চট্টগ্রাম

লোকপূরাণ -বেহুলা লক্ষ্মিন্দরের কাহিনি অজানা সব তথ্য

বেহুলার বাসরঘর নিয়ে আমরা অনেক কথাই শুনে থাকি । সে কাহিনি ছাপার হরফে হরেক রকমরে পুস্তক আকারে এখানে বেড়াতে বা মানত করতে আসা শত শত দর্শনাথীর কাছে কিনতে দেখা যায় । এছাড়াও মুদির দোকানে এবং গেটের ভিতরে অস্থায়ীভাবে অনেক  দোকান বসে প্রতিদিন । কিছু হকার ব্যাগের মধ্যে করে বই নিয়ে বাসরঘরে বেড়াতে আসা দর্শনাথীদের পিছে পিছে ঘুরে বেহুলা কাহিনি বলে আর ব্যাগ থেকে ছোট পুস্তিকা মেলে ধরে । ভেতরের রঙিন বা সাদা কালো হাতে আকানো ছবি । কেউ কেউ আবার সিডি আকারেও কেনাবেচা করছে ।

গোকুল মোড় হতে কিছুদূরে চাঁদসওদাগর বা চন্দ্র বণিকের বাসগৃহ । ঐশ্বর্যশালী এই বণকি শবের ভক্ত । শিবপূজা করত ।কিন্তু নাগকন্যা মনসা দেবীকে পূজা না করলে দেবী অনেক চেষ্টা করেন কিন্তু ব্যর্থ হন । অনেক চেষ্টা করে মনসা দেবী । তাহার রোষানলে চাঁদসওদাগর ।প্রতিশোধ স্পৃহা জেগে ওঠে মনসা মনে । সে নিজেই  চাঁদসওদাগর বা চন্দ্র বণিকের বাসগৃহে গমন করেন । চাঁদসওদাগরকে তাহার পূজা করার প্রস্তাব দেয় । কিন্তু সিদ্ধান্তে অটল চাঁদসওদাগর মনসা দেবীকে হেমতালের ডাল দিয়ে বেতাঘাত করিয়া তাড়াইয়া দেন । ক্ষিপ্ত মনসা চাঁদসওদাগরকে অভিসাপ দেয়,যতক্ষণ পর্যন্ত সে (চাঁদসওদাগর) দেবী মনসার পূজা না করিবে ততক্ষণ পর্যন্ত চাঁদসওদাগরের বংশ নির্বংশ হইতে থাকিবে । মনসা মঙ্গেলের পৌরাণিক কাহিনিতে বর্ণিত আছে যে সর্পের দেবী মনসা, শিব কর্তৃক আদিষ্ঠ হইয়া চাঁদসওদাগরের কাছে পূজা লইতে আসিয়াছেন। কারণ চাঁদসওদাগর পূজা দিলে পৃথিবীর বুকে মনসা পূজা প্রতিষ্ঠিত হইবে । আনুমাণিক খ্রিষ্টপূর্ব ১২ শ’ শতাব্দির মধ্যে বহুল প্রচলিত ও সর্বস্তরের মানুষের অারাধ্য বেহুলা-লক্ষ্মিন্দর মেড়টি নির্মিত হয় ।

কথিত আছে ,

চাঁদসওদাগর তাহার পুত্র লক্ষ্মিন্দরের জন্য বাসু বেনের মেয়েকে পুত্রবধু করাইয়া গৃহে আনায়ন করিতে চাহিলেন । কিন্তু মুক্তেশর তাহার কন্যাকে চাঁদসওদাগরের পুত্রের নিকট বিবাহ দিতে রাজি হইলেন না ।পদ্মাদেবী বেহুলা সুন্দরীকে পতি হিসেবে বরণ করতে বলেন ।চাঁদসওদাগকে মনসা দেবী যে কথা বলেছিল তার কথা ভেবে চাঁদসওদাগর বিশ্বকর্মাকে লোহার ঘর বানাইতে আদেশ দিলেন কিন্তু স্বপ্নে মনসা দেবী বিশ্বকর্মাকে মৃত্যুর ভয় দেখালে সে ঘরের মধ্যে ছিদ্র করে । তারপর সেই রাতে মনসা লক্ষ্মিন্দরকে  কামড় দেয় ফলে লক্ষ্মিন্দর মারা যায় । তারপর ভেলায় করে মৃত পতির সাথে তাকে ভেসে দেওয়া হয় । এক পর্যায়ে বেহুলা তার পতিকে সঙ্গে নিয়ে দেবলোকে গেল ,শিব তার নৃত্যে মুগ্ধ হইলো এবং তার পতিকে প্রাণ ফিরে দিল ।

বেহুলা-লক্ষ্মিন্দর সকলকে লইয়া গৃহে ফিরিয়া গেল । সুখে বসবাস করিতে লাগিল ।

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

জলের শহর… চট্টলা

fahadul islam

“বগালেক” আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দন লেক

Afroj Jahan

বহু প্রবীণ নেতার ভিড়ে এক উজ্জ্বল তরুণ নেতৃত্ব

MP Comrade

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: