অন্যান্য (U P) কেইস স্টাডি

মানুষ মানুষের জন্য !!

প্রত্যেকের দিন সব সময় এক রকম যায় না। কখনো সুসময় আসে কখনো দু:সময় অাসে। এক সময়কার প্রাচুর্যশালী ব্যাক্তি এখন পথের ফকির, আপনার চারপাশে ভালোভাবে তাকালে এমন অনেক নজির আপনি খুজে পাবেন।

এখানে একজন ব্যাক্তির জীবন থেকে কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি, তার অনুরোধে আত্নসম্মানের খাতিরে নাম ও পরিচয় গোপন রাখার হলো(কিছু ছদ্ম নাম ব্যাবহার করা হলো):

সালাটি ছিল ২০০৫, আরিফ সাহেব সদ্য বিবাহ করেছে, অনেকটা বেকার অবস্থায়। বিয়েটা  পরিবারের চাপে পড়ে করতে হয়। আরিফ সাহেব মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান,তাসফিয়া উচ্চ বিত্ত পরিবারের কন্যা। বিবাহটা অনেকটা হঠাৎ করেই হয়ে যায়।

অনেকটা অগোছালো অবস্থায় এবং সম্পূর্ন বেকার অবস্থায় আরিফ সাহেব বিবাহ করেন। আগেই বলেছি পরিবারের চাপে পড়ে তাতে বিয়ে করতে হয়, নিজেকে গোছানোর মতো কোন সুযোগ সে পায়নি।

সংসার শুরু করার পর সংসার চালানোর চিন্তা, তাই তিনি হন্যে হয়ে চাকুরী খুজতেঁ থাকেন। অনেক খোঁজা খুজির পর তার কাছে একটা বায়িং হাউজে মার্চেন্ডইজিং জব এর অফার আসে, এক বনধুর মারফতে। কিন্তু বিধি বাম, ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে নিরাশ হতে হয়। অভিজ্ঞতা ছাড়া নিয়োগ দেয়া সম্ভব নয়। যেহেতু রেফারেন্সের চাকুরী, বন্ধুটি পরামর্শ দিলো কোন ট্রেনিং সেন্টার থেকে কোচিং করে অভিজ্ঞ হয়ে আসার জন্য। কিন্তু ট্রেনিং সেন্টারে কোচিং করতে লাগবে বেশ কিছু  টাকার মতো। এ পরিমান টাকা আরিফ সাহেবের পক্ষে যোগাড় করা অসম্ভব।

বাসায় এসে তার স্ত্রী তাসফিয়াকে জানালো। তার স্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করে বললো, কোন চিন্তা করো না, আমি আমার মা’য়ের কাছ থেকে তোমার জন্য টাকা এনে দেবো। কোর্স করলে যদি চাকুরী হয় এবং চাকুরী যেহেতু নিশ্চিত, টাকা আনতে কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু আরিফ সাহেব রাজী হচ্ছিলেন না, আত্নসম্মানের খাতিরে।

অনিচ্ছা সত্বেও স্ত্রীর পিরাপীরীতে, আরিফ সাহেব  স্ত্রী তাসফিয়াকে সাথে করে  শ্বশুর বাড়ি গেলেন। আরিফ সাহেব টাকা ঠিকেই পেয়েছিলেন কিন্তু সাথে পেয়েছিলেন কিছু অকথ্য অপমান এবং তুচ্ছ তাচ্ছিল্য, তার শ্বশুরী এবং শ্যালকের কাছ থেকে। দিনটি ছিল ২০০৬ সালের ২৯ এপ্রিল। রাত ১১টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত শ্বাশুরী আর শ্যালক মিলে তার দারিদ্রতা,বেকারত্ব,আর্থিক অবস্থা, পৈতৃক অবস্থা ইত্যাদি উত্থাপন করে তাকে যাচ্ছেতাই অপমান করে।

অপমানের তীব্রতা এত বেশী ছিল যে, আরিফ সাহেব সে রাতে এক ফোটাঁও ঘুমাতে পারেনি। আরিফ সাহেবেন ভাস্য: ” আমি নিজে থেকে তো টাকা চাইতে আসি নাই, আমার স্ত্রী বড় মুখ করে আমাকে নিয়ে এসেছিলো তার মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দেবে, এই কথা বলে, এখন উল্টো অপমান আমাকেই সহ্য করতে হচ্ছে।”

শুশুর বাড়ি আনিয়ে তাকে চরমভাবে অপমান করা হলো,অসহায়ত্বের সুযোগে। আরিফ সাহেবের, রাগে দু:খে মরে যেতে ইচ্ছে করছিল। ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে, আল্লাহ দরবারে দু’হাত তুলে চোখেরে পানি ফেলল। তারপর কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল।

এটা ছিলো এক জন আরিফ সাহেবেন ঘটনা, এরকম হাজারো আরিফের মতো অসহায় যুবক বাংলাদেশে আছে। সাহায্য সহযোগীতা করে নয় শুধু মাত্র উৎসাহ, সহমর্মিতা এবং সঠিক গাইড লাইনের মাধ্যমে তাদেরকে আমরা পথ দেখাতে পারি। সবাই রাজা বাদশার ঘরে জন্মায় না। তাই বলে তার অস্বচ্ছলতা বা দারিদ্রতায় আপনি তাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবেন, এটা হওয়া উচিৎ নয়। বিশেষ করে দেখা যায়, আমাদের পারিবারিক জীবনে এক ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। আত্নীয় স্বজনদের মধ্যে কেউ দরিদ্র থাকলে স্বচ্ছল আত্নীয়রা তাকে পাত্তা দেয় না বা পরিচয় দিতে চায় না। পাছে, যদি সে সাহায্য চেয়ে বসে। একটি কথা চিরন্তন সত্য যে, আজ যে ধন বা টাকা পয়সা আপনার হাতে আছে, আল্লাহ যদি তা কেড়ে নেয় কাল ঐ সকল দরিদ্র আত্নীয় স্বজনদের কাতারে আপনিও সামিল হবেন, তখন কিভাবে মুখ লুকাবেন ?

কারো দারিদ্রতা, অসহায় অবস্থ্যায়, দুরাবস্থায়, দুর্দিনে তাকে উপহাস,অপমান,প্রবঞ্চনা করা উচিৎ নয়। আপনাকে সাহায্য করতে হবে না, আপনি কাউকে ধনী বা গরীব বানাবার ক্ষমতা রাখেন না। সকল ক্ষমতা আল্লাহর হাতে। আপনি সমবেদনা, সহমর্মিতা জানাতে পারেন। তার জন্য দো’য়া করতে পারেন।

এক জন ব্যাক্তি গরীবের ঘরে জন্ম গ্রহণ করেছে, এটা তার অপরাধ নয়। বরংচ  অপরাধ সেটাই আপনি তার দারিদ্রতাকে তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য করেছেন।

মহান আল্লাহর দরবারে ধনী-গরীব কোন ভেদাভেদ নাই। মসজিদে যেমন ধনী এবং গরীব এক কাতারে নামাজ পড়ে। মৃত্যুর পর যেমন ধনী এবং গরীব একই মাটির কবরে শায়িত হয়।  তবে কেন এত ভেদাভেদ, এত উচু নীচু ফারাক ?

আমরা কি পারি না আমাদের মানবিকতাকে জাগ্রত্ব করতে ?  প্রাচুর্যের অহংকার, দম্ভ রোধ করতে। মানবিকতা, সহানুভুতিকে জাগ্রত করতে।

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায় সময়, রয়ে যায় স্মৃতি। আরিফ সাহেব আজও দীর্ধ প্রায় বারো বছর যাবৎ বুকের মাঝে বয়ে চলছে, শ্বশুরবড়ির সেই অবজ্ঞা, অপনাম। তার প্রতিটি দীর্ধশ্বাস এখনো তাকে অশ্রুশিক্ত করছে। এখনো সেদিনের কথা মনে করে আরিফ সাহেব নীরবে কাঁদেন। এ যাতনা বিরহের নয়, এ যাতনা না পাওয়ার নয়। এ যাতনা সহানুভুতিহীনতার। আরিফ সাহেবের মতো প্রতিটি মজলুমের দীর্ধশ্বাস গুলো আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ-আকুতি হয়ে ডুকরে কাঁদছে। আর যেন কোন আরিফ সাহেবকে অসহায় অবস্থায় অবজ্ঞার সম্মুখীন হতে না, দারিদ্রতার কারনে।

আজ এ লেখাটি কিছু ব্যাক্তি বিশেষকে উপলক্ষ্য করে লেখা। যারা এর সাথে যারা সম্পৃক্ত শুধু তারাই বুঝতে পারবে। এ লেখার সাথে যদি কারো জীবনের কোন ঘটনা মিলে যায় তার কাছে ক্ষমা প্রার্থী। কাউকে আঘাত করার জন্য নয়, এখান থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য লেখাটির অবতারনা।

এটি একটি বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে লেখা তাই এখানে কোন প্রকার রেফারেন্স প্রদান করা সম্ভব হলো না।

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

কিভাবে টাইপিং ছাড়া চ্যাটিং করবেন দেখে নিন।

smn rahman

জীবন সাফল্য পেতে ইচ্ছা শক্তি টাই বড়,পরিস্থিতি নয়।

কপিরাইট নিয়ে ধোঁয়াশা?

MP Comrade

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: