Now Reading
বান্দরবান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা (প্রথম পর্ব)



বান্দরবান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা (প্রথম পর্ব)

আমি ছোটবেলা থেকেই ভ্রমনে আগ্রহী মানুষ । দিনে দিনে বড় হতে থাকি আর ভ্রমন পিপাসা আরো বেশি পেয়েছে বসে । গত জানুয়ারিতে ঘুরে এলাম বাংলাদেশের সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা, বান্দরবান । বান্দরবানের প্রাকৃতিক দৃশ্য আমাকে মুগ্ধ করে ২০১২ সালে । একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বান্দরবানের প্রাকৃতিক দৃশ্য নিয়ে রিপোর্ট দেখেছিলাম । শুরু হয়ে গেলো কিভাবে বান্দরবান যাওয়া যায় সেই পরিকল্পনা । কিন্তু দুঃখের বিষয় টানা ৪ বার পরিকল্পনা করেও শেষ পর্যন্ত যাওয়া হয়ে উঠেনি । যখন টাকা থাকে তখন যাওয়ার সাথী থাকেনা, যখন সাথী থাকে তখন টাকা থাকেনা । অবশেষে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সুযোগ আসে । আমার বন্ধু সবুজ আমাকে প্রস্তাব করে বান্দরবান ঘুরতে যাওয়ার জন্য, আমি আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে সাথে সাথে ওর কথায় রাজি হয়ে যাই । সব কিছুর পরিকল্পনা করা হলো । আমরা ৮ জন রাজি হলাম যাওয়ার জন্য । সোজা কলাবাগান বাসস্ট্যান্ড চলে গেলাম । ২ দিন পরের রাত ১১ টার বাসের টিকেট কেটে নিয়ে আসলাম ।
এই দুইদিন সারাক্ষন মন অস্থির হয়ে রইলো । কখন যাবো কখন যাবো… শেষ হলো অপেক্ষার পালা । রাত ১০ টার সময় আমি সবার আগে কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাই । একে একে সবাইকে ফোন করি । সবাই ১০ঃ৩০এর মধ্যে পৌছায় । ১১ টায় গাড়িতে উঠি ।
আমি গ্রুপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী কারন আমি আগে কখনই বান্দরবান যাইনি । সবচেয়ে মজার ঘটনা ঘটে যাত্রার শুরুতে । আমরা সবাই মনে মনে আলাদা আলাদা ভাবে ঠিক করে রেখেছিলাম কিছু সারপ্রাইজ । যেমন আমাদের কারো কোন ক্যামেরা নেই । সবাই খুব করে ভাবছিল যদি একটা ক্যামেরা ম্যানেজ করা যেত । এত সুন্দর জায়গায় যেয়ে যদি ভালো ছবি না তুলতে পারি তাহলে সবারই খারাপ লাগবে । তাই আমি ঠিক করি একটা ক্যামেরা ম্যানেজ করে নিয়ে যাবো কিন্তু আগে থেকে ওদের জানাবো না । সারপ্রাইজ দিবো । ওরাও যে সবাই মনে মনে কিছু একটা সারপ্রাইজ দিবে ভেবে রেখেছিলো তা বুঝতে পারি যখন সবাইকে ক্যামেরা দেখিয়ে বলি “সারপ্রাইজ…’ সবাই খুশি হয় এর পর একে একে সবার সারপ্রাইজ দেখতে থাকি । ভালো ছিল অনুভূতিটা । কেউ এনেছিল খাবার, কেউ লোকসঙ্গীতের বাজনা, কেউবা আগে থেকেই কটেজ বুক করে সবাইকে আসলেই সারপ্রাইজড করে দিয়েছিল । বাস তখন মাত্র যাত্রাবাড়ী ক্রস করেছে, সবুজ বলে উঠলো ‘আমাদের গান করার সব উপকরনতো আছেই । আমরা গান কেন করছি না।’ আর দেরি নাই সমরেশ দাদা গান শুরু করেদিলেন । সেইযে শুরু ভোর ৫ টার দিকে যখন আমরা চট্টগ্রাম পৌঁছাই তখন থেমেছিলাম আমরা । কিন্তু বাসের একটা মানুষও আমাদের গান থামাতে বলেনি । যখন বান্দরবান এসে নামি সকাল ৭টা বাজে তখন । ঢাকাতে থাকার অভ্যাস যাদের তাদের কাছে শীতের সকাল তেমন বেশি ঠাণ্ডা উপভোগ করার সুযোগ মিলে না । বান্দরবানে কি পরিমান শীত তা আমরা বাস থেকে নেমে হারে হারে টের পেয়েছিলাম । বাস থেকে সবাই নামার পরে, ২ জন বয়স্ক লোক আমাকে এসে বলে ‘বাবারা তোমারা সারারাত আমাদের সুন্দর সুন্দর গান শুনিয়েছ, তোমাদের ধন্যবাদ ।’ আমরা খুব খুশি হই কমপ্লিমেন্ট পেয়ে ।
বান্দরবান বাস স্ট্যান্ডে সকালের নাস্তা করি । নান রুটি আর সবজি । ১০+১০=২০ টাকায় মোটামুটি ভালো খাবার পেলাম । তারপর বাস ধরলাম রুমা বাজার যাওয়ার জন্য । বাস ভাড়া ১০০ টাকা । আবারো বাসের মধ্যে গান । এইবার আগ বাড়িয়ে ধরলেন প্রশান্ত দা । সাথে সাথে আমরাও শুরু করে দিলাম । ২ পাশে অজস্র পাহার, আর মাঝের রাস্তা দিয়ে ছুটছি আমরা । সেই সকালটা অন্যরকম অনুভূতি ছিল । গান করতে করতে একটা সময় পুলিশ চেক পোস্টে পৌঁছাই ১ ঘণ্টা পর । সেখানে ৫ মিনিটের যাত্রা বিরতি হয় । আমরা ছবি তোলায় আর খাওয়া দাওয়ায় সময়টা পার করলাম । রুমা বাজার পৌঁছানোর পর গাইড ঠিক করি বগালেক যাওয়ার জন্য । গাইডের সাথে দর দাম করে প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে দেয়ার কথায় রাজি হই । তারপর সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে যাই অনুমতি আনার জন্য । সবার ব্যাগ চেক করে কিছু নিয়মাবলি বলে দিলেন আমাদেরকে । আমরা দুপুরে হালকা খাবার খেয়ে নিলাম রুমা বাজার থেকে । বাজারের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করে বগালেকগামী চাঁদের গাড়ি ।

About The Author
Asif Hasan
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment