Now Reading
কোম্পানীর জন্য নতুন কনসেপ্ট পেপার মানে নতুন প্রকল্প তৈরীর কৌশল



কোম্পানীর জন্য নতুন কনসেপ্ট পেপার মানে নতুন প্রকল্প তৈরীর কৌশল

নতুন একটি কনসেপ্ট বা ধারনা দেয়া প্রকঅফিসারদের কাজ। অফিসে নতুন নতুন কাজ বা প্রকল্প দিতে পারলে ম্যানেজমেন্ট আপনার উপর খুশি হতে পারে। কারন নতুন কিছু করাই তরুনের কাজ। কাজটাকে কাজ হিসাবে না নিয়ে খেলা হিসাবে নেওয়া যায়।

যাহোক এখন শুরু করা যাক। প্রথমে একটি এক্সিকিউটিভ সামারী থাকে। এক্সিকিউটিভ সামারীতে থাকে  প্রজেক্টটি কি হবে মানে প্রকল্পের কাজটি কি এবং কি কারনে এই প্রজেক্টটি দরকার। কেন আমি প্রজেক্টটি বানাব এবং এই প্রকল্পের সল্পমেয়াদী এবং ভবিষ্যৎ সম্ভবনা কি হবে ইত্যাদী ইত্যাদী।

এখন ধরে নিলাম আমার উপরের সব বিষয় এর উত্তর পেয়ে গেলাম। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে।

এখন আমরা যেটা করতে পারি তা হলো প্রকল্পসন্মন্ধে বিস্তারিত আলোচনা এবং সমালোচনা। যেমন প্রজেক্টটি কি? প্রকল্পএর লোকেশন কোথায় হবে এবং প্রকল্পের ভীতরে কি কি জিনিস বা প্রযুক্তি প্রয়োজন হবে ইত্যাদী।

প্রকল্পের টার্গেট  জনগোষ্ঠী কারা এবং তাদের বয়স কত বছর এবং তারা ছেলে না মেয়ে তা সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা দরকার। যদি শিক্ষা বিষয়ক কিছু হয় তা হলে তাদের পাশের হারটাও জানা দরকার।  এই প্রকল্পশুরু করলে সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা মেনে চলতে হবে কিনা তাও জানা দরকার।

প্রজেক্টটি শিক্ষা প্রকল্প ও হতে পারে। যদি শিক্ষা বিষয়ক হয় তাহলে জানতে হবে প্রতি বছর কত জন ভর্তি হয়, পাশের হার কত এবং ড্রপআউট এর হার কত তাও জানা দরকার।  সেই সংখ্যা গত পাঁচ বছরের হিসাব ও হতে পারে।  ড্রপ আউট কিন্তু পরীক্ষায় ফেল এর কারনেও হতে পারে। অথবা পড়াশুনা ছেড়ে চলে যাওয়াও হতে পারে।

প্রকল্পটি যদি শিক্ষা বিষয়ক হয় তাহলে পাশ করার পর চাকুরীর নিশ্চয়তা আছে কিনা। চাকুরী দেয়ার দ্বায়ীত্ব কার এবং চাকুরীর গ্যারান্টি কত টুকু তাও বিস্তারিত আলোচনা করা দরকার। মানে প্রকল্পের ফলাফল কি হবে তার একটি ওভারভিউ দিতে পারলে ভাল হয়।

প্রকল্প এর নির্দেশনা এবং পদ্ধতি বা নিয়ম কানুনগুলো পর্যায়ক্রমে দিতে হবে। যেমনঃ প্রথমে থাকবে প্রকল্পের নাম, তারপর থাকবে প্রকল্পের দাতা সংস্থা কারা অথবা কিভাবে কার থেকে  টাকাটা নিব। পরবর্তীতে দিতে হয় এই প্রকল্পটি দাঁড়ালে কারা সুবিধা হবে অথ্যাৎ আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী সুবিধাভোগকারীরা টাকা পাবে কিনা তার নিশ্চয়তা। এর পর দিতে হবে আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী জনসংখ্যাবৃদ্ধির হার একই রকমভাবে  আগামী ৫ বছরের হিসাব পর পর আলোচনা করা থাকলে ভাল হয়। পরবর্তীতে থাকতে পারে কোন কোন খাতে টাকা দিতে হবে অথবা প্রকল্পের খাতওয়ারী খরচের হিসাব দিতে হবে।  কতদিন পর পর টাকা কত দিতে হবে তার একটি হিসাব থাকতে পারে।

প্রজেক্টটি চালু রাখতে হলে কি কি দরকার এবং তার পরিমান কত তারও একটি ধারনা দিতে হবে। শিক্ষা প্রকল্পহলে পরীক্ষায় কত পেতে হবে বা কত পেলে আমাদের প্রকল্পে চলমান থাকবে তার একটি ধারনা থাকা দরকার।

প্রতি বছর প্রকল্প চালানোর জন্য কত লোকবলের প্রয়োজন তা পরিষ্কার ভাবে বলা থাকতে হবে। প্রকল্পে সফলতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং তাকে মোকাবেলা করতে হলে প্রকল্পের সফল হবে কিনা তার একটি পরিস্কার গাইডলাইন থাকতে হবে। তা না হলে প্রকল্পসফল হওয়াটা  কঠিন হবে।

প্রকল্পসফল হতে হলে দরকার  সঠিক সিদ্ধান্ত এবং একতা বদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া আরো দরকার কঠোর পরিশ্রম এবং সাহস।  যেকোন প্রকল্পদাড় করাতে বাজেট দরকার আর দরকার একটি সঠিক সিদ্ধান্ত তথ্যাৎ ব্যতীক্রম পদক্ষেপ, সঠিক নীতিমালা এবং কাজ এর পরিকল্পনা।

শিক্ষামূলক কোন প্রকল্পহলে দেখা দরকার শিক্ষার নীতিমালা সরকারী নীতিমালার সাথে মিলছে কিনা। প্রকল্পের কাজ কি এবং প্রকল্পের সাথে কে কে যুক্ত আছেন বা করা ভবিষ্যতে থাকবেন এবং যে জনবল আমরা নিয়োগ দিয়েছি তারা ঠিকমত কাজ করছে কিনা তা নিশ্চিত করা আশু প্রয়োজন আর তা না হলে প্রকল্পকরে খুব একটি লাভ হবে না। প্রজেক্টটি মানুষের কল্যানের জন্য হলে আসল মানুষ লাভবান হচ্ছে নাকি অন্যের পকেটে টাকা চলে যাচ্ছে তাও দেখা দরকার।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা যে সারাংশ পেলাম তা হলো নিম্নরুপঃ

প্রথমে থাকে একটি প্রকল্পের সারাংশ সেখানে বিস্তারিত থাকে প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণী।   প্রকল্পের বিষয়বস্তু সহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে কারা সুবিধা পাবে এবং প্রকল্প করে কি লাভ হবে তার বিস্তারিত বিবরণ প্রথম অংশে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তার পরে হয় প্রকল্প বাস্তবায়ন এলাকাসমূহ এবং কোন এলাকায় কি কাজ হবে তার বিস্তারিত বিবরণী সাথে কে কোন কাজ করবে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণী টেবিল আকারে দিলে ভাল হয়।

আরো থাকতে পারে প্রজেক্টের পারফরম্যান্স এবং গত পাঁচ বছর এ শিক্ষা ক্ষেত্রে পাশের হার অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্ভবনার ক্ষেত্র। কোন কোন ক্ষেত্রে কোঠা আছে কিনা এবং সরকারী নীতিমালা আছে কিনা তাও দেখা দরকার।  সাথে থাকতে পারে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মানে করে আসলে লাভ হবে নাকি ক্ষতি হবে তার আলোচনা। কি কি কারনে প্রজেক্টটি বাস্তবায়ন করা দরকার এবং প্রকল্পের প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট এ কত টুকু সময়ের ভিতরে কার কি কাজ তা বিস্তারিত ভাবে থাকা উচিৎ।  প্রজেক্ট এ প্রতি বছর কাজগুলো সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা এবং সময় মত কাজ হচ্ছে কিনা তা থাকা বেশি জরুরী।

সবশেষে, প্রজেক্ট হলে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশী হচ্ছে কিনা তা থাকা অত্যাবশ্যক।

About The Author
Muhammad Uddin
I am Md. Musleh Uddin, I am now doing job and part time article writinging footprint, I love to work with footprint
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment