নারী শক্তি ও অধিকার

পতিতার অধিকার চাই

পতিতার অধিকার চাই
-বিপ্লব হোসেন মোল্লা

আমি পতিতার প্রেমীক । বিশ্বের এই রঙ্গমঞ্চের ধারাবাহিকতায় প্রতিনিয়িত নতুন নতুন নাটকের সৃষ্টি হচ্ছে । প্রতিনিয়িত তৈরি হচ্ছে হাজারো অভিনেতা,লক্ষ ,কোটি কোটি দর্শক । দর্শক হয়ে নাটকের অভিনয় দেখা একটাই অর্থ হয়ে দাড়িয়েছে ,যে কোন স্থানে ভুল হলো বা তার বিপরীতে অভিনেতাকে কি করে দোষি হিসেবে পরিচিত করা যায় । কোন দর্শক ,কখনো যদি অভিনয় করে দেখতো অভিনয় কি ?তাহলে হয়তো এই অবস্থার অবসান ঘটতো । পৃথিবীতে প্রত্যেকটা নারী একই রুপ নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করে না । প্রত্যেকটা নারী ভিন্ন ভিন্ন রুপ নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করে কিন্তু বৈচিত্রময় আবস্থা হলো এই যে , সকলের স্রষ্টা এক ও অভিন্ন । প্রত্যেক নারীকে একই অঙ্গ-প্রতঙ্গ দিয়ে নারী নামে ভূষিত করেছেন । নারীকে , নারী , মা , বোন,খালা ,ফুফু ইত্যাদি নাম দিয়ে পৃথিবীতে সম্মানজনক অবস্থানে স্থান দেওয়া হয়েছে । আবার এই নারীর বিপরীতে অন্য এক শ্রেণীর নারীকে পতিতা বলে পৃথিবীর জঘন্যতম অবস্থানের ভাস্কর বানিয়ে রেখেছে । কেন?

দিগবিজয়ের জয় গান গাওয়ার অধিকার যেমন পুরুষের আছে তেমনি একজন নারীরও আছে । তবে কেন এই গান গাইতে দেওয়া হয়না । এই পৃথিবীতে শুধুমাত্র নারীর ও পুরুষের পৃথিবী , কিন্তু নারী কেন পতিতা হলো ? নারী তো নারীই । আমি এই নারীকেই ভালবাসি ,সে পতিতা আর যাহোক না কোন । ভালবাসা তো মনের অভন্তরের ব্যাপার । যাকে কিনা মন থেকে বুঝতে হয় । আজ এই পৃথিবীতে প্রেম বা ভালবাসার একমাত্র উদ্দেশ্য দেহ ভোগে এসে দাড়িয়েছে । কিন্তু কেন ? ভালবাসা তো দেহ ভোগের জন্য সৃষ্টি হয় নি !

আমি পতিতার প্রেমীক ,এই কথাটা শুনে সকলেই আমাকে অবজ্ঞা করতে পারে ,তাতে আমার কোন দুঃখ নেই । একজন পতিতার প্রেমে আমি মগ্ন হয়েছি,পতিতা দেহ বিক্রয় করে কিন্তু মন বিক্রয় করে না । হাজারো কামী পুরুষের সঙ্গে দেহের মিলন ঘটায় কিন্তু মনের মিলন ঘটায় না । সমাজে সকলের সঙ্গে বসবাস করে ঠিকি কিন্তু অধিকার পায় না । আমি সেই পতিতার প্রেমীক ।আজকের যুগে মন দেওয়া নেওয়ার ব্যবসা শুরু হয়েছে । এই ব্যবসায়এ প্রায় প্রত্যেক নারী-পুরুষ একতাবদ্ধ ভাবে কাজ করছে । কেন ? পতিতা জগৎজুড়ে সবার মনে আসন করে নিয়েছে । যে সে ভোগের পন্য এবং এই পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ তা অস্বিকার করতে পারবে না । সৃষ্টিকর্তা কি তাই মনে করে ? তবে আমরা মানুষেরা কেন মনে করি ? ।পতিতা তার মনকে কারারুদ্ধ করে রাখে । তবে আমিতো আমার মনকে কারারুদ্ধ করে রাখি নি । আমার মনকে খোলা আকাশের মত মেলিয়ে রেখেছি এবং এই আকাশের সর্বচ্চ স্থানে রেখেছি পতিতা নামের আমার প্রেমীকাকে । কেননা আমি পতিতার প্রেমীক ।
এই পৃথিবীর সমস্থ কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে এবং হবে কিন্তু এই পতিতার উপর থেকে আমার ভালবাসা পরিবর্তর হবে না ।পতিতা আমারমনের উচ্চ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে । আজ পথে বাজারে আনেক পতিতা দেখা যায় । তাদের কাছে বিভিন্ন লোক যাওয়া আসা করে কিন্তু তারা তো ভাবে না ,সে আমারপ্রেমীক ,আমার ভালবাসা । কিন্তু আজ সভ্যতার যুগে প্রেমীকা নামের ব্যক্তিরা একজন পতিতার মত কর্ম শুরু করেছে ।তবে কেন তাদের পতিতা বলা হয় না ?তারা সভ্যতার ভীতরে বসবাস করে এবং গোপনে দেহিক মিলন ঘটায় তাই! আমারএই কথাটি যে মিথ্যা না তা আপনারা সকলেই জানতে পারবেন । আপনাদের আশেপাশে কোন পার্ক বা সিনেমা হল থাকলে সেখানে গিয়ে দেখতে পারেন প্রেমীকা কে বা প্রেমীক কে । প্রেম মানে তো এই নয় যে তার দেহ ভোগ করতে হবে । তাই আমি পতিতার প্রেমীক ।

সারাবিশ্বের লোক যাকে ভাল চোখে দেখেনা , যোগ্য সম্মান দেয় না ,তাকে আমি ভালবাসি । তাকে ভালবাসার কারণটা না বললেই নয় তাই বলছি একজন যোগ্য প্রেমীক হতে হলে হয়তে প্রেমীকার মন রাখতে হয় । মা’কে মা বলতে হলে মায়ের সন্তান হতে হয় । চোখে দেখতে হলে চোখের রেটিনা ভাল থাকতে হয় । জন্মসূত্রে প্রত্যেক মানুষ মায়ের গর্ভে জন্ম লাভ করে । সে নারী কিংবা পুরুষ । আর একজন পুরুষ একজন নারীকে এবং একজন নারী একজন পুরুষকে ভালবাসবে এটাই স্বাভাবিক । নারী -পুরুষের ভালবাসা থেকেই প্রেমীক -প্রেমীকা উদ্ভব হয় ।মন দেওয়া নেওয়ার মাধ্যমে সম্পর্ন হয় ।একন পতিতাকে ভালবাসি কেননা সে কখনো হয়তে আমাকে ভুলে যাবে না । আমাকে ছেড়ে যাবে না ,আমার সঙ্গে অস্বাভাবিক কেন আচরন করবে না ।কেননা যে কখনো কারো ভালবাসা পায় নি সে কি করে ,আমাকে ভুলে যাবে । তার জন্য তো আমি আমার মনকে বরাদ্ধ রেখেছি কোন অর্থ দন্ডে বন্ধি করে রাখিনি । আমি তাকে ভালবেসে বোঝাবো ভালবাসা কি ? তাকে নতুন জীবন দেব । তার পতিতা হয়ে উঠার কারণ তো আমার মত কোন না কোন যুবক । যার দায় ঐ যুবকেরা তো নেই না ! কেন ?
আধুনিক সভ্যতার মানদন্ডে মানুষ তার বিবেক হারিয়ে আজ প্রায় অমানুষে রুপ নিয়েছে । মানুষ তার মুল্যবোধ হারিয়েছে । আমি যে নিজেকে পতিতার প্রেমীক বলে স্বিকার করলাম । আমাকে অসামাজিক বললেও আমার কোন ক্ষতি হবে না । আসলে আজকের বিশ্বে আমরা যদি সকলেই পতিতাকে ভালবাসে বুকে জড়িয়ে নিই, তাহলে কি কোন সমস্যা হবে ? হবে না । সামাজিক মুল্যবোধের কোন ক্ষতি হবে না । একটি নারী পতিতা থেকে নারীতে রুপ নিবে । সমাজে পতিতার অংক শেষ হবে । আকাশে নতুন দিনের নতুন সূর্য উদয় হবে । পাখি নতুন রুপে গান করবে । নারীকে পতিতা রুপে না দেখে নিজের কাছের মানুষ মনে করলে ,অবহেলিত নারী আবার বেঁচে থাকার আশা পাবে । সভ্যতার যুগে মুসলিম পতিতাদের জানাজা, হয় না । কেন ? তারাও তো ধর্মের অংশিদার । পতিতাকে আমি ভালবাসি । পতিতাকে সমাজের জঘন্যতম স্থান থেকে সরিয়ে মনের মনিকোঠায় রাখার দায়িত্ব সমস্থ মানবের । দেখবেন একটু আশ্রয় পেলে সেও সমাজে একজন মানুষ হয়ে উঠবে । একজন নারীর পতিতা হওযার জন্য আমি এই সমাজ ও এই সমাজের মানুষগুলোকে দায়ি করি । আসুন আমরা সকলেই নারীর অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করি ! একটি যোগ্য সংগ্রাম যদি নারীর আবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারে তাহলে তো সমাজের উন্নতি । এটি আমার আধিকার আদায়ের সংগ্রাম । কেননা সংগ্রামের উদ্দেশ্য থাকা একান্ত প্রয়োজন । উদ্দেশ ছাড়া কোন সংগ্রাম সংগঠিত হতে পারে না বা উদ্দেশ্য বহিন সঙগ্রাম কখনো সফল হয় না । যে কোন সংগ্রামরে সফলতার প্রাণ কেন্দ্র হলো উদ্দেশ্য । পতিতা নিয়ে লেখা আমার একটি উদ্দেশ্য হলো ,সমাজে বসবাসরত পতিতাদের অধিকার আদায় করা । পতিতারা যেন নিরাপত্তা পায় , সুন্দর ভাবে বাঁচতে পারে । সমাজে তারা যেন একটি স্থান পায় । তারা যেন সমাজে মর্যদা পায়, সমাজে যোগ্য স্থান পায় ।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

কোর্ট ম্যারিজ কতটুকু বৈধ? প্রতারিত হচ্ছে নারী!!

Kanij Sharmin

প্রতিপক্ষের মুখ বন্ধ করে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ৯টি উক্তি

MP Comrade

মৃতদেহ সৎকার নিয়ে বিশ্বের কিছু অদ্ভুত রীতিনীতি

MP Comrade

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy