খেলাধূলা

ইউরোপিয়ান ফুটবলের মহান ভবিষৎবাণী / এখনই জেনে নিন কে জিতবে কে হারবে !!!

বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের খেলা শেষ না হতেই আগামী সপ্তাহ থেকে আবার শুরু হয়ে যাচ্ছে ক্লাব ফুটবল। এরই মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এর প্রথম রাউন্ড এর ড্র অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে, দল গুলো ও জেনে গেছে প্রতিপক্ষের নাম। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে এবার ফেভারিট এর তকমাটা রিয়েল মাদ্রিদ এর গায়ে ভালো ভাবেই চেপে বসেছে। সকল ফুটবল পন্ডিত আর বিশ্লেষকগণ এই ব্যাপারে মুটামুটি একমত। এমনকি সকল ক্লাব গুলোও সমীহ করছে তাদের, এদিকে বুকিদেরও প্রথম পছন্দ রিয়েল মাদ্রিদ। না হয়েই বা উপায় কি? রিয়েল মাদ্রিদ সকল বাধা পেরিয়ে গতবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম দল হিসেবে পরপর দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এর শিরোপা ঘড়ে তুলেছে। রিয়েল মাদ্রিদ এর সাম্প্রতিক ধারবাহিকতা, দলে ইস্কো আর আসেনসিওর আভির্ভাব, রোনালদোর গোল খুদা এবং সকল প্লেয়ার দেড় ভালো করার তাগিদ, এর সাথে রয়েছে জিদান এর কৌশল। গেলো আঠারো মাসে জিদানের দেখানো পথে চলে সাতটি শিরোপা ঘরে তুলেছে রিয়েল এবং এই সময়ে মাত্র সাতটি ম্যাচে পরাজিত হয়েছে তারা। তাই নিশন্দেহে এই বারের চ্যাম্পিয়নস লীগের অন্নতম দাবিদার রিয়েল মাদ্রিদ।

এবার চলে আশা যাক সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল লীগ ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের বিশ্লেষণে। সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ এই লীগে আগে থেকে বলা মুশকিল, যে কে শিরোপা জিতবে আর কে শীর্ষ চার এ থেকে পরবর্তী চাপিয়েন্স লীগে খেলার টিকেট হাতে পাবে। এই যেমন ২০১৫/১৬ মৌসুমে সবাইকে চমকে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন লিস্টারসিটি ফুটবল ক্লাব। আর গেলো বার চেলসি, নতুন কোচ নিয়ে অনায়েসে শিরোপা ঘরে তুলেছে। যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কে সবাই ভেবেছিলো  শিরোপার দাবিদার, তারাই কিনা বহু কষ্টে ঠায় পেয়েছে লীগে টেবিল এর ছয় নম্বর স্থানে। তাই ইংলিশ লীগে আগে ভাগে সঠিক অনুমান করা সত্যি দুস্কর। তবে এখন পর্যন্ত দলের পারফর্মেন্স আর দলের গভীরতা বিবেচনা করলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর ম্যানচেস্টার সিটি কেই বেশি যোগ্য মনে হচ্ছে এবং এটাও মনে রাখতে হবে এই দুই দলের কোচ যথাক্রমে মৌরিনহো ও পেপ গার্দিওলা। তবে সকল দিক বিবেচনায় গার্দিওলার মানসিটিকেই আমি এগিয়ে রাখবো এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কে রাখবো দ্বিতীয় স্থানে। দল হিসেবে খুব বেশি পিছিয়ে নেই চেলসি ফুটবল ক্লাবও। গেলো ট্রান্সফার মার্কেট এ খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি গত বারের চ্যাম্পিয়নরা। তার উপর গত মৌসুমে চেলসিকে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ বা ইউরোপা লীগে খেলতে হয় নি। এবার সে সুযোগ থাকছেনা, কেননা চ্যাম্পিন্স লীগে এ ভালো করার চাপটা থাকবে ভালো ভাবেই। এইসব বিষয় বিবেচনা করে মনে হয়না চেলসি ফুটবল ক্লাব তাদের শিরোপা ধরে রাখতে পারবে। তবে তাদের অবস্থান শীর্ষ তিনে থাকা উচিত। ইংলিশ লীগের আরেক শিরোপা প্রত্যাশী লিভারপুল এফ সি । ক্লাবটি খুব বেশি খেলোয়াড় দলে ভেড়াতে না পারলেও জার্মান কোচ কলোপ এর নির্দেশনায় লিভারপুলের আক্রমণ ভাগ সমীহ করার মতোই। তবে গত বার চ্যাম্পিয়ন্স লীগে খেলতে হয়নি কলোপ এর লিভারপুল কে, আর দলের রক্ষণ ভাগে কোনো নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় কিনতে পাড়ার ব্যার্থতা ভোগাতে পারে লিভারপুলকে, তাই এবার মনে হচ্ছে চতুর্থ স্থানই অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। আর্সেনাল এর মৌসুমটা যে ভালো যাবেনা সে বেপারে মোটামুটি সকল ফুটবল বিশ্লেষকরা একমত। আর্সেন ওয়েঙ্গার কে হয়তো সরে যেতে হতে পারে ক্লাব থেকে।

এবার চলে আসা যাক লা লিগা বা স্পেনিশ প্রিমিয়ার লীগ বিশ্লেষণে। স্প্যানিশ লীগে লড়াইটা রিয়েল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এথলেটিকো মাদ্রিদ কে ভুলে গেলে চলবে না। তারকা খোচিত রিয়েল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনা কে পেছনে ফেলে এইতো ২০১৩/১৪ মৌসুমে শিরোপা অর্জন করে সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে যে তারও খুব পিছিয়ে নেই। এমন কি চ্যাম্পিয়ন্স লীগে নিজেদেরকে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে মনে হয় না এইবারের  ঘরোয়া মৌসুমে খুব ভালো করতে পারবে মাদ্রিদের এই ক্লাবটি। কেননা ট্রান্সফার ব্যান থাকায়, নতুন কোনো খেলোয়াড় এনে দলের শক্তি বাড়ানোর সুযোগ ছিল না। তাই এথলেটিকো মাদ্রিদ কে মৌসুমের শেষে তৃতীয় স্থানে দেখবো বলে মনে হচ্ছে, চতুর্থ স্থানে এইবার হয়তো রিয়েল ব্যাটিস কে দেখা যেতে পারে যদিও সেভিয়ার মতো ক্লাবের সাথে অব্যশই যুদ্ধ করেই নিতে হবে চতুর্থ স্থানটা। বর্তমান সময়ে রিয়েল মাদ্রিদ কে অপ্রতিরোধই মনে হচ্ছে। সাম্প্রতিক ফর্ম আর সাফল্য বিবেচনায় মনে হচ্ছে রিয়েল মাদ্রিদ এবার তাদের শিরোপাটা ধরে রাখতে সক্ষম হবে। নিকট প্রতিনন্দী বার্সেলোনা নেইমারকে হারিয়ে এখনো সামলে উঠতে পারেনি। আর ট্রান্সফার মার্কেট ও বার্সার জন্যও ভালো যায়নি। যত কিছুঁই হোক বার্সাতে আছেন লিওনেল মেসি । তাই আশা করা যায় রিয়েল মাদ্রিদের সাথে   বার্সেলোনার লড়াইটা আকর্ষণীয়ই হবে।

এইবার একটু করে আলোচনা করে নেয়া যাক ইতালিয়ান,জার্মান,আর ফ্রেঞ্চ লীগ এর সম্ভাব্য শিরোপা প্রত্যাশীদের নিয়ে। জার্মান লীগ একচেটিয়া লীগ হিসেবে পরিচিত হয়েছে আগেই। তাই এই বছরেও বায়ার্ন মিউনিখ শিরোপা ধরে রাখবে তা মোটামুটি নিশ্চিত বলা যায়। ইতালিয়ান লীগের শিরোপাও জুভেন্টাসের আধিপত্য গত ছয় বছর ধরে, যদিও এসি মিলান নতুন করে দল সাজিয়েছে এই মৌসুমে, এই দলটি গুছিয়ে উঠতে আরো এক বছর কমপক্ষে লাগবে। তাই আমার অনুমান মিলান তৃতীয় স্থানে শেষ করবে। দ্বিতীয় স্থানে রাখবো নাপোলিকে এবং আশা করা যায় জুভেন্টাসের সাথে প্রথম স্থানের লড়াই টা ভালোই জমবে।  

লীগ ওয়ান বা ফ্রেঞ্চ লীগে গত বারের অপ্রত্যাশিত চ্যাম্পিয়ন মোনাকো এবারেও মৌসুম এর শুরুটা ভালো ভাবে করেছে,যদিও দলবদলের বাজারে হারিয়েছে এমবাপের মতো উঠতি তারকা সহ বেশ কিছু খেলোয়াড় যারা গতবার মোনাকোর শিরোপা জয়ের পিছনে সক্রিয় ছিলেন।

এইদিকে সময়ের অন্যতম আলোচিত ক্লাব পি এস জি নিজেদের ১৭/১৮ মৌসুম শুরু করেছে নেইমার এর হাত ধরে, আর এখন তার সাথে যোগ হচ্ছে এমবাপে। তারকা খচিত এই ফ্রেঞ্চ ক্লাবটিই নিসন্দেহে লীগ ওয়ান এর অন্যতম দাবিদার।

পরিশেষে, খেলাটি যখন ফুটবল যেকোনো কিছুই হতে পারে। 

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

আবেগের আরেক নাম রিয়াল মাদ্রিদ

Shahidul Hasan

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে আজ বাংলাদেশ মুখমুখি হচ্ছে ভুটানের

MD BILLAL HOSSAIN

১০ ওভারে ৩৬ রান ও কিছু কথা

Md. Nizam Uddin

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy