অন্যান্য (U P) কারেন্ট ইস্যু

মোটিভেশন না ডিরেকশন? হ্যাশট্যাগ – প্রশ্ন রয়ে যায় !

আমাদের দেশের বর্তমান সময়ে সফল ব্যাক্তিদের মাঝে কিছু মানুষ নিজের পাশাপাশি অন্যদেরকেও সফলতার পথে হাটতে সাহায্য করছেন। এদের মাঝে আছেন তাহসান খান , যিনি একাধারে সঙ্গীত, নাটক ও শিক্ষকতার সাথে যুক্ত। আরো আছেন আয়মান সাদিক যিনি অনলাইন ভিত্তিক ১০ মিনিট স্কুল এরপ্রতিষ্ঠাতা, সালমান মুক্তাদির যে এদেশের প্রথম সফল ইউটিউব চ্যানেলের মালিক এবং একাধারে এককালের দেশের সেবক, বর্তমানে দেশের নামকরা বিভিন্ন কোম্পানী গুলো তে চাকরির অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, স্ট্যান্ড – আপ রেসিস্ট জোকার ও মোটিভেশনাল স্পিচ গুরু সোলায়মান সুখন স্যার( স্যার লিখার কারনে ১০ টা গালি কম খাবো)।

সমস্যা আর কাউকে নিয়ে না, সমস্যা সুখন সাহেব কে নিয়ে। কারন তার স্পিচ এর ফ্লো বাকি সবার চেয়ে বেশি, সাড়ে ৩ লাখ। উনি নেভি ছেড়েছেন নাকি নেভি উনাকে ছেড়েছে নাকি দুপক্ষের সমঝোতায় কাজটা হয়েছে সেটা গোপন রাখি কারন সেটা নিয়ে বলে কোন লাভ নাই। উনি প্রায় ভিডিওতে বলেছেন নেভি থেকে বের হয়ে ঢাকায় বুয়েটে হোস্টেলে বন্ধুর কাছে আসেন তখন তার কাছে ৭০০ অথবা ১০০০ এর মত টাকা ছিল। ৫ বছর নেভিতে দেশ সেবা করার পর নেভির চাকরি ছেড়ে দিয়ে আসার সময় ১০০০ টাকা নিয়ে আসছেন? হ্যাশট্যাগ – প্রশ্ন রয়ে যায়!!!

বাংলালিংক , এলিট, উই মোবাইল, আমরা টেকনোলজিস – কর্পোরেট সেক্টরে সফল হলে চাকরি সুইচ কেন করছেন স্যার? বাংলালিংক আপনাকে মুক্ত করে দেবার পর এলিট পেইন্ট এ ১০০ মিলিয়ন ক্ষতি করে ৩০০ টাকার এনার্জি বাল্ব ১০০ টাকা অফার  সমমানের “১টা কিনলে ১ টা ফ্রি” অফার দিয়ে বেশি উই ফোন বিক্রি করতে পারেননি। আচ্ছা উই ফোন যখন প্রি-প্রোডাকশনে ছিল তখন একবারও কি মোবাইল গুলোর প্রাইস আর স্পেসিফিকেশন মিলিয়ে দেখেছিলেন? অই সময়ে সেই বাজেটে আরো ভাল কত ফোন মার্কেটে ছিল খুজেছেন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ এমবিএ তে কি শিখানো হয় যে – “বেশি মুল্যে কম কোয়ালিটির পন্য মার্কেটে ছেড়ে কোম্পানী লস করানো মার্কেটিং এর ছাত্র হিসেবে অনেক বড় সফলতা”? হ্যাশট্যাগ – প্রশ্ন রয়ে যায়!!!

আপনি সফল, অবশ্যই একজন সফল মানুষ। এবং আপনার সফলতার ক্ষেত্র – স্ট্যান্ড আপ কমেডি। সত্যি আমি আজও নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে করা সেই ভিডিও দেখি। সফল কারন কমেডিয়ান হিসেবে নিজেকে হীনমন্য করতে পারেন অসাধারণ ভাবে। আগে কৌতুক এর মাঝে দু- একটা সফলতার কথা জানাতেন, সেটা ভাল লাগত। এখন মোটিভেশন এর নামে নিজেকে ব্র্যান্ডিং করার মাঝে দু- একটা কৌতুক বলেন কেন?  হ্যাশট্যাগ – প্রশ্ন রয়ে যায়!!!

মোটিভেশন স্পিকার সোলায়মান সাহেব, আপনি নিজে যেসব মোটিভেশন স্পিচ দেখেছেন বা শুনেছেন সেগুলোতে কতজন স্পিকার নিজেকে সফল বলে বক্তব্য শুরু করেছেন? যাদের মোটিভেশন দরকার তারা আপনি সফল , সেটা শোনার জন্য বসে থাকেনা। তারা শুনতে চায় যে নিজেদের কিভাবে উদ্ধার করবে খারাপ অবস্থা থেকে। আপনার স্পিচ এ বেশিরভাগ থাকে কিভাবে নিজেকে প্রেজেন্টেবল করতে হবে, কিভাবে কোন সেক্টরে সুবিধা করা যাবে এইসব কথা। ফেইসবুক স্ট্যাটাস পুল করেন প্রশ্ন দিয়ে – “এদেশে ছেলেরা মেয়েদের সম্মান করে কি? হ্যাঁ অথবা না”। সবাই জানি দেশে মেয়েদের উপর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা-ধর্ষণ এর মত ঘটনা ঘটছে তাই স্বভাবতই অনেকে না বোধক উত্তর দিবে, তাই বলে কি আমরা সবাই মেয়েদের অসম্মান করি? আপনার বুঝা উচিত আপনার আইডিতে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা বিদেশের বড় কোম্পানিগুলোর সিইও বা ডিরেক্টর এর মত বড় পোস্টে আছেন, তাদের সামনে নিজের দেশের মান সম্মান অক্ষুন্ন রাখা কি আপনার কাজ না? ভলান্টিয়ার অফ পজেটিভিটি শুরু করেছেন যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য, কিন্তু আপনি নিজে কি পজেটিভিটি ছড়াচ্ছেন? আপনি তো হতাশা ছড়াচ্ছেন পরোক্ষভাবে। কোন এক স্ট্যাটাসে প্রশ্ন দেখেছিলাম এক ফলোয়ারের – “দেশে ব্রেইন ড্রেইন হচ্ছে প্রচুর। এ ব্যাপারে কি করনীয় বলে আপনি মনে করেন?” – কোন মন্তব্য দেন নি। দেখেন নি নাকি উত্তর দেয়ার ক্যালিবার আপনার নেই এই ব্যাপারে  হ্যাশট্যাগ – প্রশ্ন রয়ে যায়!!!

মোটিভেশনাল স্পিচ হলো একজন ডুবে যাওয়া মানুষকে নিজ হাতে করে ভাসিয়ে তোলার মত। আমিও একটা সময়ে অনেক ডিপ্রেশনে ছিলাম। আপনার ভিডিও দেখতাম, হাসি আসতো আপনার কমেডি দেখে। অই পর্যন্তই শেষ, আবার হতাশা চেপে বসত। তখন আপন মানুষজন এগিয়ে এসেছে আমাকে সাহায্য করার জন্য। তাদের ব্যার্থতার গল্প শুনিয়েছে, অন্যদের ব্যার্থতার গল্প শুনতে বলেছে যাতে আমি অনুভব করি আমিই একা না, আমার মত বা আমার চেয়ে কষ্টে আছেন অনেকে। তারপর ধীরে ধীরে সেগুলো কাটিয়ে উঠেছেন। কেউ  – “ইউ হ্যাভ টু লুক গুড ইন অর্ডার টু বি সাক্সেসফুল। তোমার চলন আর কথা বলার ধরণ স্মার্ট হতে হবে।” টাইপের মোটিভেশন এর নামে ডিরেকশন কেউ দেয়নি। দিলে আজকে প্রেক্ষাপট অন্যরকম হত।

আপনি একজন ভাল ডিরেকশনাল স্পিকার। ছাত্র অবস্থা থেকে কোন পথে ধাপে ধাপে উপরে যেতে হবে সে ব্যাপারে আপনার বক্তব্য অবশ্যই অনুকরণীয়। তবে মোটিভেশনাল স্পিচটা না আপনার সেভাবে আসেনা। চেস্টা করেও লাভ নাই, ব্যাপারটা না ইউটিউবের বাংলা ফানি ভিডিও ২০১৭ এর মত “ভালগার” হয়ে যায়। “নেভার ডু সামথিং ফর ফ্রি ইফ ইউ আর গুড এট” থিউরি ফলো করে মোটিভেশনাল স্পিচ দেয়ার নামে পকেট মানি নেয়ার কাজটা ছেড়ে দেন। সিক্স ডিজিট প্লাস স্যালারি আপনার, সেগুলো কি কম পরে যায় নাকি ডিজিটই কম আসে আপনার কাছে যায় সেই ব্যাপারে হ্যাশট্যাগ – প্রশ্ন রয়ে যায়!!!

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ভয়ংকর পুতুল দ্বীপ

Pritom pallav

পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে……

salma akter

আমরা মারাত্মক আধুনিক

Mrinmoyi Jahan

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy