Now Reading
প্রতিদিনের সংবাদে ধর্ষণ : নিয়মিত শিরোনাম



প্রতিদিনের সংবাদে ধর্ষণ : নিয়মিত শিরোনাম

ধর্ষণ। কথাটা আজকাল আমাদের সবার কানে লাগতে লাগতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। ধর্ষণ কি সেটা হয়তো আমাদের মতো পূর্ণবয়স্কদের বারংবার বলার দরকার নেই। তবুও আরেকবার পরিষ্কার করার জন্য বলি, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ধর্ষণ হলো কোনো মেয়ের সম্মতির বিরুদ্ধে জোর করে তার উপর যৌনাচারই হলো ধর্ষণ। ধর্ষণ শুধু একটি অপরাধই নয়, এটি জঘন্য থেকে জঘন্যতর একটি অপরাধ। অন্তত আমার চোখে এটা সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ। একটা মেয়ের জীবনের সবচেয়ে বড় কালের নাম এই ধর্ষণ। একটা মেয়ে ছোটবেলা থেকেই কিছু ছোট বড় স্বপ্ন নিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে থাকে। তার পরিবারেরও তাকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন থাকে। সে বড় হয়ে তার পরিবারের মুখ উঁচু করবে। আর এসব স্বপ্ন ভেস্তে দেওয়ার জন্য এই ভয়ংকর অপরাধ ধর্ষণ যথেষ্ট।
আজকাল টেলিভিশনে কোনো সংবাদের চ্যানেলের শিরোনামে চোখ রাখলেই বিশ শতাংশ শিরোনাম যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের। বাকি আশি শতাংশ অন্যান্য। দেখা যায়, এক স্থানে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, কোনো স্থানে আবার ছাত্রীকে ধর্ষণ, শিক্ষিকা ধর্ষণ, কিশোরীকে ধর্ষণ, এমনকি দেখা যায়, বৃধাও এরকম পৈশাচিক আচারণের হাত থেকে রক্ষা পায় না। বৃদ্ধার কথা না হয় একটু কম হাইলাইট করছি। কিন্তু সবচেয়ে হতবাক হয়ে যেতে হয় তখন যখন শোনা যায়, দশ বছরের নিচের শিশুদেরও ধর্ষণের শিকার হতে হয়। মুখের ভাষা তখন চোখের পানিতে পরিণত হয়।

আর এখনতো কমবেশি এটাই শুনতে হয় যে নাটোরে বা সিরাজগঞ্জে (কোনো স্থানকে ছোট করার উদ্দেশ্যে বলা হয়নি। উদাহরণ স্বরূপ বলা হয়েছে।) বা যেকোনো স্থানে তিন বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার। কিছুদিন আগেই টেলিভিশনে সংবাদে দেখলাম, সাড়ে তিন বছর বয়সের এক বাচ্চাও ধর্ষণের শিকার! তাও ধর্ষকের বয়স আটত্রিশ বছর! তার মেয়ের বয়সের থেকেও কম! কি দোষ ছিলো বাচ্চাটার? কি বোঝে ও? হয়তো কেবল একটু আধটু কথা বলা শিখছে। তাহলে এটাই কি দোষ যে ও মেয়ে হয়ে জন্মগ্রহন করেছে? তাই ওকে ভোগ করতে হবে? সামান্য যৌন ক্ষুধা মেটানোর জন্য এসব জানোয়ারেরা নিজের বাচ্চার বয়সী মেয়েকেও ছাড় দেয় না? এদেরকে তাজা কবর দিলেও গায়ের জ্বালা মিটবে না। বাচ্চাটা হয়তো কিছুই বুঝেনা। এখনো হয়তো উঠানে দৌড়াদৌড়ি, লাফালাফি করে আনন্দ করে বেড়ায়। কিন্তু তার পরিবার জানে যে তার জীবন এখন কতটা কঠিন। সমাজে তাদের হয়তো নানা কটু কথাও শুনতে হয় এর জন্য। কারণ এটা আমাদের সমাজ। এ সমাজে সমালোচকের অভাব নেই। তার পরিবার এখন তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে সামনে কালো অন্ধকার দেখে। এক হিংস্র পশুর থাবায় তছনছ হয়ে গেলো এক কোমলমতী শিশুর। এদেরকে মানুষরূপী জানোয়ার বললেও জানোয়ারদের অপমান করা হবে। কারণ, জানোয়ারেরাও এতটা নিকৃষ্ট হতে পারে না। সদ্য একটা ধর্ষণের সংবাদ সম্ভবত সবারই জানার কথা। বরগুনাতে এক স্কুল শিক্ষিকাকে গণ ধর্ষণ! একজন শিক্ষিকা, যে কিনা দেশের সবচেয়ে মূল্যবান, মানবসম্পদ তৈরীর কারিগর, তাকেও আজ ধর্ষণের মতো ভয়াবহ ত্রাসের শিকার হতে হচ্ছে। তাহলে আজ এই জাতি গড়ে তুলবে কে? হয়তো আর কোনোদিন ঐ শিক্ষক লজ্জায় মানবসমাজে মুখ দেখাতে পারবেনা। নিজ হাতে গড়ে তুলতে পারবেনা দেশের অমূল্য রত্ন গুলো। এক ধর্ষণ নামক কুৎসিত অপরাধের ফলে জাতি হারালো এক দেশ গড়ার কারিগর। এ সকল জানোয়ারের রুচি আজ কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে শুধু চিন্তা করুন। শিক্ষিকার তথা একজন দেশ গঠনের কারিগরকে যদি ধর্ষণের শিকার হতে হয়, তাহলে অন্য সব সেক্টরে যেসব মেয়ে মানুষ নিয়োজিত, তাদের তো নিরাপত্তা নেই বললেই চলে। সংবাদে দেখলাম, এ নিয়ে বরগুনার সকল বিদ্যালয়ের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তার ধর্ষণের জন্য উপযুক্ত শাস্তির জন্য বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে আবার দেখলাম, এক প্রবাসী ভদ্রলোক তার স্ত্রীকে দেশে রেখে যায়। এই সুযোগে তার পূর্ব শত্রুরা তার স্ত্রীর উপর বারংবার গণধর্ষণ চালায়। তার দুইটা সন্তানও আছে। এখন সে তার সন্তানদের সামনে মুখ দেখাতেও চরম লজ্জা বোধ করছে। বারবার তার মাথায় আত্মহত্যার কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। অর্থাৎ, ধর্ষণ এখন প্রতিশোধেরও হাতিয়ার হয়ে গেছে। এসকল মানুষের চিন্তা ভাবনা এতটাই নিচে চলে গেছে যে, কোনো কিছু হলেই তাদের মাথায় ধর্ষণের ব্যাপারটা চলে আসে। এখন কেউ তার স্ত্রীকে দেশে রেখে গেলে অনেকটা শিয়ালের আস্তানায় মুরগি রেখে চলে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয় দুজনকেই। ধর্ষণের শিকার হয়ে হাজার হাজার মেয়ে আত্মহত্যা করছে। কারণ তারা সমাজে আর মুখ দেখানোর সাহসটুকু পায়না। একটা পরিবারের সব সুখ-শান্তি পুরো ভেঙ্গে তছনছ করে দেয় ধর্ষণ। পরিবারের সম্মানহানির জন্য অনেক কথা শুনতে হয় ধর্ষিতাকে। ফলে সে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। নিমিষেই শেষ হয়ে যায় স্বপ্নে ভরা এক জীবন।

প্রতিদিন এরকম অনেক রকম ধর্ষণের নিউজ দেখতে হচ্ছে আমাদের। এটা দিন যত যাচ্ছে, ততই সাধারণ একটা ব্যাপারে পরিণত হচ্ছে। ধর্ষণের আক্রমণ দিনের পর দিন বাড়ছেই। কারণ ধর্ষকরা তাদের উপযুক্ত শাস্তি পাচ্ছেনা। এর ফলে কিছু কুলাঙ্গার উৎসাহিত হচ্ছে। এমনকি যৌন ক্ষুধা মেটাতে যাকে যেখানে পাচ্ছে, সেখানেই ধর্ষণ করছে। ধর্ষণের পর শাস্তির ভয়ে ধর্ষিতাকে খুন পর্যন্ত করছে। কেন আমাদের প্রতিনিয়ত সংবাদের শিরোনামে ধর্ষণের সংবাদ শুনতে হবে? এ সব কুলাঙ্গারদের কারণে কেন আমাদের মা-বোনের ইজ্জতভ্রষ্ট হবে? এদেশের আইন ক্ষমতা রাখে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধকে নিশ্চিহ্ন করতে। কিন্তু আইনি ক্ষেত্রেও কিছু অমানুষ থাকে যারা টাকার বিনিময়ে পুরো বিষয়টা ধামাচাপা দিয়ে দেয়। এসব কুলাঙ্গারদের ইসলামিক বিধি অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া অতি আবশ্যক। ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হলে এ সমস্ত কুলাঙ্গার অচিরেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। শুনতে হবে না আর যে ঐ স্থানে এক মেয়ে ধর্ষিত।

About The Author
Shahidul Hasan
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment