Now Reading
মৃত্যুর গন্ধ আসে ধীরে……..



মৃত্যুর গন্ধ আসে ধীরে……..

#আনলাকি_থার্টিন

গত এক ঘন্টা ধরে ঠায় বসে আছি।জানলাটাও এত বিশাল,, আর এত সুন্দর মিষ্টি মধুর ঝির ঝিরে বাতাস,, জানলাটার পাশ থেকে নড়তেই তো মন চাইছেনা!

ঢং ঢং!
রাত দুটো। এখনো দাড়িয়ে আছি। কিছুতেই ঘুম আসছেনা। বা পা টা ছেড়ে দিয়ে আলগোছে ডান পায়ে ভর চাপালাম। একটু ঘাড় ফিরিয়ে পাশের ওয়ার্ডটায় তাকালাম। ভেতরটা আবছা অন্ধকার। পর পর সাজানো ১৩ টা বেড। ১২ টা রোগী শুয়ে আছে। এই মুহুর্তে অবশ্য সবাই ই বেঘোরে ঘুমুচ্ছে। এত রাতে অবশ্যই কারো জেগে থাকার কথা নয়।
এক আমিই আছি। ১৩নম্বর জন!

ওয়ার্ডটা একেবারেই পানির মতো পরিষ্কারভাবে মনে ছাপ মেড়ে আছে। তাইতো ঘুটঘুটে অন্ধকারেও বারান্দার এই দিকটায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলে আসতে মোটেও কষ্ট হয়না।

একটা বাজতেই ঝট করে ঘুম ভেঙে গেছে রোজকার মতোই।অন্ধকারে পথ খুজে চলে এসেছি, তারপর….
তারপর?
তারপর পিছু ফিরে তাকিয়ে আছি!

পাশের ১২ নম্বর রোগীটার সাথে একজন অল্প বয়সী সাহায্যকারী এসেছে আজ।আগের বুড়ি মহিলাটা চলে গেছে বুড়িটা নাকি অসুস্থ্য, তাই ওর বড় মেয়েটাকে রেখে গেছে রোগীর দেখাশুনার জন্য।

আহা আজ সারাটাদিন মেয়েটা খুব খেটেছে বটে। তরতাজা মেয়ে, দৌড়াদৌড়ি করে রোগীকে বার বার উপর-নিচ নিয়েও গেছে।

মেয়েটাকে বার বার দেখেছি, আর নিজেকে ওর জায়গায় কল্পনা করে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছি বারং বার!! মনে মনে ওর পা দুটোকে ভেঙচি কেটেছি আরো কত শত বার!!, হুহ ছুড়ি! এমনভাবে হাটিস আমি যেনো  কোনোকালে হাটিনি!!

সেই সকাল থেকেই মেজাজটা বিগড়ে ছিলো।মেয়েটা হাব-ভাবে তিক্ততা বিষে পরিণত হয়েছে। এজন্যই হয়তো ঘুমটা একটা বাজার আগেই ভেঙে গেল।
সেই থেকে বারান্দায় আছি।
অপেক্ষায়!!
মেয়েটা আসবে তো?
নাকি এক ঘুমেই রাত কাবার করে দেবে!!

না না! আজ আর বিফল হতে চাইনা।গত একটা বছর ধরে অপেক্ষায় আছি আমি। এক এক সেকেন্ড গুনে গুনে বিকল করেছি বারান্দাটার গ্রীল!

আমার বিশ্বাস শিকার আজ রাতেই আসবে। আমার পাশে দাড়াবে, তারপর………..
তারপর আমার একটা হালকা ধাক্কা ই CRP’র ছয় তলা থেকে ফেলে দিতে সক্ষম!!

তারপর!!
সকাল হলেই,
আরো একটা বেড বাড়বে ওয়ার্ডে!
আমার আনলাকি থারটিন লাকি ফরটিন হয়ে যাবে!

ঢং ঢং ঢং!

রাত তিনটে!
অপেক্ষা অপেক্ষা অপেক্ষা……..!!!

About The Author
Maksuda Akter
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment