কেইস স্টাডি

প্রসংগ: অনলাইন/অফলাইন ফট্কাবাজি।

অনলাইনে ইনকাম শিরোনামে কিছু ওয়েব সাইট, ইনভেষ্টমেন্ট প্লান অধিক লাভের লোভ দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ধান্দাবাজি করে যাচ্ছে। ধান্দাবাজি চরম প্রকাশ আমরা দেখতে পাই ২০০৯-২০১০ সালের দিকে, তখন ইউনিপে টু ইউ নামক একটি ফটকাবাজ কোম্পানী দশ মাসে দ্বিগুন লাভ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে হাজার হাজার কৌটি টাকা মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়ে, গা ঢাকা দিয়েছে। এরপর শুরু হয় আরো অনেক কোম্পানী তারা ইউনিপে টু ইউ এর দেখিয়ে দেওয়া পথ অনুসরন করে ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের বেশীরভাগ মানুষ স্বল্প আয়ের, তাদের কাছে অধিক লাভ বিষয়টা খুবই গুরুত্ব বহন করে। সাধারন মানুষ মনে করে কিছু টাকা খাটিয়ে যদি দ্বিগুন বা তিনগুন ফেরৎ পাওয়া যায়, মন্দ কি ? তাই বেশীরভাগ ক্ষেত্রে তারা ফাদেঁ পা দেয় এবং স্বর্বস্বন্ত হয়। আর এ ধরনের মানসিকতাকে পূঁজি করে কিছু অসাধু ব্যাক্তি দিনের পর দিন তাদের ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খোলসে।

আমরা অনেকেই ডেসটিনির নাম শুনেছি, আবার অনেকে এর দ্বারা আক্রান্তও হয়েছি। ডেসটিনি ছিল স্বপ্ন বিক্রয়ের একটি প্লট ফরম। যেখানে বেকার যুবকদের বড় বড় স্বপ্ন দেখিয়ে মগজ ধোলাই করা হতো। স্বপ্ন পূরনের আশায় যুবকেরা সহায় সম্বল বিক্রি করে টাকা দিয়ে ডেসটিনিতে ভর্তি হতো। তার পর একের পর এক লোক ভর্তি করানোর মেহেনত শুরু করতো। দেশের লক্ষ লক্ষ যুবক ডেসটিনির পেছনে ঘুরে ঘুরে তাদের জীবনে মূল্যবান কিছু সময় এবং ক্যারিয়ার নষ্ট করেছে, ফলাফল কি ? শূন্য।

এজাতীয় অনেক অনলাইন বা অফলাইন (ইনভেষ্টমেন্ট/এমএলএম/ফটকাবাজ) কোম্পানী বাংলাদেশে ছিল, এখনো আছে। অতীতের কিছু কোম্পানীর নাম এখানে উল্লেখ করছে: জিজিএন, নিউওয়ে, ডেসটিনি, রেভনেক্স, আপট্রেন্ড, টংচং, টিয়ানশি, রিচ্, গ্যাটিচ্, ইত্যাদি।  বর্তমানে কিছু কোম্পানী চলমান আছে: ওয়ার্ল্ড মিশন ২১, মানিলজিক, নভেরা, মিশন টেন ইত্যাদি।

এ কোম্পানী গুলো পণ্যের ছদ্দবেশে মানি গেমবলিং করে যাচ্ছে। এতে কিছু লোক লাভবান হচ্ছে, বেশীরভাগ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সকল কোম্পানী এম এল এম পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। এম এল এম পদ্ধতি এমনি একটি পদ্ধতি যেখানে কোম্পানী লাভবান হবে, এবং গুটি কয়েক লোক (একশ জনে দুই জন বা তিন জন) লাভবান হবে।

এসকল কোম্পানী তাদের নিয়োজিত কর্মী দ্বারা সাধারন মানুষকে প্রলুব্ধ করে থাকে, তাদের কাজে সম্পৃক্ত করার জন্য, অধিক লাভের লোভ দেখিয়ে। এক পর্যায়ে একটা বিশাল এমাউন্ট তাদের হস্তগত হলে কোম্পানীর কযর্ক্রম বন্ধ করে দেয়।

এক হিসাবে দেখা যায়, শুধু মাত্র ইউনিপে টু ইউ পনেরশ কৌটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল, যা তৎকালীন পত্রিকা মারফত জানা যায়। সবগুলো কোম্পানীর হিসাব করলে হাজার কৌটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

উপরের চিত্র গুলো ছিল,কিছু কাল আগের ঘটনা। হাল আমলে, ফটকাবাজরা তাদের পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে, তারা এখন ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে অনেকটা অনলাইনে ব্যাবসা পরিচালনা করছে।

অধিক লাভের বিজ্ঞাপন দিয়ে, অনলাইনে বিভিন্ন সোস্যালমিডিয়াতে তারা বিজ্ঞাপন দেয়, তা দেখে সাধারন মানুষ প্রলুব্ধ হয় এবং ফলাফল স্বর্বস্বান্ত।বিশেষ করে, ফেইসবুকে এ বিজ্ঞাপন বেশী লক্ষ্য করা যায়। অনেকে ফেইসবুকে বিভিন্ন চটকদার নামে গ্রুপ খুলেও এ কাজটি করে থাকে।

বর্তমানে অনলাইনে কিছু সাইট আছে, যারা ইনকাম দেয়ার কথা বলে ইনভেষ্ট কালেকশন করে বা কাজ করিয়ে নেয়, কিন্ত পেমেন্ট দেয় না। তেননি কিছু সাইট হল: পিটিসি সাইট গুলো, মাইপেইং এড, মাইপেইং ক্রিপটো এড্, রেভশেয়ার,এমবিসি,মানিলজিক সহ আরো অনেক নাম না জানা সাইট।

এ সব সাইটে মূল্যবান সময় নষ্ট করা, এবং টাকা নষ্ট করা ছাড়া কোন ফলাফল নেই।অনেকের অভিমত যদি পাই, এই আশায় করি। কিন্তু পাওয়া যায় না, এটাই চিরন্তন সত্য কথা।

আমরা যদি একটু ভালো ভাবে চিন্তা করি, তাহলে এ গুলোর ভিতরকার জিনিস বুঝতে পারবো। কি এমন আলাদিনের চেরাগ তাদের হাতে আছে, যে আপনার এক টাকার বিনিময়ে সে আপনাকে দুই, তিন অথবা পাঁচ টাকা দিবে। তাদের যদি এতই ক্ষমতা থাকতো,তাহলে সাধারনের কাছ থেকে টাকা নেয়ার দরকার কি ? নিজের টাকা নিজেই তৈরী করে ইনকাম করুক না কেন ?

আগে এসব ফটকাবাজদের ধরা যেত, এখন তাদের ধরা যায় না। কারন তারা এখন অনলাইনে ব্যাবসা করে। আগের ফটকাবাজদের অনেকে এখন জেলে আছে। যেমন ডেসটিনির মালিক, ইউনিপেটুইউর মালিক এরা এখন জেলে। এখনকার ফটকাবাজরা চটকদার সাইট ল্ঞ্চ করে তারপর কিছুদিন সততার সাথে পেমেন্ট দেয়, মানুষের বিশ্বস্ততা অর্জন করে নেয়। একটা সময় বিপুল পরিমান টাকা তাদের হস্তগত হওয়ার পর সাইট বন্ধ করে দেয়। এরকম অনেক নজির আছে, দীর্ঘদিন পেমেন্ট দিয়ে সাইট বন্ধ করার। যেমন: এমপিএ এরা দীর্ঘ দুই বৎসর মানুষকে পেমেন্ট দিয়েছে, তারপর এমবিসি তারা দুই বৎসর পেমেন্ট দিয়েছে তারপর আসুন রিচমন্ডবার্ক, এরা ছয়মাস পেমেন্ট দিয়েছে, ট্রাফিমুনসুনও প্রায় দুই বৎসর পেমেন্ট দিয়েছে।

এ সকল ফটকাবাজদের একটা কৌশল হলো, তারা প্রথম প্রথম সততা দেখায়। তার পর সময় বুঝে এবং তহবিল কালেকশনের অবস্থা বুঝে সাইট বন্ধ করে দেয়।

এ সকল ফটকাবাজদের তৎপরতা রোধ করা খুবই কঠিন। অফলাইনে বা ফিজিক্যালি হলে, তাদের আইনের আওতায় আনা যায়। কিন্তু অনলাইনের ফটকাবাজদের কোনভাবে ধরা যায় না বা আইনের আওতায় আনা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। আমরা যদি সবাইকে এদের সম্পর্কে সচেতন করি, তাহলে কেউ আর ফটকাবাজদের পাতা ফাঁদে পা দেবে না। আর যখন কেউ তাদের ডাকে সাড়া দেবে না, তখন তারা বাধ্য হবে, এ জাতীয় হীন অপতৎপরতা বন্ধ করতে।তথ্য সূত্র: বিভিন্ন পত্রিকা, ফেইসবুক, নিজের অভিজ্ঞতা।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

আপনি ভালো আছেন?

Md Jakaria

সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কেটিং কৌশল

Sharmin Boby

বাসে বা ট্রেনে কোন কিছু খাওয়ার আগে সতর্ক বার্তা, সাবধান বন্ধু সাবধান নচেৎ মৃত্যু অবধারিত

Muhammad Uddin

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy