ব্রেকআপের পূর্বের চিঠি -২য় পর্ব

Please log in or register to like posts.
News

প্রিয়
কথার ঝুড়ি,

কথার ঝুড়ি বলছি বলে রাগ করছো! রাগ করোনা। তোমার কথায় তো আমার সব। এখন ভাবছো আমি কে? চিনতে অসুবিধা হচ্ছে? হওয়ারি কথা। ভাবছো কেনো আমি তোমার নিকট চিঠি লিখছি! তাহলে শোনো, গতকাল রাতে তোমার লেখা চিঠিটা আমি পেয়েছি। চিঠিটা পাওয়া মাত্র আমি পড়ে নিয়েছি।চিঠিটা পড়ে আমি এটা বুঝতে পারলাম যে, তুমি আমার উপর অনেক অভিমান করেছো। অভিমান করারি কথা। কেননা তোমার মনে অভিমানের জন্মটা আমিই দিয়েছি।

তোমাকে প্রথম দেখায়, আমি তোমাকে ভালবেসে ছিলাম। আমার সমস্থ কিছু তোমাকে দিয়েছিলাম, এই মন জান প্রান সবটা। আমার দেহটাও তোমাকে দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি সবি নিলে, দেহটা নিলে না। তখনি বুঝে ছিলাম, তুমি আমাকে ভালবাসো, আমার দেহকে না। তখন তোমার প্রেমে আমি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। তোমাকে আপন করে পেতে চেয়েছিলাম কিন্তু তাতো হলো না! আসলে মানুষের কিছু কিছু চাওয়া আছে যা কখনো পূরন হয়না। আমার চাওয়াটা তেমনি। তুমি আমাকে ভুল বুঝেছো এটায় আমার বড় পাওয়া। কেননা একটা মানুষ আর একটা মানুষকে কতটা ভালবাসে, সেটা তার ভুল বোঝা বা অভিমান থেকেই জানা যায়। তুমি আমাকে অনেক বেশি ভালবাসো তাই আমাকে ভুল বুঝেছো। আমিয়ো তোমাকে অনেক ভালবাসি তবুয়ো ভুল বুঝতে চায়নি বা ভুল বুঝিনি। শুধুমাত্র অভিমান করেছি। তুমি হয়তো কারো মুখে শুনেছো যে আমি তোমার সঙ্গে থাকতে চায়নি, কিন্তু তারপরে কি কখনো তুমি আমার সামনে এসে দাড়িয়েছো? কখনো আমাকে জিঙ্গাসা করেছো, যে কেন তুমি এমটি করছো? করোনি। শুধুমাত্র চিঠিতে হাজারো প্রশ্নের পাহাড় দাড় করিয়ে দিয়েছো আমার সম্মুখে। প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর এতটাই লম্বা যে, একটা প্রশ্নের উত্তর কাগজ-কলম দিয়ে লিখে শেষ করা যাবে না। তোমার চোখে আজ আমি স্বার্থপর হয়েছি। তার কারণ কি তুমি জানতে চেয়েছো? চাওনি। সত্যি বলছি আমি তোমার সঙ্গে কোন প্রকার স্বর্থের খেলা খেলিনি।

আমি তোমাকে ভালবেসে ছিলাম,ভালবাসি, ভালবাসবো। সেদিন তোমার সঙ্গে ব্রেক আপের কথা বলেছিলাম।কেন বলেছিলাম জানতে চেয়েছো কখনো? জানার দরকার মনে করো নি! আমি যতই হাজারো কথা বলি, তুমি হয়তো একটিও বিশ্বাস করবে না, এটায় তো স্বাভাবিক।আমি তোমাকে প্রথম ভালবেসে ছিলাম,এখনো ভালবাসি অর্থাৎ তুমিই আমার প্রথম প্রেম। পৃথিবী একদিকে আর তুমি একদিকে। জীবনের প্রথম জীবন সঙ্গী হিসেবে আমি তোমাকে গ্রহন করেছিলাম, এখনো ওটায় মান্য করি। তুমি হয়তো আমাকে আর দশটা মেয়ের মতো ভাবতে শুরু করেছো কিন্তু আসলে আমি আর দশটা মেয়ের মতো না। আমি আমারি মত। তোমার চিঠিটা পেয়ে আমি কতটা খুশি হয়েছি তা হয়তে, আমি বলে বোঝাতে পারবো না বা বোঝানোর চেষ্টা করবো না। কি বোঝাবো বলো? আজ তো আমি কিছুই বুঝিনা। আমার নয়ন জলে এই সামান্য কাগজের উপর লিখে তোমাকে কতটা বোঝাতে পারবো! তা আমি জানিনা । তবে একটা কথা বলতে পারি তোমাকে ছাড়া আমি পৃথিবীতে থাকবো না, থাকতে পারিনা।

পৃথিবীর আলো বাতাস কিছুই আমার ভালো লাগে না, যদি তোমার সঙ্গে কথা না বলি। যদি তোমাকে জীবনসঙ্গী করে, সারা জীবন পাশে পাই,তাহলে আমি শত দুঃখ মেনে নিতে রাজি আছি। তবুয়ো কখনো তোমাকে ছাড়া থাকার কল্পনাও করিনি। তোমার লেখা চিঠিতে তুমি আমাকে অনেক প্রশ্ন করেছো, তবে তোমার সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তুমি হয়তো জনো আমি কেমন! দ্বিতীয়বার আর জানানোর প্রয়োজন বোধ করিনা। তুমি আমাকে প্রশ্ন করেছো,তুমি কেন আমার সঙ্গে থাকতে চাও না? আসলে তোমার সঙ্গে নয় আমার জীবনের সঙ্গে। জীবন পথে চলতে হলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয় এবং কিছু সময় বা কিছু কাল পর সমস্যা সমাধান হয়। কিছু সমস্যা আছে যা সারা জীবনেও সমাধান হয়না। “জীবন অনেকটা সরল অংকের মত, যেমন অংকের কোন এক স্থানে যোগ-বিয়োগ, গুন -ভাগে ভুল হলে পুরো অংকটা ভুল হয়”। ঠিক তেমনি হয়তো আমারো কোথায়ো ভুল হয়েছে,যেটা জীবন খাতার পরীক্ষক নির্ণয় করেছে। তার ফলাফল তিনিই প্রকাশ করবেন, এটায় বাস্তবতা।শুধু এটায় নয় আরো অনেক প্রশ্ন করেছো। এখন যদি আমি তোমাকে কিছু প্রশ্ন করি তাহলে কি তুমি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে? হয়তো পারবো আবার না পারতেও পারো! যার পুরোটা একমাত্র তুমিই জানো। পৃথিবী চালিত করে সৃষ্টিকর্তা। সৃষ্টির সমস্থ জীবকুলকে চালিত করেন সৃষ্টিকর্তা তবে, কেন এত মতপার্থক্য? কেন তুমি আমাকে বিশ্বাস করোনা? একজন প্রেমীক বুঝবে প্রেমীকাকে, একজন প্রেমীকা বুঝবে তার প্রেমীককে,এটায় তো তাদের প্রেম বিজয়ের পতাকা। যার একমাত্র সূত্র বিশ্বাস। বিশ্বাসের মাঝে প্রেম জীবিত থাকে। আমার কথা গুলো হয়তো তুমি মেনে নিতে পারছো না,কিন্তু এটায় বাস্তবতা। আধুনিক বিশ্বে বিশ্বাসের উপর ভর করে, ভৌগলিক সীমারেখা পেরিয়ে প্রেম ছুটে চলে কেন? পারবে বলতে?যদি আমার প্রশ্নের উত্তরঃ বিশ্বাস, হয় তাহলে আর কোন প্রশ্ন করো না। কেননা প্রশ্নের স্থান কোন পাঠ্যপুস্তকে বা সরকারি অফিস আদালতে।এই পৃথিবীকে আদালত করে, তুমি উকিল হয়ে, আমাকে আসামী করে আর কোন প্রশ্ন করো না! যার উত্তর আমি এই আদালতের সমস্থ সাক্ষীর নিকট উপস্থাপন করতে পারবো না। কেননা আমি কোন টিভি চ্যানেলের উপস্থাপক না। তোমার প্রেমীকা। যার স্থান তোমার বুকে হওয়া উচিত, তাকে তুমি হস্তান্তর করছো কাঠগড়ায়। কেন? আমি তোমাকে আর কোন প্রশ্ন করতে চায় না। শুধু একটা কথা জানতে চায় তুমি আমাকে ভালবাসো কি? যদি তুমি আমাকে ভালবাসো তাহলে,এই কাগজে না লিখে সম্মুখে আসো। তোমাকে কতদিন দেখিনি। তোমাকে না দেখার যন্ত্রনায় আমি শেষ হয়ে গেলাম। তোমাকে অনুরোধ করছি তুমি সেই সুপারি বাগানে আসো। সেখানেই হবে যা হওয়ার। হয়তো সে দিন তোমার হাত ধরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসবো নয়তো…..! সেদিনের দেখায় হবে তোমার আমার শেষ দেখা। কেননা তোমাকে ছাড়া আমার বেঁচে থাকা আর মারা যাওয়া একি বিষয়।

ইতি,
তোমার অপেক্ষায়
সরলতা

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?