সাহিত্য কথা

ব্রেকআপের পূর্বের চিঠি -১ম পর্ব

প্রিয় সরলতা,

কেমন আছো?জানি তুমি আমার কোন প্রশ্নের উত্তর দিবে না! হয়তো তুমি আমার সম্মুখে আসতেউ চাওনা! তবে কেন? তাতো আমি জানি না! তুমি কেমন আছো জানতে চাইলে, তুমি আমার কথা কানে নাও না। তবে কেন? তোমার কথা মনে পড়লে, আমার মন হাজারো প্রশ্নেরর উত্তর খোঁজে। কেন এমন হয়, সেটাও আমি জানি না? তবুয়ো তোমার কথা মনে পড়ে। তুমি কেন আমার থেকে দূরে থাকতে চাও।
যেদিন তোমার সাথে আমার প্রথম দেখা হলরুমে । ঐ হলরুমে, তুমি একটা লাল পোশাক পরিধান করে এসেছিলে।কলেজের গেটে তোমার পা পড়তে পড়তে আমার চোখ পড়লো, তোমার মিষ্টি মুখটা। তখন কি করবো ভাবতে পারিনি। তোমার পিছু পিছু কলেজ গেটের কাছ থেকে, তোমার ক্লাস পর্যন্ত গেলাম। আমি ছিলাম তোমার এক ক্লাস উপরে।

তবুয়ো তোমার পিছনের সিটে বসে, তোমার সঙ্গে ক্লাস করলাম। স্যারের দিকে আর বইয়ের দিকে যতবার তাকিয়েছি, তার চেয়ে বেশি তাকিয়েছি, তোমার মেঘ কালো চুলের দিকে। স্যার সেদিন আমাকে প্রশ্ন করেছিলো। আমি উত্তর দিতে পারিনি। ক্লাসের সকলেই আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলো। অবশেষে তুমি তাকালে, আমার মুখের দিকে। তোমার চোখ পড়লো আমার চোখে।কিছুক্ষণ তুমি আমার দিকেই তাকিয়ে থাকলে;যেমন থাকে বনের বাঘ বনের হরিনের দিকে। কেমন একটা অবস্থা। ঠিক তখনি আমি দ্বিতীয়বার তোমার প্রেমে পড়লাম। মনে তোমারি নাম নিয়ে ভাবতে থাকলাম। আমি তোমার দিকে খেয়াল করে দেখলাম; তুমি মাঝে মাঝে আমার দিকে তাকাচ্ছো আর মিষ্টি ঠোঁটে মিষ্টি হাঁসি দিচ্ছো। ঠিক তখনি আমি তৃতীয়বার তোমার প্রেমে পড়লাম। ক্লাস থেকে স্যার বেরিয়ে পড়লো। তুমিয়ো বেরিয়ে পড়লে। তোমার বেরিয়ে যাওয়ার পরপর আমিয়ো বেরিয়ে পড়লাম। কলেজের পিছনে যে সুপারি বাগান আছে। তুমি চেনো। আমাকে আর বলতে হবে না হয়তো। সুপারি বাগানে তোমার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়। তুমি আমার সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছিলে না। তবুয়ো আমি কথা বললাম। কেননা,আমার গায়ে পড়া সভাবটা একটু বেশি আছে। তুমি কথা বলতে না চাইলেও, বাধ্য হয়ে সেদিন কথা বলেছিলে। সেখান থেকেই তুমি আমার হয়েছিলে। তবে কেন আজ এমন করছো? সেদিন আমিই তোমার সঙ্গে প্রথম কথা বলেছিলাম। বলে ছিলাম তোমার নাম কি? তুমি অতিষ্ঠ হয়ে বলেছিলে “সরলতা”। আরো অনেক কথাই হয়েছিলো সেদিন , সবটা তো আর এই কাগজে কলমে লেখা যায় না! আমার বন্ধুরা আমাকে ডাকলো, আমি চলে গিয়েছিলাম। সেদিন রাতে তোমার কথা আমার বারবার মনে পড়েছিলো। তবুয়ো ভাবলাম তুমি ধনীর মেয়ে ভুলতেই চেষ্ট করেছিলাম কিন্তু তুমি তো ভুলতে দিলে না। আমি তারপর দুই দিন কলেজে আসি নি। কলেজ এসে বন্ধুদেন নিকট শুনলাম, তুমি আমার খোঁজ করেছো। তারপরেও আমি তোমার নিকট যায়নি। সেদিন তুমি প্রথম ক্লাস করে চলে এসেছিলে, আমার ডিপার্টমেন্টেরর সামনে। আমি ক্লাসেই ছিলাম। তোমাকে দেখে আমার বন্ধুরা বলল,যা। আমি বেরিয়ে আসলাম। তুমি আমাকে নিয়ে সুপারি বাগানের নীচে বসলে। কোন মেয়ের সঙ্গে একাকি বসা সেদিনি ছিলো আমার প্রথম দিন। তোমার মুখটি সেদিন কালো উড়না দিয়ে ঢাকা ছিলো। তুমি মুখ থেকে উড়না সরিয়ে নিয়ে আমাকে বললে,আমি না আপনাকে ভালবেসে ফেলেছি! আই লাভ ইউ! আমি মুচকি হেঁসে বললাম,তুমি কি পাগল হয়েছো?আমি গ্রামের ছেলে তাও আবার গরীব! তুমি বলেছিলে,তাতে কি আমি আপনাকে ভালবাসি এটাই শেষ কথা। আমাকে প্রস্তাবটা সেদিন তুমিই দিয়েছিলে। আমি দিই নি! আজ তিন থেকে চার বছর হয়ে গেলো আমাদের মধ্যে কোন ঝগড়া তো দূরের কথা উচ্চস্বরে কোন কথায় হয়নি। আমি তো তোমাকে খুব ভালবাসি।তোমাকে কথা দিয়েছি তোমাকে নিয়েই বাকি জীবন কাটাবো। তুমিয়ো আমাকে কথা দিয়েছিলে। তুমি আমাকে বলেছিলে, বৃহৎ পৃথিবীতে কি কোন জায়গায় তোমার আমর থাকার মত জায়গা হবে না।প্রয়োজনে এক বালিশে সারা জীবন কাটিয়ে দেবো। তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবে। কোথায় গেলো তোমার সেই বড়বড় কথা। তুমি আমাকে এমন কথা বলেছিলে, তোমাকে মনে হতো, তুমিই একমাত্র প্রেমীকা যে, অর্থকে পরোয়া করেনা, ধন-সম্পদকে পরোয়া করে না। কোথায় গেলো তোমার সেই নিউটন রুপের বানী? হয়তো সবি আজ হারিয়ে ফেলেছো! তুমি আজ হয়তো অর্থদণ্ডে বন্ধি হয়ে গিয়েছো,তাই না?তুমি আজ আমাকে ভুলে গিয়েছো। যেখানে তুমি বলেছিলে তোমাকে কখনো ভুলবো না,যদিও মরন আসে। কোথায় গেলো তোমার সেই না ভুলার কথা?আজ তোমার চরিত্রের আলো আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, আলোর বিপরীতে অন্ধকারের জেগে ওঠা।

তবে কেন আজ এমন বলছো? তুমি আমাকে ভালবাসলে,স্বপ্ন দেখালে, তবে কেন সেগুলো ধংস করে দিচ্ছো? আমার প্রতি কি তোমার আর কোন ভালবাসা নেই? আমাকে কি তুমি ভুলেই গেছো? এই প্রশ্নগুলো আজ আমাকে ঘুন পোকার মত কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। তোমার না থাকার বেদনায় আজ আমাকে এতটাই খেয়েছে যে,আমি নিজেকে মানুষ বলতে ঘৃণা করি। আর তুমি;তুমি তো মহামানব। জগৎ জুড়ে শুধু তোমারি খেলা ঘর। আর আমি ;আমি তোমার একা দাবার গুলি। যে কোনো সময় তার জীবন সমাপ্ত ঘটতে পারে। এই দেখ তোমাকে দাবা খোলা বোঝাচ্ছি, আমি সত্যিই পাগল হয়েগেছি! যেখানে তুমি দাবা খেলা তৈরি করো। যেখানে তোমাকে দাবা খেলার কথা বলা মানে তো পাগলামি করা তাই না?
তুমি আমার থেকে দূরে থাকতে চাও, ঠিক আছে। আমাকে ভুলে যেতে চাও ঠিক আছে, তবে এই ব্রেকআপের চিঠিতে আমি যে প্রশ্নগুলোর সম্মুখে পড়েছি সেগুলোর যথার্থ জবাব তুমি দিবে বলে আশা করি! কেননা আমার কোথায় ভুল বা দোষ তা আমার জানা বড় প্রয়োজন। আমার তো তোমার কাছে কোন মূল্য নেই, তবে আমার এই শেষ চাওয়াটা তুমি পূরন করবে আবারো আশা রাখলাম।

পরিশেষে,আমার হৃদয়ের লাল রক্তে লেখা এই চিঠিটা পড়ে তুমি কতটা খুশি হবে জানি না। তুমি ভালো থেকো,সুখে থেকো এই কামনা করি।

ইতি,
ছন্দহীন গান

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

সীমাকে যেভাবে ব্ল্যাক-ম্যাজিকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল !! (শেষ পর্ব)

Ferdous Sagar zFs

রহস্য চারিদিকে পর্ব—১

Salina Zannat

প্রতিশোধ – পর্ব ২

Tondra Bilashi

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: