অন্যান্য (U P)

ভূতুড়ে গ্রাম

আজব এক গ্রাম ! চারিদিকে শুধু গাঢ় সবুজের ঘন বন ! গা ছমছমে শুনশান পরিবেশ। মনে হয় এ গ্রামে কোন মানুষ নেই, আবার কদাচিৎ দু চারজনকে চোখেও পড়ে যায় ! তবে দিনের আলো থাকতেই যে যার ঘরে ফিরে আসে এবং ভুল করেও আর কেউ দরজা খুলে বাইরে বের হয়না। কেমন যেন আতঙ্কে বসবাস করে এখানকার মানুষজন। তাদের সেই অজানা আতঙ্ক ভেদ করে আদিখ্যেতার সম্পর্ক গড়ে তোলা অসম্ভব। তবুও নিজেদের প্রয়োজনেই আগ বাড়িয়ে সম্পর্ক তৈরী করার চেষ্টা !

পাহাড়ের গা ঘেঁষে ছোট্ট গ্রামটি। লোকসংখ্যাও কম এবং শান্ত পরিবেশ। সন্ধ্যার পরে যেন আরো ভয়ঙ্কর‌ শান্ত থাকে গ্রামটি। কখনও থেকে থেকে শেয়ালের ডাক আর বন্য কুকুরের কখনও ডাকাডাকি আবার কখনও একদমই নীরবতাকে ভেদ করে কুকুরের অস্বাভাবিক কান্না !

আর মাঝে মাঝে দূর জঙ্গল থেকে কেমন এক অচেনা কোন পশুর ডাকের আওয়াজ ভেসে আসে। কিন্তু খেয়াল করতে গেলেই থেমে যায় ডাকটি ! সত্যিই কেমন যেন অস্বাভাবিক লাগে পরিবেশ। তবে খুব একটা গুরুত্ব না দেয়ার চেষ্টা করে নতুন আসা দম্পতি। মানুষগুলোও তেমন আগ্রহী নয় কেউ কারো সাথে আলাপচারিতায়। সব যেন নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। সন্ধ্যাটা জানালা খুলে দেখছিলো নীলা আর স্বামী ফেরার অপেক্ষা করছিলো।খেয়াল করল একঝাক মানুষ এলো এবং নিজেদের ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দিলো কিন্তু মুখে কোন কথা নেই। আশ্চর্যের কথা হল, এত তাড়া কিসের সবার ঘরে ফেরার !

নীলার স্বামী ফিরলে নীলাও যেন নিশ্চিন্ত হল ! নীলার স্বামী রাজু জানায়, বাড়ি ফিরতে যেদিন ভরা সন্ধ্যা হয়ে যায় সেদিন জঙ্গলের পাশ থেকে যে রাস্তা ধরেই আসতে হয়, ঐ পথ দিয়ে হাঁটার সময় মনে হয় কিছু একটা পেছনে ফিরতে বাধ্য করে আর পেছনে ফিরলেই একটা অদ্ভূত মায়ার সৃষ্টি হয় ! যেন জঙ্গলটি কাছে ডাকছে !

একদিন নিকটবর্তী প্রতিবেশীর কাছ থেকে অদ্ভূতুড়ে রহস্যের জাল ভেদ করার চেষ্টা করে নীলা ও তার স্বামী ! কুশল বিনিময় শেষে জানতে চাইলে অপ্রস্তুত হয়ে গেলেও আরো কিছু রহস্যে ঘেরা ঘটনা শুনে হতবাক হয়ে যায় ওরা !

ঘটনাগুলো এমন যে,

– সন্ধ্যার পরে যারাই একাকী বের হয় তারা আর জীবিত ফেরেনা। অদ্ভূত অঙ্গভঙ্গী এবং রক্তশূণ্য মৃতদেহ পাওয়া যায় বনের ভেতরে অথবা পাহাড়ের চূড়ায় ! আবার কাউকে আর খুঁজেই পাওয়া যায়না কোনদিন। অনেকে অন্ধকারে দূর জঙ্গলে এক প্রকারের অশরীরি পশুর মতন কিছু দেখতে পেয়েছে কিন্তু দিনের বেলায় হাজার চষেও এমন কিছু দেখা যায়নি। এগুলো কি এবং কোথায় থাকে কেউ জানেনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছে ওরাও দলবদ্ধ থাকে। এমনকি পোষা প্রাণীও যদি বাইরে বের হয় তবে পরদিন মৃত পাওয়া যায়। আর প্রায়ই অদ্ভূত অচেনা কোন প্রাণীর ডাক শোনা যায়। ডাকটি খেয়াল করে শুনলে কেমন যেন ঝিম ধরে যায় ! আর নিজের অজান্তেই অনেকে ভুল করে বাইরে বের হলে সে আর ফেরেনা ! আবার কখনও হঠাৎ করে থেমে যায় ডাকটি !

বনবিভাগকে জানানো হয়েছিলো। তারপর তারা একটি টিম এবং সাহসী কিছু গ্রামবাসী সারাদিন, রাত এক করে খুঁজেছে কিন্তু কোন পশু, প্রাণী কোন কিছুরই অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তারপর সবাই বেশ নিশ্চিন্তে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও আমোদফূর্তিতে দিন যাপন করতে লাগলো। সব ভয় যেন মিলিয়ে গেছে এবং হঠাৎ একদিন আবার রহস্যজনকভাবে একের পর এক হারিয়ে যেতে লাগলো, অনেকের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেলেও অনেকের মৃতদেহ আর খুঁজেও পাওয়া গেলনা। তখন সবাই নিশ্চিত হল যে কোন রাক্ষস অথবা অশরীরি কিছইু হবে। ওরা রাতের অন্ধকারে শিকারে বের হয় !

তারপরে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে কিন্তু নিতান্ত নিরুপায় যারা বা পৈতৃক সম্পত্তির টান যারা উপেক্ষা করতে পারেনি তারাই থেকে গেছে এ গ্রামে। কিন্তু কেউ জীবনের ভয়ে সন্ধ্যার পরে একা বের হয়না।

আজকাল দলবদ্ধভাবেও তেমন কেউ বের হয়না। সবাই বিকেলেই কাজ শেষ করে ঘরে ফিরে দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। হাজার কান্না বা শব্দেও বের হয়না কেউ। ভয় কাটানোর জন্য সন্ধ্যা রাতেই ঘুমিয়ে পড়ে আবার কেউ কেই ধর্ম কর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকে আবার কেউ কেউ বিনোদনের ব্যবস্থা করে নিজের ঘরে। যেন ঐ ঝিম ধরা আওয়াজ বা ডাক শুনতে কেউ না পায় !

একদিন সকালে প্রতিবেশীর থেকে বিদায় নিয়ে নতুন আসা দম্পতি চলে যায় ভূতুরে গ্রাম ছেড়ে! তবে যাবার আগে আরেকটি ঘটনা বলে যায় আর সাবধান করে দিয়ে যায় !

ঘটনাটি হল, আগের রাতে সেই ঝিম ধরা ডাক শুনে তাদের পোষা কুকুরটি জানালা দিয়ে বাইরে চলে যায় ! কুকুরটির খোঁজে নীলাও দরজা খুলে বাইরে এক পাঁ রাখতেই স্বামী তাকে আটকায় ! সেই মুহূর্তে তারা দুজনেই তাদের বাড়ির আশে পাশে কোন কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করে। তারপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে ভয় সংশয় নিয়ে সারারাত পোষা কুকুরটির ভাবনায় বসে থাকে। কিন্তু খুব সকালে তারা কুকুরটির খোঁজে বের হলে কুকুরটির অর্ধেক অংশ খুঁজে পায় পেছনের দিকটায় ! এই ঘটনার পরে তারা গ্রাম ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয় এবং চলেও যায় চিরদিনের জন্য…।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

প্রতিবিম্বঃ পর্ব ৪

Kazi Mohammad Arafat Rahaman

জেনে নিন কোন বিপদ সংকেতের কারণে কি হয়

Istiyak Amin Santo

এবারের পুলিৎজারে আছেন আমাদের পনিরও

ridwan71

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy