Now Reading
জীবনের কালবৈশাখ



জীবনের কালবৈশাখ

#ঝড়

পশ্চিম আকাশটা ঘন কালো রঙের জমাট পিন্ড হতে দেখেই হাতের গতি বেড়ে গেলো ফাহিমার। ঝড় শুরু হওয়ার আগেই পাতাগুলো বস্তায় ভরে শুকনো জায়গা খুজে পৌছুতে হবে নাহলে সারাদিনের এত খাটুনি সব বৃথা!

পাতাগুলো জমানো শেষ, বস্তাটাও প্রায় ভরে এসেছে এমন সময় হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়ে এলো রুহুল। ফাহিমার ছোট সৎ ভাই।

-আফা, মাও জলদি বুলায়। মোক্ পাঠালো, যা তো বুইনা কট্টুক আগালে দ্যাখে আয় গিয়ে। মুই হাঁপাতি হাঁপাতি এলুম,মাগো! কিমুন হাঝ জমি আসিছে আকাশত! জলদি জলদি চলেক্।
দ্রুত শ্বাস নেয়ার ফাঁকে এতগুলো কথা বলে রুহুল আবার হাঁপাতে লাগলো।

ভাইয়ের কথা শুনে ফাহিমা আরো জলদি পাতা ভরা শুরু করলো।

– মরন আমার। মুই যেন বসি বসি ঘাস চিবুচ্চি! এত মুখ না চালাই হাত চালাই সায়াইয্য কর দিকিনি মুর সাথ্।
রুহুলকে কষে একটা ধমক লাগালো ফাহিমা।

মনে মনে গজ গজ করছে ও।
ইহ! নিজে করবার পারলোনা আবার জলদি করি যাবার জন্য তাড়া দেয়া কিসের জন্যি! মুক্ যেনো চাকরানী পেইয়ে গ্যাছেনে তিনি। সৎ মেয়ে বলি এত আলগা দরদ বেইয়ে পরিছে একেবারে।হুহ!

গজ গজ করতে করতে বস্তা ভরা শেষ হলো ফাহিমার। রুহুলকে নিয়ে বস্তাটা মাথায় নিয়ে হাটছে যত দ্রুত সম্ভব। হাটছে আর বার বার আকাশের দিকে সভয়ে দেখছে দুজনেই,না জানি কখন কাল বৈশাখি তার তান্ডব শুরু করে দেয়!

-“জলদি পা চালা ছ্যামড়া।”
রুহুলকে ধমক দিলো ফাহিমা। নিজেও পা দ্রুত করলো। গ্রামের কাঁচা রাস্তায় চলে এসেছে ওরা।
মোয়াজ্জিনকে দেখা যাচ্ছে মসজিদের চালা বাঁধছে গুনা দিয়ে। আগের বারের ঝড়ে চালা উড়ে চলে গিয়েছিলো বল্লা পাড়া গ্রামের আম গাছের উপর! এইবার আবার চালা হারানো চলবেনা মুয়াজ্জিনের।

উঠানে বস্তাটা রাখতেই মুরগীর বাচ্চাগুলো হাতে নিয়ে মা এগিয়ে এলো।

-মাইও রে, গরুডা ছুটি গ্যাছে, ধরি আনতো জলদি করে।

-হ যাচ্চি। কোন দিক গ্যালো?

-পুব দিক।

হনহন করে পুব দিকে হেটে চলেছে ফাহিমা। মার উপর রাগ করেছে। সামান্য একটা গরু ঠিক মতো বেঁধে রাখতে পারলোনা।

-হ সৎ মেইয়ে তো, তাই আবার পাঠালে!

হাটতে হাটতে কলুদের আম বাগানে চলে এসেছে ফাহিমা। গরুটার দেখা নেই এখনো। আকাশটা এখন একদম ঘন কালো কালির রূপ ধরেছে, চারদিক রাতের মতোই আঁধার,বাতাসও থেমে আছে সেই কখন। ভয়ঙ্কর ঝড় আসবে, তারই লক্ষণ।

হঠাৎ ঝড়টা শুরু হলে কি করবে ভেবে চিন্তিত হয়ে বিপন্ন, উদভ্রান্ত চোখে গরুটাকে খুজতে শুরু লাগলো আবার। সামনে আবছা আলোয় একটা ঝোপ নড়ে উঠতে দেখে আস্তে এগিয়ে গেলো ফাহিমা। গরুটা নয়তো? কিছুতেই ভয় পাওয়ানো চলবেনা ওটাকে এখন নয়তো আবার ছুট লাগাবে।

ঝোপটার আরেকটু কাছে যেতেই ওপাশে একটা ছায়া নড়ে ওঠলো। না না, একটা না! তিনটা ছায়া! পেছন থেকেও একটা ছায়া এগিয়ে এসে জাপটে ধরলো ফাহিমার মুখ!
তখনই বিকট শব্দে বাজ পড়লো কাছেই কোথাও।

শো শো শব্দে বাতাস শুরু হলো।
কাল বৈশাখি!
ছিন্ন ভিন্ন করে দিয়ে গেলো সব।
সেই সাথে ফাহিমার জীবনটাও!

About The Author
Maksuda Akter
Maksuda Akter

You must log in to post a comment