Now Reading
যুবসমাজ জুড়ে চলছে ভার্চুয়াল সম্পর্কের আগ্রাসন



যুবসমাজ জুড়ে চলছে ভার্চুয়াল সম্পর্কের আগ্রাসন

বর্তমানে ভার্চুয়াল জীবনের একটা কমন বিষয় হলো প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া। স্বভাবগত কারণেই আমাদের বিপরীত লিঙ্গের দিকে আকর্ষণ কাজ করে। তাদের সাথে চ্যাট করতে ভালো লাগে।ভালো  একটা বন্ধুত্তের সম্পর্ক গড়ে উঠে। চ্যাট করতে করতে একটা সময় সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। কিন্তু এ সম্পর্কে জড়িয়ে আমরা কি পেয়েছি এবং কি হারিয়েছি তা কি আমরা একবারও ভেবে দেখেছি?

আমাদের যুবসমাজ কি এতটা বোকা?

আমরা যদি একটু খেয়াল করি তাহলে দেখতে পারবো এই ভার্চুয়াল জীবনের সাথে জড়িয়ে অনেক মেয়েই তাদের সবটা হারিয়েছে। অনেক সময় ছেলেরাও। তাও আমরা ভূল করি। ভার্চুয়াল জগতের আবেগ গুলো বড়ই অদ্ভুত। কত সহজে একটা মানুষকে মনের উচ্চ স্থানে জায়গা দেই আবার  ঠুনকো কোন কারণে একমিনিটেই ছুড়ে ফেলে দেই। কারো সাথে সম্পর্ক গড়তে যেমন সময় লাগে না, ঠিক তেমনি ঠুনকো আঘাতে সম্পর্ক গুলো ভেঙে চুরমার হতেও সময় লাগে না। যে মানুষ টি আজ আমাদের ক্লোজ লিষ্টে আছে, দু’দিন পর সেই মানুষটিই চলে যায় আমাদের ব্লক লিষ্টে অথবা আমাদের আইডির ঠিকানা হয় তাদের ব্লক লিষ্টে ; নাহয় হয়ে যাই দুজনের দু’চোখের বিষ !

কেউ দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করতে থাকলেও খুব তুচ্ছ একটা কারণে ঘৃণার সম্পর্ক শুরু হয়। বিশ্বাস কেমন জানি ঠোনকো একটা বিষয় হয়ে গেছে। কত সহজে একটা মানুষকে বিশ্বাস করে,কথা বলে,একজন অন্যজনকে নিজেদের গোপন কথা শেয়ার করে। অনেক সময় ব্যক্তিগত  ছবি ও আদান প্রদান করে। আবার ঠিক তাকেই কোন একটা কারণে অবিশ্বাস করে। ভেঙ্গে যায় বিশ্বাস নামক ভিত্তিটা।

সম্পর্ক ভেঙ্গে দেওয়ায় মেয়েদের থেকে পাওয়া ব্যক্তিগত ছবিগুলা আবার ভার্চুয়াল সাইডে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমন ধাক্কা খেয়ে মেয়েদের বিপরীত লিঙ্গের প্রতি একটা ঘৃণা শুরু হয়। অনেক মেয়ে আবার আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আবার ছেলেরা ও মেয়েদের কাছ থেকে প্রতারিত হয়ে নানান অনৈতিক কাজে জড়ায়। আবার স্বভাবগত কারণে মেয়েটা কোন ছেলের প্রতি এবং ছেলেটা কোন মেয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়। আবার ভূল করে।

তবে হ্যাঁ এটা শুধু ভার্চুয়াল জীবনেই হয় না। বাস্তব জীবনেও হয়। তাই বলছি বাস্তব জীবনে যেখানে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে সেখানে ভার্চুয়াল জীবন কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

তবে একটা কথা না বললেই নয়। তা হলো ভার্চুয়াল জীবনের সবটাই যে মিথ্যে তা বলা যাবেনা। মানুষ ভার্চুয়াল জীবন থেকেও সত্যিকারের মানুষ খুঁজে পেয়েছে। এমন মানুষ যার কাছে চোখ বন্ধ করে নিজেকে তোলে দেওয়া যায়। তবে তা খুবই কম। যেমন কিছুদিন আগে একটা নিউজ পড়েছিলাম। “ছেলেটা এবং মেয়েটার ফেইসবুকে পরিচয় তারপর বন্ধুত্ব। পরিচয়ের পরই মেয়েটা জানতে পারে যে ছেলেটার দুইটা কিডনি নষ্ট। মেয়েটা চাইলেই ছেলেটাকে ছেড়ে চলে যেতে পারতো।  কিন্তু যায়নি। ছেলেটাকে একটা কিডনি দান করবে বলেছে এবং বিয়ে করে ছেলেটার পাশে দাঁড়িয়েছে।”

ভার্চুয়াল জীবনে এমন আরো কিছু ভালোবাসার নিদর্শন আমরা দেখতে পারলেও তা খুবই কম।

একেবারে অবিশ্বাস করে জীবন চলে না। সব মানুষ খারাপ হয়না। তবে অনেক খারাপের ভিতর থেকে বা কারো কাছ থেকে ধোঁকা খাওয়ার পর কাওকে খুব সহজে বিশ্বাস করা যায় না বা উচিৎ না। মনে রাখবেন অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না। কাওকে অতিরিক্ত বিশ্বাস করা ও উচিৎ না। ভার্চুয়াল জীবনে হোক অথবা বাস্তব জীবনে কাওকেই অতিরিক্ত ভালবাসবেন না,কাওকে এতটা বিশ্বাস করবেন না যার কারণে আপনাকে সব হারিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয় বা খারাপ পথে পা এগিয়ে দিতে হয় অথবা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়।

আমরা সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব। আমাদের ভালো মন্দ বিচার করার ক্ষমতা আছে। আমরা জানি আমরা কিভাবে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারবো।আর কোন কাজটা করলে আমরা ভালো থাকবো। ভালো থাকা মানে এই না যে কোন একজনকে বিশ্বাস করে নিজের সবটা বিলিয়ে দিব। এবং তার থেকে প্রতারিত হয়ে আবার নিজেকে শেষ করে দিব। ভার্চুয়াল লাইফে নিজেকে জড়ান। তবে লিমিট মেনে।  মনে রাখবেন মাত্রারিক্ত কোন কিছুই ভালো না। বর্তমান যুবসমাজ ভার্চুয়াল লাইফে একটু বেশি জড়িয়ে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল লাইফ যুবসমাজের কাছে এক ধরণের নেশায় পরিণত হয়েছে। যে নেশা থেকে বের হয়ে আসা সত্যিই খুব কষ্টের।

আমি নেশা বলেছি এবং এর জন্য যঠেষ্ট কারণ আছে।একটা মানুষ যখন নেশাগ্রস্থ হয় আমরা তাদের ভিতর কি কি অনিয়ম দেখতে পাই?

১.ইনসমনিয়া(নিদ্রা রোগ)

২.খাবারে অনিয়ম।

৩.পরিবার থেকে দূরে থাকা।

৪.বাস্তব জীবন থেকে কিছুটা দূরে চলে যাওয়া।

ভার্চুয়াল জীবনে জড়ানোর পরেও যুবসমাজের ৬০% এ সব অনিয়মে জড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা যুবসমাজ ভার্চুয়াল জীবনে জড়িয়ে যাওয়ার পর নিজেদের পরিবারকে কতটা সময় দেই? ভার্চুয়াল জীবনে জড়ানোর পর আমরা অনেকে ভূলে যাই যে আমাদের একটা পরিবার আছে। অনেক সময় ভার্চুয়াল কাওকে সময় দিতে গিয়ে নিজের পরিবারের কারো না কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করছি।

আমার লেখা কথাগুলো কতটা সত্যি তা যে বা যারা আমার লেখাটা পড়ছেন তারা একবার ভেবে দেখেন।

যুবসমাজের কাছে একটাই অনুরোধ, ভার্চুয়াল লাইফ আমাদের সব কিছুনা। নিজের বাস্তব মানুষদের সময় দিন। পরিবার,আত্মীয়দের সময় দিন। তাহলে হয়তো আমরা ভার্চুয়াল লাইফে ভূলটা কম করবো। লিমিট রেখে চলুন।

About The Author
Mahamuda Akter
Tondra Bilashi
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment