Now Reading
প্রতিশোধ- পর্ব ৬



প্রতিশোধ- পর্ব ৬

হেমার বিয়ে হয়ে গেলো।
বর এর সাথে বরের কয়েকটা বন্ধু ছাড়া আর কেও আসেনি।
বিয়ের দিনই হেমা বর এর সাথে চলে গেলো।যাওয়ার আগে বাসার কারো সাথে কথা বলে নি।বিদায় ও নেয় নি।

হেমা ভাবছে এমন কি পাপ সে করেছে যে এমন শাস্তি পেতে হচ্ছে!
হঠাৎ গাড়িটা একটা বাসার সামনে এসে থামলো।এই বাসাটা হেমা চিনতে পারছে না।কারন এটা তামিমের বাসা না।

কারন তন্নি মারা যাওয়ার পর হেমা তন্নিদের বাসায় এসেছিলো।
হেমা মনে মনে ভাবছে তামিম কেন এমন করলো? নতুন করে আবার প্রতিশোধ নিতে?

তামিম হেমাকে নিয়ে একটা ফ্লাটে উঠলো।বাসায় তেমন কেহ নেই।হেমার কাপড়ের ব্যাগ টা হেমার বাসা থেকে দিয়ে দিয়েছিল।
ব্যাগ থেকে জামা নিয়ে শাড়িটা পাল্টে নিল।

তামিমের এক বন্ধু রাতের জন্য খাবার কিনে দিয়ে গেলো।
এতক্ষণে হেমা বুঝে গেছে তামিম যে হেমার সাথে সংসার করার জন্য বিয়ে করেনি।হেমা ভাবছে না করা অপরাধের জন্য কি আবার নতুন করে শাস্তি পেতে হবে?
হেমা যখনি নতুন করে জীবন টা গুছিয়ে নিতে চেয়েছে তখনি একটা তুফান এসে হেমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়ে গেছে।

রাত ১১ টা..
হেমা রুমে একা।
তামিম তার বন্ধুদের বিদায় দিতে গেছে।
হেমা কাপড়ের ব্যাগে তার মেবাইলটা খোঁজছে।হিমেলকে খবরটা দিতেই হবে।তামিমের সাথে কিছু হওয়ার আগেই হিমেলের কাছে চলে যাবে হেমা।কিন্তু এবারও হেমার কপাল খারাপ ছিলো।মোবাইলটা খুঁজে পায়নি।
বিয়ের আগে হিমেলের কথা শুনে বাসা থেকে হেমার মোবাইলটা নিয়ে গেছিলো।হয়ত ইচ্ছে করেই বাসা থেকে মোবাইলটা দেয়নি।

তামিম খাবার নিয়ে রুমে এসে হেমাকে খেয়ে নিতে বলল।
হেমাঃআপনি আমার সাথে এমনটা কেন করলেন?
তামিম হাসলো।
হেমাঃএকটা মেয়ের জীবন আর কতবার নষ্ট করবেন আপনি? আমি আপনার বোন এর বন্ধু ছিলাম।এইটা কি আমার খুব বড় অপরাধ ছিল?
তামিমঃতোমার জন্য আমি আমার বোনকে হারিয়েছি।এত সহজে আমি তোমাকে ছাড়বো না।

হেমাঃতাহলে আমাকে খুন করলেইতো পারেন।বিয়ে করলেন কেন?
তামিমঃতোমাকে কিডন্যাপ করার জন্য আমাকে ৬ মাস জেলে থাকতে হয়েছে। খুন করলে আবার জেলে যেতে হবে।কি দরকার এত কিছুর? আমি জানি তুমি হিমেল নামের একটা ছেলেকে ভালোবাস।ছেলেটা তোমার সব কিছু জেনেও তোমাকে ভালোবেসেছে।আর তাইতো তোমার পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে তারপর তোমাকে বিয়ে করেছি।যাতে ঐ ছেলের সাথে তুমি সুখে সংসার করতে না পার।
হেমাঃতাহলে আপনি সবটা জানেন!
তামিমঃহুম।তুমি কি ভেবেছিলে আমার প্রতিশোধ নেওয়া শেষ?

হেমা চুপ করে আছে।
তামিমঃ তুমি যতদিন বাঁচবে আমার প্রতিশোধ ও ততদিন চলবে।
হেমাঃআমার মনে হয় আপনাকে মানষিক ডাক্তার দেখানো উচিৎ।আপনি মানষিকভাবে অসুস্থ।
এ কথা শুনে তামিম হেমার গালে একটা চড় বসিয়ে দেয়য়।

তামিমের মোবাইলে একটা কল আসে।তামিম মোবাইল নিয়ে বারান্দায় চলে যায়।
হেমা রুমে বসে আছে।নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছে হেমার।কিন্তু আবার হিমেলের কথাও ভাবছে।
যে করেই হোক হিমেলের সাথে যোগাযোগ করতেই হবে।এই সব থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হল হিমেল।
হেমার কাছে এখন হিমেলই একমাত্র ভরষা।

হেমা রুম থেকে তামিমের কিছু কথা শুনেছে।হেমা বুঝতে পারছে তামিমের বাসা থেকে কল করেছে।কারন তামিমের কথা গুলো এমন ছিলো….
“মা আমি সংসার করার জন্য বিয়ে করিনি।তাই বিয়ে করে বৌ নিয়ে বাড়িতে যাইনি…..
আমার ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে হবে না।আমার বোন ছিল আমার কাছে সব কিছু।ও মারা যাওয়ার পর আমার জীবনের সব শেষ….
মা প্লিজ আমি বৌ নিয়ে বাড়িতে যেতে পারবো না….আমি ফোন রাখছি”

তামিম রুমে ঢুকে দেখে হেমা কান্না করছে।গালটা লাল হয়ে আছে।
তামিম খাবারের প্যাকেট নিয়ে হেমাকে দিল আর একটা প্যাকেট থেকে খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো।
হেমা একটা বালিশ নিয়ে নিচে শুয়ে পরলো।এত কিছু ঘটে যাওয়ার পর হেমার গলা দিয়ে খাবার নামবে না।

সকালে জেগে দেখে তামিম রুমে নেই।এদিক ওদিক খোঁজে না পেয়ে হেমা পালানোর কথা ভাবলো।পালাতে গিয়ে দেখে দরজা বাইরে থেকে লক।
তাই রুমে বসে রইলো।
প্রায় ঘন্টা খানেক পর তামিম সকালের খাবার আর দুপুরের জন্য বাজার নিয়ে আসলো।
হেমাকে বললো নাস্তা করে দুপুরের রান্না করতে।

হেমা তেমন কিছু রান্না করতে জানে না।হোস্টেলে থাকার কারনে টুকটাক কিছু রান্না শিখেছিল।
কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে খুব ভয়ে রান্না করলো।
কারন হেমা জানে রান্না খারাপ হলে তামিম আবার হেমার গাঁয়ে হাত তোলবে।

দুপুরে খাবার খেয়ে তামিম কিছু বলে নি।তারমানে রান্না তেমন খারাপ হয়নি।

 

চলবে….

About The Author
Tondra Bilashi
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment