সমসাময়িক চিন্তা

বৃদ্ধের প্রেম

প্রভুর দান প্রেম। প্রভুর সৃষ্টি সমস্তরকম জীবের মধ্যে প্রেম বিরাজমান। পৃথিবী সৃষ্টির আদিলগ্ন হতে প্রেমের যাত্রা শুরু। প্রেম বিভিন্ন রকম হতে পারে।বাবা- মা ভালবাসে তার সন্তানকে, বৃক্ষ ভালবাসে তার নতুন প্রজন্মকে, হিংস্র পশু- পাখি ভালবাসে তার বাচ্চাকে। এর বাহিরেও এক ধরনের প্রেম রয়েছে, যা একজন যুবক ও একজন যুবতীর মধ্যে সৃষ্টি হয়। যুবক যুবতীর প্রেমের সম্পর্ক থেকে সৃষ্টি হয় বিবাহের বন্ধন। যুবক যুবতীর বিবাহ সম্পর্কের উপর গড়ে উঠে সংসার জীবন। সংসার জীবনের অনেক ধাপ পাড়ি দিয়ে যখন যুবক-যুবতী বৃদ্ধ হয়, তখন তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় ভিন্ন একটি প্রেমের সম্পর্ক।

এই ভিন্ন প্রেমের সম্পর্ক হতে আমার লেখা এই লেখনি।
যুগযুগ সংসার জীবন কাঁটিয়ে এসে প্রত্যেক ব্যক্তিই বৃদ্ধ হয়। এটাই স্বাভাবিক। যে কোন গল্প অতীত হলেও বর্তমান। অতীতকে নিয়েই বর্তমান দন্ডায়মান।
একগ্রামে এক বৃদ্ধ ও এক বৃদ্ধা বসবাস করতো। সমাজে সকলেই বসবাস করতো, তবে ঐ বৃদ্ধ -বৃদ্ধা’র মতো না। তার দুজনে ছিলো স্বামী -স্ত্রী।

তাদের ঘরে ছিলো একটি মাত্র ছেলে।ছেলেকে বড় করার জন্য এমন কোন কাজ নেই, যা তাহারা করেনি। ছেলেকে লেখাপড়া করিয়ে বড় করার জন্য তাহারা ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নেই।প্রথম ভিক্ষাবৃত্তিটা ছিলো বড়ই নিদারুন। চোখের পানিতে বুক ভিজে যায়, মুখে কাপড় দিয়ে অন্যের দুয়ারে গিয়ে দাড়াই,হাতে একটা ঝোলা নিয়ে বেরিয়ে পড়লো ছেলেটির মা-বাবা। একটি বাড়ির দরজায় গিয়ে দাড়ালো তাহারা দুজন। ঠিক এমনি ভাবে কেঁটে গেলো কয়েকটি বছর। ছেলে ছোট থেকে বড় হলো,স্কুল থেকে কলেজ গেল,কলেজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় গেলা। বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে হলো চাকরি। কয়েক বছর পর ছেলে সরকারি চাকরিতে যোগদান করে। এবার তারা ভাবলো হয়তো এবার তাদের সুখের সময় এসেছে।কিন্তু নিয়তি তো তাহা বলেনা। নিয়তি তাদের কি দিলো?

বৃদ্ধ ব্যক্তি সকালে উঠে নাস্তা সেরে সারাটাদিন বসে থাকে, বৃদ্ধাও তাই। একটি সুখের সংসার, প্রেমের মঞ্চে রুপ নিলো বৃদ্ধার পরিবারে। ছেলে সকালে উঠে অফিসে যায়, মা ছেলের কপালে চুপা দেয়। দুপুরের টিফিন করে দেয়। সুখেই কাটতে লাগলো তাদের সংসার। এবার তারা ছেলের বিয়ে নিয়ে ভাবতে থাকে। কয়েকদিনের মধ্যে ছেলের বিবাহ হলো। এই বিবাহ বুঝি সুখের সংসার শেষ করে দিবে।আধুনিক কালে শতকরা ৯০ টি পরিবারে ছেলের বিবাহের পর সংসার নষ্ট হয়ে যায়। কেননা বিবাহের কনে অর্থাৎ বউ তাহাকে নষ্ট করে তোলে।তবে কেন?যাইহোক,ছেলের বউ বৃদ্ধ মা বাবার উপর অত্যাচার শুরু করলো। তখন বৃদ্ধ বাবার মুখ থেকে বেরিয়ে আসলো যে,ছেলেকে মানুষ করতে ভিক্ষা করেছি,দুই নয়নের আলো হারিয়ে অন্ধ হয়েছি,তার প্রতিদান কি এটাই হওয়ার ছিলো! হায়রে যুগ..!তোমার কত রং!
মা বলে,আরে খোকা তুই কি দেখিস না;তোর চোখ কি নষ্ট হয়ে গিয়েছে?যে,বাবা-মা’র অবস্থা কি হয়েছে।তোরর জন্য ভিক্ষা করে, পা’য়ে হাঁটার শক্তি হারিয়েছি!হয়েছি রোগী।
তবুও আল্লাহর কাছে বলি, আল্লাহ যেন তোদের ভালো রাখেন।
ছেলে যেমনি হোক না কেন, মা’তো মা।

বৃদ্ধ বাবা বলল, দেখো গো খোকার মা। তোমার আবার কি? আমি তো আছি। প্রয়োজন হয়, তোমার জন্য আবারো ভিক্ষা করবো, তবে এমন অত্যাচার আর সহ্য করবো না।
-না গো তাই বললে হয়। আমাদের একটি মাত্র ছেলে।যদি তাদের ছেড়ে আমরা আলাদা থাকি লোকে কি বলবে?বলো? সে তো আমাদের ছেলে;সে তো ভুল করতেই পারে। তুমি আর রাগ করো না।
বৃদ্ধ বাবা কথা গুলো বলছো এবং দুচোখ দিয়ে পানি ঝরছে।

স্বামী -স্ত্রী সেই রাতে কথা বলার পর ঘুমিয়ে গিয়েছে। পরেরদিন সকাল হলো,সূর্য উঠলো,পাখি ডাকলো, কিন্তু ডাকলো না বৃদ্ধ মা। সেদিনের রাতে জগৎতের মায়া ছেড়ে চলে গিয়েছে। আপন ঠিকানায়।কেননা, ছেলের বউ’র অত্যাচার সহ্য করতে না পারাই বিষ সেবন করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে।আধুনিক সমাজের ছেলেদের নিকট এই প্রশ্নটা রাখলাম যে মা তোমাকে দুনিয়ার আলো দেখিয়েছে, কথা বলতে শিখিয়েছে,সেই মা কেন তোমার জন্য মরনকে বরন করে নিবে? কেন?বৃদ্ধা বাবা কেন তোমার জন্য আঘাত পাবে? এই গল্পের বাবা আজ অন্ধ।চোখে দেখেনা। এই সুন্দর পৃথিবীর কোন কিছুই দেখেনা। একাকি পড়ে থাকে এক ছোট ঘরে, যেখানে বাড়ির পালিত পশুপাখি অবস্থার করে। আজ ছেলে বাবাকে দেখে মুচকি হাঁসে।বাবাকে দিনের পর দিন অনাহারে রাখে। কেন?

আধুনিক যুগের ছেলে মেয়েদের নিকট আমি এটাই কামনা করি যে, বৃদ্ধ বাবা-মা’ দের প্রতি এরুপ আচারন বর্জন করো। কেননা, তোমাকেউ ভাবতে হবে তোমারো বাবা-মা,ভাই-বোন আছে।
মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলছি, তোমাকে ভাবতে হবে যে তোমার বাবা-মা আজ এক জনের শ্বশুর-শ্বাশুরি, তেমনি তুমিও একদিন এই অবস্থানে অবস্থান করবে। এটাই তো নিয়ম। মানুষ প্রকৃতির নিয়মেই চলাফেরা করে। মানব জীবনে মনুষ্যত্ব জাগ্রত করে, বিবেক দিয়ে বিবেচনা করে,ভালো দিকটা গ্রহন করে সমাজে উচ্চ আসনে অবস্থান করার যোগ্যতা বা ক্ষমতা সকল মানুষেরি রয়েছে। । কেউ উচ্চ আসনে থাকতে চায় আবার কেউ জেনে বুঝে তা বর্জন করতে চাই । উচ্চ আসনরে প্রতিক্ষায় সকলে রই কিন্তু কিছু নিয়ম ও নীতের বিপাকে পড়ে তা বর্জন করতে হয় । বাবা- মা’র সুখ মানে তো নিজের সুখ ভাবাই যোগ্য সন্তানের একমাত্র কামনা বা বাসনা হওয়া উচিত । কেননা , খোদার পরে মায়ের কোল একটি সন্তানের শ্রেষ্ট আরামের স্থান । তাই আমরা সকলেই পিতামাতার উপর ভালবাসা প্রদর্শন করি । এবং তারা যনে বাকিটা জীবন সুখে থাকে সেই ব্যবস্থা করা প্রতিটা সন্তানের দায়িত্ব । এই দায়িত্ব যেন আমরা যথার্থ পালন করতে পারি , সেই রহমত যেন আল্লাহ আমাদের পালন করার সুযোগ দেন । আমরা সকলে যেন বাবা-মাকে ভালবাসতে পারি । বাবা-মা’র প্রতি দায়িত্ব পালন করতে পারি ।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

কি ধরনের চলচিত্র দেখবো এবং কেন দেখবো ?

Saif Mahmud

মানুষের চিন্তাধারা

Tamanna Shimu

সমাজ আমাদের কী? দিচ্ছে!!! আমরা সমাজকে কী? দিচ্ছি!!!!…

MD. SHOHIDUL ISLAM

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy