Now Reading
সেই মেয়েটির প্রেম -৪র্থ পর্ব



সেই মেয়েটির প্রেম -৪র্থ পর্ব

৪র্থ পর্বঃ
একটা ঝুড়ি নিয়ে চা বাগানের দিকে যাচ্ছে । মা লাবণ্যকে দেখে লাবণ্যের পিছু পিছু হাঁটতে লাগল । লাবণ্য গুনগুনিয়ে গান করছে আর সামনের দিকে পা বাড়াচ্ছে । লাবণ্যের পিছু পিছু হাঁটতে গিয়ে মা পা’য়ে বেঁধে পড়ে গেল । লাবণ্য ছুটে এসে অভিরুপের মা’কে তুললো, এবং লাবণ্যের মুখ থেকে বেরিয়ে আসলো ..
কোথায়ও লাগেনি তো ? দেখি দেখি পা’টা দেখি ! কত বড় কেঁটে গেছে !
– না ও কিছু হয়নি ; বাড়িতে গিয়ে ঔষধ লাগিয়ে নেব ।কোথায় যাচ্ছো এত সকালে মা ?
চা বাগান ।
বলে লাবণ্য সামনের দিকে এগিয়ে গেল এবং অভিরুপের মা বিপরীত দিকে হাঁটতে শুরু করলো । অভিরুপের মা কিছুক্ষন সামনের দিকে এসে , পিছু ফিরে লাবণ্যকে ডাকলো .. শুনছো ।লাবণ্য পিছন ফিরে চারিদিক তাকিয়ে দেখল এবং বুঝলো অভিরুপের মা প্রশ্নটা হয়তো তাকেই করেছে । লাবণ্য মিষ্টি কন্ঠে বলে উঠল .জি আমাকে বললেন ?
অভিরুপের মা বলল, হ্যাঃ তোমাকে । তোমার নাম কি মা ?
-লাবণ্য বলল, লাবণ্য ।
ও আচ্ছা । যদি কিছু মনেনা করো , আজ বিকেলে একটু আমার বাসায় আসবে । একা থাকি তো ; একটু গল্প-গুজব করবো !
– জি মানে.।
এখানে আবার মানের কি ব্যাপার ?
-আচ্ছা আসবো ।

বিকেল হলো । লাবণ্য লাল শাড়ী পড়ে একাই অভিরুপের বাসার দিকে আসছে । লাবণ্যের একটু সংকোচ হচ্ছে তবুও কিছু করার নেই । কথা দিয়েছে তো । লাবণ্য একপা দুপা করে অভিরুপের বাসার সঙ্গে যে বাগান আছে সেই বাগানে এসে দাড়িয়েছে । লাবণ্য মনে মনে ভাবছে কি করা যায় । যাইহোক আর কিছু না ভেবে লাবণ্য অভিরুপের মা’র সঙ্গে দেখা করার জন্য নিচের ঘরে পা ফেললো । ঘরটি এতই সুন্দর যে লাবণ্য ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল । কোথায়ও কাউকে না পেয়ে ,শিড়ি ধরে উপরের দিকে হাঁটতে শুরু করলো । উপরের বারান্দায় গিয়ে দেখল অভিরুপের মা চেয়ারে বসে চা খাচ্ছে ।
অভিরুপের মা বলল, এসেছো । বসো ।
লাবণ্য মাথা নাড়িয়ে বসবেনা বলল এবং ঘরের দিকে দেখতে শুরু করলো ।
অভিরুপের মা বলল , বসো ; অভিরুপ বাইরে গেছে । এখনি চলে আসবে ।
লাবণ্য চেয়ারে বসলো । মাথা নীচের দিকে নামিয়ে রাখলো । অভিরুপের মা লাবণ্যকে বলল,
তোমার বাড়িতে কে কে আছে ? মা ভাল আছেন তো ?
মায়ের কথা বলতেই লাবণ্য কেঁদে উঠল । চোখে পানি ঝড়ছে । অভিরুপের মা লাবণ্যরে গায়ে হাত বুলাচ্ছে । অভিরুপের মা বলে উঠল, আরে কাঁদছো কেন ? কাঁদে না । পাগলি মেয়ে কাঁদে না ।
– মা’কে অনেক ছোটবেলায় হারিয়েছি । মায়ের সঙ্গে নদীতে পানি আনতে গিয়ে ; আমি পানিতে পড়ে যায় । মা আমাকে বাঁচানোর জন্য চিৎকার করতে শুরু করলো । কেউ ছুটে আসেনি শেষে…মা’কে নদী ভাসিয়ে নিয়ে গেল আমি একা হয়ে গেলাম ।
অভিরুপের মা বলল, আচ্ছা মা .. আর কেঁদো না । এখন থেকে তুমিই আমাকে মা বলে ডেকো ।
লাবণ্য কেঁদে উঠল এবং বলল, মা …
অভিরুপের মা লাবণ্যকে জড়িয়ে ধরলো । লাবণ্যও অভিরুপের মা’কে জড়িয়ে ধরলো । লাবণ্য কেঁদেয় চলেছে । লাবণ্যের চোখের পানিতে অভিরুপের মা’র গায়ের জামা ভিজে গেছে । এমন সময় বাইরে মটর সাইকেলের শব্দ শোনা গেল । অভিরুপ বাসায় এসেছে হয়তো !ওমনি করে অভিরুপ গুনগুন করতে করতে ঘরের ভীতর প্রবেশ করে ফেলেছে । লাবণ্যকে ঘরে দেখে অভিরুপ অবাক হয়ে গেল । অভিরুপ বলে উঠলো, আরে তুমি ! তুমি কখন এলে ?
লাবণ্য কোন উত্তর দিলো না । লাবণ্যরে উত্তর না দেওয়াই ,অভিরুপের মা বলল, এই মাত্র এসেছে । তুই কি ওকে চিনিস ?
অভিরুপ আমতা আমতা করে বলল, না মানে ..মা ..
অভিরুপ লাবণ্যকে তার ঘরে নিবে বলে লাবণ্যকে অনুরোধ করলো । লাবণ্য যেতে রাজি হলো না । অভিরুপের মা মাথা নাড়িয়ে লাবণ্যকে যেতে বলল । লাবণ্য অভিরুপের পিছু পিছু , অভিরুপের ঘরে গেল । অভিরুপ লাবণ্যের কাঁধে হাত দিয়ে , খাটের উপরে বসালো । অভিরুপ লাবণ্যের পাশে বসলো ,লাবণ্য একটু সরে গেল । অভিরুপ আবারো লাবণ্যের পাশে এগিয়ে গেল , এভাবে এক পর্যায় লাবণ্যের শরীরের সঙ্গে অভিরুপের শরীর মিশে গেল । লাবণ্য বলে উঠল , কি করছেন ?
– কই কিছু না ।
অভিরুপের এই জবাবের পর লাবণ্য খাটের উপর থেকে উঠে আয়নার সামনে গিয়ে দাড়ালো । অভিরুপও উঠে লাবণ্যের পিছে গিয়ে দাড়ালো । অভিরুপ লাবণ্যের গালার উপর দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলো এবং অভিরুপের নাকের কিছু অংশ লাবণ্যের গলা দিয়ে কানের উপর পর্যন্ত ঘসা দিলো । লাবণ্য কোন কথা না বলে একটু অস্থির হয়ে উঠলো । লাবণ্য টানাটানা নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে লাগলো । লাবণ্য দুচোখ বুজে অভিরুপের দিকে মুখ করে দাড়িয়ে থাকলো । অভিরুপ লাবণ্যের মুখের দিকে তাকিয়ে ,অভিরুপের ঠোঁট দুটি লাবণ্যের ঠোঁটের দিকে দিতেই লাবণ্য ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে গেল । অভিরুপ পিছন থেকে লাবণ্যক বলল,
লাবণ্য শোন ! লাবণ্য ; এই লাবণ্য শোন !
লাবণ্য কোন কথা শুনলো না । লাবণ্য দৌঁড়াতে থাকলে , লাবণ্যের উড়নার দু পাশের অংশ বাতাশে উড়ছিলে এবং মাঝের অংশ গলার সঙ্গে লেগে ছিলো । অভিরুপ দৌঁড়াতে দৌঁড়াত লাবণ্যের উড়না ধরে টানলো এবং লাবণ্য অভিরুপের গায়ের সঙ্গে লেগে গলো ।
অভিরুপ বলল, কোথায় যাচ্ছো ? বোঝোনা ; আমি কি চায় ! তোমাকে দেখার জন্য আমি সারাদিন ব্যাকুল হয়ে থাকি । শুধুমাত্র একবার দেখার জন্য । তোমাকে না দেখতে পেলে; আমার পরাণে পরাণ থাকেনা । সবকিছু হারিয়ে যায় ।
– তাই ?
হু । বিশ্বাস হয় না ? দেখবে তোমার জন্য আমি কি করতে পারি ?
অভিরুপ ঘরের চারিদিকে দেখবে । রান্না ঘরে দেখতে পাবে একটা ছুরি । ছুরিটি এনে নিজের হাত কাঁটবে । লাবণ্য দেখে অভিরুপের হাতে দেবার জন্য ঔষাধ খুজে এনে অভিরুপের হাতে লাগিয়ে দিলো এবং বলল,
এ কেমন পাগলামি .? বলো তো । লোকে শুনলে কি বলবে ?
– লোকে যা বলে বলুক । ভারবাসা লোকের কথা শোনেনা । আমি তোমাকে ভালবাসি ; ভালবাসি এটায় শেষ কথা ।
লাবণ্য কোন কথা না বলে অভিরুপের বাসায় থেকে বেরিয়ে গেলো । অশ্রু ভরা চোখে । অভিরুপের মা লাবণ্যের চোখে পানি দেখে লাবণ্যকে ডাকতে গিয়ে না ডেকে অভিরুপের কাছে আসলো । এসে দেখলো অভিরুপের হাতে রক্ত এবং অভিরুপ একটা ছেড়া শাড়ীর দিকে তাকিয়ে আছে । অভিরুপের মা অভিরুপকে বলল, খোকা এ তুই কি করেছিস ?
– ও কিছু না মা । আপেল কাঁটতে গিয়ে সামান্য কেঁটে গেছে ।
লাবণ্য দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে বাড়ি গিয়ে । বিছানায় শুয়ে পড়েছে এবং অভিরুপের বলা কথা গুলো মনে করছে । এমনি সময় লাবণ্যের মুখে শোনা গেল , অভিরুপ আমাকে এত ভালবাসে । এই কথাটি লাবণ্যের বাবা আড়াল থেকে শুণে লাবণ্যের মুখোমুখি দাড়িয়ে বলল, লাবণ্য । আমি এ কি শুনছি ? তুমি আমাকে এত বড় শাস্তি দিলে !
লাবণ্য বলল, শাস্তি !

About The Author
Md.Biplab Hossain
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment