ফরেস্ট গাম্প (১ম পর্ব)

Please log in or register to like posts.
News

Forrest-gump-original.jpg

ধরুন আপনার আই কিউ গড়পড়তা লেভেল এর চেয়েও কম। আপনার বিকলাঙ্গতা মানুষের কাছে কৌতুকের বিষয়। আপনার ক্লাসের ছেলেমেয়েরা আপনাকে আপন করে নিতে পারে না। কিন্তু দিনশেষে আপনি হয়ে গেলেন একজন বিখ্যাত ব্যক্তি। ব্যাপারটা কিন্তু একদমই অস্বাভাবিক কিছু না। কেননা আপনি নিজেই আপনার নিয়তির কারিগর। ১৯৮৬ সালে উইনস্টন গ্রুম তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘ফরেস্ট গাম্প’ এ এমন একজন মানুষের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন। ১৯৯৪ সালে এই উপন্যাস এর উপর ভিত্তি করে পরিচালক রবার্ট জেমেকিস পরিচালনা করেন ফরেস্ট গাম্প মুভিটি। মূল চরিত্রের নাম ফরেস্ট গাম্প। সে একজন কম বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি। কিন্তু সে দয়ালু, ভদ্র এবং খেলাধুলায় অস্বাভাবিক রকমের ভাল। ২০ শতকের শেষের দিকে আমেরিকায় ঘটা বেশ কিছু ঘটনা তার দ্বারা অনুপ্রাণিত।

কাহিনিঃ

ফরেস্ট গাম্পের জন্ম হয় ১৯৪৪ সালের ৬ জুন। সেই দিনটি ছিল ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় ঘটিত নরম্যানডে ল্যান্ডিং এর দিন। বাবার অনুপস্থিতির কারণে সে তার মায়ের সাথে বাস করত। গৃহযুদ্ধের কনফেডারেট জেনারেল নাথান বেডফরড ফরেস্ট এর নামের সাথে মিল রেখে মা তার নাম রেখেছিলেন ফরেস্ট গাম্প। তিনি ছিলেন কু ক্ল্যাক্স ক্ল্যান এর প্রথম উইজার্ড। ধারণা করা হয় তিনি ফরেস্ট গাম্পের পূর্বসূরি ছিলেন। আসলে আমরা অনেক সময় এমন কিছু অর্থহীন কাজ করি যার কোনো মানে হয় না। এটি তেমন একটি ঘটনা। ছোটবেলায় ফরেস্ট এর পায়ে বেশ জোড় ছিল। কিন্তু তার শিরদাড়া বাঁকা থাকার কারণে হাঁটতে অসুবিধা হত। এজন্য তার পায়ে ব্রেস লাগানো হয়। এরপর জানা যায় যে তার আই কিউ গড়পড়তা লেভেল এর চেয়েও কম। এ কারণে স্থানীয় স্কুলের প্রধানশিক্ষক প্রথমে তাকে স্কুলে ভর্তি করতে চাচ্ছিলেন না। কিন্তু তিনি  ফরেস্ট গাম্পের মায়ের সাথে এক রাত কাটান যার বিনিময়ে ফরেস্ট স্কুলে ভর্তি হয়। মা তাকে সবসময় বলতেন কেউ যেন তাকে এটা বলতে না পারে যে সে সবার থেকে আলাদা। কেননা একজন অতি বুদ্ধিমান ব্যক্তিও যদি বোকার মত কোনও কাজ করে তাহলে সে বোকা হিসেবেই গণ্য হবে । ফরেস্ট তার মায়ের সাথে একটি বড় বাড়িতে বাস করত। তাই টাকার বিনিময়ে তারা ভ্রমণকারীদের তাদের বাসায় থাকতে দিত। এদের মধ্যে ছিলেন তরুণ এল্ভিস প্রিসলি যিনি কিনা ফরেস্টের অদ্ভুত নাচের ভঙ্গি থেকে ‘হিপ ডান্সিং’ নামে নতুন নাচের মুদরা আবিষ্কার করেন এবং তার ‘হাউনড ডগ’ গানে ব্যবহার করেন। স্কুলের বাসে জেনি কারেন নামে একটি মেয়ের সাথে তার পরিচয় হয়। ফরেস্টের কাছে মনে হয়েছিল যে জেনি তার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে। ফরেস্ট আর জেনি একসাথে অনেক সময় কাটাত; বিশেষ করে একটা বড় গাছের কাছে তারা বেশি সময় কাটাত। ফরেস্ট যেমন ছিল জেনি তাকে সেই ভাবেই গ্রহণ করেছিল। জেনি তাকে পড়তে শিখিয়েছিল। এছাড়া ফরেস্টকে নিয়ে যারা কৌতুক করত তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছিল। কিন্তু জেনি তার জীবনে অনেক অসুখী ছিল। অনেক ছোটবেলায় তার মা মারা যায়।  তার বাবা তাকে আর তার বোনদের নির্যাতন করত। এ কারণে তাকে তার নানীর বাসায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে প্রায় সে  পালিয়ে ফরেস্টের কাছে চলে আসত। একদিন তিনজন ছেলে ফরেস্টকে নিয়ে কৌতুক করে ফল ছুড়ে মারছিল এবং সাইকেল নিয়ে ফরেস্টকে তাড়া করছিল। জেনি ফরেস্টকে পালিয়ে যেতে বলে। দৌড়ানোর সময় হটাত করে তার পায়ের ব্রেস খুলে যায় এবং  সে অস্বাভাবিক গতিতে দৌড়াতে থাকে। এরপর থেকে তাকে আর কোনদিন পায়ে ব্রেস পড়তে দেখা যায় নি ।

জেনি আর ফরেস্ট এর মাঝে হাইস্কুল পর্যন্ত অনেক ভালো বন্ধুত্বতা থাকে। আর একদিন ফরেস্টকে  নিয়ে কৌতুক করার সময় সে স্কুলের ফুটবল মাঠের ভেতর দিয়ে চলে যায়। এতে খেলার ব্যাঘাত ঘটে। কিন্তু সে আলাবামা ক্রিমসন টাইড এর হেড কোচ পল বিয়ার ব্রাইনট এর মনোযোগ আকর্ষণ করে। ফরেস্ট আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয় এ  ফুটবল বৃত্তি পায়। অস্বাভাবিক গতির সাহায্যে সে তার দলকে অনেক খেলায় জিতিয়ে দেয়। এরপর সে অল আমেরিকান ফুটবল দলের সদস্য হিসেবে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির সাথে দেখা করার সুযোগ পায়। ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট অল আমেরিকান ফুটবল দলের সদস্য হওয়ায়  ফরেস্টের অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চান। ফরেস্ট সততার সাথে জবাব দেয় ‘আই গটটা পি’। কেননা সে ফিফটিন ডক্টর পিপার পান করেছিল। ফরেস্ট আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয় এ বর্ণ বিভেদ লোপ দেখে। যখন অন্যান্য ছাত্রছাত্রীরা কালো  ছাত্রছাত্রীদের ব্যঙ্গ করছিলো তখন ফরেস্ট এগুলোর কিছুই বুঝতে পারছিল না। সে জেনিকে চমকে দেওয়ার জন্য চকলেট নিয়ে তার ক্যাম্পাসে যায়। সেখানে সে জেনিকে তার বয়ফ্রেন্ড এর সাথে গাড়িতে দেখতে পায়। সে ধারণা করে যে জেনির বয়ফ্রেন্ড বিলি তাকে আঘাত করছে। এই ভেবে সে ড্রাইভারের পাশের দরজা খুলে ফেলে এবং বিলিকে আঘাত করে। বিলি সেখান থেকে চলে  যায়। প্রথমে জেনি অনেক বিরক্ত হয়। কিন্তু পরে সে ফরেস্টকে তার রুমে নিয়ে আসে। যদিও ফরেস্ট এ ব্যাপার নিয়ে সন্দিহান ছিল।

১৯৬৭ সালে কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এক আর্মি অফিসার এর সাথে ফরেস্টের দেখা হয়। তার সাথে কথা বলার পরে সে আর্মিতে যোগ দেয়। সেখানে বেঞ্জামিন বুফোরড ব্লু নামে একজন কালো যুবকের সাথে দেখা হয়। তাকে বুব্বা বলেও ডাকা হয়। তার ইচ্ছা যে সে একটা চিংড়ির নৌকা কিনবে যাতে তার পরিবারের চিংড়ি রান্না করার প্রথা বজায় থাকে…………..(চলবে)।

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?