Now Reading
অনুসন্ধান (১ম পর্ব)



অনুসন্ধান (১ম পর্ব)

[গল্পটি সম্পূর্ন কাল্পনিক। কারো জীবনের সাথে মিলে গেলে তা কেবলই কাকতালীয় ] 

রাত তখন প্রায় ৯ টা। আমি টিউশন শেষে বাসায় ফিরছিলাম। আমাদের বাসায় যাওয়ার গলিতে ঢুকতেই পেছন থেকে শুনতে পেলাম একটা মেয়ে “এই যে, এই যে” বলে কাকে যেন ডাকছে। এই এলাকায় অনেক দিন ধরে থাকার পরও কারো সাথে আমার তেমন পরিচয় নেই। আর যাদের সাথে একটু পরিচয় আছে তাদের কেউ ই মেয়ে নয়। তাই আমাকে কেউ ডাকবে সেটা কল্পনা অযোগ্য। সুতরাং কে কাকে ডাকছে সেদিকে লক্ষ্য করার আমার বিশেষ কোন কারণ নেই। আর সারাদিন পরে বাসায় ফেরাটাই আমার এখন সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজ। তাই স্বভাবত বেখেয়ালি ভাব নিয়ে নিজের পথে অগ্রসর হচ্ছিলাম। হটাৎ পেছন থেকে কেউ একজন আমার শার্ট টেনে ধরলো। আমি সাথে সাথে পেছনে ফিরে তাকিয়ে এত অবাক হলাম যে যদি কখনও ঘুম থেকে উঠে নিজেকে পাহাড় চূড়ায়ও আবিষ্কার করি তখনও হয়তো এতটা অবাক হব না।

একটা মেয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে। ওই জায়গাটায় ল্যাম্প পোস্টের আলো পড়ছে না বলে মুখটা আবছা মনে হচ্ছে। ঠিক চেনা জানা মনে হচ্ছিল না। আমি এতটাই বিস্মিত যে কি বলব বুঝতে পারছিলাম না। এমন ঘটনা আমার সাথে কখনও ঘটতে পারে তা আমার কল্পনাতেও আসেনি। যদি পুর্বে দুই এক দিন এমন পরিস্থিতিতে পরতাম তাহলে হয়তো সেদিনের পরিস্থিতিটা সহজেই সামলে নিতে পারতাম।

যাই হোক, ক্ষণিকের নীরবতা ভেঙ্গে সে বলল; “কতক্ষণ ধরে ডাকছি শুনতে পাও না? নাকি কানে সমস্যা?”

হয়তো স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর দেয়া যেত কিন্তু আমাকে তুমি করে বলাতে আমি আরও একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। একটা সম্পূর্ণ অচেনা মানুষকে প্রথম সম্বোধনেই তুমি বললে যে একটা অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পরতে হয় সেটা তখনই জানলাম।  তবুও যতটা সম্ভব স্বাভাবিক ভাবেই বললাম

  • আমাকে বলছেন?
  • জি, হ্যাঁ।
  • কি বলবেন, বলুন?

এ কথা বলে দুজনেই সামনের দিকে পা বাড়ালাম। অবাক হওয়ার যে আরও বাকি আছে এটা তার কথাতেই বুঝতে পারলাম। সে বলল; “তুমি মাঝে মধ্যে এত রাত করে বাসায় যাও কেন? কোথায় থাকো এতক্ষণ?” আমি তার কথা ঠিক বুঝতে পারলাম না। আমি বললাম- ‘মানে?’

  • মানে তুমি সাধারণত এই সময়েই বাসায় ফের, কিন্তু মাঝে মধ্যে দেরি কর কোথায়? কালকে কোথায় দেরি করেছ?
  • আপনি কিভাবে জানলেন? আপনি কি আমাকে follow করছেন?
  • ঠিক তা নয়, সে যাই হোক উত্তর দাও।
  • আমি তো আপনাকে উত্তর দিতে বাধ্য নই। আগে আপনি বলুন।
  • তুমি কি ভেবেছ আমি বাধ্য? ঠিক আছে, এর পর থেকে সময় মত বাসায় আসবা। ভাল ছেলেরা এত রাত পর্যন্ত বাইরে থাকে না।

মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়েই কথা বলছিল। আর আমি তাকিয়ে ছিলাম সামনের দিকে। আমার একটু বিরক্ত বোধ হচ্ছিল। এমনিতেই আমি কারো দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারি না। কেমন যেন অস্বস্তি লাগে। সমনের দিকে তাকিয়েই আমি তার কথার উত্তর দিতে যাচ্ছিলাম এমন সময় খেয়াল করলাম জায়গাটা যথেষ্ট আলোকিত। তখন আমি তার দিকে ফিরলাম। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা তখনি লাগল। এই মেয়েটাকে এর আগে একবার দেখেছিলাম। সাধারণত দুই এক বার দেখে আমি কারো চেহারা মনে রাখতে পারি না। কিন্তু একটা ঘটনার কারনে তার চেহারাটা মনে পরে গেল। প্রায় দেড় বছর আগে তার সাথে দেখা হয়েছিল একটি ফার্মেসীতে। সেই ঘটনাটিতে আমিও বেশ লজ্জিত হয়েছিলাম। আর লজ্জা পেয়ে তারও মুখটা লাল হয়ে গিয়েছিল। বোধ করি ঘটনাটির বর্ণনা দেয়া নিষ্প্রয়োজন। এরপর তার সাথে আর দেখা হয় নি। আর ঘটনাটিও এত দিন মনে পরে নি আমার।

আমাকে চুপ থাকতে দেখে সে বলল; কি হল, কিছু বলছো না কেন? আমি বললাম; কি বলবো সেটাই তো বুঝতে পারছি না। আমার কথা শেষ না হতেই সে জিজ্ঞাসা করলো; তোমার নাম টা যেন কি?

আমি বললাম; এত কিছুর খোঁজ রাখেন আর আমার নামটাই জানেন না? সেটাও না হয় অনুসন্ধান করে বের করবেন।  আপনার নামটি কি?

  • তুমিও একটু অনুসন্ধানে বের হও না।
  • দুঃখিত, আঁধারের অনুসন্ধানে আমার কোন আকর্ষণ নেই।
  • তাহলে আলোর অপেক্ষায় থাক। কালকে ৯ টায় দেখা হচ্ছে। দেরি করবে না কিন্তু। আর হ্যাঁ, বিস্ময় কিছুটা কমিয়ে দিচ্ছি। তোমাকে অনুসন্ধান করার জন্য বেশি দূর যাওয়ার প্রয়োজন পরে না। আমি এই বিল্ডিং এর ২ তলায় থাকি। বারান্দা থেকেই তোমার আসা যাওয়া দেখা যায়। শুধু নামটা কোথাও লেখা নেই বলে জানা হয় নি।

এ কথা বলেই সে চলে গেল। আমার বাসা আরও সামনে। তাই অনেক খানি বিস্ময় বয়ে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাসায় ফিরলাম। মনের মধ্যে অনেক প্রশ্ন। এই মেয়েটা আমায় কেন follow করছে? কত দিন ধরেই বা করছে? এটা কি স্বপ্ন? কল্পনা নাকি বাস্তবতা? বুঝতে পারছিলাম না। আমি দেখতে এতটাও সুন্দর নই বা আমার মধ্য থেকে এতটা গুণেরও প্রকাশ পায় না যে কেউ আমাকে প্রতিদিন follow করবে। আমি কখন বের হই, কখন বাসায় ফিরি তার হদিস এই অপরিচিত একজন কেন রাখবে? আমার মাথায় কোন কিছুই তখন কাজ করছিল না। রাতের সকল আঁধার যেন আমার মনে এসে ভিড় করছিল ক্রমেই। আমি আর কিছু ভাবতে পারছিলাম না। যা হবার আগামীদিন হবে। এখন একটা গভীর ঘুমের প্রয়োজন; প্রয়োজন ভাবনা থেকে বের হয়ে আর একটা অবাস্তব জগতে হারাবার……

(চলবে…)

About The Author
Maruf Mahbub
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment