অন্যান্য (U P) আন্তর্জাতিক

‘সোলার কিডস’ নিশ্পাপ কিন্তু রহস্যময় শিশু

পৃথিবী যেমন সুন্দর তেমনি রহস্যময়। সৌন্দর্যের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে রহস্য। কিছু রহস্যের সমাথান পাওয়া গেলেও অনেক রহস্যের কোনই সমাথান নেই বিশেষজ্ঞ গবেষকদের কাছে। উত্তরের বদলে বিশ্ময়সূচক চিহ্নই থেকে যায় ! পৃথিবীর বাইরের রহস্য এবং সমাধান করতে ব্যস্ত বিজ্ঞান এবং গবেষকরা। কিন্তু নিজ বসত এই পৃথিবীর এবং পৃথিবীর মানুষের শরীরের ভেতরেই যে কত রহস্য সুত্র লুকিয়ে আছে তার কোন সমাধান বা সদোত্তরই জানা নেই তাঁদের কাছে। তবু অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ হাতে নিচ্ছেন, হাত গুটিয়ে বসে নেই তাঁরা।

এমনি এক রহস্যজনক জটিল শরীর বয়ে চলছে পাকিস্তানের দরিদ্র পরিবারের ফুটফুটে দুটি সন্তান।  পাকিস্তানের দুই রহস্যময় শিশু আব্দুল রশিদ এবং সোয়াইব আহমেদ। একজনের বয়স ১৩ এবং আরেক জনের ৯ বছর। এই দুই ভাই অন্য সব শিশুদের মত দেখতে এবং আচরণে স্বাভাবিক হলেও আসলে অস্বাভাবিক তারা ! দিনের আলোয় প্রাণচঞ্চল দুই শিশু নিষ্প্রাণ হয়ে যায় রাত নামলেই ! রহস্যজনক এক পরিবর্তন ঘটে তখন তাদের শরীরের ! পাথর হয়ে পড়ে থাকে যখন দিনের আলো ফুরিয়ে রাত নেমে আসে ! কারণ দিনের আলোয় সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও রাতে তারা পাথর হয়ে যায় ! কোন কাজ করা দূরের কথা নিজেদের শরীরের অঙ্গ প্রতঙ্গগুলোও নাড়াতে পারেনা ! এমনকি কোন কিছু খাওয়া, চোখ মেলে তাঁকানোর শক্তিও যেন হারিয়ে যায়। নিথর হয়ে শুয়ে থাকে তারা। হতবাক বিশেষজ্ঞরা এবং চিকিৎসকরা।

অনেকের মতে সূর্যের আলোই তাদের চলার শক্তি যোগায়, প্রাণসঞ্চার করে তাদের মাঝে। তাই তাদেরকে ‘সোলার কিডস’ নামে জানা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সেটা সম্পূর্ণ বাতিল করে দেন। তাঁরা শিশু দুটিকে অন্ধকার ঘরে রেখে পর্যবেক্ষণ করে দেখেন যে তাঁরা সচল ! কিন্তু অলৌকিকভাবে সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকা শিশু দুটি দিনের আলো নিভে যাওয়ার সাথে সাথেই পাথর হয়ে পড়ে থাকে ! অথচ তাদের সূর্যের আলো ছাড়া কৃত্রিম আলোতেই রাখা হয়েছিলো ! এমনকি ঝড়বৃষ্টির দিনেও তাদের পরীক্ষা করে দেখা হয় এবং এটা নিশ্চিত হন গবেষকরা যে সূর্যের আলো নয় বরং দিন ও রাতের পার্থক্যের কারণে এমন হয় কিন্তু কেন তা এখনও তাঁরা জানেননা !

রাত ও দিনের তারতম্যের কারণে রহস্যজনকভাবে নির্জীব হয়ে যায় তাঁরা ! এর উত্তর খুঁজতে দিনরাত বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন পরীক্ষা করে যাচ্ছেন। শিশু দুটির শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এবং রক্ত নিয়মিত পরীক্ষা করেছেন তাঁরা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি হাসতালে রেখে তাদেরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তাদেরকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন দানের লক্ষ্যে সরকারী খরচে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে দরিদ্র শিশু দুটিকে।

তাদের শরীরের রক্তের নমুনা বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এমনকি তাদের বসতবাড়ির মাটি পানিও পরীক্ষা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রশীদ এবং শোয়াইবের পিতা মোঃ হাশেম বলেন, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দূর সম্পর্কের আত্মীয়া হন। তাদের ছয় সন্তানের দুই সন্তান মারা যায় এবং বাকী চার সন্তানের অপর দুজন সুস্থ এবং স্বাভাবিক আছে। কিন্তু এই দুই সন্তান কেন এমন অসুস্থ বা কি রোগে আক্রান্ত তার সঠিক উত্তর জানা নেই হতবাক দরিদ্র পিতার। তিনিও চান তাঁর সন্তানরা সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করুক।

পাকিস্তানের ইনিস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের শিক্ষক জাভেদ আকরাম বলেন, সূর্য ডোবার সাথে শোয়াইব এবং আব্দুল রশীদের শরীর অচল হবার কারণ জানা নেই তাদের তবে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন তাঁরা।

চিকিৎসা দিয়ে তাদের সুস্থ রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাঁরা। তবে তাঁরা আশাবাদী উন্নত চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতি এবং শিশু দুটি যাতে সম্পূর্ণ সুস্থ স্বাভাবিক জীবন পায় সে চেষ্টা করছেন। আর হন্যে হয়ে খুঁজছেন দিন আর রাতের পার্থক্যের মত এই শিশুদের শরীরেও কেন এমন পরিবর্তন, কি এর কারণ এবং এর সমাধান কি???

সুত্র: অনলাইন

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ভারত বাংলাদেশের মাঠের লড়াই

rifazshakil

স্মৃতির শহর

Tamanna Shimu

আবার কখনও কি এমন JOLSHA(জলসা)’র আসর বসবে???

Dhrubo Pavel

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy