সাহিত্য কথা

প্রতিশোধ -পর্ব ৯

তামিম রুম থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে চলে গেল।
বন্ধুরা সবাই বুঝতে পারল যে তামিমের মেজাজ গরম আছে।
বন্ধু ১ঃ কিরে কি হইছে।
তামিম সব কিছু বলল।
তামিমের বন্ধুদের কাছে ব্যাপারটা ভাল লাগেনি।এর আগেও সবাই তামিমকে বুঝিয়েছে কিন্তু তামিম বুঝেনি।

বন্ধু ১ঃদেখ তামিম তোকে একটা কথা বলি।তুই যা করছিস তা মোটেও ঠিক হচ্ছেনা।তুই হেমার সাথে যেইটা করছিস তা অন্যায়।
বন্ধু ২ঃহুম ও ঠিক কথা বলেছে।আমিও এই ব্যাপারটা সাপোর্ট করিনা।
আর তোর বোন মারা গেছে তার জন্য হেমা দায়ী না।তুই নিজেই দায়ী।

তামিমঃমানেে? কি বলতে চাচ্ছিস তুই?
বন্ধু ২ঃ তুই তোর বোনকে অনেক বেশি ভালোবাসতি।চাওয়ার সাথে সাথে সব কিছু দিয়ে দিতি।আবার অনেক সময় কোনকিছু চাওয়ার আগেও তুই এনে দিতি।
তোর বোন এই সবকিছুতে অভ্যস্ত হয়ে গেছিল।
তাই ও যে ছেলেটাকে পছন্দ করত তার ফিরিয়ে দেওয়াটা মেনে নিতে পারেনি।

বন্ধু ১ঃহুম। আর তাই জিদ করে এমন একটা কাজ করেছে।আর তুই ভেবে দেখত হেমার সাথেত ওই ছেলের কোন সম্পর্ক ছিল না।হেমা এই সব ব্যাপারে কিছু
জানতোও না।তাও তুই হেমাকে শাস্তি দিচ্ছিস।

বন্ধু ২ঃ তামিম তুই মেয়েটাকে বিয়ে করেছিস।হেমাকে নিয়ে ভাল ভাবে সংসার কর।হেমাকে ভাল রাখ আর না হয় ওরে মুক্তি দে।হেমার মত করে হেমা ভাল থাক।

তামিম চুপকরে ওর বন্ধুদের কথা শুনছিল।
হয়ত বুঝতে পারছে যে তামিম ভুল করেছে।
তামিমঃআমি বাসায় যাচ্ছি
বন্ধু ১ঃ আমাদের কথাগুলা ভেবে দেখিস।
তামিমঃ হুম।

তামিম বাসায় এসে দেখে হেমা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।হেমার কপালের কাটা জায়গায় রক্ত জমে আছে।
হাত এবং পিঠে বেল্টের আঘাতে দাগ হয়ে আছে।অনেক জায়গায় কেটে রক্তও বের হয়ে আছে।
তামিম হেমাকে ডাকল।কিন্তু হেমা ডাকে সারা দেয়নি।তামিম হেমাকে কোলে করে বিছানায় তোলে শুইয়ে দিল।
তামিম ভাবছে এ অবস্থায় হেমাকে হসপিটালে নিয়ে গেলে নানান জন নানা প্রশ্ন করবে।নিজের অমানুষিক ব্যাবহারের কথা সবার সামনে বলবে কি করে?

তাই তামিম গিয়ে ডাক্তার নিয়ে আসলো।
ডাক্তারঃওনি আপনার কি হয়?
তামিমঃআমার ওয়াইফ।
ডাক্তার তামিমের দিকে তাকালো।
তামিম চুপ করে আছে।
ডাক্তার হেমার কপালে ড্রেসিং করে স্টিচ করে দিল আর হাতের কাটা জায়গাতে ড্রেসিং করে দিল।
ডাক্তার তামিমকে একটা পেসক্রিপশন দিয়ে বলল এখানে কিছু ঔষধ আর একটা মলমের নাম লিখা আছে।রাতে ওনাকে কিছু খাইয়ে ঔষধটা খাইয়ে দিবেন আর মলমটা এনে কাটা জায়গায় লাগিয়ে দিবেন।
এ কথা বলে ডাক্তার বের হয়ে গেল।

তামিম ও বের হল।ডাক্তারকে ভিজিট দিয়ে বিদায় করে ঔষধ আনতে চলে গেল।ঔষধ কিনে আনার সময় হঠাৎ তামিমের মনে পরল বাসায় আজ রান্না হয়নি।হেমা দুপুরে কিছু খায়নি। রাতে হেমাকে ঔষধ খাওয়াতে হবে।তাই কিছু খাবার কিনে নিয়ে বাসায় গেল।

তামিম বাসায় গিয়ে দেখে হেমার এখন জ্ঞান ফিরে আসেনি।
তামিম গিয়ে হেমার পাশে বসল।মলমটা হাতে নিয়ে বসে আছে।
হেমার গাঁয়ে হাত দেওয়াটা ঠিক হবে কিনা তামিম তা বুঝতে পারছে না।
তামিম এ কয়দিনে হেমাকে অনেক মারধোর করেছে।কিন্তু আজকের ব্যাপারটা একটু ভিন্ন।
তামিম ভাবছে হেমা আমার বিয়ে করা বৌ।ওর গাঁয়ে হাত দেওয়াটা অন্যায় কিছু হবেনা।
যদিও তামিম কখনো হেমাকে স্ত্রীর চোখে দেখেনি।সব সময় বোনের মৃত্যুর কারণ ভেবে এসেছে।

তামিম হেমার হাতে এবং পিঠে মলম দিয়ে দিল।মলম দিতে গিয়ে হেমার হাত ও পিঠের কাটা দাগ দেখে তামিম মনে মনে ভাবতে লাগল এতটা অমানুষ তামিম কখনোই ছিল না।
তামিমের বোন পছন্দ করতোনা তাই তামিম কখনও পোঁকামাকড় ও মারত না।অথচ এখন সে এতটা হিংস্র হয়ে গেছে যে যখন তখন হেমার গাঁয়ে হাত তোলে।

 

চলবে…

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

এক ব্রিটিশ কন্যার প্রেমকাহিনী ও একজন বাংলাদেশী তরুণের গল্প !! (পর্ব-৪)

Ferdous Sagar zFs

জ্বীন ও প্যারানর্মাল কি একই বিষয় ? পর্ব – 2

Rohit Khan fzs

অনুসন্ধান (৪র্থ পর্ব) – শেষ পর্ব

Maruf Mahbub

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: