দিন যাবত খুঁজে বেড়াচ্ছে পাচ্ছে না । বন্ধু, এ তোর ভাবি মেঘলা । খুব ভালো একটা মেয়ে । আমাকে খুব ভালোবাসে ।
ওর কথা থামিয়ে আমি বললাম বন্ধু আমি যাই । কাল আবার দেশের বাহিরে চলে যাবো ।
সাগর বলল – কেন তুই না তোর নীলাকে খুঁজতে এসেছিস । ওরে না খুঁজে চলে যাবি ?
বন্ধু, আমি আর ওকে পাবো না । সে হারিয়ে গিয়েছে আমার থেকে । আজ আমি যাই রে । ভালো থাকিস তোরা ।
সাগর – ভাত খেয়ে যা ।
না বন্ধু পেট ভরা ।

এই কথা বলে আমি মাথা নিচু করে ঘর থেকে বের হয়ে আসলাম । পিছন ফিরে আর দেখতে ইচ্ছে করলো না ।

তার পর কি ঘটলো ? পাঠক আপনারাই কল্পনা করে নিন তারপর কি হয়েছে ।
কিছু গল্পের শেষ হয়েও যেন শেষ হয় না । আমি চাইনা নীলা আমার মাঝ থেকে হারিয়ে যাক । আমি চাইনা গল্পের মতো শেষ হয়ে যাক নীলা । নীলা শেষ হয়নি । বরং আমার গল্পটাই এখানে শেষ হয়ে গিয়েছে ।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

বাংলা সাহিত্যের রহস্য-রোমাঞ্চ সিরিজ – অষ্টম পর্ব (কাকাবাবু)

Abdullah-Al-Mahmood Showrav

দুঃখ পূর্ণ জীবন (পর্ব ০১ )

Md.Abul Kalam Azad

পুরানো তিমির [৪র্থ পর্ব]

Ikram Jahir

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: