ফটো স্টোরি

বন্ধুত্ব শুধু মানুষে মানুষেই হয় না

আর কি বলব।

কখনো কি ভাবে দেখেছেন ? আমরাও যদি এমন হতাম তাহলে কত ভালোই না হত। বন্ধুত্ব থাকত নিঃস্বার্থ ভাবে , ভাগল্পটা বন্ধুত্বের

ছবিটা দেখে মনে হতে পারে এখানে বন্ধুত্বটা কোথায়?
বন্ধুত্ব আছে এখানেই, সম্পর্ক, ভালোবাসা, বন্ধন। ছবিটা সেন্টমার্টিন এর পথে তোলা ,যখন আমরা জাহাজে ছিলাম। জাহাজটা ছাড়ার সময়টা সঠিক মনে নাই,তবে মিষ্টি রোদের অসাধারণ অনুভূতির কথাটা মনে আছে। আমরা গিয়েছিলাম সর্বমোট ৮জন বন্ধু । একসাথে কত মজা আরো কত কি । জাহাজটা ছেড়ে দিল সময় মত। আমরা জাহাজের ভিতরে জায়গা না পাওয়ায়,বাইরে দাড়াতে হয়েছিল। জাহাজটা ধীরে ধীরে সামনে যাচ্ছিল। অসাধারণ সেই সময়। সাগরের পানি ছিল মন কেড়ে নেবার মত। জাহাজটা কিছু দূর যেতেই খেয়াল করলাম এক ঝাঁক পাখি। এগুলো কোন জাতের পাখি জানা ছিল না । এখনও জানা নেই যদিও। তবে যে পাখিই হোক না কেন ,তারা খুবই সুন্দর ও অসাধারণ। আমরাও যাচ্ছি সামনের দিকে ওরাও আসছে আমাদের সাথে সাথে। আমরা তাদেরকে খাবার দিচ্ছি ,তারাও খাচ্ছে ,কাছে আসছে । আমরা ভেবেছিলাম যে ,ওরা সম্ভবত খাবারের লোভেই আমাদের সাথে আছে তথা জাহাজের সাথে আছে ,মাঝপথে আসলে ফিরে যাবে আবার । কিন্তু অবাক করা কথা হল ওরা পুরোটা পথ জাহাজের সাথে ছিল। আমাদের যেতে দেড় ঘন্টার বেশি লেগেছিল,ওরা আমাদের সাথেই ছিল । এবার আসি বন্ধুত্বের কথায়।

বন্ধুত্বটা হল এক নিঃস্বার্থ বন্ধন। যেটা ছিল ওই পাখিগুলো আর জাহাজের ভিতর। ভাবতে পারেন এটা আবার কেমন বন্ধুত্ব ।আমি বলবো এটাই বন্ধুত্ব। এরা একে অন্যের পরিপূরক। জাহাজ চলে সাগরের বুকে নিজ গতিতে আর পাখি চলে তারই সাথে তালে তাল মিলিয়ে। এখানে কেউ একা নয়। পাখি যেন জাহাজের শোভা হাজার হাজার গুণ বাড়িয়ে দেয় তাদের বিচরণের মাধ্যমে। এই বন্ধনকে বন্ধুত্ব ছাড়া লোবাসা থাকত ,থাকত সম্পর্কের টান। যেমনটা আমি দেখেছি এই পাখি আর জাহাজের মাঝে। বন্ধুত্ব শুধু মানুষে মানুষেই হয় না । এমন বন্ধুত্বও আছে যেগুলো হয়ত আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় অবিরত। কিন্তু একটু ভালোভাবে খেয়াল করলে হয়ত সবার চোখেই পড়বে এমন আরো অনেক দৃষ্টান্ত। এটাই হয়ত বন্ধুত্ব যেটা হয়ত চোখ এড়িয়ে যাবে,জানি না ।

এখানে বন্ধুত্বের দৃষ্টান্ত আছে আরো। দূরে দেখা যাচ্ছে দিগন্ত ,না ভালোভাবে দেখলে দেখবেন এখানে কোনো বিশেষ দিগন্ত নাই কারণ সাগরের দিগন্ত সাগর নিজেই । নীল রং এর এই সাগর, সাথে দেখা যাচ্ছে আকাশ। সেও নীল বর্ণেরই অধিকারী। কিন্তু কোথায় এখানে বন্ধুত্ব? আছে ,এখানেও বন্ধুত্ব বিরাজমান। সাগর যেন আকাশের সাথে মিশে গেছে, আলাদা করাটা কঠিন । একে অন্যের সাথে এমন মিশে একাকার হওয়াটা কি তাদের মাঝের বন্ধুত্বের পরিচয় বহন করে না? আমার মনে হয় করে ,এটা তাদের বন্ধুত্বেরই পরিচয় দেয়। তারা কোনো বাধা নিষেধ না মেনে একে অপরের সাথে মিশে গিয়েছে অকাতরে।

অবশ্যই এই বিষয় গুলোকে আমি বন্ধুত্বই বলব। মানুষ তাদের বন্ধু বানায় তাদের নিজেদের দরকারে তাই , এই মানুষই বন্ধুত্বের বিবরণটা নিজের মত করেই সাজিয়েছে। এর বাইরেও যে বন্ধুত্ব থাকতে পারে সেটা হয়ত আমাদের ধারণার বাইরে, তাই এই বন্ধুত্ব গুলো আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় অবিরত। প্রকৃতি আমাদেরকে শিক্ষা দেয় বিভিন্ন দিক থেকে , সেটা হোক না পরোক্ষ ভাবে ,তাতে দোষ কি?

সেন্টমার্টিনের ভ্রমণটা আমার জীবনের সেরা ছিল, যেখানে আমি শিক্ষা নিয়েছি প্রকৃতি থেকে। আমরা ছিলাম প্রায় ২ দিন ,কিন্তু মনে হয়েছিল ২ বছর ছিলাম । এই সেন্টমার্টিন আমাদের দেশের গর্ব, যেখানে আমাদের একবার হলেও যাওয়া দরকার ,যেটা আমাদের শিক্ষাকে হাজার হাজার গুণ বাড়িয়ে দিবে।

ফেরার বেলা চলে এলো। ফিরে তো যেতে হবেই , তবে যেতে মন চাইছিল না ,কারণ যায়গাটা এতটাই সুন্দর ছিল যে ছেড়ে যেতে কারোরই মন চাইবে না। আমরা তৈরী হলাম ফিরে যাবার জন্য। সময় মত পৌছে গেলাম সাগরের পাড়ে । বন্ধুরা সবাই অনেক মজা করলাম , সাথে অনেক সামুদ্রিক মাছ আর শামুকও কিনলাম। যথা সময়ে আমাদের জাহাজটাও চলে এল। জাহাজ সময় মত ছেড়ে দিল। আমরা এবারও আগের বারের মত ভিতরে যায়গা না পাওয়াতে বাইরে দাড়াতে হল। তবে এবার আর আবাক হলাম না । কারণ আমার জানা ছিল যে বন্ধুত্বের পরিচয় তারা দিবেই। আমি পাখির কথা বলছি। পাখিগুলো আবার আমাদের পিছু নিল। জাহাজকে কখন একা ফেলে গেলনা তারা। তারা সব একসাথে ছিল , কলতানে মুখরিত করে রেখেছিল । মনে হয়েছিল এক অনন্য পরিবেশে এসে পড়েছিলাম। ২ ঘন্টা কখন চলে গেল বুঝতেই পারলাম না। এখানে না আসলে বুঝতেই পারতাম না বন্ধুত্ব কাকে বলে। এক অনন্য বন্ধুত্বের উধাহরণ দিয়ে গেল তারা আর বলে গেল আমাকে যে তোমরা যাকে বন্ধুত্ব বলো আমরা তাকে বন্ধুত্ব বলি না আমরা তাকে স্বার্থপরতা বলি । যাকে অন্য কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।

ছবিও কথা বলে । তবে ছবি তখনই কথা বলে যখন জানা থাকে ছবির ঘটনাবলি। তবে বিভিন্ন ভাবে একটা ছবিকে কথা বলানো যায় তার জন্য জানা থাকা লাগবে প্রেক্ষাপট।

অবশেষে চলে এলাম টেকনাফ । এবার বাড়ি ফেরার পালা । বাড়ি যাব ঠিকই কিন্তু এই ভ্রমণ অর্থহীন নয় । নিয়ে যাচ্ছি অনেক কিছু নিজের সাথে । প্রাপ্তি ছিল অনেক বেশি । আফসোস ছিল এটাই ,হয়ত আর কয়টা দিন জীবন থেকে খরচ করে ,কর্মব্যস্ততাকে ভুলে , এখানে থাকলে আরো কিছু পেতাম। শিক্ষা নিয়ে যেতাম আরো কিছু প্রকৃতি থেকে যেটা কখনই পাওয়া সম্ভব না এই কর্মব্যস্ততার মাঝে। যেটা শুধু মাত্র পাওয়া সম্ভব প্রকৃতি থেকে। বন্ধুত্ব যে এমন একটা বিষয় যেটা অনেক বেশি পবিত্র কিন্তু আমাদের সমাজে অন্য ভাবে ব্যবহার করা হয় । প্রকৃতি আমাদেরকে প্রতিনিয়ত শিক্ষা দেয় বিভিন্ন ভাবে , বিভিন্ন উপায়ে। কিন্তু যখনই সেটা আমরা সেটাকে নিতে না পারি সেটা তার গুণ হারায় । আমাদের জীবনের চলার পথে এমন অনেক কিছু হয়ে থাকে যেগুলা সহসা আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় । যেগুলা আমাদের চোখ না এড়ালে আমরা জীবনের বিভিন্ন যায়গায় এগুলা প্রয়োগ করতে পারি আর জীবনকে আরো সুন্দর করতে পারি।

অবশেষে চলে এসেছি লেখার শেষ প্রান্তে। বন্ধুত্বের সাথে আরো অনেক কথাই বলে ফেললাম এখানে , আশা করি সকল কথা সবার মতামতের সাথে না মিলতে পারে তবুও কিছু শিক্ষার কথা সবার সাথে ভাগ করে নিলাম না হয়।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ছেলেবেলা

Musfiq Rahman

হিজড়ারা আজ আমাদের সমাজে অবহেলিত কেন..?? আমারা কি জানি বা জানতে চেষ্টা করেছি কখনো ..??

Arman Siddique

গল্পটা বন্ধুত্বের

Joy Prokash Bosu

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: