Now Reading
প্রতিশোধ -পর্বঃ ৭



প্রতিশোধ -পর্বঃ ৭

হেমা ভাবলো তামিমের কাছ থেকে ফোন নিয়ে হিমেলের সাথে কথা বলবে।
কিন্তু তামিমকে সত্যিটা বলা যাবে না।বাসায় কথা বলার কথা বলে মোবাইলটা নিতে হবে।
রাতে হেমা তামিমকে বললো বাসায় কথা বলবে।
তামিম হেমার মোবাইলটা বের করে দিলো।

হেমা মোবাইল পেয়ে অবাক হয়ে গেলো।তারমানে হেমার মোবাইল তামিমের কাছে ছিল।

হেমাঃআমার মোবাইল আপনার কাছে আসলো কি করে?
তামিমঃকাল আসার সময় তোমার বাসা থেকে দিয়ে দিছে।
হেমাঃআমাকে আগে দেননি কেন?
তামিমঃতোমাকে মোবাইল দিলে তুমি হিমেলের সাথে কথা বলতে।তাই দেইনি।আমি চাইনা তুমি হিমেলের সাথে যোগাযোগ করো।
এখন বাসায় কথা বলে মোবাইলটা আমাকে দিয়ে দিবে।
হেমাঃআমার মোবাইল আমি আপনাকে দিব কেন?
তামিমঃকেন দিবে মানে? আমি বলছি তাই দিবে।
যখন দরকার হবে তখন আমার থেকে নিয়ে নিবে।
হেমাঃআপনিতো সব সময় বাসায় থাকেন না।
তামিমঃএই জন্যই তোমাকে মোবাইল দেওয়া যাবে না।কারণ আমি চাইনা আমি না থাকা অবস্থায় তুমি তোমার প্রেমিকের সাথে যোগাযোগ করো।

হেমা হিমেলকে কল দিতে গিয়ে দেখে তামিম সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
তাই হিমেলকে কল না করে হেমার বাসায় কল করলো।

হেমার মা কল রিসিভ করলো

হেমাঃমা আমার সব দায়িত্বপালন অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছিলে।বিয়ে দেওয়ার দায়িত্বটা তোমরা পালন না করলেও পারতে।

এ কথা বলে হেমা কল কেটে দিল।

তামিম মোবাইল চাইলে হেমা মোবাইল দিবেনা বললো।
মোবাইল নিয়ে তামিমের সাথে হেমার ঝগড়া হলো।তামিম হেমার গাঁয়ে হাত ও তোললো।
শেষ পর্যন্ত হেমা তামিমের সাথে পেরে উঠলো না।বাধ্য হয়ে মোবাইলটা দিয়ে দিল

তামিম হেমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিল।সে হাসিতে পৈচাশিক এক আনন্দ ছিল।

এমন করেই ঝগড়া করে আর মার খেয়ে হেমার দিন কাটছিল।
হেমা কিছুতেই হিমেলের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেনা।

কিছুদিন পর হেমা তামিমের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে এক ফ্রেন্ডের কাছে কল করলো।ঐ ফ্রেন্ডের কাছ থেকে জানতে পারলো যে কিছুদিন পর ওদের ভাইভা।

হেমা কি করবে বুঝতে পারছে না।তামিম যে ভাবে প্রতিশোধ নেওয়ার নেশায় মেতে আছে তামিম কি হেমাকে পরীক্ষা দিতে দিবে?
এতটা লড়াই করে এত দূর এসে হেমাকে এভাবে হেরে যেতে হবে হেমা তা ভাবতে পারছেনা।

হেমা তামিমকে বলল কিছুদিন পর ওর ভাইভা।
তামিমঃভাইভা তো কি হয়েছে?তুমি কি পরীক্ষা দিতে চাচ্ছ নাকি?
হেমা মনে মনে ভাবলো এখন মাথা গরম করলে হেমারই ক্ষতি।
মাথা ঠান্ডা করে তামিমকে বোঝাতে হবে।
আর একবার পরীক্ষার জন্য কলেজে গেলে হিমেলের সাথেও দেখা করতে পারবে হেমা।

হেমা অনেক কান্নাকাটি করে,তামিমকে বোঝিয়ে শেষ পর্যন্ত রাজি করালো।

পরীক্ষার আগের রাতে হেমা তামিমকে বলল পরীক্ষা কখন শুরু হবে তা জানার জন্য ওর এক ফ্রেন্ডকে কল করতে হবে। এ কথা বলে তামিমের কাছ থেকে মোবাইল নিল।
মোবাইল নিয়ে ফ্রেন্ডকে কল করলো।
হেমা ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলে তাড়াতাড়ি হিমেলকে একটা টেক্সট করলো।

Himel kal amar sathe ekto college meet koro plz..tomar sathe amar onek kotha ase.r amar number a call ba sms dio na..

টেক্সটটা তাড়াতাড়ি সেন্ড করে আবার ডিলিট করে দিল।
তামিম মেবাইল নিয়ে গেলো।
হিমেল টেক্সট টা পেয়েছে কিনা তা হেমা বুঝতে পারছেনা।কারণ টেক্সট টা ডেলিভারড হওয়ার আগেই হেমা ডিলিট করে দিছে।

হেমা ভাবছে হিমেল কি টেক্সট টা পেয়েছে?না পেয়ে থাকলে হেমার সব শেষ হয়ে যাবে।কারণ হিমেলই এখন হেমার একমাত্র ভরষা।
হিমেলই পারে হেমাকে এ সব থেকে মুক্ত করতে।

হেমার মনে আরো একটা ভয় কাজ করছে।হিমেল সবটা জেনে যদি হেমাকে মেনে না নেয়? তখনতো হেমার সব শেষ হয়ে যাবে।হেমার যাওয়ার মত আর কোন জায়গাই থাকবেনা।

 

চলবে…

About The Author
Mahamuda Akter
Tondra Bilashi
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment