সাহিত্য কথা

সীমাকে যেভাবে ব্ল্যাক-ম্যাজিকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল !! (শেষ পর্ব)

প্রথম পর্বের পর থেকে…

সীমার চিৎকার শুনে সবাই কেবিনে ছুটে গেল, দেখলো সীমার নাক দিয়ে আবার অস্বাভাবিকভাবে রক্ত ছুটছে। রক্ত বন্ধ করার কোনো উপায় না দেখে ইমারজেন্সী রক্তের জন্য অর্ডার দেয়া হলো ব্লাড ব্যাংকে।

এদিকে জহির সুস্থ হয়ে ওঠে একদিনেই। আর এনামুল এইসব খবর শুনেই চলে যায় তান্ত্রিকের কাছে। তান্ত্রিক তো অবাক, কি হলো? এমন তো হবার কথা না। সাথে সাথে রুমে গেল, বাইরে এলো শুকনো মুখ নিয়ে। তান্ত্রিক বলে, জনাব, একটা বিশাল ভুল করে ফেলেছি! আমি “বাইন-মারা”র ফল দিয়ে ফেলেছি, যাতে কেউ রক্তক্ষরণ হয়ে মারা যায়। এই কথা শুনে এনামুলের মাথা নষ্ট হয়ে গেল, সে উন্মাদের মত তান্ত্রিককে মারা শুরু করে দিল। মারতে লাগলো আর বলতে লাগলো, তুই জানিস আমি সীমাকে কতটা ভালোবাসি? নিজের জীবনের চাইতে বেশি ভালোবাসি, ছোট থেকে ভালোবাসি, আমি তো চেয়েছিলাম ওকে নিজের করে পেতে। আর তুই কিনা ওকে মেরে ফেলার জাদু করলি? হাউমাউ করে কাদঁতে লাগলো এনামুল। কিছুক্ষণ পর তান্ত্রিকের জোরাজুরিতে শান্ত হয়ে বললো, এখন যদি আমার সীমাকে সুস্থ না করে তুলিস, তাহলে তোকে মেরেই ফেলবো। তান্ত্রিক বলে, ঠিক আছে, আমি কালকের ভেতরেই কিছু একটা করার চেষ্টা করবো।

এনামুল এমন কথা শুনে বলে, কাল কিরে? আজই এখনই! তোকে ভরসা নেই, আমি প্রতিটা সেকেন্ড তোর সাথে থাকবো, আমি জানি তুই এখন পালিয়ে যাওয়ার ফন্দি করছিস কিন্তু কি ভেবেছিস আমি কিছুই বুঝিনা? কি করবি এখন বল?

রুবেল তান্ত্রিক ভয় মেশানো কন্ঠে বলে, এখন আমার গুরুর কাছে যেতে হবে। – তোর গুরু কোথায় থাকে?

চট্ট্রগ্রাম এর এক পাহাড়ি এলাকায়।

– ঠিক আছে, এখনই যাবো, ব্যাগ গোছা।

সবকিছু গুছিয়ে প্রথমে একটা বেসরকারি ফ্লাইটের অফিসে খোঁজ নিল সন্ধ্যাঁয় কোনো ফ্লাইট আছে কিনা! সৌভাগ্যবশত একটা ফ্লাইট পেয়েও যায়।

এদিকে সীমার অবস্থা কাহিল, শরীরে একদিক দিয়ে রক্ত প্রবেশ করে আর অন্যদিক থেকে বের হতে থাকে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশে। বিভিন্ন চ্যানেল আর সংবাদপত্রের সাংবাদিক এসে নিউজ কভার করার চেষ্টা করে যদিও পারেনা।

তান্ত্রিক আর এনামুল সন্ধ্যাঁর ফ্লাইটে রাতেই চট্ট্রগ্রাম পৌছে যায়। কুয়াশার জন্য ফ্লাইট দেরী করে। এরপর একটা গাড়ি ভাড়া করে দূর্গম সেই পাহাড়ি এলাকায় যায় ওরা।

রাত তখন প্রায় ১২টা। ওখানে পৌছানোর পর তান্ত্রিক তার গুরুর বাড়িতে প্রবেশ করে কিন্তু এনামুল আর গাড়ির ড্রাইভারকে একটু দূরে মেইন রোডের কাছে দাঁড় করিয়ে রেখে। তান্ত্রিক যেন পালিয়ে না যেতে পারে, তাই ওর কাছ থেকে ওর মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ যা কিছু ছিল সব নিয়ে রেখে দেয়। যদিও সে ঘন্টাখানেকের ভেতর ফিরে আসে। হাতে একটা পানির বোতল নিয়ে শুধু। আর কিছুই না। হাপাতে হাপাতে বললো, ভাই, এইটা পানি না, পানির মত দেখালেও অন্য কিছু। শরীর থেকে সব রক্ত বের হয়ে যাবার আগেই সীমাকে এই পানি পান করাতে হবে?

কি? শুনতে খুব আশ্চর্য লাগছে তাইতো? মনে হচ্ছে কাল্পনিক কোনো গল্প পড়ছেন? নাহ, আসলে এটাই বাস্তব ঘটনা। আলিফ লাইলা টাইপের হলেও ঠিক এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি বা আমিও কিছু বানিয়ে লিখছি না। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে সবকিছু বেরিয়ে আসে, কিন্তু সীমা আর সীমার পরিবারের কথা চিন্তা করে সেই সময়ের পুলিশের এসপি মিডিয়া বা পত্র-পত্রিকাকে এসবের কাছে ঘেষতে দেয়নি।

এরপর?

বাকিটুকু আসলেই কষ্টদায়ক; তান্ত্রিক আর এনামুল ফিরে আসতে আসতেই সীমা মারা যায়। তান্ত্রিক গুরুর সেই পানি নিয়ে ওরা যখন পরদিন বিকেলের ফ্লাইটে রাজশাহীতে পৌছায়, সীমার লাশ তখন গোরস্থানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দিয়েছে।

সীমার মৃত্যুর খবর শুনে এনামুল নিশ্চুপ হয়ে যায়। সে আসলে সীমাকে আপন করে পাবার জন্য শয়তানের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েছিল। আর তারই ফল সে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারছিল।

বিমান থেকে নামার পর সেই তান্ত্রিক উধাও হয়ে যায় আর এনামুল ফিরে আসে বাড়িতে। নাহ! নিজের বাড়ি নয়, সীমার বাড়িতে।

হঠাৎ উদ্ভ্রান্তের মত ঢুকে কাদঁতে থাকে আর চিল্লাপাল্লা করে বলতে থাকে নিজের কৃতকর্মের কথা। সীমার স্বামী জহির আর সীমার বাবা এসে এনামুলকে ইচ্ছা মত মারতে আরম্ভ করে কিন্তু বাড়ির অন্যান্য লোকজন তাদেরকে শান্ত করে। এনামুল অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে মেঝেতে।

শেষ কথাঃ

পরদিন বিকেলে এনামুলকেও সাদা কাফন পড়িয়ে কবর দেয়া হয়। তবে সেখানে পুলিশের সংখ্যাই বেশি ছিল। এনামুল আসলে রাতে অজ্ঞান হয়ে যায়নি। পোষ্টমর্টেম রিপোর্টে দেখা যায় সে বেশ আগেই বিষ খেয়েছিল, মনে হয় সীমার মৃত্যুর খবর শোনার পরেই কোনো এক সময়। আর সেই বিষ সে আগেই কিনে রেখেছিল সীমার অসুস্থ হয়ে যাবার কথা শুনে।

উপরোক্ত ঘটনা সীমার স্বামী জহিরের কাছ থেকে শোনা। জহির আজও বিয়ে করেনি তারপর থেকে। করবেওনা কোনোদিন। সে সীমার ভালোবাসা আর বিয়ের পরের ঐ কয়েকদিনের স্বৃতি আকঁড়ে ধরে বেঁচে থাকতে চায়। মাঝে তিনটা জীবন বিপন্ন হয়ে গেল, এক কালোজাদুর প্রভাবে তিনটা পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, দুইটা জীবন নিঃশেষ হয়ে কবরে শুয়ে আছে। মাঝখানে সেই জাদুকর লাপাত্তা। কেউ কোনোদিন তার খবর জানেনি। এনামুলের সেই বন্ধু জহিরকে ভেতরের এমন খবর বলেছিল, সাথে ক্ষমা চাইতে এসেছিল। জহির ক্ষমা করে দিয়েছে। কিন্তু তদন্তের কাজে সেই বন্ধুকে পুলিশ নিজেদের জিম্মায় রেখেছিল কিছুদিন।

আমার এই লেখাটাই হয়তো কালোজাদু নিয়ে শেষ ঘটনা, আপনাদের অনুরোধ করবো কালোজাদু বা ব্ল্যাক-ম্যাজিক থেকে দূরে থাকতে। আর যেসকল মুসলমান ব্ল্যাক-ম্যাজিক নিয়ে সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা খোজেঁন, তাদেরকে বলছি কোরআন শরীফ ঘেঁটে দেখার জন্য। উত্তর পেয়ে যাবেন।

সীমা আজ প্রায় ৭ বছর হলো মারা গিয়েছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।

সীমা ভালো থাকুক আল্লাহর কাছে।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

টিকে থাকার লড়াই ( শেষ পর্ব )

Ashraful Kabir

রহস্য চারিদিকে পর্ব—-২

Salina Zannat

পুরানো তিমির [১ম পর্ব]

Ikram Jahir

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy