দ্যা ম্যাট্রিক্স

Please log in or register to like posts.
News

বর্তমান যুগে বোধ হয় এমন কোনও মানুষ নেই যিনি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি শব্দটির সাথে পরিচিত  নন। এই প্রযুক্তিটি ভিডিও গেম আর হলিউড মুভি গুলোতে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। যারা ভিডিও গেম খেলেন তাদের কাছে জিনিসটা বেশ মজার। কিন্তু কেউ যদি এর দ্বারা আপনার মনকে কারাবন্দীদের মত কয়েদ করে ফেলে আর আপনার মন আর মস্তিষ্ককে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যাবহার করে তখন কি হবে? ১৯৯৯ সালে ওচাঅচকিস ভ্রাতৃদ্বয় এমন একটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে দ্যা ম্যাট্রিক্স মুভিটি পরিচালনা করেন। মূলত এটি একটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনী নির্ভর অ্যাকশনধর্মী মুভি।

কাহিনী

থমাস এ এন্ডারসন একই সাথে দুই ধরনের জীবনযাপন করে। দিনের বেলায় সে একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার। আর রাতের বেলায় নিও নামের হ্যাকার। অনলাইনে কাজ করার সময় প্রায়ই অপ্রত্যাশিত ভাবে রহস্যজনক দ্যা ম্যাট্রিক্স শব্দটির সাথে তার পরিচয় হয়। এ থেকে তার ধারনা হয় যে তার চারপাশে অস্বাভাবিক কিছু একটা হচ্ছে। এই সময় ত্রিনিতি নামে একজন অখ্যাত হ্যাকার তার সাথে যোগাযোগ করে। নিও তার কাছে জানতে পারে যে মরফিয়াস নামের এক বিখ্যাত হ্যাকার  এই অস্বাভাবিকতার ব্যাখা করতে পারে। নিও ঠিক করে সে মরফিয়াস এর দেখা করবে। এজেন্ট স্মিথ এর নেতৃত্বে কয়েকজন এজেন্ট নিওর সাথে দেখা করতে তার অফিসে যায় এবং বলে যে মরফিয়াস একজন সন্ত্রাসী;তাকে আটক করতে নিও যেন তাদের সাহায্য করে। নিও মরফিয়াসের সাথে দেখা করে। মরফিয়াস নিওকে দুটি পিল দেয়। একটা লাল রঙের যেটি খেলে সে সত্য জানতে পারবে।আরেকটি নীল রঙের যেটি খেলে সে তার আগের জীবনে ফিরে যাবে। নিও লাল রঙের পিল গ্রহণ করে। এর পর সে নিজেকে একটি পাত্রের ভিতরে আবিষ্কার করে। তার মত আরও অনেক মানুষ কে দেখতে পায়। তাদের সবার দেহের সাথে তার লাগানো আছে যেগুলো একত্রে মিলে একটি বৈদ্যুতিক ব্যাবস্থার সাথে যুক্ত। তাকে উদ্ধার করে নেবুচাদনেজার এ নিয়ে আসা হয়। মরফিয়াস তাকে জানায় যে ২১ শতকের শুরুর দিকে মানবিক বুদ্ধিসম্পন্ন ম্যাশিন মানব সমপ্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। মানুষ তাদেরকে সৌরশক্তি ব্যবহার করতে বাধা দিলে তারা মানবদেহের জৈব তড়িৎকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। ম্যাট্রিক্স পৃথিবীর কৃত্রিম রূপ যেখানে মানুষের মনকে বন্দী করে রাখা আছে। নিও তার জন্ম থেকেই সেখানে বাস করছে। মরফিয়াস আর তার সাথের লোকজন এক বিদ্রোহী সঙ্ঘের সাথে জড়িত যারা ম্যাট্রিক্সকে হ্যাক করে তাদেরকে উদ্ধার করেছে। আর এজেন্টরা হল মানবিক বুদ্ধিসম্পন্ন প্রোগ্রাম যারা এই সিস্টেমের জন্য ক্ষতিকারক জিনিসকে অপসারণ করে। মরফিয়াস নিওকে যুদ্ধ করার বিভিন্ন কৌশল শেখায়। অরাকল নামের একজন প্রফেট ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন যে মানবসমপ্রদায়কে এই বন্দীদশা থেকে উদ্ধার করার জন্য একজন মানুষের আবির্ভাব হবে। নিওর যুদ্ধকৌশল দেখে মরফিয়াসের মনে হয় নিও সেই মানুষ। সে নিওকে নিয়ে ম্যাট্রিক্স এর ভিতরে অরাকল এর সাথে দেখা করতে যায়। কিন্তু অরাকল এর মতে নিও সেই মানুষ নয়। সেখান থেকে ফেরার পথে এজেন্টরা  তাদের আক্রমণ করে। মরফিয়াস এজেন্টদের কাছে ধরা পরে যায়। এদিকে ম্যাট্রিক্স এর ভিতরে আরামদায়ক জীবন পাওয়ার লোভে  সাইফার নামে মরফিয়াসের একজন ক্রু মেম্বার এজেন্টদের পক্ষ নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করে। সে দলের বেশ কয়েকজনকে মেরে ফেলে। অবশ্য সে নিজেও আরেকজন আহত ক্রু মেম্বার ট্যাঙ্ক এর কাছে খুন হয়। এদিকে এজেন্টরা মরফিয়াসকে ম্যাট্রিক্স এর ভিতরে যিওন এ প্রবেশ করার উপায় জানতে চায় যেটা কিনা বাস্তব পৃথিবীতে বিদ্রোহীদের শেষ সম্বল। মরফিয়াসকে বাঁচানোর জন্য নিও আরেকবার ম্যাট্রিক্স এ প্রবেশ করে এবং এজেন্টদের সাথে সমান দক্ষতার সাথে যুদ্ধ করে জয়ী হয়।

কাস্টিং

থমাস এ এন্ডারসন/ নিওঃ কিয়ানু রিভস
মরফিয়াসঃ লরেন্স ফিসবার্ন
ত্রিনিতিঃ ক্যারি অ্যান মস
এজেন্ট স্মিথঃ হিউগু অয়েভিং
সাইফারঃ জো পন্তালিয়ানো
অরাকলঃ গ্লোরিয়া ফসটার
ট্যাঙ্কঃ মারকাস চং
বিশেষ আকর্ষণ

এই মুভিতে বুলেট টাইম ইফেক্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এই ইফেক্ট এর মাধ্যমে একটি দৃশ্যমান বস্তু থেকে ক্যামেরার স্থান এবং সময় আলাদা করা হয়। এই ব্যবস্থায় একইসাথে সময় এর চূড়ান্ত পরিবর্তন করা যায় এবং যে জিনিস গুলো সাধারণত প্রত্যক্ষ করা যায় না সেগুলোও দেখা যায়; যেমন উড়ন্ত বুলেট। এর আরেকটি দিক হল ক্যামেরাকে একটি দৃশ্যের চারপাশে এমন ভাবে ঘুরানো হয় যাতে দর্শকদের কাছে মনে হয়  যে ক্যামেরা স্বাভাবিক গতিতে ঘুরছে কিন্তু ঘটনাগুলো ধীরে ঘটে।

অ্যাওয়ার্ড

মুভিটি বেষ্ট ফিল্ম এডিটিং, বেষ্ট সাউন্ড, বেষ্ট সাউন্ডইফেক্ট এডিটিং, বেষ্ট ভিজুয়াল ইফেক্ট এডিটিং – এই চার বিভাগে অস্কার পুরষ্কার পায়। এছাড়া বেষ্ট সাউন্ড এবং বেষ্ট স্পেশাল ভিজুয়াল ইফেক্ট এডিটিং – এই দুই বিভাগে ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি ফিল্ম পুরষ্কার পায়। বেষ্ট সায়েন্স ফিকশন এবং বেষ্ট ডিরেক্টর বিভাগে স্যাটার্ন পুরষ্কার অর্জন করে।

বক্স অফিস

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নির্ভর মুভিগুলোর মধ্যে অন্যতম সফল এই মুভি বক্স অফিসে প্রায় ৪৬৩.৩ মিলিয়ন ডলার আয় করে। মুক্তির বছরে এটি ছিল সবচেয়ে বেশি উপার্জনকারী আর রেটেড মুভি। ২০১২ সালে এই মুভিটি সর্বকালের সবচেয়ে বেশি উপার্জনকারী মুভিগুলোর মাঝে ১২২তম স্থান অর্জন করে।

রেটিং

আইএমডিবিঃ ৮.৭/১০

রোটেন টমেটোসঃ ৮৭% পজিটিভ রিভিউ

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী যারা পছন্দ করেন মুভিটি তাদের কাছে ভালো লাগবে বলে আশা করি।

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?