কারেন্ট ইস্যু

বাংলাদেশের সমর্থকঃ পজেটিভ ও নেগেটিভ

বাংলাদেশে আজকের দিন হিসাব করলে কমপক্ষে ১৮ কোটি মানুষের বাস। প্রতিটা দেশেই কমবেশি বিভিন্ন খেলাধুলা থাকে। অবশ্য প্রতিটা খেলাই যে দর্শকদের মন আকর্ষণ করে তা নয়। একেক শ্রেণীর মানুষ এক এক খেলার প্রতি আকৃষ্ট থাকে। আমাদের দেশে যেসব খেলাধুলার অফিশিয়াল প্রতিষ্ঠান আছে অর্থাৎ যেসব খেলার সাথে আমাদের দেশের মানুষ সম্পৃক্ত, সেগুলো হলো ক্রিকেট,ফুটবল,হকি,কাবাডি,ব্যাডমিন্টন,হ্যান্ডবল,দাবা,গল্ফ ইত্যাদি। আবার এথলেটিক্সও আছে।

তবে এর মধ্যে সব খেলায় আমাদের দেশের খেলোয়াড়েরা ভালো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। সবগুলো খেলা আমাদের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় না। এরমধ্যে আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হচ্ছে ক্রিকেট। আমাদের দেশে ক্রিকেটের দর্শক ও সমর্থকের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কারণ আমাদের দেশের খেলোয়াড়েরা ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছে। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান দেখলেই তা বোঝা যায়। আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেট পাগল দেশ, এটা আমরা সবাই জানি। সারা ক্রিকেট বিশ্বই জানে যে বাংলাদেশের মানুষ কতটা ক্রিকেট পাগল। ছোট ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরী,যুবক-যুবতী,এমনকি বৃদ্ধারাও এখন ক্রিকেটপ্রেমী। যদি কখনো বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচ থাকে, তো সেদিন মানুষের সব কাজ বন্ধ। সবাই এক কাতারে টিভির সামনে।

সে যত বড় কাজই হোক। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলে সেটা যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতেই হবে। কারণ আজ তার পছন্দের দলের খেলা। আমাদের দেশের মানুষ এতটাই ক্রিকেটপ্রেমী, যে আমাদের দেশের মানুষ যদি বিকালে অবসর সময় পায় তো ক্রিকেট খেলেই কাটায়। আমরা প্রায় সবাই আমাদের দেশকে প্রতিটা খেলায় সমর্থন করি। সেটা মিরপুরে খেলা হলেই বোঝা যায়। গ্যালারি কানায় কানায় ভরা থাকে সাকিব-তামিমদের খেলা দেখার জন্য। পুরো স্টেডিয়াম হাউজফুল হয়ে যায়। খেলার আগে টিকেটের জন্য পড়ে লম্বা লাইন। টিকেট বিক্রি করতে গিয়ে কতৃপক্ষ প্রায়ই বিভ্রান্ত হয় এটা আমরা প্রায়ই দেখি। কেউ কেউ উত্তরবঙ্গ, কেউ আবার দক্ষিণবঙ্গ থেকে খেলা দেখতে ছুটে যায় ক্রিকেটের টানে। সিলেট,বরিশাল,চট্টগ্রাম থেকেও ছুটে আসে অনেকে। লম্বা লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকে মহামূল্যবান সোনার হরিণ এর ন্যায় একটা টিকেটের জন্য। এমন অনেক সময়ই দেখা যায় যে, কেউ কেউ ভোর ৪টা কিংবা ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে যাতে টিকেট ফুরাবার আগেই সংগ্রহ করতে পারে। টিকেট হাতে পেলে মনে হয় সে যেন সোনার হরিণ পেয়েছে। অনেকে টিকেট না পেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কালোবাজার থেকে টিকেট কেনে তার প্রিয় দলের, প্রিয় খেলোয়াড়ের খেলা দেখার জন্য। আর যারা টিকেট শেষ পর্যন্ত পায়না, আক্ষেপে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরে। কেউ আবার ক্ষোভও ঝাড়ে। কতটা ক্রিকেটপ্রেমী আমাদের দেশের সমর্থকরা!

আমাদের দেশের সব সমর্থকের মনোভাবই যে এক, তা মোটেও না। আমার দৃষ্টিতে আমি আমাদের দেশে তিন শ্রেণীর সমর্থক দেখতে পাই। তা হলো বুঝবান সমর্থক, অবুঝ সমর্থক আর হলো প্রেমিক সমর্থক। আগে প্রেমিক সমর্থকের ব্যাপারটা পরিষ্কার করি। প্রেমিক সমর্থক হচ্ছে তারা, যারা খেলাটা খুব একটা বেশী দেখেনা, তেমন বোঝেও না, কাওকে খুব একটা চিনেনা তবে কখনো কারো সমালোচনা করেনা এবং সবাইকে খুব ভালোবাসে। এ ধরনের সমর্থকেরা একা একা খেলা দেখেনা, তবে যখন কেউ খেলা দেখে,তার সাথে বসে খেলাটাকে বেশ উপভোগ করে। এরা খেলা দেখার সময় তেমন কথা বলেনা। অন্যান্য দর্শকেরা যখন সমালোচনায় ব্যস্ত থাকে, তখন এরা সেই সমালোচনা শুনতে থাকে এবং তা থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করে। এবার আসি বুঝবান সমর্থকদের ব্যাপারে।

মূলত এসব সমর্থকেরা কট্টর সমর্থক হয়ে থাকে। এরা অনেক ছোটবেলা থেকে খেলা দেখে। তবে সবাই যে ছোটবেলা থেকে খেলা দেখে বলেই বুঝবান সমর্থক তা কিন্তু নয়। বুঝবান সমর্থক হতে গেলে একটা খেলার বিভিন্ন সূক্ষ্ম বিষয় গুলোতেও জ্ঞান অর্জন করতে হয়। না বুঝে কোনো ডিসিশনে যারা উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলা শুরু করে, তাদেরকে আর যাই হোক, বুঝবান সমর্থক বলা যায়না। একটা সমর্থককে তখনই বুঝবান বলা হয়, যখন সে তার প্রিয় দলের যেকোনো ডিসিশনকে সম্মান করে।

দলের যেকোনো বিপর্যয়ে ধৈর্য ধারণ করে। দলের বিপর্যয়ে কখনো দল সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলেনা। এরা খেলাটাকে বিশ্লেষণ করতে জানে। তবে আমাদের দেশের মানুষের আবেগ একটু বেশিই। আমাদের দেশে কিছু সমর্থক আছে যারা স্রোতে গা ভাসানোর মতো সমর্থন করে। অর্থাৎ দল ভালো খেললে প্রশংসায় ভাসায়,আর দল একটু খারাপ করলেই সমালোচনা করতে তাদের এক মুহূর্ত সময় লাগেনা। কিছু সমর্থক বলব না, ম্যাক্সিমাম বাংলাদেশী সমর্থকদেরকেই এরকম আচরণ করতে দেখা যায়। এরা দল ভালো করলে,দলের কোনো খেলোয়াড় ভালো করলে তাকে নিয়ে যায় সর্বোচ্চ উচ্চতায়। মনে করেন,সাব্বির বা সৌম্যের মতো উদীয়মান তারকারা একটা সেঞ্চুরি হাঁকালেই তাকে রিকি পন্টিং বা টেন্ডুলকারের কাতারে পাঠাতে খুব একটা বেশি সময় নেয় না। আবার যারাই গতদিন এরকম পারফর্ম করেছিলো, তারাই যদি কোনো পারফর্ম করতে না পারে তাহলে তাদের নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলতে তাদের একটুও বাঁধেনা। তাদেরকে পাড়ার খেলোয়াড় বানিয়ে দেয়। পরের ম্যাচে তাদেরকে একাদশে দেখলেই দল নির্বাচককে গালি দেওয়া শুরু করে। তখন বলে, সোম্যকে বা সাব্বিরকে কেনো দলে নেয়?

তাদের চিন্তাধারা এত কমে যায় যে তখন তারা ওপেনিং ব্যাটসম্যান এর জায়গায় মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানকে জায়গা দিতে সম্মতি জানায়। একটা কথা বলি, কোনো খেলোয়াড়ই সেচ্ছায় খারাপ খেলে না। খেলাটা অত সহজ না। তারা কঠোর পরিশ্রম করে যোগ্যতা দিয়েই এ পর্যায়ে গেছে। তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালি দেওয়া নির্মম ব্যাপার। তারা দেশের জন্য ১০০% ই দেওয়ার চেষ্টা করে। আপনি ভাবুন তো, আপনি ওর পর্যায়ে কি যেতে পারছেন? পারেননি। তাহলে তো আপনি তার সমালোচনা করার যোগ্যতাই অর্জন করেননি। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, বাইরের দেশের সমর্থকেরা কোনো দলের বিপর্যয়েও তাদের পাশে থাকে। প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচেও তার দলের কোনো খেলোয়াড় কোনো কিছু অর্জন করলে তাকে সাদুবাদ জানায়। কিন্তু আমরা কি করি? বিভিন্ন ধরনের ভুল ধরতে থাকি। টিম সিলেকশন ঠিক ছিল না, এই প্লেয়ারকে কেনো নিয়েছে, এ কিছুই খেলতে পারেনা ইত্যাদি। একটা জিনিস দেখেন, সোয়েব আলিকে নিশ্চয় চিনেন যদি আপনি সত্যিই বাংলাদেশের সমর্থক হয়ে থাকেন। সে তার সব কিছু ত্যাগ করে নিঃস্বার্থে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সমর্থন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ দল জিতুক বা হারুক, সে সবসময় পাশে আছে। দল জিতলে বাঘের মতো গর্জন করে দলকে উজ্জীবিত করে, হারলে তাৎক্ষণিক কেঁদে মনকে শীতল করে “এবার হবে” বলে দলকে উৎসাহ জোগায়। পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাংলাদেশের খেলা থাকুক না কেনো, সোয়েব আলি হাজির। সমর্থক যদি হয়েই থাকেন, তো সোয়েব আলির মতো হোন। আমাদের খেলোয়াড়েরাও কিন্তু তার দেশকে ভালোবাসে,তার জান-প্রাণ উজার করে দেয় দলকে জেতাতে। তাদেরকে ভালোবাসুন। উপভোগ করুন প্রিয় দলের খেলাকে।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

খোকা বাবুর প্রত্যাবর্তন )

Md. Moinul Ahsan

প্রধানমন্ত্রীর “স্ট্রাটিজি” কীভাবে সামলাবেন ভারত ও চীনকে

MD BILLAL HOSSAIN

প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করা কিংবা ঘুষ খাওয়া অামাদের বিড়াল প্রজাতির কাছে অপরাধ না তবে প্রেমিকাকে অালিঙ্গন করা অপরাধ!

rafiuzzaman

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy