Now Reading
বান্দরবান ভ্রমনের অভিজ্ঞতা (দ্বিতীয় পর্ব)



বান্দরবান ভ্রমনের অভিজ্ঞতা (দ্বিতীয় পর্ব)

প্রথম পর্বে আমি মোটামুটি একটা ধারনা দেয়ার চেষ্টা করেছি যাত্রার শুরুর দিকটার । আজকে হবে আসল রোমাঞ্চ । তো শুরু করা যাক ।

রুমা বাজার থেকে সেনাবাহিনীর অনুমতি নিয়ে আমরা দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম । তারপর রাতে বার-বি-কিউ করার জন্য ৩টা পাহাড়ি মুরগী কিনে সাথে নিয়ে যাই । ওখানে গিয়ে পাবো কিনা সেই ভয়ে আগে থেকেই কিনে নিয়ে যাই । চাঁদের গাড়ির স্ট্যান্ডে যেয়ে একটু সমস্যায় পরে যাই । ঐদিন শুক্রবার ছিল তাই বেশির ভাগ ড্রাইভার নামাজে চলে গিয়েছিল । তাই আমরা বাধ্য হয়ে কিছুটা সময় অপেক্ষা করলাম । একটা টং দোকান ছিল ওখানে । ওখানে কলা খুব ভালো পাওয়া যায় । আমরা ১০ জনে হালি ১৫ কলা খেয়েছিলাম । আর সাথে গান চলছেই । কখনো সমরেশ দা, কখনো রকি দা । সাথেও আমিও টুক টাক ধরি মাঝে মাঝে । অবশেষে চাঁদের গাড়ি পেলাম । জন প্রতি ১০০ টাকা ভাড়া । এই জার্নিটা অন্যরকম ভালো লাগার । ভয় যেখানে থাকে সেখানেই ভালো লাগা লুকিয়ে থাকে । একটা একটা করে পাহার পার হচ্ছি আর তম্নয় হয়ে দেখছি ।

প্রায় পুরটা রাস্তাই মাটির । মাঝ রাস্তা পার হওয়ার পর একবার এমন একটা ঝাকি খেলাম আমার সান-গ্লাসটা গাড়ির রেলিংএর সাথে লেগে গেলো ভেঙ্গে । সাথে চোখে হালকা চোট পাই । সবাই খুব চিন্তায় পরে গিয়েছিলো সিরিয়াস কিছু হল কিনা । পরে সবাইকে আশ্বস্ত করলাম আমি ঠিক আছি । হাজারো সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আমরা বগালেক পৌঁছাই প্রায় ২ ঘণ্টা পর । সেখানে নেমেই আগে সেনাবাহিনীর কাছে অনুমতি এবং নাম পরিচয় লিখে আসতে হয় । তারপর শুরু হল বগালেকের রূপে রোমাঞ্চিত হওয়ার মুহূর্ত । একেক করে ছবি তুলতে তুলতে সবাই ক্লান্ত শরীর নিয়ে বগালেক পারায় ঢুকি । আগেই বলেছিলাম আমাদের কটেজ বুক করা ছিল । ওখানকার বিখ্যাত সিয়াম দিদির কটেজ । সেখানেই একটা কটেজ দেয়া হল আমাদের । আসল কটেজ শুনতে যতোটা ভি আই পি শুনায় ব্যাপারটা আসলেই তেমন নয় ।

বাঁশের তৈরি ঘড় গুলো । ২ টা রুম থাকে একটা কটেজে । আর সবার জন্য বরাদ্দ একটা বালিশ আর একটা কম্বল । আমাদের কটেজটা একদম বগালেকের পার ঘেঁষেই ছিল । সারা বিকেল আমরা বগালেক পাড়া ঘুরে আর ছবি তুলে কাটালাম । সন্ধ্যা নামার পর আমরা সবাই কটেজের বারান্দায় গোল হয়ে বসে পরলাম আর সবাই যার যার বাদ্যযন্ত্র নিয়ে রেডি । শুরু হয়ে গেলো গান । রাত ৯ টা পর্যন্ত গান করার পর মনে পড়লো আমাদের বার-বি-কিউর কথা । সাথে সাথে সিয়াম দিদির সাথে কথা বললাম, নেট, মশলা, কাঠ সব কিছু সিয়াম দিদি ম্যানেজ করে দিলেন যদিও ৩০০ টাকা নিয়েছিল সব মশলার জন্য । তারপর শুরু হল বার-বি-কিউ আর তার পাশে গোল হয়ে দাড়িয়ে আবারো গান । রাত ১১ টায় শেষ হল আমাদের বার-বি-কিউ । আমাদের রফিক ভাই ব্রেড কিনে নিয়ে গিয়েছিলো সেই ব্রেড ভেজে নিলাম । রাতের খাবার হিসেবে বার-বি-কিউ আর ব্রেড । আর কি লাগে । খাবারের সময় ডিসিশন নেয়া হল আমরা কালকে সকালে কেউক্রাডং যাবো । পাহাড়ি ১০ কিলোমিটার রাস্তার কথা শুনে কয়েকজন প্রথমে যেতে অস্বীকৃতি জানায় । পরে সবাই রাজি হয় । গাইডকে বলে রাখা ছিল সকাল ৬ টায় উঠে আমরা রওয়ানা করবো ।

রাতে ভয়াবহ ঠাণ্ডা পরে বগালেকে । আমরা সবাই যে যা জামা কাপর নিয়েছিলাম সবাই সব গায়ে পরে কম্বল নিয়ে শুইয়ে পরি । তবুও অনেকে ঘুমাতে পারেনি রাতে । যদিও আমি অস্থির একটা ঘুম দিয়েছিলাম ।

About The Author
Asif Hasan
Asif Hasan
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment